০৯:৫৯ পি.এম
সরকার সর্বোচ্চ দায়বদ্ধতা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে দেশের প্রতিটি বন্যার্ত মানুষের পাশে রয়েছে, এমনটি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
তিনি শনিবার বিকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানান, দেশের বন্যা পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ ও দিক-নির্দেশনা তুলে ধরেন।
মাহদী আমিন বলেন, প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে বিভিন্ন স্থানে বন্যা, পাহাড়ধস এবং জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বিভাগের চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি এবং বান্দরবান-এই পাঁচটি জেলায় জনমানুষের জন্য অবর্ণনীয় কষ্টের সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিকভাবে এই পরিস্থিতি নিজে এবং তার টিম মেম্বারদের মাধ্যমে মনিটরিং করছেন।
আরও পড়ুন: রংপুরে হাতকড়াসহ মাদক ব্যবসায়ী বিএনপি নেতা মমতাজুর রহমান পলাতক
সরকারের এই মুখপাত্র বলেন, গতকাল (শুক্রবার) প্রধানমন্ত্রী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এই পাঁচ জেলার স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি, ডিসি, এসপি, সিভিল সার্জন ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করেছেন।
তিনি আরো বলেন, আগামীকাল (রবিবার) প্রধানমন্ত্রী দেশের সব বিভাগীয় কমিশনারদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা প্রদান করবেন। উদ্ধার কার্যক্রমে ইউএনও, ডিসি, এসপি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিটি পর্যায়ের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় একটি সমন্বিত উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী ইতোমধ্যে চট্টগ্রামে অবস্থান করে পরিস্থিতি সরাসরি মনিটরিং করছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করছেন। তিনি জানান, বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তার পুরো দল ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলো (ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল) সাধারণ মানুষের পাশে থেকে উদ্ধার ও ত্রাণ কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এবং তারা মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন।
আর্থিক এবং ত্রাণ সহায়তার বিবরণ দিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে জরুরি ভিত্তিতে ২ কোটি টাকারও বেশি অর্থনৈতিক অনুদান নিশ্চিত করেছেন, যা দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছানো হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারের কাছে চাল ও প্রয়োজনীয় ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছানোর অবিরত প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বন্যা পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: মামলা হলে রুমিন ফারহানা নিজেকে এক নম্বর আসামি মনে করছেন
উদ্ধার ও চিকিৎসাসেবা প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, উপকূলবর্তী এলাকায় কোস্টগার্ড, সীমান্তবর্তী এলাকায় বিজিবি এবং বিভিন্ন জেলায় প্রয়োজন অনুযায়ী সেনাবাহিনীকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। পানিবাহিত রোগ এবং সাপের দংশন মোকাবিলার জন্য পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন ও ওষুধসহ মেডিকেল টিম মোবিলাইজ করা হয়েছে। পানি নেমে যাওয়ার পরপরই রাস্তা ও রেলপথ দ্রুত মেরামতের জন্য এলজিইডি এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগকে প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরো জানান, ক্ষতিগ্রস্ত গৃহস্থালী, কৃষি, মৎস্য এবং গবাদি পশু খামারিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কার্যকর উদ্যোগ শুরু হয়েছে। দ্রুত খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চালু করা হবে। বর্তমানে সচল থাকা ১ হাজারেরও বেশি আশ্রয়কেন্দ্রে খাদ্য, পানি এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থাকে বিশেষ প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। কিছু স্থানে মোবাইল নেটওয়ার্ক বিঘ্নিত হলেও সংযোগ পুনঃস্থাপনে স্থানীয় প্রশাসন ও নেতাকর্মীরা কাজ করছেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই মুখপাত্র বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা মূলত রেসকিউ (উদ্ধার), রিলিফ (ত্রাণ) এবং রিহ্যাবিলিটেশন (পুনর্বাসন)-এই তিনটি ফেজ নিয়ে একসঙ্গে কাজ করছি। দুর্যোগের এই সময়ে সবার ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
মাহদী আমিন বলেন, জনগণের নির্বাচিত সরকার হিসেবে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও গভীর মমত্ববোধ নিয়ে সরকার মানুষের সুরক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে এবং এই সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তরা দ্রুতই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফিরে পাবেন।
আরও পড়ুন: রূপগঞ্জে ২৩ বছরেও বালু নদের সেতু চালু হয়নি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন