রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:৪০ পি.এম
কুমিল্লার ১৮টি থানায় আবারও একযোগে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছে পুলিশ। শনিবার রাত ৮টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলা এই অভিযানে ২৫৪ জনকে আটক করা হয়েছে।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আটককৃতদের মধ্যে কুমিল্লা নগরের আলোচিত ‘রতন গ্রুপ’ বা ‘আর স্কোয়াড’-এর সক্রিয় চার সদস্য রয়েছে। তাদের মধ্যে একজন আনিসুর রহমান ওরফে আনিক (১৯), যিনি এই গ্যাংয়ের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ হিসেবে পরিচিত।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বলেন, কিশোর গ্যাংবিরোধী নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে একযোগে ১৮টি থানায় অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। কুমিল্লা মহানগরসহ প্রতিটি থানা এলাকার যেসব স্থানে উঠতি বয়সী বখাটেদের উৎপাত ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা রয়েছে, সেসব স্থান চিহ্নিত করে অভিযান চালানো হয়েছে। এ সময় ২৫৪ জনকে আটক করা হয়েছে। আটকদের যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার জানান, রাতে কিশোর গ্যাংবিরোধী এই অভিযানে কোতোয়ালি থানা এলাকা থেকে ৩৭ জনকে আটক করা হয়েছে। নগরের যেসব এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের আড্ডা জমে এবং তারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের চেষ্টা করে, সেসব এলাকায় এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
পুলিশের দাবি, আটককৃতদের মধ্যে চারজন কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। আটক চারজনের একজন আনিসুর রহমান ওরফে আনিক (১৯)। তিনি নগরের ছোটরা মফিজাবাদ কলোনির আবুল কাশের ছেলে। আনিক রতন গ্রুপের প্রধান ইমরান হোসেন ওরফে রতনের ভাগ্নে। বর্তমানে রতন আত্মগোপনে থাকায় আনিকই গ্রুপটির কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছেন। তিনি ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ হিসেবে রয়েছেন। বাকি তিনজনও এই গ্রুপের সক্রিয় সদস্য বলে জানা গেছে।
এর আগে গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কুমিল্লার ১৮টি থানায় একযোগে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান চালানো হয়েছিল। ওই অভিযানে ৬২৪ জনকে আটক করে পুলিশ। তাদের মধ্যে ৪৫১ জনকে মুচলেকায় অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি ১৭৩ জনের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, নিয়মিত মামলা, ভ্রাম্যমাণ আদালত, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানাসহ বিভিন্ন অভিযোগে তাদের আদালতের মাধ্যমে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে পরাজিত করার পর লিওনেল মেসিকে জড়িয়ে ধরে তাঁর ফুটবলে অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিলেন ইয়ামাল। স্প্যানিশ তারকা এতদিন শৈশবে মেসির কোলে থাকা ভাইরাল ছবিটি আড়ালে রাখতে চেয়েছিলেন।
ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জয়ের পর লামিনে ইয়ামাল মেসিকে জড়িয়ে ধরেছিলেন। দুই মাসেরও বেশি সময় পর, স্পেনের ১৯ বছর বয়সী এই তারকা সেই মুহূর্তের অর্থ জানালেন।
ম্যাচ শেষে ইয়ামাল মেসির কাছে গিয়ে তাঁকে জড়িয়ে ধরে কিছু কথা বলেন। দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, মূলত ফুটবলের জন্য মেসির অবদানের জন্য ধন্যবাদ জানাতে গিয়েছিলেন।
ইয়ামাল বলেন, ‘ফুটবলের জন্য তুমি যা করেছ, তার জন্য অনেক ধন্যবাদ।’ তিনি জানান, মেসিকে সবসময়ই সেরা মনে করেন। এমনকি, মেসি বিশ্বকাপ বা কোপা আমেরিকা জেতার আগেও তাঁর কাছে আর্জেন্টাইন কিংবদন্তিই ছিলেন সেরা।
তিনি আরও জানান, মুহূর্তটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার জন্য তৈরি করা হয়নি। মেসিকে দেখে তাঁর ভেতর থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ইচ্ছা তৈরি হয়েছিল।
দুজনের সেই আলিঙ্গনের ছবি এখন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ছবিতে পরিণত হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ২০০৭ সালের আরেকটি বিখ্যাত ছবি—যেখানে মাত্র কয়েক মাস বয়সী ইয়ামালকে গোসল করাচ্ছেন তরুণ মেসি। ইউনিসেফের একটি ফটোশুটের অংশ হিসেবে তোলা সেই ছবিটি পরে অনেকের কাছে এআই-নির্মিত মনে হয়েছিল। তবে ছবিটি পুরোপুরি বাস্তব।
বার্সেলোনায় মেসির উত্তরসূরি হিসেবে ইয়ামালের উত্থানের সঙ্গে ছবিটি নতুন করে আলোচনায় আসে। তবে এতদিন ছবিটি প্রকাশ্যে না আসার পেছনে ইয়ামালের নিজস্ব ভূমিকা ছিল। তিনি জানান, বাবাকে ছবিটি প্রকাশ না করতে বলেছিলেন। একবার বাবা ফেসবুকে ছবিটি পোস্ট করলেও ইয়ামাল সেটি সরিয়ে নিতে বলেছিলেন।
ইয়ামাল পরিষ্কার করেছেন, মেসির সঙ্গে তাঁর তুলনাই যেন সব আলোচনার কেন্দ্রে না আসে, সেটি তিনি চাননি। তাঁর ভাষায়, ‘আমি মেসি হতে চাইনি। আমি লামিনে হতে চেয়েছি।’ নিজের পরিচয়ে জায়গা তৈরি করার পর ছবিটি প্রকাশ করার জন্য বাবাকে অপেক্ষা করতে বলেছিলেন তিনি।
শেষ পর্যন্ত ছবিটি প্রকাশ্যে আসে। ততদিনে ইয়ামাল নিজেই বিশ্বমানের ফুটবলার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। বার্সেলোনায় মেসির ১০ নম্বর জার্সিও তাঁর গায়ে উঠেছে। এখন ইয়ামালও স্বীকার করেন, ছোটবেলায় মেসির সঙ্গে তোলা সেই ছবি এবং বিশ্বকাপ ফাইনালের পর দুজনের আলিঙ্গনের ছবি পাশাপাশি দেখতে দারুণ লাগে।
২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনাল ছিল মেসি ও ইয়ামালের একই মাঠে মুখোমুখি হওয়ার প্রথম এবং সম্ভবত একমাত্র ঘটনা। ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে বর্তমান প্রজন্মের কিংবদন্তি ও পরবর্তী প্রজন্মের অন্যতম আলোচিত তারকা মুখোমুখি হয়েছিল।
তবে ইয়ামালের মতে, ফেরান তোরেসের অতিরিক্ত সময়ের গোলের আগে ম্যাচের ভাগ্য অনেকটা নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল। অতিরিক্ত সময়ের আগে এনজো ফার্নান্দেস লাল কার্ড দেখায় আর্জেন্টিনা ১০ জনের দলে পরিণত হয়। ইয়ামালের ভাষায়, তখন আর্জেন্টিনার গোল করার সুযোগ প্রায় ছিলই না, আর বল নিজেদের দখলে রেখে স্পেনের গোল না করাটা কঠিন হয়ে যায়।
দুই দশকের বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক ফুটবলে আধিপত্য বিস্তার করা মেসির শেষ অফিসিয়াল আন্তর্জাতিক পরাজয়ও এল স্পেনের কাছে—এবং এমন এক খেলোয়াড়ের বিপক্ষে, যাঁকে অনেকেই ভবিষ্যতে তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে দেখছেন।
একদিকে বার্সেলোনার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তারকার অধ্যায়ের শেষ প্রান্ত, অন্যদিকে একই ক্লাবের নতুন প্রজন্মের তারকার উত্থান। আর সেই দুই সময়কে যেন এক ফ্রেমে বেঁধে দিয়েছে বিশ্বকাপ ফাইনালের পর মেসি-ইয়ামালের সেই আলিঙ্গন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রাফিদ শাহরিয়ার, যিনি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুতর আঘাত পেয়েছিলেন, তিনি আর নেই।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১.৩০টায় ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, মৃত্যুর পূর্বে তিনি রাজধানীর মাদানি এভিনিউয়ে অবস্থিত ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫ দিন ধরে জীবন-মৃত্যুর সাথে লড়াই করছিলেন। তবে আইসিইউতে লাইফ সাপোর্ট থাকার সময় চিকিৎসকদের সমস্ত প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে আজ তিনি জীবনের মায়া ত্যাগ করেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তিনি মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালমাসে প্রচন্ড আঘাত পেয়েছিলেন এবং বাম দিক থেকে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। নিউরো সার্জনরা জানান, তার ব্রেনের অর্ধেক অংশ সম্পূর্ণরূপে নষ্ট হয়ে গেছিল। মস্তিষ্কের ঐ অংশে কোনো নিউরন কার্যকর ছিল না এবং কোষগুলো পুনরুদ্ধার করাও সম্ভব নয়।
গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টা নাগাদ রাজশাহীর বিনোদপুর বাজারে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তিনি মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাত পান। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, রাফিদ যখন মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন, তখন বিপরীত দিক থেকে আসা আরেকটি বাইক হঠাৎ ইউ-টার্ন নেয়। ঘটনার আকস্মিকতায় তিনি নিয়ন্ত্রণ হারান এবং বাইক থেকে ছিটকে পড়েন। এতে তাঁর মাথা সরাসরি সড়কের ডিভাইডারে প্রচণ্ড আঘাত পায়।
দুর্ঘটনার পরপরই সহপাঠী ও স্থানীয় লোকজন তাকে দ্রুত উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাকে প্রথমে জরুরি বিভাগের ৮নং ওয়ার্ডে এবং পরে অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয়। তবে অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালের আইসিইউ কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়।
চিকিৎসকরা প্রাথমিকভাবে জানান, আঘাতের তীব্রতায় তার মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বেঁধেছে এবং এতে তিনি গভীর কোমায় চলে গেছেন। পরদিন (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন, ছাত্রকল্যাণ দপ্তর পরিচালক অধ্যাপক ড. রবিউল ইসলাম সরকারসহ একটি প্রতিনিধি দল হাসপাতালে যান। তখন তারা রাফিদের শারীরিক অবস্থার আশঙ্কাজনক অবনতির কথা জানতে পারেন এবং রাজশাহী মেডিকেলের চিকিৎসকেরা তাকে দ্রুত ঢাকায় স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। এই পরিস্থিতিতে রুয়েট প্রশাসনের উদ্যোগে ঐদিন সকালে জরুরি ভিত্তিতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স বুকিং দেওয়া হয়। দুপুর সোয়া ১টার দিকে উন্নত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে রাফিদকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এদিকে রাফিদের চিকিৎসায় রুয়েট প্রশাসন ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্রাউড ফান্ডিংয়ের মাধ্যমে সরাসরি ও অনলাইনে অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু সমস্ত চেষ্টা ও সহপাঠী-পরিবারের প্রার্থনাকে বিফল করে দিয়ে আজ আইসিইউতেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। রাফিদ শাহরিয়ার রুয়েটের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন (আইডি: ২১০৩০৯৫)। তিনি খুলনা বিভাগের চুয়াডাঙ্গা জেলার বাসিন্দা ছিলেন।
তার এই অকাল ও মর্মান্তিক প্রয়াণে রুয়েট ক্যাম্পাস জুড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের মধ্যে বিষাদের আবহ বিরাজ করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে শোক জানিয়ে তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জ্ঞাপন করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কের পাটকেলঘাটা ওভারব্রিজের উপরে পণ্যবাহী একটি ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে নিহত হয়েছেন মেহেদী হাসান সবুজ (৩০) নামের এক যুবক, যিনি মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন। এই সড়ক দুর্ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে।
নিহত মেহেদী হাসান সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলা সদরের আব্দুল জলিলের পুত্র। তিনি একটি ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানিতে সেলস অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাতে অফিসিয়াল কাজ শেষে কুমিরা এলাকা থেকে মোটরসাইকেলে সাতক্ষীরা শহরের দিকে ফিরছিলেন মেহেদী হাসান। পাটকেলঘাটা ওভারব্রিজের উপরে পৌঁছানোর পর বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী ট্রাক তাকে ধাক্কা দেয়। এই ধাক্কায় তিনি মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে যান এবং ট্রাকের চাকার নিচে পিষ্ট হন, ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পাটকেলঘাটা থানার ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, পুলিশ খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঝালকাঠি, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে ‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন’ এই প্রতিপাদ্যে ঝালকাঠিতে একটি বর্ণাঢ্য র্যালির আয়োজন করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আজ রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে থেকে র্যালিটি শুরু হয় এবং শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়।
র্যালিতে অংশগ্রহণ করেন জেলা প্রশাসক মো. মমিনউদ্দীন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. কাওছার হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) তৌহিদুল ইসলাম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেগুফতা মেহনাজ, ঝালকাঠি প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি মো. আককাস সিকদার, বাস মালিক সমিতির সভাপতি আনিছুর রহমান তাপু, জেলা বন কর্মকর্তা মো. জাকিরুল হক সরকারসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
র্যালির পর সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা করেন জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন।
তিনি পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো, ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে পর্যটন খাতকে আরও আধুনিক ও আকর্ষণীয় করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, ঝালকাঠি পর্যটনের জন্য একটি সম্ভাবনাময় জেলা। এখানে নদী, খাল, সবুজ প্রকৃতি ও ঐতিহাসিক স্থাপনা কেন্দ্র করে পর্যটন বিকাশের সুযোগ রয়েছে। পর্যটন খাতের উন্নয়নের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করা সম্ভব।
এছাড়া, সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ঝালকাঠির পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ডা. এস. এম. জিয়াউদ্দিন হায়দারের বিশেষ সুপারিশে ঝালকাঠির ধানসিঁড়ি ইকো পার্কে কালচারাল ভিলেজ নির্মাণের উদ্যোগও গ্রহণ করা হয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ঝালকাঠির পর্যটন খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে এবং দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করা সহজ হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ