০৭:৩৮ পি.এম
ওমানের উপকূলীয় জলসীমায় একটি তেলবাহী ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রায় ৩৯০ বর্গকিলোমিটার (১৫০ বর্গমাইল) এলাকায় তেল ছড়িয়ে পড়েছে। বলা হয়েছে যে জাহাজটিতে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল ছিল। উল্লেখযোগ্য যে, জাহাজটি আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত ছিল।
ওমানের সরকারি সংবাদ সংস্থা অনুযায়ী, দেশটির পরিবেশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় ধোফার গভর্নরেটের হালানিয়াত দ্বীপপুঞ্জের কাছে ওমানের জলসীমায় ক্ষতিগ্রস্ত ট্যাংকার ক্যারোলিন বেজেঙ্গি থেকে তেল নিকাশ হয়েছে। পরিস্থিতি নিরসনে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
পরিবেশ কর্তৃপক্ষের একটি বিবৃতি অনুযায়ী, তেলের আস্তরণ বা ‘অয়েল স্লিক’ হালানিয়াত দ্বীপপুঞ্জের উত্তর-পূর্ব দিকে বিস্তৃত হয়ে মূল ভূখণ্ডের দিকে এগোচ্ছে। সবচেয়ে কাছে অংশটি উপকূল থেকে আনুমানিক ৭ কিলোমিটার (৪ দশমিক ৩ মাইল) দূরে অবস্থিত।
আরও পড়ুন: মালদ্বীপের স্পিকারের সঙ্গে বাংলাদেশের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ, আলোচনা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে
এ ঘটনার ফলে ওমানের উপকূলীয় পরিবেশ, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য এবং স্থানীয় মৎস্যসম্পদের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
জাহাজটির ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট কারণ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জানা যায়নি। তবে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে দুটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্র জানাচ্ছে, গত ৮ জুন দক্ষিণ ইয়েমেনের মুকাল্লা বন্দরের কাছে থাকা অবস্থায় জাহাজটির নাবিকেরা প্রথম সমস্যার জন্য অভিযোগ করেছেন।
সূত্র দুটি জানান, প্রাথমিক মূল্যায়নে ধারণা করা হয়েছিল যে জাহাজটির ভেতরে একটি বিস্ফোরণ ঘটেছিল। তবে বিস্ফোরণটি কেন ঘটেছে বা জাহাজটি কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এসব বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হতে পারা যায়নি।
ওমানের কর্তৃপক্ষও জাহাজটির ক্ষয়ক্ষতির কারণ ব্যাখ্যা করতে পারেনি।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের দশম স্থলবাহিনী সংলাপ ঢাকা সেনানিবাসে সফলভাবে সম্পন্ন
জাহাজটির গতিপথ এবং পণ্যবাহী অবস্থার তথ্যের আলোকে জানা যায়, যাত্রা শুরুর আগে ট্যাংকারটি রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল বোঝাই করেছিল।
রয়টার্সের তথ্যানুযায়ী, জাহাজটি সর্বশেষ ১১ জুন ইয়েমেনের উপকূলের কাছে অবস্থানকালে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বা এআইএস-এ সংকেত পাঠিয়েছিল। এরপর থেকে জাহাজটির অবস্থানসংক্রান্ত প্রকাশ্য সংকেত আর মেলেনি।
এতে জাহাজটির পরবর্তী গতিপথ এবং কখন কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে তেল ছড়াতে শুরু করেছে, তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
প্রায় ৩৯০ বর্গকিলোমিটার সমুদ্রজুড়ে তেল ছড়িয়ে পড়ার এই ঘটনায় ওমানের উপকূলীয় পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তেলের আস্তরণ সামুদ্রিক প্রাণী, মাছ, প্রবালপ্রাচীর ও অন্যান্য জলজ বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি করতে পারে।
আরও পড়ুন: গণতন্ত্রের শর্ত ও রাজনৈতিক সংকটের গুরুত্ব: তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে বিতর্ক
বিশেষ করে হালানিয়াত দ্বীপপুঞ্জের আশপাশের সামুদ্রিক অঞ্চলটি তেল দূষণের আরও বিস্তারের ঝুঁকিতে রয়েছে। যদিও বর্তমানে তেলের আস্তরণ উপকূল থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে রয়েছে, তবে বাতাস, ঢেউ ও সাগরের স্রোতের কারণে এটি আরও তীরের দিকে অগ্রসর হতে পারে।
ওমানের পরিবেশ কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, তারা পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে এবং তেল ছড়িয়ে পড়ার বিস্তার পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
‘ক্যারোলিন বেজেঙ্গি’ জাহাজটি নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত হওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। জানা যাচ্ছে, জাহাজটিতে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা হচ্ছিল, এবং এ বিষয়টি এর নিষেধাজ্ঞাভুক্ত অবস্থার সঙ্গে যুক্ত।
তবে জাহাজটি কেন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, বিস্ফোরণের পেছনে কী কারণ ছিল এবং ঠিক কখন ও কোথায় তেল ছড়িয়ে পড়া শুরু হয়েছে, এসব প্রশ্নের উত্তর রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অধরাই রয়েছে।
আরও পড়ুন: ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৪৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল
ঘটনার কারণ নির্ধারণে তদন্ত ও সমুদ্রের তেল দূষণের মাত্রা ও বিস্তার পর্যবেক্ষণ এখন ওমানের জন্য প্রধান সংকট।
এদিকে, তেলের আস্তরণ উপকূলের আরও কাছে পৌঁছালে সামুদ্রিক পরিবেশের পাশাপাশি স্থানীয় মৎস্য আহরণ ও উপকূলীয় অর্থনীতিতেও প্রভাব দুর্ভাগ্যজনকভাবে পরতে পারে। সূত্র: আল-জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন