মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:৩০ পি.এম
এশিয়ান গেমসে নারী ক্রিকেটে ব্রোঞ্জ পদক রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ। নাগোয়ার কারোগি স্পোর্টস পার্কে অনুষ্ঠিত ব্রোঞ্জের লড়াইয়ে পাকিস্তানের কাছে ৩১ রানের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। এর ফলে হাংজু এশিয়ান গেমসে পাকিস্তানকে পরাজিত করে অর্জিত ব্রোঞ্জ এবার বাংলাদেশের হাতছাড়া হলো।
কারোগি স্পোর্টস পার্কে দর্শকদের জন্য কোনো গ্যালারি না থাকলেও, কিছু বাংলাদেশি প্রবাসী মাঠে এসে জ্যোতিদের খেলা দেখার জন্য উপস্থিত ছিলেন। তবে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হতাশ হয়ে তাদের ফিরতে হয়েছে।
র্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকার কারণে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে চীনকে হারিয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু শেষ চারে ভারতের কাছে ১১৪ রানে পরাজিত হয়ে টাইগ্রেসরা ব্রোঞ্জের লড়াইয়ে অংশ নেয়। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তাদের পারফরম্যান্সও হতাশাজনক ছিল।
প্রথমে ব্যাটিং করে পাকিস্তান ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৪৫ রান সংগ্রহ করে। ফাতিমা সানার দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের ফলে তারা বড় স্কোর গড়ে। ইনিংসের শুরুতেই বাংলাদেশের একটি ক্যাচ মিসের সুযোগ পাকিস্তান কাজে লাগায়।
১৪৬ রানের লক্ষ্য আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে অস্বাভাবিক কিছু নয়। এই ভেন্যুতেই এশিয়ান গেমসে নারী ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম সেঞ্চুরি করেছিলেন ভারতের শেফালি ভার্মা। মাত্র দুদিন আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৭০ রানের বেশি তাড়া করে জয় পেয়েছিল শ্রীলঙ্কা। কিন্তু বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে সেই আত্মবিশ্বাসের অভাব ছিল।
রান তাড়ায় বাংলাদেশ মাত্র ২০ রানে তিন উইকেট হারায়। ভুল শট নির্বাচনের কারণে একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে তারা। এরপর অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি ও শারমিন আক্তার সুপ্তা দলকে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করেন। তাদের মধ্যে ৪৭ রানের জুটি গড়ে।
কিন্তু ওভারপ্রতি রানের চাপ বাড়তে থাকায় দ্রুত রান তুলতে গিয়ে বড় শট খেলার চেষ্টা করেন জ্যোতি। শেষ পর্যন্ত ক্যাচ দিয়ে তাকে ফিরতে হয়। জ্যোতির বিদায়ের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি পাকিস্তানের হাতে চলে যায়।
এক প্রান্তে সুপ্তা লড়াই চালিয়ে গেলেও অন্য প্রান্তে ব্যাটারদের আসা-যাওয়া অব্যাহত থাকে। পাকিস্তানি স্পিনার উম্মে হানি বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে বড় ধস নামান। ৪ ওভারে মাত্র ১৩ রান দিয়ে তিনি ৩ উইকেট নেন।
শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১১৪ রানের বেশি করতে পারেনি। ফলে ৩১ রানের জয় নিয়ে ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করে পাকিস্তান।
ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিয়েছে দুই দলের ফিল্ডিং। পাকিস্তানের ফাতিমা সানা ইনিংসের শুরুতেই ক্যাচ দিয়েছিলেন। সেই সুযোগ হাতছাড়া করায় পরে তিনি বড় ইনিংস খেলেন। বিপরীতে পাকিস্তানের ফিল্ডাররা বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দুটি দারুণ ক্যাচ নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখে।
এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ নারী দল এবার ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে দুটি ম্যাচ খেলেছে। দুই ম্যাচেই ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং—তিন বিভাগেই প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স দেখা যায়নি। বিশেষ করে ব্রোঞ্জ পদকের ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটিং অ্যাপ্রোচ ছিল রক্ষণাত্মক ও ভুলে ভরা। ফলে এশিয়ান গেমসে আরেকটি পদকের সুযোগ হাতছাড়া করেই ফিরতে হচ্ছে জ্যোতিদের।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিলেটে টানা ২ দিন ধরে প্রচন্ড গরম, তাপমাত্রা ৩৭.৭ ডিগিতে তাড়িয়েছে। শরতের নীল আকাশ কাঁপিয়ে নামছে তীব্র দাবদাহ। আশ্বিনের চেনা স্নিগ্ধ রূপ ছাপিয়ে এক অদ্ভুত ও প্রখর তাপপ্রবাহে পুড়ছে চারপাশ। যে ঋতুতে শিউলি ঝরার আর কাশবনের দোলায় মন জুড়ানোর কথা, সেখানে এক অগ্নিকুন্ড যেন গ্রাস করেছে প্রকৃতিকে। এক দিনের বিরতির পর দেশের বিভিন্ন স্থানে আবার তাপপ্রবাহ শুররু হয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সিলেট ও শ্রীমঙ্গলসহ দেশের ১৮ জেলায় তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে শ্রীমঙ্গলে। এর আগে চলতি মাসে দুই দফায় তাপপ্রবাহ বয়ে যায়। আবহাওয়ার অফিস অবশ্য বলেছে, আজ মঙ্গলবার থেকে তাপপ্রবাহ কমে আসতে পারে।
রাজধানীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যদি কোনো এলাকার তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস হয়, তবে সেখানে তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে বলে ধরা হয়।
যেসব জেলায় তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে সিলেট ৩৬ দশমিক ৫, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ৩৭ দশমিক ৭, টাঙ্গাইল ৩৬ দশমিক ৮, সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ৩৬ দশমিক ৫, ঢাকা ৩৬ দশমিক ৭, পাবনার ঈশ্বরদীতে ৩৬, ফরিদপুর ৩৭, গোপালগঞ্জ ৩৬ দশমিক ২, কিশোরগঞ্জের নিকলী ৩৬, রাজশাহী ৩৬ দশমিক ৫, ময়মনসিংহ ৩৬ দশকি ৪, নেত্রকোনা ৩৬, সিলেট ৩৬ দশমিক ১, টাঙ্গাইল ৩৬ দশমিক ৮, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ৩৭ দশমিক ৭, খুলনা ৩৭, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ ৩৬, যশোর ৩৬ দশকি ২, চুয়াডাঙ্গা ৩৭, চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ ৩৬ দশমিক ১, ফেনী ৩৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
গত মঙ্গলবার দেশের ২৫ জেলায় তাপপ্রবাহ বয়ে যায়। এর পরদিন ১১ জেলায় তাপপ্রবাহ ছিল। দুই দিনের বিরতির পর শনিবার আবার তাপপ্রবাহ শুরু হয়। তবে রোববার বৃষ্টি বেড়ে গেলে তাপপ্রবাহ কমে যায়। গতকাল আবার তাপপ্রবাহ শুরু হলো। তবে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশিদ বলেন, আজ থেকে তাপপ্রবাহের পরিধি কমে আসতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, সাগরে লঘুচাপের সৃষ্টি হয়েছে। এটি সৃষ্টি হয়েছে মূলত উত্তর আন্দামান সাগরে। এটি নিম্নচাপ বা গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে বলে অধিদপ্তরের সূত্রগুলো জানিয়েছে। তবে এটি ভারতের ওডিশা ও অন্ধ্রপ্রদেশ রাজ্যের দিকে যেতে পারে। এর প্রভাবে অবশ্য বাংলাদেশের উপকূলে আগামী বুধ বা বৃহস্পতিবার থেকে বৃষ্টি বাড়তে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লার দাউদকান্দিতে এক প্রবাসীর তালাবদ্ধ বসতঘরের দরজার তালা ও আলমারি ভেঙে নগদ প্রায় ৪ লাখ টাকা এবং আনুমানিক ২ ভরি স্বর্ণালংকার লুটের ঘটনা ঘটেছে।
উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়নের চর রামনগর গ্রামের বাসিন্দা দুবাই প্রবাসী মো. মাহাবুব আলমের বাড়িতে এ চুরির ঘটনা ঘটে।
মাহাবুব আলম দীর্ঘদিন ধরে জীবিকার তাগিদে সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত রয়েছেন; দেশের বাড়িতে তাঁর স্ত্রী ও ছোট মেয়ে বসবাস করেন।
ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, গতকাল সন্ধ্যায় মাহাবুব আলমের স্ত্রী চিকিৎসা নেওয়ার উদ্দেশ্যে গৌরীপুর বাজারে এক চিকিৎসকের চেম্বারে যান।
রাত আনুমানিক সাড়ে আটটার দিকে বাড়ি ফিরে তিনি বসতঘরের মূল ফটক ও দরজার তালা ভাঙা দেখতে পান। পরে ঘরে প্রবেশ করে দেখতে পান ঘরের ভেতরের আলমারির তালা ভেঙে সবকিছু তছনছ করা হয়েছে এবং ড্রয়ারে সংরক্ষিত নগদ প্রায় ৪ লাখ টাকা ও আনুমানিক ২ ভরি স্বর্ণালংকার নেই।
খবর পেয়ে ওই রাতেই গৌরীপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. সাইফুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং আলামত সংগ্রহ করেন।
এ বিষয়ে গৌরীপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. সাইফুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও মালামাল উদ্ধারে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
২০২৮ সালে শতবর্ষ পূর্ণ হবে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই)। ঐতিহাসিক এই মাইলফলক উদযাপনের জন্য বছরজুড়ে নানা আয়োজনের পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি। এর অংশ হিসেবে ভারতীয় দল ও বিশ্ব একাদশের মধ্যে একটি বিশেষ ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তাব উঠে এসেছে।
সম্প্রতি মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত বিসিসিআইয়ের বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) শতবর্ষ উদযাপনের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। সভায় এ আয়োজনের পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার জন্য একটি কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিসিসিআইয়ের শতবর্ষ উদযাপন ২০২৭ সালের ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে ২০২৮ সালজুড়ে চলতে পারে। সেই আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে ভারত ও বিশ্ব একাদশের ম্যাচটি অন্তর্ভুক্ত করার চিন্তা করা হচ্ছে।
তবে ম্যাচ আয়োজনের বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি। সম্ভাব্য তারিখ, ভেন্যু কিংবা দুই দলের খেলোয়াড়দের তালিকাও এখনও প্রকাশ করা হয়নি। অর্থাৎ, পুরো পরিকল্পনাটি আপাতত প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।
ভারত ও বিশ্ব একাদশের মধ্যে বিশেষ ম্যাচ আয়োজন নতুন কোনো ধারণা নয়। অতীতে বিভিন্ন উপলক্ষে এমন ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিসিসিআইয়ের শতবর্ষ উদযাপনে যদি এবারও এমন একটি ম্যাচ আয়োজন করা হয়, তাহলে তা ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাস ও ঐতিহ্য উদযাপনের অন্যতম বড় আকর্ষণ হয়ে উঠতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ