প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে আদালতের এক কর্মচারীর ব্যাগ তল্লাশি করার চেষ্টা নিয়ে ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-১০-এর বিচারক শাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে খাসকামরায় ডেকে নিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-১০-এ মারধরের এই ঘটনা ঘটে।
অভিযোগকারী পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী ঢাকা রেলওয়ে থানায় উপপরিদর্শক (এসআই) হিসেবে কর্মরত আছেন। ঘটনার পর তিনি ন্যায়বিচার চেয়ে ঢাকা আইনজীবী সমিতিতে লিখিত অভিযোগ করেছেন। একই সঙ্গে, ঘটনার পূর্বে আদালতের কর্মচারীর হুমকির বিষয়টি উল্লেখ করে ঢাকা রেলওয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেছেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৯ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে ঢাকা রেলওয়ে থানার আওতাধীন নারায়ণগঞ্জ ও পদ্মা সেতুগামী শহরতলি রেলওয়ে প্ল্যাটফর্মে দায়িত্ব পালনকালে এএসআই (নিরস্ত্র) মৌসুমী আক্তারসহ সঙ্গীয় ফোর্স যাত্রীদের ব্যাগ তল্লাশি করছিলেন।
এ সময় সাকিব আল হাসান ব্যাগ তল্লাশি না করানোর বিষয়ে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে উচ্চবাচ্য ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এক পর্যায়ে তিনি প্রকাশ্যে মন্তব্য করেন যে, পুলিশ সদস্যদের তল্লাশি করার কোনো অধিকার নেই।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সাকিব রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তিনি নিজেকে অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-১০-এর পিয়ন পদমর্যাদার কর্মচারী হিসেবে পরিচয় দেন। পরে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিচারকের সঙ্গে কথা বলে নিষ্পত্তি করা হয়।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, সোমবার অফিসার ইনচার্জের মাধ্যমে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলাম সোহাগের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মোহাম্মদ আলী। পরবর্তীতে তাকে অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-১০-এর বিচারক শাহিদুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করতে বলা হয়।
মঙ্গলবার দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১টার দিকে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সহসভাপতি আবুল কালাম আজাদ, কোর্ট রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমানসহ কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে বিচারকের খাসকামরায় যান এসআই মোহাম্মদ আলী। তবে অভিযোগে বলা হয়েছে, তাদের বাইরে রেখে তাকে একাই ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, খাসকামরায় আগে থেকেই বিচারকের কর্মচারী সাকিব আল হাসানসহ কয়েকজন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। মোহাম্মদ আলী ভেতরে প্রবেশের পর দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এক পর্যায়ে একজন ব্যক্তি পেছন থেকে তাকে সজোরে আঘাত করে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। আত্মরক্ষার্থে তিনি ওই ব্যক্তির হাত ধরে ফেলেন। এ সময় বিচারকের দিকে তাকিয়ে ‘স্যার, এটা কী হচ্ছে?’ জানতে চাইলে ওই ব্যক্তি দরজার দিকে পালিয়ে যাওয়ার সময় তাকে বলেন, ‘বুঝছস, আমরা কারা?’
পুরো ঘটনাটি খাসকামরায় থাকা এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে ধারণ করেছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী এসআই মোহাম্মদ আলী অভিযোগ করে বলেন, "কোনো অপরাধ থাকলে আমার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করা যেত বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া যেত। কিন্তু এভাবে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মানসিকভাবে হয়রানি করার কোনো কারণ দেখি না।"
তিনি আরও বলেন, "আমি জজ স্যারকে বলেছি, আমার কোনো অপরাধ হয়ে থাকলে আমি দুঃখিত, আপনার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। কিন্তু এভাবে আমাকে অপমান ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার কারণ কী?"
মোহাম্মদ আলী জানান, পরে তাকে হাত ধরে ওই ব্যক্তির সঙ্গে হাত মেলাতে বাধ্য করা হয়। এরপর তিনি সেখান থেকে বের হয়ে আসেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-১০-এর বিচারক শাহিদুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন