রিয়াদ মাহমুদ সিকদার,কাউখালী প্রতিনিধি
০১:৪১ পি.এম
পিরোজপুরের কাউখালী এবং নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) উপজেলার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করার লক্ষ্যে বহুল প্রত্যাশিত 'আমরাজুড়ি সেতু' নির্মাণের উদ্যোগে নতুন গতি এসেছে।
শনিবার (১১ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সেতু বিভাগের সচিব এবং বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোঃ আবদুর রউফের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল কাউখালীর আমরাজুড়ি ফেরিঘাট সংলগ্ন সন্ধ্যা নদীর মোহনা ও গাবখান চ্যানেল এলাকায় সম্ভাব্য সেতু নির্মাণস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে প্রতিনিধিদলটি নদীর নাব্যতা, ভৌগোলিক অবস্থান, সংযোগ সড়কের (অ্যাপ্রোচ রোড) সম্ভাবনা এবং সেতু নির্মাণের কারিগরি বিভিন্ন দিক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যবেক্ষণ করেন।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোঃ আবদুর রউফ জানান, আমরাজুড়ি সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা ও কারিগরি বিষয়গুলো আমরা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা সব তথ্য সংগ্রহ করছেন। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সম্ভাব্যতা যাচাই ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, এই সেতু নির্মিত হলে এ অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসবে এবং মানুষের জীবনযাত্রা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ আসাদুজ্জামান এই প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, আমরাজুড়ি সেতুটি এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। সেতুটি নির্মিত হলে কাউখালী ও নেছারাবাদের মধ্যে শুধু দূরত্বই কমবে না, বরং পিরোজপুর জেলার সামগ্রিক প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যাপক গতি আসবে। বিশেষ করে কৃষিপণ্য পরিবহন ও জরুরি চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তি অনেক সহজ হবে।
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজে সব ধরনের প্রশাসনিক সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এইচ এম দ্বীন মোহাম্মদ দল ও স্থানীয় জনগণের পক্ষে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, আমরাজুড়ি ফেরিঘাটে দীর্ঘ বছর ধরে মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ও যানবাহন এখানে এসে আটকে থাকে। একটি স্থায়ী সেতুর দাবি এ অঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবী। বর্তমান সরকারের সেতু সচিবের এই সরেজমিনে পরিদর্শন আমাদের আশার আলো দেখাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা চাই দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ করে এই মেগা প্রকল্পের বাস্তব কাজ শুরু হোক। সেতুটি হলে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে এবং অবহেলিত এই জনপদের অর্থনৈতিক চিত্র পুরোপুরি বদলে যাবে।
পরিদর্শনকালে অন্যান্যের মধ্যে পিরোজপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আসাদুজ্জামান, কাউখালী থানার (ওসি) তদন্ত এবাদ আলী, কাউখালী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এইচ এম দ্বীন মোহাম্মদ, উপজেলা বিএনপি'র সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাফিউল আজম দুলালসহ উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মী এবং সেতু বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির স্বার্থে শিল্পায়ন ও উৎপাদন বৃদ্ধি করা জরুরি হলেও পরিবেশের ক্ষতি করে কোনো ইন্ডাস্ট্রি বা শিল্পকারখানা স্থাপন করা যাবে না, এ বিষয়ে পরিষ্কার মনোভাব প্রকাশ করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।
শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদফতরে ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ সেমিনারে বক্তব্য রাখেন পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সুনির্দিষ্ট উৎসগুলো আগে চিহ্নিত করতে হবে, যাতে প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গৃহীত করা সম্ভব হয়।
পরিবেশমন্ত্রী বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের পরিণতি ও ক্ষয়ক্ষতি বেশি আলোচনার বিষয় হলেও এর মূল সোর্স বা উৎসগুলো কি কি, তা নিয়ে আলোকপাত করা হয় না। অথচ উৎপত্তিস্থলগুলো সঠিকভাবে শনাক্ত করা না হলে টেকসই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব নয়।’
বর্তমান সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ুকে মানুষের সহনশীল পর্যায়ে আনার উদ্যোগের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেন, ‘যতদূর আমি এই মন্ত্রণালয়ে যুক্ত আছি, ততদিন পরিবেশ সুরক্ষাকে দেশের উন্নয়নের মূল ধারায় অন্তর্ভুক্ত রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’
মন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দিকে নজর দিতে হবে। প্রবৃদ্ধি বাড়াতে হলে উৎপাদন বৃদ্ধি অপরিহার্য, আর উৎপাদন বাড়াতে হলে ইন্ডাস্ট্রি প্রয়োজন। তবে ইন্ডাস্ট্রি গড়ার নামে পরিবেশকে বিপন্ন করতে চাই না।’
সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পরিবেশবিদ এবং সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা। বক্তারা দেশের পরিবেশ রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাজিলকে হারানোয় হাল্যান্ডকে জড়িয়ে ধরলেন নরওয়ের রাজকুমারী। ছবি: সংগৃহীত। ২০২৬ বিশ্বকাপে সাম্প্রতিক সময়ে অনুষ্ঠিত শেষ ষোলোর লড়াইয়ে ব্রাজিলকে হারিয়ে ইতিহাস গড়লো নরওয়ে। নরওয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে প্রবেশ করেছে। এই ঐতিহাসিক জয়ের অন্যতম নায়ক ছিলেন আর্লিং হাল্যান্ড, যিনি করেছিলেন জোড়া গোল।
সুতরাং, জয়ের পর ড্রেসিংরুমে গিয়ে নরওয়ের রাজপরিবারের সদস্য এবং প্রিন্সেস ইনগ্রিড আলেকজান্দ্রা হাল্যান্ডকে আলিঙ্গন করে অভিনন্দন জানান। তার সঙ্গে বাইরের ছোট ভাই প্রিন্স স্ভেরে ম্যাগনুসও উপস্থিত ছিলেন।
অতিরিক্তভাবে, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, ড্রেসিংরুমে তখন নরওয়ের ফুটবলাররা আনন্দে মাতোয়ারা। যেসব ফুটবলাররা ঐ জয়ের উদযাপন করছিল, তাদের মধ্যে শার্টবিহীন হাল্যান্ড ছিল প্রধান।
রাজকুমারীকে দেখে তিনি এগিয়ে যান। দুইজন একে অপরকে উষ্ণ আলিঙ্গনের মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানান, এবং পরে হাত মিলান করেন। মুহূর্তটি দ্রুতই ভক্তদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।
উল্লেখ্য, প্রিন্সেস ইনগ্রিড আলেকজান্দ্রা বর্তমানে ২২ বছর বয়সী এবং তিনি নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্স হাকোন ও ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-মারিতের বড় কন্যা। তিনি বর্তমানে নরওয়ের সিংহাসনের উত্তরাধিকার তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম দুই ওয়ানডেতে টানা হেরে ইতোমধ্যে সিরিজটি বাংলাদেশ হাতছাড়া করে ফেলেছে। আজ হারারেতে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে মাঠে নামছে টাইগাররা।
তবে, এই ম্যাচের সমীকরণটি শুধুমাত্র একটি সান্ত্বনার জয় নয়, বরং স্বাগতিকদের বিপক্ষে লজ্জাজনক হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর অগ্নিপরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে মেহেদী হাসান মিরাজদের জন্য।
গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে ব্যাটিংয়ের দায়িত্ব পালন করবে বাংলাদেশ। হারারে স্পোর্টস ক্লাবে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। স্বাগতিকদের আগে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে রান পাহাড়ে চড়ে যাওয়ার সুযোগ না দিয়ে দ্রুত গুটিয়ে দেওয়াই এখন লক্ষ্য টাইগার বোলারদের।
এদিকে শেষ ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়ে শিবিরে দৃশ্যমান বড় পরিবর্তন ঘটেছে। এই ম্যাচে স্বাগতিকদের নেতৃত্ব দেবেন অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার সিকান্দার রাজা।
নিয়মিত অধিনায়ক রিচার্ড এনগারাভাকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে এই ম্যাচটিতে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে চলমান ‘সংবেদনশীল সামরিক অভিযান’ সাময়িকভাবে স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছে।
শনিবার ইসরায়েলি গণমাধ্যম ‘টাইমস অব ইসরায়েল’ সংবাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
ওয়াশিংটন যখন ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে, ঠিক তখনই এক মার্কিন কর্মকর্তা এই তথ্য জানিয়েছেন।
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের দু’টি পাইলট জোনের (পরীক্ষামূলক এলাকা) প্রথমটির থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া আগামী কয়েক দিনের মধ্যে শুরু হতে যাচ্ছে।
গত মাসে ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি রূপরেখা চুক্তির অংশ হিসেবে জেরুজালেম দক্ষিণ লেবাননের দু’টি ছোট এলাকা থেকে তাদের সৈন্য প্রত্যাহার করতে সম্মত হয়েছে। হিজবুল্লাহর অবকাঠামো থেকে মুক্ত করা এসব এলাকায় পরবর্তীতে লেবাননের সশস্ত্র বাহিনীর (এলএএফ) সদস্যদের মোতায়েন করা হবে।
ঐ চুক্তির পর দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও, ইসরায়েলি বাহিনী এখনো পাইলট জোন হিসেবে চিহ্নিত দুটি এলাকাতেই অবস্থান করছে।
যুক্তরাষ্ট্র আগামী সপ্তাহে রোমে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে পরবর্তী দফার আলোচনার সময়সূচি নির্ধারণ করেছে- যেখানে পক্ষগুলো মূল চুক্তির ওপর ভিত্তি করে আরও অগ্রগতি নিশ্চিত করবে। তবে, এই বিষয়ে অবগত একজন আরব কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বৈরুত (লেবানন সরকার) স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে ইসরায়েল সম্মত সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন না করা পর্যন্ত তারা এই আলোচনায় অংশ নেবে না।
পাইলট জোন থেকে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে ইসরায়েলকে রাজি করাতে মার্কিন চাপ কিছুটা হলেও ইতিবাচক, যদিও সীমিত অগ্রগতি এনেছে।
ওই মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রথম পাইলট জোনের কার্যক্রম আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই শুরু হবে এবং পরবর্তী পাইলট জোনগুলোর মানচিত্র তৈরি ও পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে উভয় দেশের সাথে সমন্বয় করছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।’
আরব কর্মকর্তা জানান, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড প্রথমে প্রথম পাইলট জোনটিকে লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী (এলএএফ) মোতায়েনের জন্য উপযুক্ত বলে ঘোষণা করবে এবং এর পরপরই সেখানে থেকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) পিছু হটবে।
‘আগামী কয়েক দিনের মধ্যে’ বলা হলেও, এই প্রথম সেনা প্রত্যাহারের সঠিক সময়সীমা সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট তারিখ দেওয়া হয়নি। অপরদিকে, দ্বিতীয় পাইলট জোন থেকে সেনা প্রত্যাহারের সময়সীমা আরও অস্পষ্ট রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ