১২:৩১ পি.এম
মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে "আত্মরক্ষামূলক" হামলা চালানোর খবর দিয়েছে। তারা উপসাগরীয় দেশ ও জাহাজগুলোর দিকে নিক্ষেপ করা ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনও ধ্বংস করার কথা জানিয়েছে।
ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম জানিয়েছে, হামলাটি হরমুজ প্রণালির কেশম দ্বীপে চালানো হয়েছিল। তারা দাবী করে, এই হামলা মূলত "মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ইরানের পরিকল্পিত আক্রমণের প্রতিক্রিয়া"।
অন্যদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর বা আইআরজিসি বলেছে, তারা অঞ্চলের একটি দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও হেলিকপ্টারকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
আরও পড়ুন: প্রযুক্তি জায়ান্টদের ইউক্রেনীয়দের রক্তের বিনিময়ে ব্যবসার অভিযোগ
ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্টে বলা হয়েছে, কেশম দ্বীপের দক্ষিণে একটি যোগাযোগ টাওয়ারে মার্কিন হামলার জবাবে তারা এই হামলাটি করেছে।
যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে সপ্তাহব্যাপী আলোচনার ব্যর্থতার পর যুদ্ধবিরতি আলোচনা যখন স্থবির হয়ে পড়েছে, তখন নতুন পাল্টাপাল্টি হামলা ঘটলো। সেন্টকম দাবি করেছে, ইরান কুয়েতের দিকে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল, যা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে অথবা মাঝপথে ভেঙে পড়েছে।
এছাড়া, বাহরাইনের দিকে ইরানের তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশে ধ্বংস করা হয়েছে। তারা জানায়, কেশম দ্বীপে পরিচালিত হামলাটি ছিল একটি ইরানি সামরিক গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশনকে লক্ষ্য করে। এছাড়া, আন্তর্জাতিক জলসীমায় চলাচলকারী বেসামরিক নাবিকদের লক্ষ্য করে ইরানের পাঠানো তিনটি আক্রমণাত্মক ড্রোন মার্কিন সামরিক বাহিনী ভূপাতিত করেছে।
আইআরজিসি সতর্ক করে দিয়েছে, "হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনীকে চড়া মূল্য দিতে হবে।"
আরও পড়ুন: আন্তর্জাতিক ই-কমার্সে রিমার্কের শক্ত অবস্থান, বিশ্ববাজারে যাচ্ছে হাজারো পণ্য
এর আগে ইরান বারবার বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে আসছে। সেন্টকম জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের হরমুজ প্রণালি অবরোধের অংশ হিসেবে তারা একটি খালি তেলের ট্যাঙ্কারে আঘাত এনে সেটিকে অকার্যকর করেছে।
এছাড়া, বতসোয়ানার পতাকাবাহী একটি এম/টি ভেসেলের ইঞ্জিন রুমে হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে মার্কিন যুদ্ধবিমান, কারণ জাহাজটির ক্রুদেরকে "বারবার সতর্কবার্তা দেওয়ার পরও তারা তা উপেক্ষা করেছিল"।
সেন্টকম একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে ট্যাঙ্কারটিতে আঘাতের মুহূর্ত দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে ইরান এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। গত ১৩ই এপ্রিল থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের বন্দরগুলোতে প্রবেশকারী ও সেখান থেকে বের হওয়া সমস্ত জাহাজের ওপর অবরোধ কার্যকর করতে শুরু করে।
সেন্টকমের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ওই বাহিনী "আন্তর্জাতিক জলসীমা দিয়ে খারগ দ্বীপের দিকে যাওয়ার সময় বতসোয়ানার পতাকাবাহী এম/টি লেক্সি নামে একটি জাহাজের বিরুদ্ধে অবরোধ ব্যবস্থা কার্যকর করেছে।"
আরও পড়ুন: ভ্যান্সকে গালিবাফের খোঁচা: বসকে এসব বলছেন না কেন?
বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, ২৪ ঘণ্টা ধরে বারবার মার্কিন বাহিনী নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও ওই জাহাজের নাবিকরা তা মানতে ব্যর্থ হয়েছে।
সেন্টকম জানিয়েছেন, এই অবরোধ কার্যকর হওয়ার পর থেকে মোট ছয়টি বাণিজ্যিক জাহাজ অকার্যকর করা হয়েছে এবং আরও ১২২টি জাহাজকে ভিন্ন পথে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। এই বিষয়ে মন্তব্যের জন্য বতসোয়ানার সরকারের সাথে বিবিসি যোগাযোগ করেছে।
এদিকে, ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও প্রথমবারের মতো কংগ্রেসে প্রকাশ্যে হাজির হয়েছেন।
তিনি জানিয়েছন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার বিনিময়ে মার্কিন আলোচকরা ইরানকে কোনো নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার প্রস্তাব দিতে পারেননি। তিনি বলেন, "এই মুহূর্তে তাদের সাথে যে আলোচনা হয়েছে তা হলো, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়টি শর্তসাপেক্ষ।"
আরও পড়ুন: শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী ধারণায় অর্থায়ন করবে সরকার: মাহদী আমিন
"অর্থাৎ, যে কারণে এই নিষেধাজ্ঞানগুলো আরোপ করা হয়েছিল, তা মুক্তির বিনিময়েই কেবল এই নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা সম্ভব," জানিয়েছেন রুবিও।
আইনপ্রণেতারা যখন চলমান সংঘাত শেষ করতে মার্কিন কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তখন তিনি এক উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের সময় একজন সিনেটরকে বলেন, "যুদ্ধ শেষ হয়েছে।"
সূএ: বিবিসি
আরও পড়ুন: জামায়াত আমিরের দাবি, মেজর আখতারুজ্জামানের ছেলের ওপর হামলায় জড়িত মাদক কারবারিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন