০৩:৫৮ পি.এম
ঢাকা, ২৩ আগস্ট, ২০২৬ : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, এর মানে তখনই পূর্ণ হয়, যখন সরকার জনগণের কল্যাণের দিকে আন্তরিকভাবে মনোনিবেশ করে।
তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে, তারেক রহমানের সরকারও জনগণের কল্যাণে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে চলেছে।
আজ রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন ও ফাতেহা পাঠ করার পর সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: সাত মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল চীনের তিব্বত
এ সময় সেখানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর নবনিযুক্ত রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
রিজভী বলেন, “অনেক সংকটের মধ্য দিয়ে গেলেও সরকার সততা ও নিষ্ঠার পরিচয় দিয়েছে। নির্বাচনের আগে দলের চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনগণের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সরকার তা বাস্তবায়নে নিরন্তর ও নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সেই প্রচেষ্টা এখন দৃশ্যমান।”
জ্বালানি সংকট সম্পর্কে তিনি বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তার জন্য সরকার বা কোন ব্যক্তির দায় নেই। এটি এক ধরনের প্রাকৃতিক সংকট। যুদ্ধের জন্য জ্বালানি সংকট সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে মহেশখালীর গ্যাস ও এলএনজি সরবরাহকারী টার্মিনালে ত্রুটির কারণে বিগত কয়েকদিন গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় বিভিন্ন এলাকার কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যায় এবং সাধারণ মানুষ রান্নার ক্ষেত্রে ভোগান্তিতে পড়ে।”
তিনি আরও বলেন, মহেশখালীর ভাসমান টার্মিনালটির ত্রুটি ইতোমধ্যে সম্পূর্ণ মেরামত করা হয়েছে। এলএনজির কার্গো এসে পৌঁছেছে এবং সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। তাই দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ আবার বাড়ছে এবং লোডশেডিংও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
আরও পড়ুন: নিছিদ্র নিরাপত্তায় দুর্গাপূজা, ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজি পরিদর্শন করলেন শতাধিক মণ্ডপ
তিনি বলেন, “এই সমস্যা দ্রুতের সঙ্গে সমাধানের জন্য সরকারের আন্তরিকতার কোনো অভাব ছিল না এবং জ্বালানি সংকটের ক্ষেত্রেও দেশবাসী তা প্রত্যক্ষ করেছে। তবে এই মধ্যে অনেক চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।”
তিনি বলেন, সরকার এসব চক্রান্ত শনাক্ত করে প্রতিহত করেছে এবং একই সঙ্গে জনকল্যাণ, সামাজিক সুরক্ষা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের কার্যক্রমও অব্যাহত রেখেছে।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, “সরকারের প্রতিটি কর্মকাণ্ডের জবাবদিহিতা থাকবে। এই জবাবদিহিতা সংসদে হতে পারে, দলের নেতাকর্মীদের কাছে হতে পারে এবং গণমাধ্যমের মাধ্যমে হতে পারে। সরকার ইতোমধ্যে বেশ কিছু দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।”
বর্তমান সরকারকে জনকল্যাণমুখী সরকার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সামাজিক সুরক্ষা শক্তিশালী করছে পাশাপাশি সকল ধরনের দুর্নীতির ঊর্ধ্বে উঠে অবকাঠামো উন্নয়নে কাজ করছে। অতীতে, বিশেষ করে ‘ফ্যাসিস্ট আমলে’, মেগা প্রকল্পের নামে ‘মেগা দুর্নীতি’ হয়েছিল। সেই অবস্থা থেকে উত্তরণ করে সরকার এখন প্রকৃত উন্নয়ন করছে।”
আরও পড়ুন: ঢাকায় আগামী শনিবার অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ইমাম সম্মেলন
দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে তাঁর কাছে কোন বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পাচ্ছে, এ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমার প্রধান দায়িত্ব হলো সংগঠনকে শক্তিশালী করা, নেতা ও কর্মীদের মধ্যে সমন্বয় গড়ে তোলা এবং তাদের পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও সমৃদ্ধ ও দৃঢ় করা। পাশাপাশি তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত সংগঠনগুলোতে বিদ্যমান বা ভবিষ্যতে দেখা দিতে পারে এমন ত্রুটি-বিচ্যুতি সমাধানে নজর দেয়া।”
তিনি বলেন, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দিকনির্দেশনা সাংগঠনিকভাবে তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হবে। এ কাজে দলের সহকর্মীরা সহযোগিতা করবেন বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর কমিটি প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, “যেসব কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে, সেসব কমিটিতে নতুন নেতৃত্বের ঘোষণা দেওয়া হবে এবং যথাসময়ে কমিটিগুলোর সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।”
কিন্তু, তিনি জানান, কেউ পদ থেকে সরে দাঁড়ালেও তিনি পুরোপুরি সংগঠন থেকে বিচ্ছিন্ন হবেন না। বরং, তার ‘ঊর্ধ্বমুখী অগ্রগতি’ হবে এবং তাকে বিএনপি বা দলের অন্য কোনো সংগঠনে উচ্চতর পদ ও দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নিখোঁজ নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন