০৯:১০ পি.এম
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) বাংলাদেশের নবনিযুক্ত চিফ অব মিশন ড. লরা টম বন্ড প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
আজ মন্ত্রীর অফিস কক্ষে অনুষ্ঠিত হওয়া এই বৈঠকে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিবাসীদের কল্যাণে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
বৈঠকের শুরুতেই মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী আইওএম’র নতুন চিফ অব মিশনকে বাংলাদেশে আন্তরিক অভিনন্দন ও স্বাগত জানান।
আরও পড়ুন: সৌদি আরব থেকে ৯ মাসে ২ হাজার মরদেহ, নারী কর্মীরা সন্তানের বাবার পরিচয় জানেন না
তিনি নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল অভিবাসন নিশ্চিতকরণের জন্য আইওএম’র ধারাবাহিক সমর্থন ও পেশাদারিত্বের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
মন্ত্রী বলেন, অভিবাসন নীতি প্রণয়ন এবং গ্লোবাল কমপ্যাক্ট ফর মাইগ্রেশন জাতীয় কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে আইওএম’র কারিগরি সহায়তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
আগামীতে জাতীয় ডায়াসপোরা নীতি এবং প্রত্যাবর্তনকারীদের পুনঃএকত্রীকরণ নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে উভয় পক্ষ যৌথভাবে কাজ করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও ডিজিটাল রূপান্তরের ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী জানান, ওআইডিএফ ফ্রেমওয়ার্কের মাধ্যমে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং এর অধীনস্থ সংস্থাসমূহের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: দুধের উৎপাদন খরচ ৪৪.৮০ টাকা, বিক্রি ১০০-১১০ টাকায়
এছাড়া সমন্বিত অভিবাসী তথ্য ও সেবা ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি চালুর মাধ্যমে সামগ্রিক অভিবাসন সেবাকে আধুনিকায়ন করার কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি।
চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের বিষয়ে তিনি বলেন, আইএফএডি’র অর্থায়নে 'ডায়াসপোরা প্রকল্প' এবং বিশ্বব্যাংক ও ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের অর্থায়নে ‘রেইজ প্রকল্প’র সফল বাস্তবায়নসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে চলমান প্রকল্পসমূহের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হবে।
ভবিষ্যতে নিরাপদ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, তথ্য ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং টেকসই উন্নয়নে বাংলাদেশ সরকার ও আইওএম’র মধ্যকার দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
সভায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’র সুবর্ণ সময় পার করছে।
আরও পড়ুন: লিবিয়ার বন্দিশালা থেকে দেশে ফিরছেন ১৭২ বাংলাদেশি
আমাদের বিপুল জনশক্তি রয়েছে, তবে দক্ষ রাষ্ট্রীয় সম্পদ হিসেবে তাদের পুরোপুরি কাজে লাগাতে আমাদের আরও সুপরিকল্পিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
এই বিশাল জনশক্তিকে বৈশ্বিক চাহিদার উপযোগী করে গড়ে তুলতে আইওএম’র কৌশলগত এবং কারিগরি সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ড. লরা টম বন্ড জাতিসংঘের ‘গ্লোবাল কমপ্যাক্ট ফর সেফ, অর্ডারলি অ্যান্ড রেগুলার মাইগ্রেশন’ বাস্তবায়নে শীর্ষস্থানীয় চ্যাম্পিয়ন দেশ হিসেবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করায় বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং অভিনন্দন জানান।
তিনি বলেন, সচেতনতা বৃদ্ধি, সফল পুনঃএকত্রীকরণ কর্মসূচি, নিরাপদ অভিবাসন এবং নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যেভাবে অনন্য অগ্রগতি প্রদর্শন করছে, তা ধরে রাখতে আইওএম-এর সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
আরও পড়ুন: ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পরে এই প্রথম, এসসিও’র বৈঠকে পাকিস্তানকে আমন্ত্রণ ভারত
বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের ২০টি সুনির্দিষ্ট ধারা আইওএম-এর বৈশ্বিক কর্মপরিকল্পনা ও লক্ষ্যের সঙ্গে গভীরভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এসময় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সাইফুল হক চৌধুরী ও জিনাত আরাসহ মন্ত্রণালয় এবং আইওএম বাংলাদেশের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন