মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:৩০ পি.এম
ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : জেলায় বিভিন্ন সময়ের সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৭টি পরিবারের জন্য মোট ৭৭ লাখ টাকার অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ট্রাস্টি বোর্ডের অনুমোদিত এই ক্ষতিপূরণের চেক হস্তান্তর করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে চেক তুলে দেন।
জেলা বিআরটিএ অফিসের সহকারী পরিচালক মো. ফারুক আলমের পরিচালনায় চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এহসান মুরাদসহ প্রশাসনের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৪টি পরিবারের প্রত্যেককে ৫ লাখ টাকা করে, ২ জন গুরুতর আহত ব্যক্তিকে ৩ লাখ টাকা এবং অপর ১ জনকে ১ লাখ টাকার চেক প্রদান করা হয়।
এ সময় প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদ বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবার নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করতে পারেন। আবেদন যাচাই-বাছাই ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিআরটিএ ট্রাস্টি বোর্ডের অনুমোদনের ভিত্তিতে এ ক্ষতিপূরণের অর্থ প্রদান করা হয়ে থাকে।
এ সময় দুর্ঘটনায় স্বজন হারানো পরিবারের সদস্যরা আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, "প্রিয়জন হারানোর বেদনা কোনো অর্থ দিয়ে পূরণ হওয়ার নয়। তবে এ আর্থিক সহায়তা তাদের দৈনন্দিন জীবনযাপন ও চিকিৎসাসহ বিভিন্ন সংকটময় মুহূর্তে বড় ধরনের উপকারে আসবে।"
বিআরটিএ ব্রাহ্মণবাড়িয়া কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মো. ফারুক আলম বাসসকে জানান, সড়ক দুর্ঘটনার শিকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে বিআরটিএ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে এ ধরনের ক্ষতিপূরণ কার্যক্রম নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে, যা ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে কিছুটা হলেও স্বস্তি দেবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়াম বহনকারী একটি বিমান পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি পায়নি। ইসলামাবাদ এ বিষয়ে কেন বাংলাদেশের ওই বিমানটিকে উড়তে দেওয়া হয়নি, তার ব্যাখ্যা প্রদান করেছে।
পাকিস্তান দাবি করেছে, আকাশসীমা বন্ধের বিষয়টি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ফল নয়। বরং এটি ফ্লাইটের রুট এবং আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি সংক্রান্ত কারিগরি এবং প্রক্রিয়াগত বিষয়।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় পাকিস্তান হাইকমিশনের প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কূটনৈতিক ফ্লাইট এবং আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতির সব আবেদন দেশটির প্রচলিত নিয়ম, বেসামরিক বিমান চলাচলবিষয়ক প্রটোকল এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হয়।
হাইকমিশন জানায়, রূপপুরের জ্বালানি পরিবহন নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো যে বিষয়টির কথা বলছে, সেটি মূলত ফ্লাইটের রুট নির্ধারণ ও আকাশসীমার অনুমতি সংক্রান্ত কারিগরি এবং প্রক্রিয়াগত ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সম্পর্কিত। এ ধরনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিমান চলাচল এবং অন্যান্য কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজন হতে পারে। এর ফলস্বরূপ কখনো কখনো ফ্লাইটের সময়সূচিতে পরিবর্তনও আসতে পারে।
পাকিস্তান উল্লেখ করেছে, বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই বিষয়টিকে যথাযথ কারিগরি প্রেক্ষাপটে দেখা উচিত এবং এমন কোনো প্রতিবেদন বা বয়ানকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া উচিত নয়, যা দুই দেশের সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
এর আগে বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছিলেন, রূপপুরের জ্বালানি বহনকারী বিমানটি ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা ছিল। কিন্তু পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় সেটি নির্ধারিত সময়ে আসতে পারেনি। তখন পাকিস্তান কেন অনুমতি দেয়নি, তার সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি।
রূপপুর প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট রুটে সাধারণত একাধিক দেশের আকাশসীমা ব্যবহার করতে হয়। পাকিস্তানের অনুমতি না পাওয়ায় ফ্লাইটটি স্থগিত করা হয়। পরে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রোসাটম জানায়, অক্টোবর থেকে আবার ইউরেনিয়াম সরবরাহ শুরু হবে এবং বছরের শেষ নাগাদ চালানগুলো সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী এবং জাতিসংঘ কমান্ড মঙ্গলবার একটি যৌথ পরিদর্শনের সময় অসামরিকীকৃত অঞ্চল (ডিএমজেডে)-এর সাম্প্রতিক বিস্ফোরণের ঘটনার নিকটবর্তী স্থানে উত্তর কোরিয়ার একটি মাইন উদ্ধার করেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ (জেসিএস) এই তথ্য প্রকাশ করেছে। বার্তা সংস্থা এএফপি’র মাধ্যমে খবরটি জানা যায়।
জেসিএস এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, তদন্তকারী দল মঙ্গলবার বিস্ফোরণের স্থানের কাছে উত্তর কোরিয়ার তৈরি একটি প্লাস্টিকের অ্যান্টি-পার্সনেল মাইন খুঁজে পায়।
যাইহোক, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ (জেসিএস) তাদের এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, তাদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া মাইনটি বিস্ফোরণের সময় দায়িত্ব পালনকারী সেনাদের দ্বারা উল্লেখিত মাইনটির সঙ্গে ভিন্ন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রংপুর ব্যাটালিয়ন (৫১ বিজিবি)-এর ধারাবাহিক অভিযানে সীমান্তে চোরাচালান প্রতিরোধে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে। লালমনিরহাটের পাটগ্রাম এবং নীলফামারীর ডিমলা সীমান্তে পৃথক অভিযানে ভারতীয় গোল কাঠ এবং ২ হাজার ৩৯০ কেজি চুইঝালসহ মোট ২০ লাখ ৮৩ হাজার টাকা মূল্যের পণ্য জব্দ করেছে বিজিবি। তবে টহল দলের উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা পণ্য ফেলে পালিয়ে যায়।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে কালিগঞ্জ বিওপির একটি টহল দল নায়েব সুবেদার মো. রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে সীমান্ত পিলার ৭৯৪/৬-এস থেকে প্রায় এক হাজার গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঝাড়সিংহেশ্বর কাঁচা রাস্তা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।
টহল দলের গতিবিধি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা ভারতীয় গোল কাঠ ফেলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে বিজিবি সদস্যরা অভিযান চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় কাঠগুলো উদ্ধার করে।
এরপর মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ২টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত কুচলিবাড়ী বিওপির টহল দল সুবেদার মো. সলেমান আলীর নেতৃত্বে সীমান্ত পিলার ৮০২/১৭-আর থেকে প্রায় ১০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে জুম্মারপাড় এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।
এ সময়ও বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা বিপুল পরিমাণ পণ্য ফেলে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে ২ হাজার ৩৯০ কেজি ভারতীয় চুইঝাল উদ্ধার করা হয়। বিজিবির হিসাব অনুযায়ী, এসব চুইঝালের আনুমানিক সিজার মূল্য ১৬ লাখ ৭৩ হাজার টাকা।
দুই অভিযানে উদ্ধার হওয়া ভারতীয় গোল কাঠ এবং চুইঝালের মোট সিজার মূল্য ২০ লাখ ৮৩ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।
রংপুর ব্যাটালিয়ন (৫১ বিজিবি)-এর ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর এ এফ এম জুলকার নাঈন পৃথক অভিযানে এসব ভারতীয় পণ্য উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্তে চোরাচালান এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে গোয়েন্দা নজরদারি এবং টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। উদ্ধার করা পণ্যের বিষয়ে আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।
সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে পণ্য প্রবেশ ঠেকাতে এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রংপুর ব্যাটালিয়ন (৫১ বিজিবি)-এর অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলা পরিসংখ্যান অফিসের পাঁচটি পদের মধ্যে চারটিই দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। ফলে ব্যাহত হচ্ছে অফিসের স্বাভাবিক কাজকর্ম এবং সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ জনগণ। জরিপের কাজে একমাত্র কর্মকর্তা বাইরে গেলে প্রায় সময়ই অফিস তালাবদ্ধ রাখতে হয়।
উপজেলা পরিসংখ্যান অফিস সূত্রে জানা গেছে, অফিসে উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা, জুনিয়র পরিসংখ্যান অফিসার ও চেইনম্যানসহ মোট চারটি পদ শূন্য রয়েছে। বর্তমানে মাত্র একজন ‘পরিসংখ্যান তদন্তকারী’ হিসেবে কর্মরত মোঃ আসাদুজ্জামানই পুরো অফিসের যাবতীয় দায়িত্ব পালন করছেন। কর্মকর্তা থেকে শুরু করে দাপ্তরিক কাজ এবং পরিচ্ছন্নতা সব দায়িত্বই একা সামলাতে হচ্ছে তাঁকে।
মাঠপর্যায়ের জরিপ ও দাপ্তরিক কাজের জন্য কর্মকর্তা বাইরে গেলে অফিস বন্ধ রাখা ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। ফলে সেবা নিতে এসে বারবার ঘুরে যেতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
উপজেলার গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা ভুক্তভোগী ফিরোজ হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জরুরি কাজে উপজেলা পরিসংখ্যান অফিসে গিয়ে দেখি তালা ঝুলছে। বাধ্য হয়ে সেবা না নিয়েই বাড়িতে ফিরে আসতে হয়েছে। প্রায় সময়ই এই অফিসটি তালাবদ্ধ থাকে বলে শুনছি।
এ বিষয়ে বর্তমানে একমাত্র দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (পরিসংখ্যান তদন্তকারী) মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, চরম জনবল সংকট রয়েছে। পুরো অফিসের সব দায়িত্ব একাই পালন করতে হচ্ছে। দাপ্তরিক কাজ ছাড়াও জরিপের কাজে আমাকে প্রায়ই উপজেলার বিভিন্ন স্থান ও জেলায় যেতে হয়। অফিসে কোনো অফিস সহকারী বা এমএলএসএস না থাকায় আমি বাইরে গেলে বাধ্য হয়ে অফিসে তালা ঝুলিয়ে যেতে হয়। অন্তত একজন পিয়ন বা এমএলএস থাকলেও অফিসটা খোলা রাখা যেত।
জনবল সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে জেলা পরিসংখ্যান অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ জানান, কাউখালী উপজেলা অফিসের জনবল সংকটের কথা আমরা অবগত আছি। বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। আশা করছি খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে জনবল নিয়োগের মাধ্যমে এই সংকটের সমাধান হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ