মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:১৮ পি.এম
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে রিপন মিয়া (৩৫) নামের এক ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে গ্রেফতার করতে গিয়ে তিন পুলিশ সদস্যের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। আহত পুলিশ সদস্যদের চিকিৎসাসেবা সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রদান করা হয়েছে।
এটি সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার বৈদ্যেরবাজার খেয়াঘাট এলাকায় ঘটেছিল। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে হামলার এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লার মেঘনা থানার কুদরত আলীর ছেলে রিপন মিয়া নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে একটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। সোমবার দুপুরে পুলিশ আসামির অবস্থান নিশ্চিত হয়ে বৈদ্যেরবাজারের খেয়াঘাট এলাকায় অভিযান শুরু করে। এ সময় পুলিশ রিপন মিয়াকে গ্রেফতার করে। কিন্তু আসামিকে ধরার সঙ্গে সঙ্গে তার সহযোগীরা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে আসামিকে ছিনিয়ে নেয়।
এই ঘটনায় সোনারগাঁ থানার এসআই সুরুজ্জামান ও এএসআই হাসমত উল্লাহ আহত হন। পরে আহত এই দুই পুলিশ সদস্যকে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়।
সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান দিগন্ত জানান, বিকাল ৪টার দিকে দুজন পুলিশ সদস্য চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের নাম হাসমত উল্লাহ।
এএসআই হাসমত উল্লাহ হামলার ঘটনা অস্বীকার করে বলেন, "আসামি ধরতে গেলে আসামিরা তো একটু দৌড়ঝাঁপ করবেই। আসামি ধরতে গেলে ওই আসামি দৌড়ে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে গেছেন। তবে আমাদের ওপর হামলার ঘটনা সম্পূর্ণ মিথ্যা।" তিনি বর্তমানে থানায় রয়েছেন।
এসআই সুরুজ্জামানও হামলার ঘটনা অস্বীকার করে বলেন, "তারা তিনজন পুলিশ সদস্য বৈদ্যেরবাজার খেয়াঘাট এলাকায় দ্রুত বিচার মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় আসামি তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে যায়। তবে তাদের ওপর কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি।"
সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন জানান, পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। তিনি এ বিষয়ে জানেন না এবং ওসির সঙ্গে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করেছেন।
সোনারগাঁ থানার ওসি মহাম্মদ আব্দুল বারিক বলেন, "একজন আসামিকে গ্রেফতার করতে গেলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে যায়। তবে কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আজ মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩, ১০ রবিউস সানি ১৪৪৮।
ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ—
জোহরের নামাজ শুরু হবে দুপুর ১১টা ৫৫ মিনিটে।
আসরের নামাজ শুরু হবে ৪টা ১৩ মিনিটে।
মাগরিবের নামাজ অনুষ্ঠিত হবে ৬টা ৫৮ মিনিটে।
এশার নামাজ শুরু হবে ৭টা ১২ মিনিটে।
আগামীকাল ফজর শুরু ৪টা ৩৬ মিনিটে
আজ ঢাকায় সূর্যাস্তের সময় ৫টা ৫৫ মিনিট এবং আগামীকাল সূর্যোদয়ের সময় ৫টা ৪৮ মিনিটে।
সূত্র : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরা, ঢাকা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পৃথিবীতে জলবায়ু পরিবর্তন ও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন শহরে বায়ুদূষণের মাত্রা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা বায়ুমান স্কোর ৬৮ নিয়ে তালিকার ৩১ নম্বরে অবস্থান করছে।
এই স্কোরকে ‘মাঝারি বা সহনীয়’ হিসেবে গণ্য করা হয়। অন্যদিকে, পাকিস্তানের লাহোর ১৯৮ স্কোর নিয়ে বায়ুদূষণের শীর্ষে রয়েছে। লাহোরের বাতাসের মান নাগরিকদের জন্য ‘অস্বাস্থ্যকর’ বলে বিবেচিত হয়।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের (আইকিউএয়ার) সূচক থেকে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
আইকিউএয়ারের এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স অনুযায়ী, দূষিত শহরের তালিকায় পাকিস্তানের লাহোর ১৯৮ স্কোর নিয়ে প্রথম স্থানে রয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে ভারতের কলকাতা ১৭৮ স্কোর নিয়ে রয়েছে, তৃতীয় স্থানে ভিয়েতনামের হ্যানয় একই স্কোর নিয়ে অবস্থান করছে, চতুর্থ স্থানে মালয়েশিয়ার কুচিং শহর ১৫৭ স্কোর নিয়ে রয়েছে এবং পঞ্চম স্থানে ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার স্কোর ১৩৯।
আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, বায়ুর মান শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলে তা ‘অনেক ভালো’ হিসেবে গণ্য হয়। ৫১ থেকে ১০০ স্কোর হলে বায়ুর মান ‘মাঝারি বা সহনীয়’ ধরা হয়। ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত স্কোর ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে গণ্য করা হয়। ২০১ থেকে ৩০০ স্কোর ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ বলে বিবেচিত হয়। ৩০১-এর বেশি স্কোর ‘দুর্যোগপূর্ণ’ হিসেবে গণ্য হয়।
বাংলাদেশে একিউআই নির্ধারণ করা হয় দূষণের পাঁচটি বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে। সেগুলো হলো, বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), এনও২, সিও, এসও২ ও ওজোন (ও৩)।
২০১৯ সালের মার্চ মাসে পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকার বায়ুদূষণের তিনটি প্রধান উৎস হলো, ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া এবং নির্মাণ সাইটের ধুলা।
ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, বায়ুদূষণের কারণে স্ট্রোক, হৃদরোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, ফুসফুসের ক্যান্সার এবং তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের কারণে মৃত্যুহার বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষ মারা যাচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৭৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে ৪৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষিতে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার নিয়াজ মেহেদী জানান, রমনা বিভাগে ৩৫ জন, লালবাগে ৩৪ জন, ওয়ারীতে ৬৩ জন, মতিঝিলে ৭৪ জন, তেজগাঁওয়ে ১০২ জন, মিরপুরে ৮০ জন, গুলশানে ৩৫ জন এবং উত্তরা বিভাগে ৪১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া গোয়েন্দা বিভাগ ৯ জন এবং কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) বিভাগের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
অভিযানের সময় পুলিশ বিস্ফোরিত ককটেলের অংশবিশেষ, ৩০ কেজি ২০০ গ্রাম গাঁজা, ৭ হাজার ৭০১টি ইয়াবা এবং ৬২ বোতল এস্কাফ সিরাপ উদ্ধার করেছে। পাশাপাশি দুটি মোটরসাইকেল, দুটি সুইচ গিয়ার, দুই ভিকটিম, নগদ ৬ হাজার ৬১০ টাকা, একটি ল্যাপটপ এবং ১৩টি মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়।
অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সিম ও ভিওআইপি সরঞ্জামও উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে বাংলালিংকের ১৮ হাজার ৭৭টি, রবির ১ হাজার ২৬২টি, গ্রামীণফোনের ৭০০টি, এয়ারটেলের ১৫০টি এবং অন্যান্য ৭৯৮টি সিমসহ ১০টি ভিওআইপি মেশিন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ডিএমপি জানায়, রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে এসব আলামত ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
এশিয়ান গেমসে নারী ক্রিকেটে ব্রোঞ্জ পদক রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ। নাগোয়ার কারোগি স্পোর্টস পার্কে অনুষ্ঠিত ব্রোঞ্জের লড়াইয়ে পাকিস্তানের কাছে ৩১ রানের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। এর ফলে হাংজু এশিয়ান গেমসে পাকিস্তানকে পরাজিত করে অর্জিত ব্রোঞ্জ এবার বাংলাদেশের হাতছাড়া হলো।
কারোগি স্পোর্টস পার্কে দর্শকদের জন্য কোনো গ্যালারি না থাকলেও, কিছু বাংলাদেশি প্রবাসী মাঠে এসে জ্যোতিদের খেলা দেখার জন্য উপস্থিত ছিলেন। তবে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হতাশ হয়ে তাদের ফিরতে হয়েছে।
র্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকার কারণে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে চীনকে হারিয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু শেষ চারে ভারতের কাছে ১১৪ রানে পরাজিত হয়ে টাইগ্রেসরা ব্রোঞ্জের লড়াইয়ে অংশ নেয়। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তাদের পারফরম্যান্সও হতাশাজনক ছিল।
প্রথমে ব্যাটিং করে পাকিস্তান ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৪৫ রান সংগ্রহ করে। ফাতিমা সানার দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের ফলে তারা বড় স্কোর গড়ে। ইনিংসের শুরুতেই বাংলাদেশের একটি ক্যাচ মিসের সুযোগ পাকিস্তান কাজে লাগায়।
১৪৬ রানের লক্ষ্য আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে অস্বাভাবিক কিছু নয়। এই ভেন্যুতেই এশিয়ান গেমসে নারী ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম সেঞ্চুরি করেছিলেন ভারতের শেফালি ভার্মা। মাত্র দুদিন আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৭০ রানের বেশি তাড়া করে জয় পেয়েছিল শ্রীলঙ্কা। কিন্তু বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে সেই আত্মবিশ্বাসের অভাব ছিল।
রান তাড়ায় বাংলাদেশ মাত্র ২০ রানে তিন উইকেট হারায়। ভুল শট নির্বাচনের কারণে একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে তারা। এরপর অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি ও শারমিন আক্তার সুপ্তা দলকে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করেন। তাদের মধ্যে ৪৭ রানের জুটি গড়ে।
কিন্তু ওভারপ্রতি রানের চাপ বাড়তে থাকায় দ্রুত রান তুলতে গিয়ে বড় শট খেলার চেষ্টা করেন জ্যোতি। শেষ পর্যন্ত ক্যাচ দিয়ে তাকে ফিরতে হয়। জ্যোতির বিদায়ের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি পাকিস্তানের হাতে চলে যায়।
এক প্রান্তে সুপ্তা লড়াই চালিয়ে গেলেও অন্য প্রান্তে ব্যাটারদের আসা-যাওয়া অব্যাহত থাকে। পাকিস্তানি স্পিনার উম্মে হানি বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে বড় ধস নামান। ৪ ওভারে মাত্র ১৩ রান দিয়ে তিনি ৩ উইকেট নেন।
শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১১৪ রানের বেশি করতে পারেনি। ফলে ৩১ রানের জয় নিয়ে ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করে পাকিস্তান।
ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিয়েছে দুই দলের ফিল্ডিং। পাকিস্তানের ফাতিমা সানা ইনিংসের শুরুতেই ক্যাচ দিয়েছিলেন। সেই সুযোগ হাতছাড়া করায় পরে তিনি বড় ইনিংস খেলেন। বিপরীতে পাকিস্তানের ফিল্ডাররা বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দুটি দারুণ ক্যাচ নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখে।
এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ নারী দল এবার ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে দুটি ম্যাচ খেলেছে। দুই ম্যাচেই ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং—তিন বিভাগেই প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স দেখা যায়নি। বিশেষ করে ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটিং অ্যাপ্রোচ ছিল রক্ষণাত্মক ও ভুলে ভরা। ফলে এশিয়ান গেমসে আরেকটি পদকের সুযোগ হাতছাড়া করেই ফিরতে হচ্ছে জ্যোতিদের।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ