১১:৪৬ এম
নেপালের ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল ও বন্যার ফলে পরিবারের সদস্যরা নিখোঁজ হয়ে গেছেন। ৩৪ বছর বয়সী প্রমোদ পোদেল, যিনি সদ্যবিবাহিত স্ত্রীসহ স্বজনদের খোঁজে যুক্তরাজ্য থেকে নেপালে এসেছেন, তার স্ত্রীর সঙ্গে শেষ কথোপকথনের স্মৃতি এখন তাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। স্ত্রী সুমিত্রা সাপকোটার সঙ্গে ফোনে শেষ কথোপকথনের সময় তিনি বলেছিলেন, ‘তুমি কেমন আছো? আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি।’ এই কথাগুলো এখন তার মনে বারবার বাজছে।
প্রমোদ পোদেলের জন্ম নেপালের ‘সোলে’ গ্রামের একটি পরিবারে। সেখানে তার শৈশব ও কৈশোর কেটেছে। ১৮ বছর বয়সে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান তিনি এবং পরবর্তীতে দেশটির নাগরিকত্ব লাভ করেন। বর্তমানে পূর্ব সাসেক্সের আকফিল্ড এলাকায় বসবাস করছেন এবং সেখানে নেপালি স্ট্রিট ফুড ও ফুড ট্রাকের ব্যবসা পরিচালনা করছেন।
শুধু দুই মাস আগে বিয়ে করেছিলেন প্রমোদ। বিয়ের পর স্ত্রী সুমিত্রা নেপালেই তার পরিবারের সঙ্গে ছিলেন। খুব শিগগিরই তার যুক্তরাজ্যে স্বামীর কাছে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল ও বন্যার ফলে সেই স্বপ্ন মুহূর্তেই ভেসে গেছে।
আরও পড়ুন: সততার কারণে এক বছরে দুই বার বদলি
বিপর্যয়ের খবর পাওয়ার পর প্রমোদ নেপালের উদ্দেশে রওনা দেন। মেট্রো ইউকে-কে তিনি জানান, গত বুধবার বিকেল সোয়া ৪টার দিকে স্ত্রীর সঙ্গে তার শেষ কথা হয়েছিল। এরপর থেকে স্ত্রীর সেই শেষ কথাগুলো তার মনে ঘুরপাক খাচ্ছে।
এই দুঃসময়ে প্রমোদের একমাত্র স্বস্তির খবর হলো, তার বাবা পুরুসোত্তম পোদেল প্রাণে বেঁচে গেছেন এবং তাকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে স্ত্রী সুমিত্রা (২৫), মা তুলসা (৫২), ভাই প্রদীপ (৩১) এবং চাচা মাধব প্রসাদ পোদেল (৬৪) এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
নেপালে পৌঁছে উদ্ধারকর্মীদের সঙ্গে পরিবারের নিখোঁজ সদস্যদের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছেন প্রমোদ। দ্য সানকে তিনি বলেন, ‘আমি তাঁদের খুঁজে পাওয়ার ব্যাপারে খুবই আশাবাদী, তবে একই সঙ্গে আমি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনাও করছি।’
এর আগে বিবিসি রেডিও সাসেক্সের সঙ্গে আলাপকালে প্রমোদ বলেছিলেন, ‘এই মুহূর্তে আমার পরিবার এবং আমার দেশের জন্য এটি অত্যন্ত কঠিন একটি সময়, তবে সেখানে আসলে কী ঘটছে তা দেখার জন্য অবশ্যই আমাকে যেতে হবে।’
আরও পড়ুন: গ্রিস ও সাইপ্রাসের পার্লামেন্টে ইসরায়েলের সহযোগিতামূলক কমিটি গঠন
বিবিসিকে তিনি আরও বলেন, ‘সেখানে আসলে কী ঘটেছে তা কেউ জানে না। স্পষ্টতই বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন এবং কারা নিখোঁজ হয়েছেন বা কোথায় আছেন, সে বিষয়ে কোনো তথ্য নেই। কেউ কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। সব সেতু ভেঙে যাওয়ায় যাতায়াতেরও কোনো উপায় নেই।’
পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে প্রমোদ জানান, সেখানে বিদ্যুৎও নেই। ফলে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। কী ঘটছে, তা জানতে না পারাটা তার জন্য সবচেয়ে কষ্টের বিষয়গুলোর একটি।
নেপালে পৌঁছানোর পর সংবাদমাধ্যমকে প্রমোদ জানান, বন্যা ও কাদাঝড়ের তাণ্ডব এতটাই ভয়াবহ ছিল যে তাদের পরিবারের ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ভেসে গেছে। এমনকি যেখানে তাদের বাড়ি ছিল, সেখানেও এখন আর কোনো অস্তিত্ব নেই। পুরো সোলে গ্রামটি প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
আরও পড়ুন: জুমার নামাজের পর আল-আকসা মসজিদের খতিবকে গ্রেপ্তার করলো ইসরায়েলি বাহিনী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন