ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সৌদির তেল স্থাপনায় হুতিদের হামলা, আহত ৪


সৌদির তেল স্থাপনায় হুতিদের হামলা, আহত ৪

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় শহর ধাহরানে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর একটি প্রশাসনিক ভবনে হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে, সৌদি কর্তৃপক্ষ রাজধানী রিয়াদকে লক্ষ্য করে ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। তবে, এই ঘটনার ফলে চারজন আহত হয়েছেন এবং ১৫টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ধাহরানে আরামকোর প্রশাসনিক ভবনে হামলার পর আগুন ধরে যায়। সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।

আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইয়েমেনের রাজধানী সানায় একটি তেল স্থাপনায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আরামকোর ভবনে হামলার ঘটনা ঘটে। এর আগে, ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী সৌদি আরবের বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনার আশপাশে অবস্থানরত কর্মী ও বেসামরিক নাগরিকদের সরে যাওয়ার সতর্কবার্তা দিয়েছিল।

আরও পড়ুন: মালদ্বীপের স্পিকারের সঙ্গে বাংলাদেশের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ, আলোচনা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে

হুতিদের মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সতর্ক করে বলেছিলেন, "ইয়েমেনে হামলা চালানো হলে রিয়াদে কঠোর পাল্টা জবাব দেওয়া হবে।" সানার আল-সাবাহ এলাকার একটি তেল স্থাপনা থেকে বেসামরিক নাগরিকদের সরে যাওয়ার বিষয়ে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের নির্দেশের পর এ হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি, হুতিরা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের অস্ত্রভান্ডার হিসেবে জ্বালানি স্থাপনা এবং ভূগর্ভস্থ তেল ডিপো ব্যবহার করছে। জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি এ অভিযোগ করেছেন।

অন্যদিকে, হুতিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর বিমান হামলায় সানার আল-সাবাহ এলাকার একটি তেল স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, রিয়াদকে লক্ষ্য করে ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়। পরে সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ পড়ে চারজন আহত হন এবং ১৫টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

আরও পড়ুন: ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৪৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

এ ছাড়া, আল-খারজ এলাকায় হুতিদের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করার কথাও জানিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

এর আগে, সৌদি আরবের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা থেকে বেসামরিক নাগরিকদের সরে যাওয়ার সতর্কতা দিয়েছিল হুতিরা। এসব স্থাপনার মধ্যে ছিল ধাহরানে আরামকোর সদর দপ্তর, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং আরামকোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি তেল শোধনাগার।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুয়েটের চতুর্থ সমাবর্তন আগামী ১২ জানুয়ারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:২৮ এম


কুয়েটের চতুর্থ সমাবর্তন আগামী ১২ জানুয়ারি

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) চতুর্থ সমাবর্তন আগামী বছরের ১২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই সমাবর্তন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত হবে এবং এতে সভাপতিত্ব করার জন্য সম্মতি দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ একটি চিঠি প্রদান করে সমাবর্তনের সূচি ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বৃত্তি ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহকারী সচিব মো. সুলতান আহমেদের সই করা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০৩-এর ৯(২) ধারা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি আগামী ১২ জানুয়ারি সমাবর্তনে সভাপতিত্ব করতে সম্মতি দিয়েছেন। এই প্রেক্ষাপটে, রাষ্ট্রপতির দপ্তর বঙ্গভবনের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চিঠির অনুলিপি রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের জন বিভাগ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি), শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তর এবং কুয়েটের রেজিস্ট্রারের কাছে পাঠানো হয়েছে।

যদিও সমাবর্তনের তারিখ নির্ধারিত হয়েছে, তবে আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে মুমিনের প্রার্থনা সঠিক পথের সন্ধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:২৯ এম


পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে মুমিনের প্রার্থনা সঠিক পথের সন্ধান

প্রত্যেক মুসলমান মহান আল্লাহর কাছে দৈনিক যে দোয়া করেন, তার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দোয়া হলো ‘সঠিক পথের সন্ধান লাভ করা’। কারণ, যদি মানুষ সবকিছু অর্জন করেও সত্য ও ন্যায়ের পথ হারিয়ে ফেলে, তবে তার জীবনের চূড়ান্ত সাফল্য অধরাই থেকে যায়। এ কারণে পবিত্র কোরআনের প্রথম সুরা ফাতিহায় আল্লাহ তাআলা মুমিনদের এই দোয়া করার শিক্ষা দিয়েছেন, যা প্রত্যেক মুমিন প্রতিদিন বহুবার করে থাকেন। এই দোয়াটি হলো—‘আমাদের সরল পথ দেখান।’ (সুরা : ফাতিহা, আয়াত : ৬)

এ দোয়া শুধুমাত্র পথ চেনার আবেদন নয়; বরং এটি সত্যকে জানার, তা গ্রহণ করার, সে অনুযায়ী আমল করার এবং জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তার ওপর অবিচল থাকার প্রার্থনা। নিচে কোরআনে পবিত্র সরল পথের পরিচয় ও তার ওপর অবিচল থাকার কিছু কৌশল তুলে ধরা হলো—

সরল পথের সংজ্ঞা : আরবি শব্দ ‘সিরাত’ অর্থ পথ এবং ‘মুস্তাকিম’ অর্থ সোজা, সরল ও বক্রতামুক্ত। তবে কোরআনের পরিভাষায় সিরাতুল মুস্তাকিম নিছক একটি নৈতিক ধারণা নয়; এটি আল্লাহর মনোনীত দ্বিন, তাওহিদ, তাঁর আনুগত্য এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নতের সমন্বিত রূপ।

মূলত আল্লাহর হুকুম ও মহানবী (সা.)-এর সুন্নত মোতাবেক আল্লাহর ইবাদতই সরল পথের মূল ভিত্তি। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘আর তোমরা আমারই ইবাদত করো। এটিই সরল পথ।’ (সুরা : ইয়াসিন, আয়াত : ৬১)

ইমাম তাবারি (রহ.) এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, আল্লাহর ইবাদতকে একনিষ্ঠভাবে তাঁর জন্য নির্দিষ্ট করা, তাঁর আনুগত্য করা এবং শয়তানের অবাধ্যতামূলক নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করাই সঠিক দ্বিন ও সরল পথ। (তাফসিরে তাবারি)

অর্থাৎ সিরাতুল মুস্তাকিমের সূচনা তাওহিদ থেকে। আল্লাহকে একমাত্র উপাস্য হিসেবে বিশ্বাস করা, ইবাদত তাঁর জন্য নিবেদিত করা এবং তাঁর বিধান মেনে চলা এর অপরিহার্য ভিত্তি।

সিরাতুল মুস্তাকিমের তাৎপর্য বোঝাতে রাসুলুল্লাহ (সা.) একটি চমৎকার উপমা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আল্লাহ তাআলা এভাবে সোজা পথের একটি উদাহরণ দিয়েছেন—রাস্তার দুই ধারে দুটি প্রাচীর।

প্রাচীর দুটিতে রয়েছে অনেক খোলা দরজা। এগুলোতে পর্দা ঝোলানো রয়েছে। একজন আহবানকারী রাস্তার মাথায় দাঁড়িয়ে আহবান করছেন। অন্য এক আহবানকারী পথের ওপর থেকে ডাকছেন। ‘আর আল্লাহ তাআলা শান্তিময় আবাসের দিকে ডাকছেন। তিনি যাকে ইচ্ছা সোজা পথের হেদায়েত দান করেন।’ (সুরা : ইউনুস, আয়াত : ২৫)

রাস্তার দুই পাশে দরজাগুলো হলো আল্লাহ তাআলার নির্ধারিত সীমাসমূহ। সুতরাং, কোনো ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন করলে তাতে (দরজার) পর্দা সরে যায়। আর ওপর থেকে যে আহ্বায়ক আহবান করছেন, তিনি হলেন আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে উপদেশদাতা! (তিরমিজি, হাদিস : ২৮৫৯)

এই উপমা আমাদের শেখায়, দ্বিনের মৌলিক নির্দেশনা ও আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা থেকে বিচ্যুত হওয়ার সুযোগ নেই। বরং সর্বাবস্থায় কোরআন ও সুন্নাহকে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরতে হবে। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘হে মুমিনরা! তোমরা আনুগত্য করো আল্লাহর, তাঁর রাসুলের এবং তোমাদের মধ্যে যারা এখতিয়ারধারী তাদেরও।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ৫৯)

প্রশ্ন জাগতে পারে, এখানে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের পরে কাদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে? এর উত্তর পবিত্র কোরআনের আরেকটি আয়াতে এসেছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা আল্লাহ ও রাসুলের আনুগত্য করবে, তারা সেই সব লোকের সঙ্গে থাকবে, যাদের প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন অর্থাৎ নবীগণ, সিদ্দিকগণ, শহীদগণ ও সৎকর্মশীলগণের সঙ্গে। কতই না উত্তম সঙ্গী তারা!’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ৬৯)

এই আয়াত দ্বারা বোঝা যায়, যারা মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের দেখানো সরল পথের অনুসারী হবে, সব পরিস্থতিতে তার ওপর অবিচল থাকতে হবে। সুরা ফাতিহার যে আয়াতের মাধ্যমে মহান আল্লাহর কাছে সঠিক পথের দিশা চায়, তা নিছক একটি বাক্য নয়, বরং এই আয়াতে লুকিয়ে আছে, মানুষের গোটা জীবনের শিক্ষা, যে শিক্ষা তাকে আমৃত্যু কোরআন-সুন্নাহ মোতাবেক পরিচালিত হওয়ার শিক্ষা দেয়। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে সরল পথের অনুসারী হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মোহাম্মদপুরে ডগ স্কোয়াড নিয়ে অভিযান আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:২৯ এম


মোহাম্মদপুরে ডগ স্কোয়াড নিয়ে অভিযান আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী মাদক, চাঁদাবাজি এবং কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য প্রতিরোধের লক্ষ্যে ডগ স্কোয়াড নিয়ে যৌথ অভিযান শুরু করেছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পে এই অভিযান শুরু হয়। অভিযানে অংশগ্রহণ করেন পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) এবং এসআরবির সদস্যরা।

তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর জোনের পুলিশ কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

অভিযানের অংশ হিসেবে মোহাম্মদপুরের লোহার গেট, জেনেভা ক্যাম্প এবং মোহাম্মদপুর থানার সংলগ্ন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। মোহাম্মদপুর এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি মাদক কারবারি, চাঁদাবাজ এবং কিশোর গ্যাংয়ের কার্যক্রম প্রতিরোধে এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মহানবী (সা.)-এর ৬ সুন্নত প্রতিদিনের পরিচ্ছন্নতায় গুরুত্ব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩০ এম


মহানবী (সা.)-এর ৬ সুন্নত প্রতিদিনের পরিচ্ছন্নতায় গুরুত্ব

বর্তমানের দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে, প্রযুক্তি ও সমাজের পরিবর্তনের সাথে নতুন রোগের উদ্ভব এবং পুরোনো রোগের পুনরুত্থান দেখা যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসজনিত রোগ, যা পানি, খাদ্য ও বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায়। রোগ মোকাবিলার জন্য শক্তিশালী জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অভ্যাস অপরিহার্য। মহানবী (সা.)-এর সুন্নত আমাদের এমন পদ্ধতি শিখিয়েছে, যা আধুনিক স্বাস্থ্যবিধির সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ।

১. পবিত্র অবস্থায় থাকা : ইসলামে পবিত্রতা ইমানের অর্ধেক। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তিনি তাঁদের ভালোবাসেন, যাঁরা তাঁর দিকে ফিরে আসেন এবং নিজেদের পবিত্র রাখেন।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ২২২)

এই বাণী থেকে বোঝা যায়, ইসলামে শারীরিক ও আধ্যাত্মিক পবিত্রতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। নবীজির জীবনাচরণে আমরা এমন অনেক অভ্যাস দেখতে পাই, যা আজকের বিজ্ঞানও স্বাস্থ্যকর বলে প্রমাণ করেছে। মহানবী (সা.) বলেন, ‘পবিত্রতা ইমানের অর্ধেক।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২২৩)

২. হাঁচি-কাশিতে মুখ ঢাকার সুন্নত : হাঁচি বা কাশির সময় মুখ ঢাকা আধুনিক স্বাস্থ্যবিধির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ২০১৪ সালে এমআইটির (ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি) গবেষণায় দেখা গেছে, হাঁচি বা কাশির সময় নির্গত গ্যাসের মেঘ দীর্ঘ সময় বাতাসে ভাসতে পারে এবং এর কণা ৫ থেকে ২০০ গুণ দূরে ভ্রমণ করতে পারে। এটি বায়ুবাহিত রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি বাড়ায়। মুহাম্মদ (সা.) হাঁচির সময় মুখ ঢাকতে নির্দেশ দিয়েছেন। (মুসতাদরাকে হাকিম, হাদিস: ৭৫৮৮)

৩. হাত ধোয়া : স্বাস্থ্য রক্ষার প্রথম ধাপ। হাত ধোয়া সংক্রমণ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। অনেক ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া নাক বা মুখের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে। ফেকাল-ওরাল পথে ছড়ানো রোগগুলো অপরিচ্ছন্ন হাতের মাধ্যমে খাদ্য বা বস্তুতে ছড়ায়। আধুনিক বিজ্ঞান এখন হাত ধোয়াকে স্বাস্থ্য রক্ষার প্রধান পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করে। মহানবী (সা.) বিভিন্ন সময়ে হাত ধোয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর তিনি বলেন, সকালে হাত না ধুয়ে কোনো কিছু স্পর্শ করা উচিত নয়। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৬২)

৪. অজু করা : অজু নিজেই একটি স্বাস্থ্যকর অভ্যাস, যা শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ পরিষ্কার রাখে এবং রোগের বিস্তার রোধ করে। মহানবী (সা.) সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর পানি দিয়ে নাক পরিষ্কার করতেন এবং দুই-তিনবার জোরে ঝাড়া দিয়ে পানি বের করতে বলেছেন। মহানবী (সা.) বলেন, কোন মুসলিম বান্দা অজুর সময় যখন মুখম-ল ধৌত তখন তার চোখ দিয়ে অর্জিত গুনাহ পানির সঙ্গে অথবা (তিনি বলেছেন) পানির শেষ বিন্দুর সঙ্গে বের হয়ে যায়। যখন সে দুই হাত ধৌত করে তখন তার দুই হাতের স্পর্শের মাধ্যমে সব গুনাহ পানির সঙ্গে অথবা পানির শেষ বিন্দুর সঙ্গে ঝরে যায়। তারপর যখন সে পা দুই ধৌত করে, তখন তার দুই পা দিয়ে হাঁটার মাধ্যমে অর্জিত সব গুনাহ পানির সঙ্গে অথবা পানির শেষ বিন্দুর সঙ্গে ঝরে যায়, এভাবে সে যাবতীয় গুনাহ থেকে মুক্ত ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নণ হয়ে যায়। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৪৪)

৫. নাক পরিষ্কার রাখা : নাক আমাদের শ্বাসতন্ত্রের প্রথম প্রতিরক্ষা। এটি বাতাস পরিশ্রুত করে ধুলো, পরাগ, ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসকে ফুসফুসে পৌঁছাতে বাধা দেয়। নিয়মিত নাক পরিষ্কার না করলে সর্দি, সাইনাস সংক্রমণ, অ্যালার্জি ও শ্বাসকষ্টের ঝুঁকি বাড়ে। নবী মুহাম্মদ (সা.) সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর পানি দিয়ে নাক পরিষ্কার করতেন এবং দুই-তিনবার জোরে ঝাড়া দিয়ে পানি বের করতে বলেছেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৬২)

৬. দাঁতের যত্ন : আধুনিক গবেষণায় দেখা গেছে, মাড়ির রোগ (পিরিয়ডন্টাল ডিজিজ) হৃদ্‌রোগ, স্ট্রোক ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়। মুখের ব্যাকটেরিয়া শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে। মুহাম্মদ (সা.) মুখের পরিচ্ছন্নতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘মিসওয়াক মুখ পরিষ্কার করে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮৮৮) তিনি আরও বলেন, যদি উম্মতের ওপর বোঝা হওয়ার আশঙ্কা না হতো, তবে প্রতি নামাজের আগে মিসওয়াক ব্যবহারের নির্দেশ দিতেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৫২)

মিসওয়াক, যা সালভাডোরা পার্সিকা গাছের ডাল থেকে তৈরি, বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান (সালভাডোরিন ও ট্রাইমেথাইলামিন) ধারণ করে। এটি প্লাক ও মাড়ির প্রদাহ কমায় এবং টুথব্রাশের মতোই কার্যকর। (জার্নাল অব ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিন, ২০১৩)

মহানবী (সা.)-এর প্রতিটি সুন্নত আমাদের এমন একটি জীবনধারা শিখিয়েছে। এই সুন্নতগুলো আমাদের রোগ থেকে রক্ষা করে এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে সহায়তা করে। আসুন, আমরা নবীর এই শিক্ষাগুলো আমাদের জীবনে গ্রহণ করি এবং পবিত্রতার পথে এগিয়ে যাই। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করুক। আমিন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%