০২:০৭ পি.এম
বেলজিয়ামে সরকারের বাজেট ও ব্যয় সংকোচন নীতির বিরুদ্ধে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দেশজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পরিচালনা করছে খ্রিষ্টান ও সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ইউনিয়ন। একই সঙ্গে সোমবার (১২ অক্টোবর) সরকারি খাতে ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। এর ফলে শুক্রবার স্থানীয় গণপরিবহন ও ব্রাসেলস বিমানবন্দরে এবং সোমবার রেল পরিষেবা, সরকারি দপ্তর ও কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিঘ্ন ঘটতে পারে।
দেশটির খ্রিষ্টান শ্রমিক ইউনিয়ন এসিভি (ACV) এবং সমাজতান্ত্রিক ইউনিয়ন এবিভিভি (ABVV) সরকারের নীতির বিরুদ্ধে এই কর্মসূচি পালন করছে। ইউনিয়নগুলোর অভিযোগ, বাজেট ঘাটতি মোকাবিলায় ব্যয় কমানোর উদ্যোগের বোঝা সাধারণ মানুষ ও শ্রমজীবীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হতে পারে। তাদের আশঙ্কা, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির উচ্চমূল্য এবং কাজের চাপের মধ্যেও কর্মীদের আরও আর্থিক চাপের মুখে পড়তে হবে।
এবিভিভি ব্রাসেলসের কেন্দ্রীয় রেলস্টেশন থেকে দক্ষিণ স্টেশন পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল করবে। ‘আমাদের পকেটে হাত দেবেন না’ স্লোগানে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে জীবনযাত্রার ব্যয় সমন্বয় সূচক, ক্রয়ক্ষমতা ও মূল্য সংযোজন করের (ভ্যাট) মতো বিষয়গুলোতে সরকারের হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করা হবে। অন্যদিকে, এসিভি সরকারের বিভিন্ন শরিক দলের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভের পরিকল্পনা করেছে। ইউনিয়নটি সংশ্লিষ্ট দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে বৈঠকেরও অনুরোধ জানিয়েছে।
আরও পড়ুন: দাম্মামে বিমানবন্দরে হামলা, আহত দুই বাংলাদেশি প্রবাসী
ইউনিয়ন দুটি বিকল্প বাজেট পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরতে চায়। তাদের দাবি, কঠোর ব্যয় সংকোচন না করেও বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ২১ বিলিয়ন ইউরো পর্যন্ত অর্থ সংগ্রহ করা সম্ভব। তবে স্বতন্ত্র ইউনিয়ন সিনোভা (Synova) অন্য ইউনিয়নগুলোর উদ্বেগের সঙ্গে একমত হলেও শুক্রবারের রাস্তায় নামার কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছে না।
শুক্রবার ব্রাসেলসের গণপরিবহন সংস্থা এমআইভিবি (MIVB) জানিয়েছে, শহর ও আশপাশের এলাকায় বাস, ট্রাম ও মেট্রো চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে। সংস্থাটি ন্যূনতম পরিষেবা চালু রাখার পরিকল্পনা করেনি। ধর্মঘটের প্রভাব কতটা হবে, তা পুরোপুরি জানা যাবে শুক্রবার সকালে।
ফ্ল্যান্ডার্স অঞ্চলের গণপরিবহন সংস্থা দে লাইন (De Lijn) জানিয়েছে, শুক্রবার তাদের প্রায় ৬০ শতাংশ বাস ও ট্রাম চলাচল করতে পারে। অর্থাৎ প্রায় ৪০ শতাংশ যানবাহন পরিষেবার বাইরে থাকতে পারে। প্রদেশভেদে পরিষেবা চালু থাকার সম্ভাব্য হার অ্যান্টওয়ার্পে ৫৮ শতাংশ, লিমবার্গে ৬১ শতাংশ, পূর্ব ফ্ল্যান্ডার্সে ৭১ শতাংশ, ফ্লেমিশ ব্রাবান্টে ৫৪ শতাংশ এবং পশ্চিম ফ্ল্যান্ডার্সে ৬৫ শতাংশ। অ্যান্টওয়ার্প শহরে বাস ও ট্রামের ৪৬ শতাংশ এবং উপকূলীয় ট্রামের ৬২ শতাংশ চলাচল করতে পারে।
ব্রাসেলস বিমানবন্দরে শুক্রবার প্রায় ১৪০টি ফ্লাইট বাতিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সংস্থা আলিজিয়া (Alyzia) ধর্মঘটের কারণে সীমিত কর্মী নিয়ে কাজ করবে বলে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থাগুলো ফ্লাইটের সময়সূচি সমন্বয় করছে এবং যাত্রীদের নিজ নিজ ফ্লাইটের অবস্থা ও বিকল্প ব্যবস্থা সম্পর্কে জানানো হবে। তবে অ্যাভিয়াপার্টনার (Aviapartner) পরিচালিত ফ্লাইটে আপাতত বড় ধরনের প্রভাবের আশঙ্কা নেই। চারলেরোয়া ব্রাসেলস সাউথ বিমানবন্দরে স্বাভাবিকভাবে ফ্লাইট চলার কথা রয়েছে।
আরও পড়ুন: সৌদীর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে হামলা হুথিদের
রেল পরিষেবায় শুক্রবার কোনো বিঘ্নের আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় রেল সংস্থা এনএমবিএস (NMBS)। তবে সোমবার সরকারি খাতের ধর্মঘটে রেলকর্মীরা অংশ নেবেন। এতে ট্রেন চলাচলে কী পরিমাণ প্রভাব পড়বে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও দুই দিন বিঘ্ন ঘটতে পারে। সমাজতান্ত্রিক শিক্ষা ইউনিয়ন এসিওডি ওন্ডারভেইস (ACOD Onderwijs) শুক্রবারের জাতীয় কর্মসূচি এবং সোমবারের সরকারি পরিষেবা ধর্মঘটে অংশ নেবে। ফলে কিছু স্কুলে পাঠদান ব্যাহত হতে পারে। সরকারি পরিচালিত জিও! (GO!) শিক্ষা নেটওয়ার্কে এই ইউনিয়নের উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি হওয়ায় সেখানে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন