ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নেতানিয়াহুকে রাজনীতি থেকে বিদায় নেওয়ার আহ্বান গাদি আইজেনকোটের


নেতানিয়াহুকে রাজনীতি থেকে বিদায় নেওয়ার আহ্বান গাদি আইজেনকোটের

ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মন্তব্য করেছেন যে, নির্বাচনের বর্তমান ফলাফল দেখে এখনই কিছু বলা সঠিক হবে না। তিনি বলেন, কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ‘প্রকৃত ফলাফলের’ জন্য অপেক্ষা করা উচিত। তবে বিরোধী জোটের নেতা ও ইয়াশার দলের প্রধান গাদি আইজেনকোট নেতানিয়াহুকে রাজনীতি থেকে বিদায় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, মানুষের অনাস্থা মেনে নিতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী, নির্বাচনের ফলে নেতানিয়াহুর জোট তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন জোটের সাথে সমানে সমানে অবস্থান করছে। নেতানিয়াহু মন্তব্য করেছেন, ‘আরব সমর্থনে’ টিকে থাকা কোনো সরকার ইসরাইলকে পরিচালনা করতে সক্ষম নয়।

তিনি আরও বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মিলে ‘ইরানের হুমকি চিরতরে নির্মূল করার একটি অনন্য সুযোগ’ ইসরাইলের সামনে রয়েছে। অন্যদিকে, ফল ঘোষণার পর নিজের দলীয় কার্যালয়ে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দিয়েছেন ইয়াশার দলের প্রধান গাদি আইজেনকোট।

আরও পড়ুন: ভারত-চীন সম্পর্কের বরফ গলছে, তবে উদ্বেগ রয়ে গেছে

চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করার আহ্বান জানিয়ে আইজেনকোট সমর্থকদের বলেন, ‘এটা স্পষ্ট যে দেশের মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে এবং নেতানিয়াহুর ব্যর্থ শাসনের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে।’ তিনি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে মানুষের অনাস্থা মেনে নিয়ে রাজনীতি থেকে বিদায় নেওয়ার আহ্বান জানান।

আইজেনকোট বলেন, নির্বাচনে ভোটারদের এত বড় উপস্থিতির পর আবার নতুন করে নির্বাচন দেওয়াটা মারাত্মক ভুল হবে। তিনি ঘোষণা করেন, তিনি সবাইকে নিয়ে একটি ‘দায়িত্বশীল জায়োনিস্ট সরকার’ গঠন করতে নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। তার সরকার সবার জন্য সামরিক সেবা বাধ্যতামূলক করবে এবং হামাসকে পুরোপুরি নির্মূল করতে কাজ করবে।

সূত্র: বিবিসি

আরও পড়ুন: সুইজারল্যান্ডের প্রতি বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের আহ্বান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাষ্ট্রপতি কর্মমুখী শিক্ষায় গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানালেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:১০ পি.এম


রাষ্ট্রপতি কর্মমুখী শিক্ষায় গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানালেন

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে তারা বিশ্বমানের কর্মমুখী ও কারিগরি শিক্ষায় গুরুত্ব দিয়ে দক্ষ জনশক্তি গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বঙ্গভবনে ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, দেশের বেকারত্ব সমস্যা সমাধানে উচ্চশিক্ষাসহ সর্বস্তরে কর্মমুখী, কারিগরি ও প্রকৌশল শিক্ষায় গুরুত্ব দেয়ার বিকল্প নেই। তিনি এআই ও অত্যাধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর ওপর জোর দেন।

প্রতিনিধিদলটি প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ও ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর নেতৃত্বে উপস্থিত ছিল। প্রতিনিধিদলে বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাফায়েত মোহাম্মদ রাজু, উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদ আহমদ সোবহানী, বোর্ড অব ট্রাস্টিজের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আবুল কাশেম হায়দার এবং বোর্ড সদস্য ও সাবেক চেয়ারম্যান আবুল খায়ের চৌধুরী ছিলেন।

সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে অর্জিত অগ্রগতি এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে অবহিত করে। তারা জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়টি জেসাপ আন্তর্জাতিক কোর্ট প্রতিযোগিতার বাংলাদেশ রাউন্ডে ২০২৬ সালসহ চারবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে।

এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদানে এ পর্যন্ত ১০০ কোটি টাকারও বেশি অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি রাষ্ট্রপতিকে জানায় প্রতিনিধিদল। এই অর্থ মেধার বিকাশ, আর্থিকভাবে অসচ্ছল অথচ মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে ব্যয় করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সর্বশেষ অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণার প্রসার এবং উদ্ভাবনী কার্যক্রম জোরদারের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের অবস্থান সুদৃঢ় করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতি আহ্বান জানান।

প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতিকে তার দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানায় এবং ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির আসন্ন সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য তাকে আমন্ত্রণ জানায়। রাষ্ট্রপতি সমাবর্তন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের আশ্বাস দেন।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব ও প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টঙ্গীতে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিশাল আনন্দ মিছিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ ফারুক হোসেন

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:১১ পি.এম


টঙ্গীতে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিশাল আনন্দ মিছিল

নাজমুল হোসেন মন্ডলের নেতৃত্বে নেতাকর্মীদের ঢল, স্লোগানে মুখর টঙ্গীর রাজপথবাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গাজীপুরের টঙ্গীতে বিশাল আনন্দ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। টঙ্গী পূর্ব থানা যুবদলের সদস্য সচিব নাজমুল হোসেন মন্ডলের নেতৃত্বে আয়োজিত মিছিলে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে টঙ্গীর রাজপথ ছিল সরব ও মুখরিত।
মিছিলটি টঙ্গীর চোরাগালি এলাকা থেকে শুরু হয়ে স্টেশন রোডে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে নেতাকর্মীদের ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা যায়। এ সময় বিভিন্ন স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মিছিলের পরিবেশ।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আনন্দ মিছিলে নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে টঙ্গীর রাজপথে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। মিছিলের নেতৃত্ব দেন টঙ্গী পূর্ব থানা যুবদলের সদস্য সচিব নাজমুল হোসেন মন্ডল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেতানিয়াহুর জোটের আসন ৫৪, বিরোধীদের ৪৭, আরব দলের ১৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:১১ পি.এম


নেতানিয়াহুর জোটের আসন ৫৪, বিরোধীদের ৪৭, আরব দলের ১৯

ইসরাইলের পার্লামেন্ট নির্বাচনের ফলাফলে ৪০ লাখের বেশি ভোট গণনার পর প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট এগিয়ে রয়েছে। বুধবার সকালে দেশটির নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর জোট ৫৪টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে, তাকে ক্ষমতা থেকে সরাতে চাওয়া বিরোধী জোট ৪৭ আসন পেতে পারে। আরব দলগুলো সম্মিলিতভাবে ১৯টি আসন পেতে পারে।

তবে সরকার গঠনের জন্য ইসরাইলের ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে প্রয়োজন ৬১ আসন। ফলে কোনো জোটই এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে না পারায় সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

নেতানিয়াহুর জোটে কোন দল কত আসন পেতে পারে, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ২৭টি আসন পেতে পারে। এ ছাড়া ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম ৭টি, শাস ৭টি, ইতামার বেন-গভিরের ওজমা ইয়েহুদিত ৭টি এবং রিলিজিয়াস জায়নিস্ট পার্টি ৬টি আসন পেতে পারে। সব মিলিয়ে নেতানিয়াহুর জোটের সম্ভাব্য আসনসংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ৫৪টি।

অন্যদিকে, বিরোধী জোটের মধ্যে গাদি আইজেনকটের ইয়াশার পার্টি ২১টি, নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদের নেতৃত্বাধীন বি’ইয়াখাদ ১১টি, ইয়ার গোলানের ডেমোক্র্যাটস পার্টি ৮টি এবং আভিগদর লিবারম্যানের ইসরাইল বেইতেনু ৭টি আসন পেতে পারে। এই চার দলের মোট আসনসংখ্যা ৪৭।

আরব দলগুলোর আসন ১৯, সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার সম্ভাবনা রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, আরব দলগুলোর মধ্যে জয়েন্ট লিস্ট ১৩টি এবং মানসুর আব্বাসের নেতৃত্বাধীন রা’আম ৬টি আসন পেতে পারে। সব মিলিয়ে তাদের আসনসংখ্যা ১৯।

এই ফলাফল আরব দলগুলোকে সরকার গঠনের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে আসতে পারে। তবে নেতানিয়াহুবিরোধী জোটের অধিকাংশ নেতা আরব দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে সরকার গঠনের বিরোধিতা করেছেন। ডেমোক্র্যাটস পার্টির নেতা ইয়ার গোলান এ বিষয়ে তুলনামূলকভাবে নমনীয় অবস্থানে রয়েছেন।

ঐকমত্যের সরকার, নাকি আবার নির্বাচন

নেতানিয়াহু ও আইজেনকটকে নিয়ে জাতীয় ঐকমত্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনা আপাতত কম। আইজেনকট স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এমনকি পর্যায়ক্রমে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ব্যবস্থা থাকলেও তিনি নেতানিয়াহুর অধীনে কাজ করতে রাজি নন। বিরোধী জোটের অন্য নেতারাও নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে সরকারে যোগ দেওয়ার বিরোধিতা করেছেন।

আইজেনকট আরও বলেছেন, বিরোধী জোটের মধ্যে যে দলের আসন সবচেয়ে বেশি হবে, সেই দলের নেতাকে প্রধানমন্ত্রী পদের প্রার্থী করা উচিত। তবে এ বিষয়ে জোটের মধ্যে এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।

নির্বাচনের ফলাফলে এমন একটি সংখ্যালঘু সরকার গঠনের সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে, যা ৬১ আসনের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছাড়াই পার্লামেন্টে আস্থা ভোটে জয়ী হতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে আরব দলগুলোর সমর্থনের ওপর নির্ভর করা নিয়ে বিরোধীদের মধ্যে আপত্তি রয়েছে।

রাজনৈতিক দলগুলো সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে ইসরাইলে আবারও নির্বাচন হতে পারে।

বুথফেরত জরিপে কী দেখা গিয়েছিল

মঙ্গলবার রাতে ইসরাইলের ১১, ১২ ও ১৩ নম্বর টেলিভিশন চ্যানেলের বুথফেরত জরিপে কোনো পক্ষকেই স্পষ্ট বিজয়ী হিসেবে দেখানো হয়নি। তিনটি জরিপেই নেতানিয়াহুর জোট ও তাকে ক্ষমতা থেকে সরাতে চাওয়া বিরোধী জোট—উভয় পক্ষকেই ৬১ আসনের কম পেতে দেখা যায়।

মঙ্গলবারের জরিপে নেতানিয়াহুর জোট ৫১ থেকে ৫২টি এবং বিরোধী জোট ৪৯ থেকে ৫১টি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল। বুধবার সকালে কিছু জরিপে নেতানিয়াহুর জোটের আসনসংখ্যা ৫৩ থেকে ৫৭-এর মধ্যে দেখানো হয়।

লিকুদ পার্টির আসনসংখ্যা ২৭ থেকে ২৮ এবং আইজেনকটের ইয়াশার পার্টির আসনসংখ্যা ২১-এর কাছাকাছি থাকবে বলে ধারণা করা হয়েছে।

বুথফেরত জরিপের সঙ্গে অতীতে চূড়ান্ত ফলাফলের পার্থক্য দেখা গেছে। তাই ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এসব হিসাবকে সম্ভাব্য ফল হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।

ভোট পড়েছে ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ

কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত ১০টায় ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার সময় ভোটার উপস্থিতি ছিল ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ। ২০২২ সালের নির্বাচনের তুলনায় এ হার ৭ দশমিক ১ শতাংশ বেশি।

এদিকে, নির্বাচনে অংশ নেওয়া ডানপন্থী ছোট দল পিপল অব ইসরাইল এবং দ্য রিজার্ভিস্টস-ইকোনমিক পার্টি প্রয়োজনীয় ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ ভোটের সীমা অতিক্রম করতে পারবে না বলে বুথফেরত জরিপে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এই দলগুলো আসন না পেলে নেতানিয়াহুর জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের হিসাব আরও জটিল হতে পারে।

বিরোধীদের বিজয় দাবি

মঙ্গলবার রাতে বুথফেরত জরিপ প্রকাশের পর আইজেনকট ও বিরোধী জোটের অন্য নেতারা নিজেদের বিজয়ী দাবি করেন। তাদের বক্তব্য, জনগণ নেতানিয়াহুর সরকারের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে।

তেল আবিবে নিজের দলের সদর দপ্তরে দেওয়া বক্তব্যে আইজেনকট বলেন, নেতানিয়াহুর সরকারকে সরিয়ে দেওয়া এবং নতুন নির্বাচন এড়ানো প্রয়োজন।

তিনি ইসরাইলের নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, প্রধানমন্ত্রী যেন জাতীয় নিরাপত্তাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে না পারেন, সে বিষয়ে তাদের সতর্ক থাকতে হবে।

বিরোধী নেতা ইয়ার লাপিদও নেতানিয়াহুর জোটের পরাজয় হয়েছে বলে দাবি করেন। তার ভাষ্য, জনসাধারণ নেতানিয়াহুর সরকারকে ক্ষমতা ছাড়ার বার্তা দিয়েছে।

ডেমোক্র্যাটস পার্টির চেয়ারম্যান ইয়ার গোলান বলেন, ফলাফল ইসরাইলে সরকার পরিবর্তনের ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি করেছে। ব্যবধান দূর করে অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে তারা প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।

ইসরাইলের দীর্ঘতম সময় ধরে দায়িত্ব পালন করা প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু মোট ১৯ বছরেরও বেশি সময় ধরে দেশটির সরকারপ্রধানের দায়িত্বে রয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেতানিয়াহু ও গাদি আইজেনকোটের ৫টি জাতীয় নিরাপত্তা নীতিতে একমত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৫:১২ পি.এম


নেতানিয়াহু ও গাদি আইজেনকোটের ৫টি জাতীয় নিরাপত্তা নীতিতে একমত

ইসরাইলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে ক্ষমতা ধরে রাখার লড়াইয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী, সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের মধ্যে চলমান তীব্র রাজনৈতিক বাগযুদ্ধের মধ্যে, দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা এবং কৌশলগত মৌলিক নীতিগুলোর ক্ষেত্রে উভয়ের মধ্যে রয়েছে গভীর সাদৃশ্য। যদিও দল দুটির মতাদর্শিক অবস্থান আপাতদৃষ্টিতে ভিন্ন মনে হচ্ছে, ফিলিস্তিন সংকট, হামাস নির্মূল, ইরান নীতি এবং আরব দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনের প্রশ্নে নেতানিয়াহু এবং আইজেনকোট মূলত একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক এবং ভূরাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ব্যক্তি নেতানিয়াহুর দুর্নীতি এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণে ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি বিভক্ত হলেও, যেসব মৌলিক নীতিতে দুই নেতার মধ্যে পূর্ণ মতৈক্য বিদ্যমান, সেগুলো নিম্নরূপ:

১. আরব দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনে অস্বীকৃতি

নির্বাচনোত্তর সরকার গঠনের জটিল সমীকরণে পার্লামেন্টের আরব দলগুলোর সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠলেও, নেতানিয়াহু এবং আইজেনকোট উভয়েই আরব আইনপ্রণেতাদের ওপর নির্ভর করে সরকার গঠনের সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করেছেন। নেতানিয়াহু দাবি করেন, আরবদের সমর্থনে গঠিত সরকার জাতীয় বৈধতা হারাবে; অন্যদিকে, আইজেনকোটও নির্বাচনি প্রচারণায় স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তিনি আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট বেঁধে সরকার পরিচালনা করবেন না।

২. ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের বিরোধিতা (দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান নাকচ)

আন্তর্জাতিক মহলের পক্ষ থেকে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার তাগিদ থাকলেও, নেতানিয়াহুর মতোই আইজেনকোটও ফিলিস্তিনিদের জন্য পৃথক সার্বভৌম রাষ্ট্রের ঘোর বিরোধী। আইজেনকোট ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানভিত্তিক পৃথক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবকে ‘অবাস্তব কল্পনা’ বলে প্রকাশ্যে অভিহিত করেছেন। ফলে, নেতানিয়াহুর পতন হলেও ফিলিস্তিনের স্বাধিকার প্রশ্নে ইসরাইলের রাষ্ট্রীয় অবস্থানের কোনো ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।

৩. হামাস নির্মূল ও গাজায় সামরিক আধিপত্য

গাজায় সামরিক আগ্রাসনের ক্ষেত্রে আইজেনকোট কোনোভাবেই নমনীয় নন। ২০০৮ সালে বৈরুতে বেসামরিক অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়ার আক্রমণাত্মক ‘দাহিয়াহ ডকট্রিন’-এর অন্যতম রূপকার ছিলেন এই সাবেক সেনাপ্রধান। গাজায় হামাসের শাসন সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করতে নেতানিয়াহুর মতোই কঠোর সামরিক অভিযানের পক্ষে তিনি। নেতানিয়াহু ‘পূর্ণাঙ্গ বিজয়ের’ কথা বলছেন, আর আইজেনকোটের দাবি—আগামী ১৮ মাসের মধ্যে গাজা থেকে হামাসের কর্তৃত্ব সম্পূর্ণ নিঃশেষ করতে হবে।

৪. ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি রুখে দেওয়া

মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের অস্তিত্বের প্রধান হুমকি হিসেবে ইরানকে বিবেচনা করার ক্ষেত্রে নেতানিয়াহু এবং আইজেনকোট সম্পূর্ণ একমত। ইরান যেন কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, সে জন্য দেশটিতে প্রয়োজনে সামরিক অভিযান পরিচালনা এবং তেহরান-সমর্থিত আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে নিষ্ক্রিয় রাখার প্রশ্নে আইজেনকোটের অবস্থান নেতানিয়াহুর নীতিমালারই হুবহু প্রতিফলন।

৫. জায়নবাদী অগ্রাধিকার ও লেবানন নীতি

উভয় নেতাই ইসরাইলকে কঠোর ‘জায়নবাদী রাষ্ট্র’ হিসেবে টিকিয়ে রাখার ওপর জোর দেন। লেবাননের হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সীমান্ত নিরাপত্তা অক্ষুণ্ণ রাখতে চরম সামরিক বলপ্রয়োগের নীতিতে আইজেনকোট এবং নেতানিয়াহুর মধ্যে কোনো মতপার্থক্য নেই।

বিশ্লেষকদের অভিমত, নির্বাচনে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে জয়-পরাজয়ের মধ্য দিয়ে তেল আবিবের ক্ষমতার মুখ হয়তো বদলাতে পারে, কিন্তু মধ্যপ্রাচ্য, যুদ্ধ এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড ঘিরে ইসরাইলের আগ্রাসী মৌলিক নিরাপত্তা নীতিগুলো অপরিবর্তিতই থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%