০৭:৪৩ পি.এম
ঢাকা, ১০ আগস্ট, ২০২৬ : সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের প্রতিবাদে সোমবার ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের বিধানসভার দিকে মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা। এতে বিক্ষোভের মাত্রা আরও জোরালো হয়ে উঠেছে। বর্তমানে কয়েকজন শিক্ষার্থী অনশনেও রয়েছেন।
পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যটির রাজধানী রাঁচিতে গত ২৯ জুলাই থেকে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। রাজ্যটির জনসংখ্যা ৩ কোটি ৩০ লাখেরও বেশি। নয়াদিল্লিতে তরুণদের নেতৃত্বে ‘তেলাপোকা’ আন্দোলনের কয়েক দিন পর এ বিক্ষোভ শুরু হয়। সেই আন্দোলনের ফলে দেশটির শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।
নয়াদিল্লি থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই খবরটি জানিয়েছে।
আরও পড়ুন: ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘটে মরদেহ পরিবহনে বিপাকে স্বজনরা, রোগীরাও ভোগান্তিতে
অন্তত ছয়জন বিক্ষোভকারী বর্তমানে অনশন করছেন। তাদের মধ্যে একজন ৩৩ বছর বয়সী ছাত্রনেতা দেবেন্দ্র নাথ মাহতো, যিনি এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে অনশন রেখেছেন।
ভারতীয় গণমাধ্যমে মাহতো প্রকাশিত বক্তব্যে বলেন, ‘আমরা পুরো ব্যবস্থার পরিবর্তন চাই।’ তিনি রাজ্য সিভিল সার্ভিসের পরীক্ষা পরিচালনাকারী একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবহার বন্ধ করার দাবি জানান।
বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে রাজ্য সরকারের দফায় দফায় আলোচনা হলেও তারা কোনো সমঝোতা আসতে পারেনি। এর পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার কাঁটাতারের ব্যারিকেডের পেছনে বিধানসভা এলাকায় কয়েক শত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
শিক্ষার্থীদের একটি বড় দল স্লোগান দিতে দিতে রাজ্য বিধানসভার দিকে মিছিল করে যায়।
আরও পড়ুন: ইসরাইলের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ৭৭.৭ শতাংশ, ১৯৯৯ সালের পর সর্বোচ্চ
বিক্ষোভকারীরা রাজ্য সরকারের হয়ে পরিচালিত একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পরিচালিত কয়েকটি পরীক্ষার বাতিলের দাবি জানাচ্ছেন। তাদের দাবি, কেন্দ্রীয় পুলিশের মাধ্যমে পরীক্ষাগুলো পরিচালনার বিষয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন।
ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন কিছু দাবি মেনে নিয়ে বিক্ষোভ প্রশমনের চেষ্টা করেছেন। পরীক্ষার তদারকির দায়িত্বে থাকা সিভিল সার্ভিস সংস্থার কয়েকজন সদস্যও পদত্যাগ করেছেন।
রোববার এক ভাষণে সোরেন বলেন, ‘আলোচনার মাধ্যমেই প্রতিটি সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।’
অনলাইনভিত্তিক ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র আয়োজনে নয়াদিল্লির বিক্ষোভকারীরা ভারতের পরীক্ষা ব্যবস্থার কথিত ব্যর্থতার প্রতিবাদে ৩৬ দিন ধরে আন্দোলন করেন। শেষ পর্যন্ত তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। এর ফলে আন্দোলনটি অস্বাভাবিক সাফল্য অর্জন করে এবং পরীক্ষার স্বচ্ছতা বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়।
আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না
ঝাড়খণ্ডের চলমান বিক্ষোভেও এই ধরনের একই দাবি উত্থাপিত হচ্ছে। সরকারি চাকরিকে দেশের কর্মসংস্থানের প্রধান পথ হিসেবে দেখা হয়। ফলে সীমিত সংখ্যক সরকারি চাকরির জন্য লাখ লাখ তরুণ প্রতিযোগিতা করেন এবং তাদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষের প্রতিফলন ঘটছে এ বিক্ষোভে।
নয়াদিল্লির বিক্ষোভ প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ছিল। তবে ঝাড়খণ্ডের ছাত্রদের বিক্ষোভ শুধু বিজেপি বিরোধী রাজ্য সরকারের কাছে পরিবর্তনের দাবি জানাচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন