মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৭:২৩ পি.এম
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ এবং এর সম্ভাব্যতা যথাযথভাবে যাচাই করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে এমন পরিকল্পনা গ্রহণ করা উচিত, যাতে সর্বাধিক মানুষ এর সুফল ভোগ করতে পারে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) চিফ রিপ্রেজেনটেটিভ জুনকো তাকাহাশির সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জাইকার চলমান বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, জাপান বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন সহযোগী। তিনি জাইকাকে ধন্যবাদ জানান বাংলাদেশের উন্নয়নে জাপানের ক্রমবর্ধমান সহযোগিতার জন্য। তিনি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করতে নতুন প্রকল্প গ্রহণ এবং সহযোগিতা সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।
উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী মেট্রোরেল প্রকল্পের উদাহরণ দেন। তিনি বলেন, "মেট্রোরেল টঙ্গী বা জয়দেবপুর পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা গেলে আরও বেশি মানুষ এ সেবার সুফল ভোগ করতে পারত।" হাওর অঞ্চলের উন্নয়নে গৃহীত প্রকল্পগুলোর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও আরও সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানান তিনি।
বৈঠকে জাইকার পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কমিউনিটি সেবা, পানি সরবরাহ, পয়ঃনিষ্কাশন, আঞ্চলিক উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও হাওর অঞ্চলের উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে প্রকল্প চলমান রয়েছে। জাইকার চিফ রিপ্রেজেনটেটিভ ভবিষ্যতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের আশ্বাস দেন।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সঙ্গে বাস্তবায়নাধীন ‘আর্বান ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সিটি গভর্নেন্স প্রজেক্ট (ইউডিসিজিপি)’ এবং সাউদার্ন চট্টগ্রাম রিজিয়নাল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (এসসিআরডিপি)’র অগ্রগতি বৈঠকে তুলে ধরা হয়। এ সময় মন্ত্রী প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার জন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দ্রুততার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশনা দেন।
এ ছাড়া স্থানীয় সরকার বিভাগের মাধ্যমে দেশের সকল উপজেলায় গৃহীতব্য ‘উপজেলা গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট ফেজ-টু (ইউজিডিপি-টু)’-এর কার্যক্রমে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়।
স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, "দেশে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে তৃণমূল পর্যায়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে।" এ ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই। স্থানীয় পর্যায়ে জাইকার গৃহীত ও সমাপ্ত বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি এ ধরনের উদ্যোগ আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।
মন্ত্রী বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় জোরদার এবং উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের প্রক্রিয়া আরও কার্যকর করতে দাতা সংস্থার প্রতিনিধি ও মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। কমিটি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের পরিকল্পনা ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় সাধনে কাজ করবে।
বৈঠকে জাইকার সিনিয়র রিপ্রেজেনটেটিভ মরিকাওয়া ইয়োকো, লোকাল গভর্নেন্স উপদেষ্টা আকিরা মুনাকাতা, পরিকল্পনা, পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ও পরিদর্শন অনুবিভাগের মহাপরিচালক শিবির বিচিত্র বড়ুয়াসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সূত্র বাসস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত দাবি করেছেন যে, সরকারের আগাম প্রস্তুতির ফলে ডেঙ্গুতে মৃত্যুহার ৪০ শতাংশ কমেছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বাংলা একাডেমিতে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে অনুষ্ঠিত একটি সেমিনারের পর সাংবাদিকদের তিনি এই তথ্য জানান।
তিনি উল্লেখ করেন, সরকার এবার হাত গুটিয়ে বসে থাকেনি; বরং চার মাস আগে থেকেই ডেঙ্গু মোকাবিলার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রায় দুই মাস আগে পূর্বাভাস দিয়ে জানানো হয়েছিল যে, সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে অক্টোবরজুড়ে ডেঙ্গুর পিক বা চূড়ান্ত প্রকোপ দেখা দিতে পারে, যা নভেম্বর পর্যন্ত চলতে পারে। চিকিৎসকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ এবং বিজ্ঞানভিত্তিক চিকিৎসার কারণে পূর্ববর্তী বছরগুলোর তুলনায় এ বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যুহার প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে। একসময় যেখানে প্রতি হাজার আক্রান্তের মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু হতো, বর্তমানে তা তিনজনে নেমে এসেছে।
তিনি আরও বলেন, ২০২৩ সালের ভয়াবহ পরিস্থিতির তুলনায় এবার আক্রান্তের সংখ্যা ও তীব্রতা অনেক কম হলেও সরকার বর্তমান পরিস্থিতিকে কোনোভাবেই হালকাভাবে নিচ্ছে না। প্রতিটি মৃত্যুই অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং সরকার সংক্রমণ শূন্যের কোঠায় নামানোর জন্য কাজ করছে।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম তুলে ধরে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় রেড ক্রিসেন্ট, স্কাউটসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রায় ১ হাজার তরুণ স্বেচ্ছাসেবককে নিয়ে পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতা কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন। এছাড়া, প্রতি শনিবার দেশের সব সরকারি প্রতিষ্ঠানে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। স্কুল-কলেজ এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের মাধ্যমে দেশব্যাপী এই তৎপরতা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যের তেব্রাউ এলাকায় অবস্থিত একটি অটোমোটিভ ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ তৈরির কারখানায় অভিযান পরিচালনা করে ৪৯২ জন অবৈধ বিদেশি শ্রমিককে আটক করেছে স্থানীয় অভিবাসন বিভাগ।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ১০টায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ‘মালয়েশিয়া বর্ডার কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রোটেকশন এজেন্সি’ (একেপিএস)-এর সহযোগিতায় এ যৌথ অভিযানটি সম্পন্ন হয়। অভিযানের সময় বিপুল সংখ্যক বিদেশি শ্রমিক পালানোর চেষ্টা করলেও তারা ব্যর্থ হন।
জোহর অভিবাসন বিভাগের পরিচালক মোহামাদ রুসদি মোহামাদ দারুস মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেন, নিয়োগকর্তারা অতিরিক্ত খরচ বাঁচানোর উদ্দেশ্যে দীর্ঘ সময় ধরে অবৈধভাবে বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ করে আসছিলেন। কয়েক সপ্তাহের টানা গোয়েন্দা নজরদারি ও স্থানীয় জনগণের গোপন অভিযোগের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানের সময় কিছু শ্রমিক স্থান ত্যাগ করে লুকিয়ে পড়ার চেষ্টা করলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় তারা ধরা পড়েন। একইসাথে, কারখানার ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা একজন মালয়েশীয়কেও আটক করা হয়েছে।
আটকদের বয়স ১৯ থেকে ৪৬ বছরের মধ্যে, যার মধ্যে ২৪৭ জন পুরুষ এবং ২৪৫ জন নারী রয়েছেন। আটক পুরুষদের মধ্যে ১৭০ জন বাংলাদেশি, ৭৭ জন মিয়ানমার, ৪৮ জন নেপাল, ৩৮ জন ইন্দোনেশিয়া, ২৮ জন ভারত এবং ৩ জন পাকিস্তানের নাগরিক। অপরদিকে, আটক নারীদের মধ্যে ৬৬ জন মিয়ানমারের, ৪৯ জন ইন্দোনেশিয়ার, ৭ জন নেপালের, ৩ জন ভারতের, ২ জন বাংলাদেশের এবং ১ জন কম্বোডিয়ার নাগরিক রয়েছেন। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, তারা বৈধ কাগজপত্র এবং কাজের অনুমতি (ওয়ার্ক পারমিট) না থাকা সত্ত্বেও কাজ করে আসছিলেন।
গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে ১৯৫৯/৬৩ সালের অভিবাসন আইন ও ১৯৬৩ সালের অভিবাসন বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের সেতিয়া ট্রপিকা ইমিগ্রেশন ডিপোতে পাঠানো হয়েছে পরবর্তী তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য। জোহর ইমিগ্রেশন বিভাগ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, বৈধ নথি ও পারমিট ছাড়া অবৈধ শ্রমিক নিয়োগকারী মালিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার পর একের পর এক ফ্লাইট বাতিল হওয়ার ফলে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহির্গমন টার্মিনালে যাত্রীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। সাধারণত যাত্রী ও তাদের স্বজনদের ভিড়ে মুখর থাকা টার্মিনালে মঙ্গলবার ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। যাত্রীদের আনাগোনা কম থাকায় বিমানবন্দরের বহির্গমন এলাকা অনেকটা ফাঁকা পড়ে ছিল।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সরেজমিনে বিমানবন্দরের বহির্গমন টার্মিনালে এমন চিত্র দেখা যায়।
শ্রীলংকাগামী পর্যটক হাবিবুর রহমান জানান, তিনি এর আগে ভারত, মালয়েশিয়া ও নেপাল ভ্রমণ করেছেন। কিন্তু বিমানবন্দরের এমন দৃশ্য তিনি কখনো দেখেননি। তিনি বলেন, ‘আগে যাত্রী ও তাদের স্বজনদের ভিড় ঠেলে লাইনে দাঁড়াতে হতো। কিন্তু আজ বিমানবন্দর প্রায় ফাঁকা। সৌদিগামী ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় যাত্রীদের উপস্থিতি কমে গেছে।’
হাবিবুর রহমানের সঙ্গে থাকা নাসির বলেন, তারা একসঙ্গে অনেক দেশে ভ্রমণ করেছেন। তবে বিমানবন্দরের এমন চিত্র আগে দেখেননি। তার ভাষ্য, সৌদি আরবে বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ বসবাস করেন। ফ্লাইট বাতিলের কারণে বিমানবন্দরে যাত্রীদের উপস্থিতি কমে যাওয়ায় সৌদিগামী যাত্রীর সংখ্যার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
কাতারগামী যাত্রী সোহেল মাহমুদ জানান, বিমানবন্দরে চিরচেনা দৃশ্য নেই। সাধারণত পুরো টার্মিনাল যাত্রীদের ভিড়ে পরিপূর্ণ থাকে। কিন্তু মঙ্গলবার সেই চিত্র দেখা যায়নি। যাত্রীরা গন্তব্যে যেতে পারছেন না, বিষয়টি খারাপ লাগছে।
বিমানবন্দরসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ অক্টোবর ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের রিয়াদ বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতিতে ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। এতে বাংলাদেশিসহ হতাহতের ঘটনা ঘটে। হামলার পর বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা করা হলে ঢাকা থেকে রিয়াদগামী ফ্লাইট চলাচলেও প্রভাব পড়ে।
মঙ্গলবার পর্যন্ত সরাসরি ও ট্রানজিট রুট মিলিয়ে ৬১টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে ১০ হাজারের বেশি যাত্রী আটকা পড়েছেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসও আগামী ১৭ ও ২১ অক্টোবর পর্যন্ত তাদের ফ্লাইট বাতিল করেছে।
ফ্লাইট বাতিলের কারণে যাত্রীদের বিমানবন্দরে এসে ফিরে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। গত রোববার ও সোমবার অনেক যাত্রী বিমানবন্দরে এলেও ফ্লাইট বাতিলের খবর পেয়ে ফিরে যান। এরপর থেকে অনেক যাত্রী বিমানবন্দরে আসার আগে এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ছাত্রদলের নেতা নাফিউল ইসলাম জীবন, যিনি রাজশাহীর বাঘা উপজেলার একটি আলিম মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন, তিনি নিজে ক্লাশ নেন না। পরিবর্তে, তার মামা আসমত আলী ক্লাশ পরিচালনা করেন। জীবন নিজেই এই বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে তিনি নিয়মিত বেতন-ভাতা গ্রহণ করছেন।
নাফিউল ইসলাম জীবন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি আরবি বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। এছাড়া, ২০২৫ সালের রাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের প্যানেল থেকে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরিকল্পনা রয়েছে তার।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, নাফিউল ইসলাম ২০২৫ সালে বাঘা উপজেলার পারসওতা হযরত শাহ সুফি বাঘু দেওয়ান (রহ.) আলিম মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। অভিযোগ রয়েছে যে, যোগদানের পর থেকেই তিনি মামা আসমত আলীকে দিয়ে ক্লাশ করিয়ে আসছেন।
মাদ্রাসাটির অধ্যক্ষ মোহাম্মদ বজলুল করীম বলেন, নাফিউলের পরিবর্তে অন্য একজন ‘প্রক্সি’ হিসেবে ক্লাশ পরিচালনা করেন। জীবন জানিয়েছেন, তার স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) সম্পন্ন হয়নি, তাই তিনি আপাতত অন্য একজনকে দিয়ে ক্লাশ করানোর ব্যবস্থা করেছেন।
অধ্যক্ষের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কমিটির কেউ এতে বাধা দেন না। আমাদের পক্ষ থেকেও কেউ বাধা দিচ্ছেন না। এলাকার লোকজনও কিছু বলেন না। শুরু থেকেই প্রক্সি ক্লাশ নেওয়া হচ্ছে। মাস্টার্স শেষ করলেই হয়তো সে নিয়মিত ক্লাশ নেবে।
নাফিউলের পরিবর্তে ক্লাশ নেন এমন ব্যক্তির নাম জানতে চাইলে অধ্যক্ষ জানান, ওই ব্যক্তি আসমত আলী।
ছাত্রদল নেতা নাফিউল অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, অনার্স শেষ করার পর ২০২৩-২৪ সালের দিকে নিবন্ধন আসে। তখন তিনি মনে করেন, এত ত্যাগ ও জুলুম-নির্যাতনের শিকার হওয়ার পরও বসে থাকা উচিত নয়। তিনি জানান, ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর নিবন্ধন পরীক্ষা হয় এবং তিনি উত্তীর্ণ হন। পরে পরিবার থেকে চাকরিতে যোগ দিতে বলা হয়।
তিনি আরও বলেন, রাকসু নির্বাচনের পর তিনি চাকরিতে যোগ দেন, তখনও তার মাস্টার্স শেষ হয়নি। তিনি মাদ্রাসার প্রিন্সিপালকে জানিয়ে অনুরোধ করেন, যেন তাকে মাস্টার্স শেষ করার সুযোগ দেওয়া হয়। তার মামা, যিনি কামিল পাস করেছেন, তাকে বলেন, "আপনি আমার পরিবর্তে ক্লাশগুলো নেন।" এভাবেই চলতে থাকে। তিনি জানান, বেতন যা পান, তার অর্ধেক মামাকে দিতে হয়, আর অর্ধেক তিনি নেন।
বিষয়টি গোপন করার বিষয়ে জানতে চাইলে জীবন বলেন, তিনি বিষয়টি আড়াল করার চেষ্টা করেছেন, কারণ এটি তার রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার সঙ্গে জড়িত। তিনি বলেন, "এটাকে পুরোপুরি বৈধ বলা যায় না, কারণ আমার চাকরিটি অন্য একজন চালিয়ে যাচ্ছেন।"
বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তকী ফয়সাল তালুকদার বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। প্রক্সি শিক্ষক দিয়ে ক্লাশ করানোর কোনো নিয়ম নেই। তিনি জানান, তারা এ বিষয়ে খোঁজখবর নেবেন এবং তদন্ত সাপেক্ষে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ