মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৭:২৫ পি.এম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ছাত্রদলের নেতা নাফিউল ইসলাম জীবন, যিনি রাজশাহীর বাঘা উপজেলার একটি আলিম মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন, তিনি নিজে ক্লাশ নেন না। পরিবর্তে, তার মামা আসমত আলী ক্লাশ পরিচালনা করেন। জীবন নিজেই এই বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে তিনি নিয়মিত বেতন-ভাতা গ্রহণ করছেন।
নাফিউল ইসলাম জীবন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি আরবি বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। এছাড়া, ২০২৫ সালের রাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের প্যানেল থেকে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরিকল্পনা রয়েছে তার।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, নাফিউল ইসলাম ২০২৫ সালে বাঘা উপজেলার পারসওতা হযরত শাহ সুফি বাঘু দেওয়ান (রহ.) আলিম মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। অভিযোগ রয়েছে যে, যোগদানের পর থেকেই তিনি মামা আসমত আলীকে দিয়ে ক্লাশ করিয়ে আসছেন।
মাদ্রাসাটির অধ্যক্ষ মোহাম্মদ বজলুল করীম বলেন, নাফিউলের পরিবর্তে অন্য একজন ‘প্রক্সি’ হিসেবে ক্লাশ পরিচালনা করেন। জীবন জানিয়েছেন, তার স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) সম্পন্ন হয়নি, তাই তিনি আপাতত অন্য একজনকে দিয়ে ক্লাশ করানোর ব্যবস্থা করেছেন।
অধ্যক্ষের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কমিটির কেউ এতে বাধা দেন না। আমাদের পক্ষ থেকেও কেউ বাধা দিচ্ছেন না। এলাকার লোকজনও কিছু বলেন না। শুরু থেকেই প্রক্সি ক্লাশ নেওয়া হচ্ছে। মাস্টার্স শেষ করলেই হয়তো সে নিয়মিত ক্লাশ নেবে।
নাফিউলের পরিবর্তে ক্লাশ নেন এমন ব্যক্তির নাম জানতে চাইলে অধ্যক্ষ জানান, ওই ব্যক্তি আসমত আলী।
ছাত্রদল নেতা নাফিউল অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, অনার্স শেষ করার পর ২০২৩-২৪ সালের দিকে নিবন্ধন আসে। তখন তিনি মনে করেন, এত ত্যাগ ও জুলুম-নির্যাতনের শিকার হওয়ার পরও বসে থাকা উচিত নয়। তিনি জানান, ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর নিবন্ধন পরীক্ষা হয় এবং তিনি উত্তীর্ণ হন। পরে পরিবার থেকে চাকরিতে যোগ দিতে বলা হয়।
তিনি আরও বলেন, রাকসু নির্বাচনের পর তিনি চাকরিতে যোগ দেন, তখনও তার মাস্টার্স শেষ হয়নি। তিনি মাদ্রাসার প্রিন্সিপালকে জানিয়ে অনুরোধ করেন, যেন তাকে মাস্টার্স শেষ করার সুযোগ দেওয়া হয়। তার মামা, যিনি কামিল পাস করেছেন, তাকে বলেন, "আপনি আমার পরিবর্তে ক্লাশগুলো নেন।" এভাবেই চলতে থাকে। তিনি জানান, বেতন যা পান, তার অর্ধেক মামাকে দিতে হয়, আর অর্ধেক তিনি নেন।
বিষয়টি গোপন করার বিষয়ে জানতে চাইলে জীবন বলেন, তিনি বিষয়টি আড়াল করার চেষ্টা করেছেন, কারণ এটি তার রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার সঙ্গে জড়িত। তিনি বলেন, "এটাকে পুরোপুরি বৈধ বলা যায় না, কারণ আমার চাকরিটি অন্য একজন চালিয়ে যাচ্ছেন।"
বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তকী ফয়সাল তালুকদার বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। প্রক্সি শিক্ষক দিয়ে ক্লাশ করানোর কোনো নিয়ম নেই। তিনি জানান, তারা এ বিষয়ে খোঁজখবর নেবেন এবং তদন্ত সাপেক্ষে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে ফ্লাইদুবাইয়ের আরও দুই পাইলটকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যারা সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনার সন্দেহে আটক হন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের দুজনই অতীতে ইসরাইল সফর করেছেন। উড়োজাহাজটির ককপিটে হামলার অভিযোগের তদন্তের পরিধি আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মালদ্বীপের সংবাদমাধ্যম আধাদু জানায়, শনিবার ওই দুই পাইলটকে পুলিশ আটক করে। তারা দুজনই ফ্লাইদুবাইয়ের কর্মী। সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত মালদ্বীপের দূতাবাস তাদের পরিবারের সদস্যদের জানায় যে, পাইলটদের আটক রাখা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্লাইদুবাইয়ে কর্মরত মালদ্বীপের ছয় পাইলটের মধ্যে সর্বশেষ নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে এই দুজন অন্তর্ভুক্ত। গত ৩০ সেপ্টেম্বর উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত করার চেষ্টার অভিযোগ ওঠা ওমানের সহকারী পাইলট হামাম আল-হাম্মামির সঙ্গে তারা কাজ করেছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এ দুই পাইলটকে গ্রেফতারের বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের দপ্তরের মুখপাত্র মোহাম্মদ হুসাইন শরিফ কিংবা দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা দেননি। এখন পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কোনো অভিযোগও আনা হয়নি।
ককপিটে হামলার অভিযোগ
আল-হাম্মামির বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি দুবাই থেকে ইসরাইলের তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটে উড়োজাহাজের ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারকে কুঠার দিয়ে আক্রমণ করেন এবং উড়োজাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। ফ্লাইদুবাই ঘটনাটিকে ককপিটে ‘বাগ্বিতণ্ডা’ বা সংঘর্ষ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
ভারতীয় নাগরিক ক্যাপ্টেন মাচ্ছার হামলা প্রতিহত করতে সক্ষম হন এবং ককপিটের দরজা খুলে দেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। পরে ইসরাইলি এক যাত্রী ককপিটে প্রবেশ করে উড়োজাহাজটির নিয়ন্ত্রণ সুরক্ষিত করতে সহায়তা করেন বলে দাবি করা হয়েছে। ফ্লাইদুবাই জানিয়েছে, পরে উড়োজাহাজটির গতিপথ পরিবর্তন করে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করানো হয়।
ক্যাপ্টেন মাচ্ছারের বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজ চালানোর ১৩ বছরের বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি ২০২২ সাল থেকে ফ্লাইদুবাইয়ে কর্মরত। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাকে ‘বীর’ হিসেবে অভিহিত করেন। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও তাকে ‘প্রকৃত বীর’ বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, তিনি ১৭৪ জনের জীবন রক্ষা করেছেন।
পরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত ভারতের দূতাবাস জানায়, মাচ্ছার সেখানকার একটি হাসপাতালে সুস্থ হয়ে উঠছেন। ভারতীয় রাষ্ট্রদূত তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন।
যাত্রীদের সাক্ষ্যে নতুন দাবি
আসাফ নামের এক যাত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, উড়োজাহাজের কর্মীরা অভিযুক্ত পাইলটের বাঁধন কিছুটা শিথিল করার চেষ্টা করেছিলেন এবং যাত্রীদের ভিডিও ধারণ করতে বাধা দিয়েছিলেন। আহত ভারতীয় ক্যাপ্টেনের মুখে রহস্যজনক একটি বড়ি দেওয়ার চেষ্টাও করা হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।
ওই যাত্রীর আরও দাবি, ফ্লাইটটিতে শুধু পুরুষ কেবিন ক্রু রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এ তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্ত পাইলটকে সহায়তা করার জন্য ক্রুদের মধ্যে কেউ কেউ আগে থেকেই প্রস্তুত ছিলেন কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তবে এসব দাবি একজন যাত্রীর বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে প্রকাশিত হয়েছে। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি।
প্রতিবেদনগুলোতে আরও দাবি করা হয়েছে, উড়োজাহাজটি ইসরাইলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত করাই ছিল কথিত পরিকল্পনার লক্ষ্য। তবে এ অভিযোগ এবং নতুন করে আটক দুই পাইলটের সঙ্গে ঘটনার সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
সূত্র: এনডিটিভি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালীর সদর উপজেলায় এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। প্রাথমিক ভাবে জানা যায় চোর সন্দেহে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। তবে তাৎক্ষণিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিহতের নাম ঠিকানা জানাতে পারেনি।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার নিয়াজপুর ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ডের দেবীপুর গ্রামের বেলালের দোকান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
যুবক নিহতের হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.নজরুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে আমি এখন কোন কথা বলতে পারবনা।
বিস্তারিত আসছে..........................
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) বর্তমান সরকারকে উৎখাত করার উদ্দেশ্যে গঠিত নতুন বিদ্রোহী জোটের নেতা হিসেবে সাবেক প্রেসিডেন্ট জোসেফ কাবিলাকে মনোনীত করা হয়েছে। ফ্রন্ট ফর দ্য রিফাউন্ডেশন অব দ্য নেশন (এফআরএন) নামক এই জোটটি জানায়, তাদের লক্ষ্য হলো দেশটিতে ‘স্বৈরশাসনের’ অবসান ঘটাতে বিভিন্ন ‘প্রতিরোধী শক্তিকে’ একত্রিত করা। তারা জানায়, এই উদ্দেশ্য অর্জনে শক্তি প্রয়োগসহ সকল ধরনের উপায় অবলম্বন করা হবে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, গতকাল সোমবার গোমা শহরের কাবিলার বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন জোটের ঘোষণা দেওয়া হয়। পূর্বাঞ্চলীয় ডিআর কঙ্গোর সবচেয়ে বড় শহর গোমা গত বছর থেকে এম২৩ (মার্চ ২৩ মুভমেন্ট) সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
নতুন জোটের উপপ্রধান হিসেবে এম২৩ নেতা সুলতানি মাকেঙ্গা থাকবেন, যিনি কাবিলার চারজন উপপ্রধানের একজন। অন্য তিনজনও এএফসি-এম২৩ জোটের সদস্য। গত বছর এই জোট খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ পূর্ব ডিআর কঙ্গোর বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে নেয়।
এদিকে, কাবিলার নতুন বিদ্রোহী জোটের নেতৃত্ব গ্রহণের ঘোষণা তার সশস্ত্র আন্দোলনে সরাসরি সম্পৃক্ততার একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে তিনি এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। যদিও গত বছর রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে তার অনুপস্থিতিতে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তবে নতুন জোট গঠন নিয়ে কঙ্গো সরকার এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।
জোট গঠনের কয়েক দিন আগে এক ভাষণে কাবিলা বলেছিলেন, তিনি কঙ্গোর জনগণের জন্য দেশকে ‘উদ্ধার’ করার কী করা উচিত তা তুলে ধরবেন। তিনি প্রেসিডেন্ট ফেলিক্স শিসেকেদির সরকারের বিরুদ্ধে গত বছর তার দেওয়া প্রস্তাবগুলো উপেক্ষা করার অভিযোগ তোলেন। ওই প্রস্তাবগুলোর মধ্যে পূর্বাঞ্চলের সংঘাত নিরসনের উদ্যোগও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
কাবিলা আরো অভিযোগ করেন, সরকার সাংবিধানিক শাসনব্যবস্থা দুর্বল করছে, অর্থনীতি পরিচালনায় ব্যর্থ হচ্ছে এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে পারছে না। তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও সামরিক কর্মকর্তাদের নির্বিচারে গ্রেপ্তারের অভিযোগও তোলেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে সরকার প্রকাশ্যে কোনো জবাব দেয়নি।
৫৫ বছর বয়সী কাবিলা ২০০১ সাল থেকে ২০১৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ডিআর কঙ্গোর প্রেসিডেন্ট ছিলেন। বিতর্কিত নির্বাচনের পর ফেলিক্স শিসেকেদি ক্ষমতা গ্রহণ করেন। কয়েক বছর জনসমক্ষে কম উপস্থিত থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে উত্তরসূরির সরকারের সমালোচনা বৃদ্ধি পেয়েছে কাবিলার।
দীর্ঘদিনের সহিংসতায় জর্জরিত দেশটির পূর্বাঞ্চলে জাতিগত উত্তেজনা, রাজনৈতিক ক্ষমতা এবং মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘাত চলছে। সেখানে শতাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে।
এদিকে শিসেকেদির দ্বিতীয় মেয়াদ ২০২৮ সালে শেষ হওয়ার কথা। তবে সংঘাতের কারণে নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন নাও হতে পারে বলে গত মে মাসে তিনি মন্তব্য করেন। জনগণ চাইলে তৃতীয় মেয়াদে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি। এরই মধ্যে পার্লামেন্টে এমন একটি বিল পাস হয়েছে, যা সংবিধানে প্রেসিডেন্টের দুই মেয়াদের সীমা তুলে দিতে গণভোটের পথ তৈরি করতে পারে। প্রস্তাবিত পরিবর্তনের বিরুদ্ধে গত মাসে রাজধানীতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষ ঘটে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরাকের রাজধানী বাগদাদের একটি ব্যস্ত সড়কে যৌন হয়রানির শিকার হওয়া এক নারী প্রতিবাদ জানালে তাকে গাড়ির দরজা খুলতে বাধা দেন এক চালক। এই ঘটনাটি ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেন নারী অধিকারকর্মী সারা জাসিম। তার ইনস্টাগ্রাম পেজে প্রকাশিত ভিডিওগুলোতে ইরাকে নারীদের প্রতি যৌন হয়রানি ও নির্যাতনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে।
জাসিমের উদ্দেশ্য হলো, নারীদের প্রতি হয়রানির ঘটনা আড়ালে না রেখে ভুক্তভোগীদের কথা সামনে আনা এবং অপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জোরালো করা। তবে এই কাজ করতে গিয়ে তিনি নানা ধরনের হুমকি ও সামাজিক প্রতিকূলতার মুখোমুখি হচ্ছেন। জাসিমের ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে হত্যার পাশাপাশি এসিড হামলার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। নারীদের নীরব থাকার সামাজিক প্রত্যাশার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় তার বিরুদ্ধে জনসমক্ষে অশালীনতা ছড়ানোর অভিযোগও তোলা হয়েছে।
নিরাপত্তাজনিত কারণে এখন তিনি খুব কমই বাড়ির বাইরে বের হন। দিনের অনেকটা সময় কাটে পোষা কুকুরের সঙ্গে। নারীদের অধিকার ও নিরাপত্তার প্রশ্নে সরব হওয়ার কারণে তার স্বাভাবিক জীবনযাপনও সীমিত হয়ে পড়েছে বলে তিনি জানান।
ইরাকে যৌন হয়রানি ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা মোকাবেলায় কঠোর আইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন জাসিম। তার মতে, দেশটির প্রচলিত দণ্ডবিধিতে এসব অপরাধের স্পষ্ট সংজ্ঞা ও স্বীকৃতির ঘাটতি রয়েছে। ফলে ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা এবং অপরাধীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কার্যকর আইনি পদক্ষেপ জরুরি।
জাসিমের মতে, সমস্যা সমাধানের প্রথম ধাপ হলো তা স্বীকার করা। ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অপরাধীদের এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। যৌন হয়রানির শিকার নারীদের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করতে গিয়ে জাসিম নিজেও এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
তিনি বলেন, এসব ভিডিও প্রকাশ করা তার নিজের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগীদের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ। ইরাকে যৌন নির্যাতনের শিকার অনেক নারী অভিযোগ করেছেন, সমাজে প্রায়ই নির্যাতনকারীর পরিবর্তে ভুক্তভোগীকেই দোষারোপ করা হয়। এ ধরনের সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি নারীদের অভিযোগ জানানো ও ন্যায়বিচার পাওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করে।
‘তোমাকে মেরে ফেললে কেউ শুনবে না’
ইরাকে যৌন নির্যাতনের শিকার অনেক নারী অভিযোগ করেছেন, তাদের সুরক্ষা দিতে পুলিশ ব্যর্থ হয়েছে। অধিকারকর্মী ও আইনজীবীদের মতে, যৌন হয়রানি বা ধর্ষণের অভিযোগে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া একটি দীর্ঘ ও জটিল প্রক্রিয়া। এ ছাড়া মামলার ফলাফল কী হবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা থাকে।
নারীদের প্রতি বৈষম্যবিষয়ক জাতিসংঘের একটি কমিটির মে মাসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরাকে নারী ও মেয়েদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনা ব্যাপক, তবে অনেক ঘটনাই নথিভুক্ত হয় না। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় আরো শক্তিশালী আইন প্রণয়নের সুপারিশ করেছে কমিটি। প্রতিবেদনে বৈষম্যমূলক আইন বাতিলেরও আহ্বান জানানো হয়েছে। এসব আইনের আওতায় ধর্ষক ভুক্তভোগীকে বিয়ে করলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে শাস্তি থেকে রেহাই পেতে পারে। পাশাপাশি তথাকথিত ‘সম্মান রক্ষার’ নামে হত্যার ঘটনায় শাস্তি কমানোর সুযোগও রয়েছে।
ইরাকের বিচারব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতার উদাহরণ আমালের ঘটনা। নিরাপত্তার কারণে তার আসল নাম প্রকাশ করা হয়নি। তিনি অভিযোগ করেছেন, তার সাবেক স্বামী অস্ত্রের মুখে তাদের অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে বারবার ধর্ষণ করেছেন। এ ঘটনার বিচার চেয়ে প্রায় পাঁচ বছর ধরে আদালতে লড়ছেন তিনি। আমাল মেয়ের কাছ থেকে শোনা ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে জানান, একবার তার সাবেক স্বামী মেয়ের ঘরে ঢুকে বিছানায় অস্ত্র রেখেছিলেন। এরপর মেয়েকে হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, ‘আমি তোকে মেরে ফেললেও কেউ তোর চিৎকার শুনতে পাবে না।’
ইরাকে যৌন নির্যাতন এখনো সামাজিকভাবে নিষিদ্ধ একটি বিষয়। এ কারণে অনেক ভুক্তভোগী পরিবারের প্রতিক্রিয়া, সামাজিক অপমান ও হয়রানির ভয়ে নির্যাতনের কথা গোপন রাখেন। কেউ কেউ পুলিশের কাছেও যেতে সাহস পান না। তবে মেয়ের ওপর নির্যাতনের অভিযোগের বিচার পেতে আমাল শুরু থেকেই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
আমাল জানান, তার মেয়ের কবজিতে অসংখ্য কালশিটে দাগ ছিল। সাবেক স্বামী মেয়েটির হাত শক্ত করে ধরে রাখতেন এবং চিৎকার করতে গেলে মুখ চেপে ধরতেন। আমাল তার অভিযোগের সমর্থনে ডিএনএ পরীক্ষার প্রমাণসহ চিকিৎসাসংক্রান্ত নথিও দেখিয়েছেন।
আমালের দাবি, তার সাবেক স্বামী পরিবারের এক সদস্যকে বলেছিলেন, গ্রেপ্তার হলে যেন কেউ ‘কলঙ্ক মুছে ফেলে’। ইরাকে এ ধরনের কথা কখনো কখনো তথাকথিত ‘সম্মান রক্ষার’ নামে হত্যার ইঙ্গিত হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আমালের আশঙ্কা, চিকিৎসা প্রতিবেদনে যৌন নির্যাতনের প্রমাণ প্রকাশ ঠেকাতেই তার মেয়েকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। কান্নাজড়িত কণ্ঠে আমাল বলেন, ‘আমি একাই লড়েছি।’ শেষ পর্যন্ত তার চাওয়া একটাই, ‘আমি শুধু চাই, সে যেন চিরদিনের জন্য আমার পথ থেকে সরে যায়।’
হত্যা
ইরাকে নিজ বাড়িতে যৌন নির্যাতনের শিকার নারীদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় পাওয়া কঠিন। অনেকের নিজস্ব আয় নেই, আবার নির্যাতন থেকে বাঁচতে যাওয়ার মতো জায়গাও নেই। এর মধ্যে নারী অধিকারকর্মীদের ওপর হামলা ও হত্যার ঘটনা পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
ইরাকে নির্যাতিত নারীদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা খুবই কম। যেসব আশ্রয়কেন্দ্রের কথা জানা যায়, সেগুলোর কয়েকটির প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত নারী অধিকারকর্মী ইয়ানার মোহাম্মদ। গত মার্চে বাগদাদে নিজের বাড়ির বাইরে সশস্ত্র ব্যক্তিদের হামলায় তিনি নিহত হন। এখন পর্যন্ত তার হত্যাকারীদের শনাক্ত করা যায়নি।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের বিশেষজ্ঞরা গত এপ্রিলে জানান, ইয়ানার মোহাম্মদ বছরের পর বছর ধরে প্রাণনাশের হুমকি ও অনলাইনে হয়রানির শিকার হয়েছিলেন। এসব হুমকি চরমপন্থী ধর্মীয় মিলিশিয়াদের কাছ থেকে এসেছিল বলে ধারণা করা হয়।
নারী অধিকারকর্মীরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাদের সহকর্মীদের লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা বেড়েছে। বিশিষ্ট নারী অধিকারকর্মী হানা এডওয়ার জানান, নিহত হওয়ার মাত্র দুই দিন আগে তিনি ইয়ানার মোহাম্মদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। তিনিও হুমকি পেয়েছেন বলে জানান।
হানা এডওয়ারের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘ইরাকে নারীদের জন্য কোনো আইন নেই, কোনো সুরক্ষা নেই, কোনো ন্যায়বিচারও নেই।’
ইরাকি মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থার প্রধান মুস্তফা সাদুনের মতে, ইরাকের মূল সমস্যা নারীদের নীরব থাকা নয়, বরং তারা কথা বললেও তাদের অভিযোগ শোনার ও প্রতিকার দেওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা নেই।
তিনি বলেন, যৌন সহিংসতার অভিযোগ নিয়ে একজন নারীকে প্রথমে পরিবারের, এরপর পুলিশের এবং সবশেষে আদালতের মুখোমুখি হতে হয়। প্রতিটি পর্যায়েই তাকে অনেক সময় বিষয়টি প্রকাশ না করে আপস করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এ পরিস্থিতিতে নির্যাতিত নারীদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়, আইনি সহায়তা এবং কার্যকর বিচার নিশ্চিত করার দাবি জোরালো হচ্ছে। নারী অধিকারকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
গাড়িতে করে অনুসরণ
রাস্তায় হাঁটা কিংবা গণপরিবহনে যাতায়াত, ইরাকের অনেক নারীর কাছে এখন এসবও উদ্বেগের কারণ। যৌন হয়রানির শিকার হয়েও সামাজিক লজ্জা, পরিবারের বাধা ও পুলিশের কাছ থেকে সহায়তা না পাওয়ার আশঙ্কায় অনেকে মুখ খুলতে চান না। ফলে দেশটিতে নারীদের নিরাপত্তা ও বিচার পাওয়ার সুযোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
বিবিসিকে সামিরা (ছদ্মনাম) নামের এক নারী জানান, একবার গণপরিবহনে এক ব্যক্তি তার সামনে ফোনে পর্নোগ্রাফি দেখান। আরেক দিন বাগদাদে এক ব্যক্তি গাড়ি নিয়ে ১০ মিনিটেরও বেশি সময় তাকে অনুসরণ করেন। পুলিশের কাছে অভিযোগ জানিয়েও তিনি সহায়তা পাননি বলে দাবি করেন।
পরিবারের কাছেও এসব ঘটনা প্রকাশ করতে ভয় পান সামিরা। তার আশঙ্কা, বিষয়টি জানালে নিরাপত্তার অজুহাতে তাকে বাড়ির বাইরে যেতে নিষেধ করা হতে পারে। অনেক পুরুষ এমনকি কিছু পুলিশ কর্মকর্তাও যৌন হয়রানিকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে দেখেন না।
তবে ইরাকের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মুকদাদ মিরি বলেছেন, ‘পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ প্রমাণিত হলে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও চাকরি থেকে বরখাস্তের বিধান রয়েছে।’ তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে পুলিশ প্রায় ৩০০টি যৌন সহিংসতার অভিযোগ পেয়েছে। তবে সামাজিক রীতিনীতি ও ঐতিহ্যের কারণে অনেক ঘটনা প্রকাশ্যে আসে না বলেও স্বীকার করেন তিনি।
নারী অধিকারকর্মীদের মতে, সামাজিক কলঙ্ক, ভুক্তভোগীকে দোষারোপ এবং বিচার পাওয়ার অনিশ্চয়তা নারীদের ন্যায়বিচার চাওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে নারী অধিকার নিয়ে কাজ করা হানা এডওয়ারও দেশটিতে নারীদের অধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
তবু হাল ছাড়তে রাজি নন নারী অধিকারকর্মীরা। নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর আইন প্রয়োগ, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং হয়রানির বিরুদ্ধে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন জরুরি বলে মনে করেন তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ