বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১১:০২ পি.এম
রাঙামাটির সাজেকের গঙ্গারাম বাজার এলাকায় সড়ক অবরোধ, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় চরম নিরাপত্তা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এতে সাজেকে ভ্রমণে যাওয়া প্রায় তিন হাজার পর্যটক আটকা পড়েন। পরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশের সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় তাঁদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
বৃহস্পতিবার সকালে সাজেক-বাঘাইহাট সড়কে এ ঘটনা ঘটে। ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) সশস্ত্র সদস্যদের বিরুদ্ধে সড়ক অবরোধ এবং পর্যটক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের জোরপূর্বক অবরোধে সম্পৃক্ত করে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগও করা হয়েছে।
ঘটনার পর সাজেক থেকে পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া এবং সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেয় সেনাবাহিনী ও পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে অবরোধকারীদের সঙ্গে আলোচনা শুরু হলেও পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে রাঙামাটির সাজেকের গঙ্গারাম বাজার এলাকায় সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়। এতে সাজেক-বাঘাইহাট সড়কে পর্যটকবাহী যানবাহনের চলাচল ব্যাহত হয়। সড়ক অবরোধের কারণে বিভিন্ন যানবাহনে থাকা পর্যটকেরা আটকা পড়েন। তাঁদের মধ্যে নারী, শিশু ও অন্যান্য বয়সী পর্যটকও ছিলেন কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
পরিস্থিতি বিবেচনায় আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে খাগড়াছড়ির দিকে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এ জন্য সেনাবাহিনী ও পুলিশের সদস্যরা যৌথভাবে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেন। পর্যটকবাহী যানবাহন যাতে নিরাপদে চলাচল করতে পারে, সে লক্ষ্যে অবরোধকারীদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
তবে আলোচনার মধ্যেই পরিস্থিতির অবনতি ঘটে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। দীর্ঘ সময় যান চলাচল বন্ধ থাকলে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ভ্রমণকারীদের যাতায়াত, খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুবিধা নিয়েও ভোগান্তির আশঙ্কা দেখা দেয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, সকাল আনুমানিক ১০টা ৪৫ মিনিটের দিকে অবরোধকারীদের একটি অংশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও পর্যটকদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এ ঘটনায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ লাঠিচার্জ করে অবরোধকারীদের ছত্রভঙ্গ করার উদ্যোগ নেয়। একই সঙ্গে পর্যটকবাহী যানবাহনের চলাচল পুনরায় চালু করার চেষ্টা করা হয়।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সংঘাত ছড়িয়ে পড়া ঠেকানো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। গঙ্গারাম বাজার এলাকায় সড়ক অবরোধের কারণে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়াই তখন প্রধান অগ্রাধিকার ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যে উঠে এসেছে।
প্রাথমিক তথ্যে বলা হয়েছে, সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও পর্যটকদের লক্ষ্য করে আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
সূত্রের দাবি, আত্মরক্ষা এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর টহল দল পাল্টা গুলিবর্ষণ করে। পরে সশস্ত্র ব্যক্তিরা ঘটনাস্থল থেকে সরে যায়। তবে গুলিবর্ষণের ঘটনা, ব্যবহৃত অস্ত্র এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর সেনাবাহিনী ও পুলিশ সমন্বিতভাবে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম চালায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে।
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে অবরোধে অংশ নিতে বাধ্য করা এবং তাঁদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, অবরোধ ও সহিংসতার ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত হতে পারে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে পূর্ণাঙ্গ যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য, প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ এবং অন্যান্য প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ।
পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকায় সাধারণ বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ধরনের সংঘাত বা সশস্ত্র তৎপরতার মধ্যে স্থানীয় জনগণকে জড়িয়ে ফেলা হলে তাঁদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, চলাচল ও জীবিকা ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
সাজেক বাংলাদেশের অন্যতম পরিচিত পর্যটনকেন্দ্র। প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অসংখ্য পর্যটক প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে সেখানে যান। পর্যটনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পরিবহন, আবাসন, খাবারের দোকান, রিসোর্ট এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার সঙ্গে বহু মানুষের জীবিকা জড়িত।
এ অবস্থায় সড়ক অবরোধ, গুলিবর্ষণ কিংবা নিরাপত্তাহীনতার ঘটনা পর্যটকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে ভ্রমণের পথে আটকে পড়া এবং নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা পর্যটন কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
পর্যটনকেন্দ্রের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে শুধু ভ্রমণকারীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হন না, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। তাই পর্যটকদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা সচল রাখাও জরুরি।
পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং স্থানীয় জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে সেনাবাহিনী, পুলিশ, বেসামরিক প্রশাসন ও অন্যান্য দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেসামরিক প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে।
সাজেকের গঙ্গারাম বাজার এলাকায় সংঘটিত এ ঘটনার পর সড়কে স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করা, পর্যটকদের নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং অভিযোগগুলোর যথাযথ তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং প্রমাণের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
পর্যটনকেন্দ্র সাজেকে নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ অব্যাহত থাকা জরুরি। পাহাড়ি এলাকার সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যেকোনো ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে জায়গা দখলকে কেন্দ্র করে
দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় প্রতিপক্ষের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে ভৈরব থানার ওসি মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে।
গত ৩ অক্টোবর, শনিবার বিকেল ৪টা ১২ মিনিটে ওসি মাহবুবুর রহমান তাঁর ব্যক্তিগত বিকাশ নাম্বারে ০১৭১২৬৩৭৪১৮ প্রতিপক্ষ মুর্শেদ মিয়ার নাম্বার থেকে
৩০ হাজার টাকা সেন্ড মানি করা হয়। লেনদেনের ট্রানজেকশন আইডি হিসেবে উল্লেখ রয়েছে DJ32CPB400। ওই লেনদেনের স্কিনসর্ট এই প্রতিনিধির কাছে সংরক্ষিত আছে।
খোঁজ নিয়ে জানাযায়, ৩ অক্টোবর, শনিবার বেলা ১১টার দিকে দুই পক্ষের জায়গা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে প্রতিপক্ষ মুর্শেদ মিয়ার লোকজন পৌর শহরের কমলপুর মনির কন্টাক্টরে বাড়ি ও দোকানের জায়গা দখল নিতে ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। এঘটনায় ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ ও হাবিবুর রহমানের পক্ষ থেকে থানায় ফোন করা করে ভাংচুরের বিষয়ে অবগত করলেও পুলিশ ঘটনাস্থলে আসতে প্রায় একঘন্টা সময়ক্ষেপন করেন। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসলেও রাস্তার পশ্চিমপাশে দাঁড়িয়ে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এই ঘটনায় থানা পুলিশ যেন ঘটনাস্থলে না আসে প্রতিপক্ষ মুর্শেদ মিয়া ও তাঁর লোকজন ওসির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এবং ওইদিন বিকেল ৪টা ১২ মিনিটে মুর্শেদ মিয়ার নাম্বার থেকে ওসি মাহবুবুর রহমানের ব্যক্তিগত নাম্বারে ৩০ হাজার টাকা সেন্ডমানি করা হয়।
এদিকে ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ মিয়া জানান, তাদের দখলীয় বাড়ি ও দোকানপাট ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনায় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে থানা অভিযোগ জমা দিতে গেলে ওসি ওই অভিযোগ গ্রহণ করেনি। প্রায় ১সপ্তাহ ওসির ধারে ধারে ঘুরেও মামলা করতে না পেরে পরবর্তীতে কিশোরগঞ্জ আদালতে মামলা করেন বলে জানান তিনি।
একজন ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধার অভিযোগ আমলে না নেওয়া এবং পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অর্থ গ্রহণের এমন অভিযোগ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে জনমনে। ঘুষ গ্রহণের ঘটনাটি মানুষের মুখে ছড়িয়ে যাওয়ায় ঘটনার সত্যতা যাচাই ও প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের মাধ্যমে ওসির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি করছেন সচেতন মহল।
এবিষয়ে ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমানের মুঠোফোনে কয়েক বার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
এবিষয়ে ভৈরব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আবু মুছা শেখ মুঠোফোনে বলেন, ঘটনাটি শুনেছি বিকাশে টাকা লেনদেন হয়েছে। যদি অভিযোগ আসে, সেটা যে কেউ করতে পারে, আপনিও সাংবাদিক হিসেবে অভিযোগ করতে পারবেন। তখন সেটা বিকাশ কল সেন্টার থেকে স্টেটমেন্ট এনে যাচাই-বাছাই করে যদি ওসির নাম্বার ঘুষ লেনদেন হয়, সেক্ষেত্রে উদ্বর্তন কতৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করবো।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাতক্ষীরা, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ : জেলার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের সোরা গ্রামে চলমান মেগা প্রকল্পের কাজ ও গুণগত মান পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক মিজ কউসার আজিজ। স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময়ও করেন তিনি।
পরিদর্শনের সময় স্থানীয় বাসিন্দারা জেলা প্রশাসকের কাছে সুন্দরবনে জলদস্যুদের তৎপরতা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবা, সুপেয় পানি ও শিক্ষাব্যবস্থাসহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন।
আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় সোরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন শেল্টারে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুজ্জামান কনক, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর শরীফ ফাহাদ, গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাছুদুল আলম এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাছুদুল আলম, মাস্টার আবু তালেব সাগর, আমজিয়াদ হোসেন ও ইকবাল হোসেন মন্টু সভায় সুন্দরবন ও উপকূলীয় জনপদের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।
তারা গাবুরার চলমান মেগা প্রকল্পের রাস্তার সঙ্গে সংযোগ সড়ক নির্মাণ, সড়কের স্থায়িত্ব ও গুণগত মান নিশ্চিতের দাবি করেন। প্রকল্পের কাজ পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়ন, নিয়মিত তদারকি এবং নির্মাণকাজে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় সুপেয় পানি সংরক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, চিকিৎসাসুবিধা বৃদ্ধি, পর্যাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ, খেলার মাঠ সংরক্ষণ, ভূমিহীনদের বসতির ব্যবস্থা এবং দৃষ্টিনন্দন এলাকার উন্নয়ন ও সংরক্ষণের বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি অসমাপ্ত খাল খনন এবং মেগা প্রকল্পের বিভিন্ন কাজের গুণগত মান নিয়েও আলোচনা করা হয়।
জেলা প্রশাসক কউসার আজিজ এসময় সুন্দরবনে জলদস্যু দমনে সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস দেন। তিনি গাবুরার সুপেয় পানির সংকট নিরসন, স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন এবং এলাকায় পর্যাপ্ত স্কুল না থাকায় নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের বিষয়েও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এছাড়া চলমান মেগা প্রকল্পের সড়ক নির্মাণ কাজ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন ও গুণগত মান বজায় রাখার বিষয়েও আশ্বাস প্রদান করেন জেলা প্রশাসক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ নারী হ্যান্ডবল দল চ্যাম্পিয়নশিপে সফলতা অর্জন করতে পারেনি। তারা বেগম খালেদা জিয়া আইএইচএফ নেশন্স ট্রফির ফাইনালে ভারতের কাছে ২৮-১৬ ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার পল্টনের শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত চার জাতির এই টুর্নামেন্টে ভারত অপরাজিত অবস্থায় শিরোপা জিতে নিয়েছে। লিগ পর্বে বাংলাদেশও ভারতের কাছে হেরেছিল। মালদ্বীপকে পরাজিত করে নেপাল ব্রোঞ্জ পদক জিতেছে।
ফাইনালে পরাজয়ের পরও বাংলাদেশ শুরু থেকেই লড়াই করেছে। তবে প্রথমার্ধে ভারত ১৪-৯ গোলে এগিয়ে ছিল। পরবর্তী অর্ধে দৃশ্যপট দ্রুত পরিবর্তিত হতে থাকে। ভারত তাদের ব্যবধান বাড়াতে সক্ষম হয়। শেষ দিকে বাংলাদেশ ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও তা ব্যর্থ হয়।
বাংলাদেশের একের পর এক প্রচেষ্টা রোধ করেন ভারতের গোলকিপার দিকশা কুমারী। তিনি অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সের জন্য ম্যাচ সেরার পুরস্কারও অর্জন করেন। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ভারতের ভাবনা শর্মা।
ফাইনাল শেষে প্রধান অতিথি হিসেবে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন। এ সময় বাংলাদেশ হ্যান্ডবল ফেডারেশনের সভাপতি মেজর জেনারেল আবু মোহাম্মদ সরওয়ার ফরিদ এবং সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: বাসস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ