ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মার্কিন নিরাপত্তায় বিশ্বাস নেই নেতানিয়াহুর, ছেলেকে সরিয়ে নিলেন দেশে


মার্কিন নিরাপত্তায় বিশ্বাস নেই নেতানিয়াহুর, ছেলেকে সরিয়ে নিলেন দেশে

যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার প্রতি বিশ্বাস হারিয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বড় ছেলে ইয়ার নেতানিয়াহুকে জরুরি ভিত্তিতে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। জানা যায়, গুরুতর হুমকি ও হত্যার আশঙ্কার কারণে তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইসরায়েলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। নেতানিয়াহু এর আগে অভিযোগ করেছিলেন যে, ইরান তার এক সন্তানের হত্যার চেষ্টা করছে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্ক পোস্টের

একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেত জানিয়েছে যে, ৩৫ বছর বয়সী ইয়ার নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে একটি ‘গুরুতর হুমকি’ শনাক্ত করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে তারা আর কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।

আরও পড়ুন: নেতানিয়াহু ও গাদি আইজেনকোটের ৫টি জাতীয় নিরাপত্তা নীতিতে একমত

এর আগে ২৪ আগস্ট, ইসরায়েলি টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেছিলেন, ‘ইরান আমার এক ছেলেকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। ইরান তাকে হত্যা করার চেষ্টা করেছে।’ তবে তিনি স্পষ্ট করেননি, তার দুই ছেলের মধ্যে কাকে এই ষড়যন্ত্রের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

ইয়ার নেতানিয়াহু ২০২৩ সালে মিয়ামিতে চলে যান। এরপর গাজা, লেবানন ও ইরানের সঙ্গে ইসরায়েলের চলমান সংঘাতের বেশিরভাগ সময় তিনি সেখানেই ছিলেন। জুলাই মাস থেকে ইয়ার, তার মা সারা এবং ভাই আভনের জন্য বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনুমোদন করেছে শিন বেত।

ইয়ার নেতানিয়াহু তার বাবার অনানুষ্ঠানিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাবার পক্ষে সক্রিয় থাকার জন্য পরিচিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিভিন্ন মন্তব্যও বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

২০২৫ সালে তিনি পডকাস্টার জো রোগানের বিরুদ্ধে ইহুদিবিদ্বেষকে উসকে দেয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন। একই সঙ্গে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীকে তার জনপ্রিয় অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ না জানানোর জন্য সমালোচনা করেন।

আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুর জোটের আসন ৫৪, বিরোধীদের ৪৭, আরব দলের ১৯

এক্সে তিনি লিখেছিলেন, ‘তিনি এই গ্রহের প্রত্যেক নব্য নাৎসি ইহুদিবিদ্বেষীকে প্ল্যাটফর্ম দিয়েছেন, কিন্তু তিনি আমার বাবাকে তার অনুষ্ঠানে আনতে রাজি হননি, কারণ সে জানে যে আমার বাবার সঙ্গে সে কোনোভাবেই টিকতে পারবে না এবং বছরের পর বছর ধরে চালানো ইহুদিবিদ্বেষী প্রচারণা ব্যর্থ হয়ে যাবে।’

এর আগে পডকাস্টার জো রোগান কেলেঙ্কারিতে জড়ানো হান্টার বাইডেনের প্রশংসা করে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার যোগ্য বলে মন্তব্য করলে তারও সমালোচনা করেন ইয়ার। তিনি লিখেছিলেন, ‘রক্ষণশীলদের জন্য এটি একটি বড় সতর্কবার্তা যে, জো রোগান কোনো রক্ষণশীল নন।’ মুসলিম ও ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে একাধিক পোস্ট দেয়ার কারণে ২০১৮ সালে ইয়ার নেতানিয়াহুর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ২৪ ঘণ্টার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল।

এক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ‘আপনি কি জানেন কোথায় কোনো হামলা হয় না, আইসল্যান্ড এবং জাপানে। তার কারণ হলো সেখানে কোনো মুসলিম নেই।’ অন্য একটি পোস্টে তিনি উল্লেখ করেছিলেন, ‘১৯৬৪ সাল থেকে ‘ফিলিস্তিনি’ নামে পরিচিত মানবাকৃতির দানবদের সঙ্গে কখনো শান্তি হবে না।

আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুকে রাজনীতি থেকে বিদায় নেওয়ার আহ্বান গাদি আইজেনকোটের

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টেকনাফের হ্নীলা বাজারে আগুন, ৩০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:১৪ এম


টেকনাফের হ্নীলা বাজারে আগুন, ৩০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি

কক্সবাজারের টেকনাফের হ্নীলা বাজারের জামাল মার্কেটে রাতে একটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এই অগ্নিকাণ্ডটি মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টায় ঘটে। মার্কেটে আগুন লাগার পর স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং পথচারীরা প্রথমে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন।

পরে, কিছুটা দেরিতে হলেও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।

এই অগ্নিকাণ্ডের ফলে মালিহা এন্টারপ্রাইজসহ অনেক দোকান, রেস্টুরেন্ট, এজেন্ট ব্যাংক এবং অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়।

হ্নীলা বাজার পরিচালনা কমিটির অধ্যাপক জহির আহমদ ও আল মাসুদ জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩০ কোটি টাকা হবে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুনের সূত্রপাত প্রথমে ছেহের মিয়ার একটি রঙের দোকান থেকে হয়। এরপর মুহূর্তের মধ্যে আগুন আশপাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। তবে ঠিক কী কারণে রঙের দোকানে আগুন লেগেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, আগুনের সূত্রপাত হওয়া দোকানে অনুমোদনহীন কেমিক্যাল ছিল।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দ্রুত অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধান এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সহযোগিতার দাবি জানিয়েছেন।

এআরবি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের প্রথম নারী সার্ফার ফাতেমা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:১৭ এম


এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের প্রথম নারী সার্ফার ফাতেমা

বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো এশিয়ান গেমসে সার্ফিংয়ে প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছে। এই ঐতিহাসিক অভিযানে দেশের প্রথম নারী সার্ফার হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন কক্সবাজারের দশম শ্রেণির ছাত্রী ফাতেমা আক্তার। আগামী সেপ্টেম্বরে জাপানের আইচি-নাগোয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০তম এশিয়ান গেমসে লাল-সবুজের পতাকা উঁচিয়ে ধরার জন্য এখন দিন-রাত উত্তাল সমুদ্রে ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই করছেন এই তরুণী।

ফাতেমা বর্তমানে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে সার্ফিংয়ে বাংলাদেশের পদক জয়ের স্বপ্ন নিয়ে নিবিড় অনুশীলনে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তার এই কঠোর যাত্রায় সহ-সার্ফার মোহাম্মদ মান্নান তাকে সমর্থন প্রদান করছেন। 'বাংলাদেশ সার্ফ গার্লস অ্যান্ড বয়েজ ক্লাব'-এর মূল প্রশিক্ষক রাশেদ আলমের তত্ত্বাবধানে তারা নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন।

পড়ালেখার পাশাপাশি নিজের ক্রীড়া স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে ফাতেমার এই নিরলস প্রচেষ্টা ইতিমধ্যে স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছে। কোচ রাশেদ আলমের নির্দেশনায় ফাতেমার গতি, ভারসাম্য এবং কৌশলগত দক্ষতার উন্নয়নে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে, যাতে এশিয়ান গেমসের মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চে বিশ্বমানের সার্ফারদের চ্যালেঞ্জ জানানো সম্ভব হয়।

এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের সার্ফিং দলের এই অভিষেক এবং ফাতেমার একক সাফল্য দেশের ক্রীড়া ইতিহাসে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। ফাতেমার এই অর্জন শুধুমাত্র তার ব্যক্তিগত স্বপ্ন পূরণই নয়, বরং বাংলাদেশের নারী ক্রীড়াবিদদের জন্য একটি নতুন অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় নিজের সেরাটা দিয়ে দেশের জন্য নতুন ইতিহাস লেখার লক্ষ্য নিয়ে ফাতেমা আক্তার জাপানের উদ্দেশে রওনা হওয়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পিয়নের ব্যাগ তল্লাশি নিয়ে বিরোধ, বিচারকের খাসকামরায় পুলিশ কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:১৯ এম


পিয়নের ব্যাগ তল্লাশি নিয়ে বিরোধ, বিচারকের খাসকামরায় পুলিশ কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগ

রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে আদালতের এক কর্মচারীর ব্যাগ তল্লাশি করার চেষ্টা নিয়ে ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-১০-এর বিচারক শাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে খাসকামরায় ডেকে নিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-১০-এ মারধরের এই ঘটনা ঘটে।

অভিযোগকারী পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী ঢাকা রেলওয়ে থানায় উপপরিদর্শক (এসআই) হিসেবে কর্মরত আছেন। ঘটনার পর তিনি ন্যায়বিচার চেয়ে ঢাকা আইনজীবী সমিতিতে লিখিত অভিযোগ করেছেন। একই সঙ্গে, ঘটনার পূর্বে আদালতের কর্মচারীর হুমকির বিষয়টি উল্লেখ করে ঢাকা রেলওয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেছেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৯ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে ঢাকা রেলওয়ে থানার আওতাধীন নারায়ণগঞ্জ ও পদ্মা সেতুগামী শহরতলি রেলওয়ে প্ল্যাটফর্মে দায়িত্ব পালনকালে এএসআই (নিরস্ত্র) মৌসুমী আক্তারসহ সঙ্গীয় ফোর্স যাত্রীদের ব্যাগ তল্লাশি করছিলেন।

এ সময় সাকিব আল হাসান ব্যাগ তল্লাশি না করানোর বিষয়ে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে উচ্চবাচ্য ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এক পর্যায়ে তিনি প্রকাশ্যে মন্তব্য করেন যে, পুলিশ সদস্যদের তল্লাশি করার কোনো অধিকার নেই।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সাকিব রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তিনি নিজেকে অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-১০-এর পিয়ন পদমর্যাদার কর্মচারী হিসেবে পরিচয় দেন। পরে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিচারকের সঙ্গে কথা বলে নিষ্পত্তি করা হয়।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, সোমবার অফিসার ইনচার্জের মাধ্যমে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলাম সোহাগের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মোহাম্মদ আলী। পরবর্তীতে তাকে অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-১০-এর বিচারক শাহিদুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করতে বলা হয়।

মঙ্গলবার দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১টার দিকে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সহসভাপতি আবুল কালাম আজাদ, কোর্ট রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমানসহ কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে বিচারকের খাসকামরায় যান এসআই মোহাম্মদ আলী। তবে অভিযোগে বলা হয়েছে, তাদের বাইরে রেখে তাকে একাই ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, খাসকামরায় আগে থেকেই বিচারকের কর্মচারী সাকিব আল হাসানসহ কয়েকজন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। মোহাম্মদ আলী ভেতরে প্রবেশের পর দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এক পর্যায়ে একজন ব্যক্তি পেছন থেকে তাকে সজোরে আঘাত করে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। আত্মরক্ষার্থে তিনি ওই ব্যক্তির হাত ধরে ফেলেন। এ সময় বিচারকের দিকে তাকিয়ে ‘স্যার, এটা কী হচ্ছে?’ জানতে চাইলে ওই ব্যক্তি দরজার দিকে পালিয়ে যাওয়ার সময় তাকে বলেন, ‘বুঝছস, আমরা কারা?’

পুরো ঘটনাটি খাসকামরায় থাকা এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে ধারণ করেছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী এসআই মোহাম্মদ আলী অভিযোগ করে বলেন, "কোনো অপরাধ থাকলে আমার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করা যেত বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া যেত। কিন্তু এভাবে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মানসিকভাবে হয়রানি করার কোনো কারণ দেখি না।"

তিনি আরও বলেন, "আমি জজ স্যারকে বলেছি, আমার কোনো অপরাধ হয়ে থাকলে আমি দুঃখিত, আপনার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। কিন্তু এভাবে আমাকে অপমান ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার কারণ কী?"

মোহাম্মদ আলী জানান, পরে তাকে হাত ধরে ওই ব্যক্তির সঙ্গে হাত মেলাতে বাধ্য করা হয়। এরপর তিনি সেখান থেকে বের হয়ে আসেন।

তবে অভিযোগের বিষয়ে অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-১০-এর বিচারক শাহিদুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রেসিডেন্ট অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ইয়াসমিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৩:২৪ এম


দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রেসিডেন্ট অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ইয়াসমিন

দক্ষিণ কোরিয়ার সাংকংহে ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট অ্যাওয়ার্ড লাভ করেছেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ইয়াসমিন আক্তার অধরা। কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে মানবপাচারের জটিলতা নিয়ে গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি এই সম্মাননা অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট স্কুলের এশিয়ান নন-গভর্নমেন্টাল অর্গানাইজেশনস প্রোগ্রামের শিক্ষার্থী হিসেবে ইয়াসমিন এই পুরস্কার পেয়েছেন।

২০২৫ সালের শরৎকালীন সেমিস্টারের ডিগ্রি প্রদান অনুষ্ঠান গত ১৩ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন সায়েন্স বিল্ডিংয়ের জন ডেলি হলে অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্ঠানে মোট ২৫৪ জন শিক্ষার্থী ডিগ্রি লাভ করেন। তাদের মধ্যে ১৮৮ জন স্নাতক এবং ৬৬ জন স্নাতকোত্তর ও ডকটরেট ডিগ্রি অর্জন করেন।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে মোট ১৩ জন শিক্ষার্থী প্রেসিডেন্ট অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন। তাদের মধ্যে গ্র্যাজুয়েট স্কুল থেকে একমাত্র ইয়াসমিন আক্তার অধরা এই সম্মাননা অর্জন করেন। একই অনুষ্ঠানে একজন শিক্ষার্থী চেয়ারম্যান অ্যাওয়ার্ড এবং গ্র্যাজুয়েট স্কুলের পাঁচজন শিক্ষার্থী আউটস্ট্যান্ডিং থিসিস অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন।

ইয়াসমিন আক্তার অধরার থিসিসের শিরোনাম হল, ‘ইন্টারনাল কলোনিজ অফ এইড এন্ড মবিলিটি: হিউমান ট্রাফিককিং উইথিং টি রোহিঙ্গ্যা রেফিউজি–হোস্ট কমিউনিটি ল্যান্ডস্ক্যাপে অফ কক্সস বাজার’।

গবেষণায় কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগণের প্রেক্ষাপটে মানবিক সহায়তা, বাস্তুচ্যুতি, মানুষের চলাচল, জীবিকা ও নিরাপত্তার সঙ্গে মানবপাচারের সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

বিশেষভাবে, শরণার্থী ও স্থানীয় জনগণের সামাজিক-অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং মানুষের চলাচলের ওপর বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা কীভাবে মানবপাচারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, তা গবেষণার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।

গবেষণাটিতে রোহিঙ্গা সংকটকে শুধুমাত্র একটি শরণার্থী সংকট হিসেবে না দেখে এর সঙ্গে জড়িত বৃহত্তর সামাজিক ও মানবিক বাস্তবতাগুলো বোঝার চেষ্টা করা হয়েছে। মানবপাচার, মানুষের চলাচল, জীবিকার সুযোগ এবং নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলো কীভাবে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত—গবেষণায় সে বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।

প্রেসিডেন্ট অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে ইয়াসমিন আক্তার অধরা বলেন, "এই স্বীকৃতি আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের। একই সঙ্গে এটি আমার কাছে একটি বড় দায়িত্বেরও বিষয়। মানবপাচার কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগণের কাছে একটি কঠিন বাস্তবতা। সেই বাস্তবতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে গবেষণা করার সুযোগ আমার জন্য অনেক অর্থবহ ছিল।"

গবেষণার বিষয় নির্বাচন সম্পর্কে তিনি বলেন, "রোহিঙ্গা সংকটকে শুধু একটি শরণার্থী সংকট হিসেবে না দেখে এর সঙ্গে জড়িত মানবপাচার, মানুষের চলাচল, জীবিকা ও সামাজিক বাস্তবতার জটিলতাগুলোকে বোঝার চেষ্টা করাই ছিল আমার মূল উদ্দেশ্য।"

তিনি আরো বলেন, "গবেষণার সময় আমি উপলব্ধি করেছি, একটি সমস্যাকে বুঝতে হলে শুধু পরিসংখ্যান বা নীতিমালার দিকে তাকালেই হয় না; এর সঙ্গে জড়িত মানুষের অভিজ্ঞতা ও বাস্তবতাকেও গুরুত্ব দিতে হয়।"

আন্তর্জাতিক একাডেমিক পরিসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে গর্বিত ইয়াসমিন। তিনি বলেন, "সাংকংহে ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট অ্যাওয়ার্ড পাওয়া আমার জন্য নিঃসন্দেহে একটি বিশেষ মুহূর্ত। এই অর্জনের পেছনে আমার পরিবার, শিক্ষক, সহপাঠী এবং গবেষণার বিভিন্ন পর্যায়ে যারা আমাকে সহযোগিতা করেছেন, তাদের সবার অবদান রয়েছে। তাদের প্রতি আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।"

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, "একজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হিসেবে আন্তর্জাতিক একাডেমিক পরিসরে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে আমি গর্বিত। আমি বিশ্বাস করি, এই অর্জন আমার পথচলার শেষ নয়; বরং মানুষের অধিকার, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং মানবিক সংকট নিয়ে আরও গভীরভাবে কাজ করার অনুপ্রেরণা।"

ডিগ্রি প্রদান অনুষ্ঠানে সাংকংহে ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট কিম কিয়ং-মুন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন।

তিনি শিক্ষার্থীদের এমন মানুষ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার আহ্বান জানান, যারা "দয়ালু কিন্তু অজ্ঞ নন" এবং "যোগ্য কিন্তু অহংকারী নন"।

পরিচিত ও স্বস্তিকর গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে অস্বস্তিকর প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়ার জন্যও শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

পরিবর্তনশীল বিশ্বে শিক্ষার্থীরা যখন পথ হারিয়ে ফেলবেন, তখন তাদের হৃদয়ে থাকা ‘উন্মুক্ততা, ভাগ করে নেওয়া এবং সেবা’—এই মূল্যবোধ অনুসরণ করার পরামর্শ দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট।

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে মানবপাচারের মতো একটি জটিল সামাজিক ও মানবিক সমস্যা নিয়ে গবেষণার জন্য ইয়াসমিনের এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি তার একাডেমিক সাফল্যের পাশাপাশি বাংলাদেশের গবেষণা ও মানবাধিকারভিত্তিক কাজের ক্ষেত্রেও একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন।

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%