ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা হলে ৩০ হাজার কোটি ডলার পেতে পারে ইরান


যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা হলে ৩০ হাজার কোটি ডলার পেতে পারে ইরান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে নতুন আলোচনার মূলে রয়েছে একটি বৃহৎ অর্থনৈতিক প্রস্তাব। প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, দুই দেশের মধ্যে চূড়ান্ত সমঝোতা হলে ইরানের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পুনর্গঠন তহবিল গঠনের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধ ও সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের অর্থনীতি ও অবকাঠামোর পুনর্গঠনের জন্য এই তহবিল ব্যবহার হতে পারে। সড়ক, বিদ্যুৎব্যবস্থা, শিল্পকারখানা এবং বিভিন্ন শহরের উন্নয়নকাজ এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, এটি একটি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ তহবিল হবে। বিভিন্ন দেশ এতে অর্থায়ন করতে পারবে এবং যুক্তরাষ্ট্র এ প্রক্রিয়া সহজ করতে ভূমিকা রাখবে। টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, সমঝোতা স্মারক অনুমোদিত হলে পরবর্তী ৬০ দিনের প্রাথমিক আলোচনা পর্বে তহবিলের বিস্তারিত বিষয় নিয়ে কথা হবে।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে

আলোচনায় থাকা খসড়া চুক্তিতে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়টি অন্যতম প্রধান প্রস্তাব হিসেবে রয়েছে। একইসঙ্গে একটি 'অনাক্রমণ চুক্তি'-ও থাকতে পারে, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা না করার প্রতিশ্রুতি দিতে পারে।

মধ্যস্থতাকারীদের মতে, এই উদ্যোগ বৃহত্তর আঞ্চলিক শান্তি পরিকল্পনার অংশ হতে পারে এবং এতে লেবাননের সংঘাতের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

সম্ভাব্য চুক্তিতে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে সম্মত হতে পারে। একই সঙ্গে ইউরেনিয়াম মজুত ও সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রমের ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা চলছে। আলোচনার সময় ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচির কিছু অংশ সীমিত বা স্থগিত করতে পারে। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করার বিষয়টি বিবেচনা করছে।

খসড়া প্রস্তাবে ইরানকে সীমিত পরিসরে তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য রপ্তানির অনুমতি দেওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগ, বিশেষ করে মার্কিন জ্বালানি কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। বিদেশি ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের প্রায় ২৪ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ছাড়ের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।

আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

এদিকে আলোচনা পরিচালনার দ্বিতীয় ধাপে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত। বর্তমানে দেশটির কাছে প্রায় ৯৭০ পাউন্ড উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম এবং প্রায় ১০ টন অপেক্ষাকৃত কম সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। এই বিষয়ে আন্তর্জাতিক তদারকির আওতায় সংরক্ষণ, ঘনত্ব কমানো বা আংশিক বিদেশে পাঠানোর বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কোটালীপাড়ায় চোর আটককে ঘিরে সংঘর্ষ, আহত অন্তত ২০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০২:১৭ এম


কোটালীপাড়ায় চোর আটককে ঘিরে সংঘর্ষ, আহত অন্তত ২০

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় চোর আটক হয়ে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ভয়াবহ এই সংঘর্ষের ফলে এলাকার বাড়িঘর ভাঙচুরেরও ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী-পুরুষসহ মোট ২০ জন আহত হয়েছেন। সোমবার (১ জুন) সন্ধ্যাবেলায় উপজেলার ঘাঘরকান্দা-বেপারীপাড়া গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনা প্রসঙ্গে জানানো হয়।

এই ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় মোট ১৩ জনকে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন: ওহাব গাজী (৬০), জালাল গাজী (৪৫), খলিল গাজী (৪৮), আরিফুল গাজী (৩০), জলিল গাজী (৪৬), ছনিয়া খানম (১৯), মাজেদা বেগম (৪৫), হান্নান বরকতউল্লাহ (৫৫), মুকুল মুন্সী (৪৮), অলি বরকতউল্লাহ (৩৫), তাওসীন বরকতউল্লাহ, হানিফ শেখ (৪৫), হাবিব মুন্সী (৪২), এবং জাহিদুল বরকতউল্লাহ (৩৮)।

জানা গেছে, ঘাঘরকান্দা-বেপারীপাড়া গ্রামের মাদকবিরোধী কমিটির সদস্যরা ব্যাটারি চুরির অভিযোগে আটক করেন উপজেলার কাঠিগা গ্রামের মোরসালিন মিয়া, চিতশী গ্রামের রাসেল দাড়িয়া ও ঘাঘরকান্দা গ্রামের আব্দুল্লাহ দাড়িয়াকে। এ অবস্থায়, ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে কাঠিগা ও চিতশী গ্রামের লোকজন এসে মাদকবিরোধী কমিটির কার্যালয় ভাঙচুর করে এবং ওই ৩ চোরকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

মাদকবিরোধী কমিটির সাধারণ সম্পাদক জসিম মোল্লা বলেন, “আমাদের বেপারীপাড়া গ্রামের এক ব্যক্তির গাড়ি থেকে মোরসালিন, রাসেল ও আব্দুল্লাহ এই ৩ জন মিলে ব্যাটারি চুরি করে বিক্রি করে দেয়। এ খবর জানার পরে আমরা এই ৩ চোরকে আটক করে আমাদের কার্যালয়ে রেখে পুলিশকে খবর দেই।”

তিনি আরও জানান, “পরবর্তীতে কাঠিগা-চিতশীর লোকজন এসে আমাদের ওপর হামলা ও মারধর করে এবং আমাদের কার্যালয় ও ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে ওই ৩ জনকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।” কোটালীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. রিয়াদ মাহমুদ বলেন, এ ঘটনা সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ অভিযোগ দায়ের করেনি। তিনি জানান, এলাকার পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাসায় ঢুকে গৃহবধূকে হত্যা, হামলায় আহত স্বামী ও ছেলে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০২:১৯ এম


বাসায় ঢুকে গৃহবধূকে হত্যা, হামলায় আহত স্বামী ও ছেলে

নেত্রকোনা পৌর শহরের নিজ বাসার ভেতরে মনোয়ারা বেগম (৫৫) নামের একজন গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে এক রিকশাচালকের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার সময় তাকে বাঁচাতে গিয়ে তার ছেলে এবং স্বামী গুরুতর আহত হয়ে পড়েছেন।

সোমবার (১ জুন) রাত ৮টা থেকে ৯টার মধ্যবর্তী সময়ে পৌর শহরের কাটলী এলাকার একটি বাসার দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটে এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটে।

এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকে ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্ত রিকশাচালক আব্দুর রশিদকে আটক করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় জেলা শহরে ব্যাপক আলোড়ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

মনোয়ারা বেগম কাটলী এলাকার আবু চান মিয়ার স্ত্রী। আটক করা আব্দুর রশিদও একই এলাকার বাসিন্দা।

হামলায় গুরুতর আহত আবু চান (৬০) এবং তার ছেলে মুন্না মিয়াকে (২৫) আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে এবং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে。

নিহতের মেয়ে লিজা মণি ঘটনার বর্ণনা দিয়ে কালের কণ্ঠকে জানান, রাত ৯টার দিকে তিনি যখন বাসায় ফিরে আসেন, তখন প্রধান দরজা খোলা পান। ভেতরে প্রবেশ করতেই তিনি দেখতে পান যে তার বাবা এবং ভাই রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে ছটফট করছেন।

এসময় ঘরের মধ্যে অভিযুক্ত রশিদ মিয়া অবস্থান করছিলেন। লিজা মণির চিত্কার শুনে আশপাশের প্রতিবেশীরা দ্রুত এসে রশিদকে ঘরের মধ্যে আটকে ফেলেন। পরে ঘরের ভেতরের খাটের নিচ থেকে মনোয়ারা বেগমের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

লিজা আরো জানায়, আব্দুর রশিদ তাদের পূর্বপরিচিত। তিনি প্রায়ই বিভিন্ন অজুহাতে পরিবারের কাছ থেকে টাকা ধার নিতেন। তবে তার আচরণ নিয়ে পরিবার সদস্যদের আপত্তি ছিল।

স্থানীয়দের বরাতে নেত্রকোণা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সজল কুমার সরকার জানান, ঘটনার সময়ে ওই এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে হামলাকারী ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারী প্রথমে মনোয়ারা বেগমকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে এবং পরে লাশ খাটের নিচে লুকিয়ে রাখে। এসময় ছেলে মুন্না মিয়া ঘরে ঢুকে বাধা দিতে গেলে তাকেও কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। একপর্যায়ে স্ত্রী ও সন্তানকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে বৃদ্ধ আবু চানও ধারালো অস্ত্রের আঘাতের শিকার হন।

ঘটনার পর স্থানীয় জনতা অভিযুক্তকে বাসার ভেতরেই আটক করে রাখেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং অভিযুক্তকে হেফাজতে নেয়। আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে মুন্না মিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

পুলিশ জানায়, ঘটনার পরপরই থানা পুলিশ, জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং পিবিআই সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইতালিতে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহীদের জন্য নতুন নির্দেশনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০২:২২ এম


ইতালিতে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহীদের জন্য নতুন নির্দেশনা

ইতালিতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ঢাকার ইতালি দূতাবাস নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। এই তথ্য সোমবার (১ জুন) ভিসা প্রক্রিয়াকরণ প্রতিষ্ঠান ভিএফএস গ্লোবাল জানিয়েছে।

নতুন নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, যেসব শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের পোর্টালে নিয়মিত নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন, তাদের সঙ্গে ভিএফএস গ্লোবাল ই-মেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করবে। এর মাধ্যমে সাক্ষাতের নির্ধারিত তারিখ জানানোর ব্যবস্থা হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা ভিসার আবেদন জমা দিতে পারেন। এ জন্য শিক্ষার্থীদের আলাদাভাবে সাক্ষাতের সময় চাওয়ার প্রয়োজন হবে না।

বিশ্ববিদ্যালয়ে নিবন্ধনের সময় যে ই-মেইল ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে, সেই ঠিকানায় ভিএফএস গ্লোবাল যোগাযোগ করবে বলে জানানো হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের আর্থিক পৃষ্ঠপোষক বা স্পন্সর কারা হতে পারবেন, সেটি নিয়েও স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়, বাবা-মায়ের পাশাপাশি দাদা-দাদি, নানা-নানি, চাচা, ফুপু, মামা, খালা এবং চাচাতো, ফুফাতো, মামাতো বা খালাতো ভাইবোনও আর্থিক গ্যারান্টর হিসেবে গ্রহণযোগ্য। ইতালিতে বসবাসরত আত্মীয়দেরও স্পন্সর হতে পারবে।

ভাষাগত যোগ্যতার বিষয়ে নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দূতাবাস জানিয়েছে, ভাষা দক্ষতার সনদ আবশ্যক। কেবল আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দেওয়া সনদ গ্রহণ করা হবে। সনদে আবেদনকারীর মৌখিক অনুধাবন, লিখিত অনুধাবন, কথোপকথন এবং লেখার দক্ষতা স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে।

এছাড়া, আবেদনের সাথে শিক্ষার্থীর একাডেমিক যোগ্যতার সত্যতা প্রমাণে সিআইএমইএ সনদ বা ‘ডিক্লেয়ারেশন অব ভ্যালু’ জমা দেওয়ারও অনুরোধ জানানো হয়েছে।

দূতাবাস আরও জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক-তালিকাভুক্তির ভিত্তিতে শিক্ষার্থী ভিসার আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় আগামী ২৯ অক্টোবর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উনসত্তরের মহানায়ক তোফায়েল আহমেদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০২:৩২ এম


উনসত্তরের মহানায়ক তোফায়েল আহমেদ

১৯৬৯-এর গণ-আন্দোলনের মহানায়ক তোফায়েল আহমেদ এখন পরপারে চলে গেছেন। মহানায়করা অনেকেই হবেন, কিন্তু মহানায়ক খুব বেশি নয়।

সারা দেশের মানুষ তোফায়েল আহমেদকে ’৬৯-এর মহানায়ক হিসেবে চেনে। তবে আমি তাঁকে সেভাবে চিনি না। বরিশাল থেকে তিনি চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন ’৬২ সালে স্কাউট জাম্বুরির জন্য। লতিফ ভাই (লতিফ সিদ্দিকী) টাঙ্গাইল থেকে এসেছিলেন। সেই সময় তাঁদের মধ্যে পরিচয় হয়েছিল। এরপর তাঁদের মধ্যে শত শত চিঠি বিনিময় হয়েছিল।

অকস্মাৎ একদিন জানতে পারলো যে ’৬৯-এর গণ-আন্দোলনে তিনিই নেতা, তখন আনন্দে বুক মন ভরে যায়। বাঙালির মধ্যে কিছু গুণ এবং কিছু ছোটখাটো দোষও আছে। অতীতের অনেক কিছু আমরা ভুলে যেতে চাই, অস্বীকার করতেও চাই।

যদি তোফায়েল আহমেদ না থাকতেন ’৬৯-এর গণ-আন্দোলনে, বঙ্গবন্ধুকে যদি পাকিস্তানের কারাগার থেকে বের করে আনতে না পারতেন, বঙ্গবন্ধু যদি ’৬৯-এ মুক্তি না পেতেন এবং আইয়ুব খানের বিদায় না ঘটত, তাহলে আজ বাংলাদেশ হতো না। পাকিস্তানের পর ’৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ’৫৪ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচন, ’৬২ সালের শিক্ষা কমিশন—এসব আন্দোলনই মুক্তিযুদ্ধের ভিত্তি তৈরী করেছে। বিশেষ করে ’৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানের কারাগার থেকে বের করে আনতে পেরে, সেই আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন মহানায়ক তোফায়েল আহমেদ।

আজ আমি কোনো বিতর্কিত কথায় যেতে চাই না। তোফায়েল আহমেদের জানাজায় উপস্থিত হতে চেয়েছিলাম, শুনেছি আজ সন্ধ্যায় জানাজার আয়োজন হবে। এটি নিঃসন্দেহে একটি ব্যর্থতা, বেদনার বিষয়। রক্ষীবাহিনী তোফায়েল আহমেদ দেখাশোনা করতেন, পরে এ বিষয়ে জানলাম। বঙ্গবন্ধু মারা যাওয়ার আগে কখনো শুনিনি যে মহানায়ক তোফায়েল আহমেদ রক্ষীবাহিনীর নেতৃত্ব দিয়েছেন। পরে অনেকেই বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন কথা বলেছেন।

আমাদের মধ্যে যাঁরা সফল হন এবং বড় ভূমিকা নেন, তাঁদের অনেক মানুষ উপলব্ধি করে, তবে বিপক্ষে অনেক শক্তিও থাকে। তোফায়েল আহমেদও তেমনই একজন ছিলেন। অনেকেই তাঁকে নাজেহাল করার চেষ্টা করেছিলেন। আমি একটা কথা শুনেছি—রক্ষীবাহিনী তাঁর নির্দেশ চাইতে গিয়েছিল। যুদ্ধে সবসময় নির্দেশের প্রয়োজন হয়না। তোফায়েল আহমেদ যদি নির্দেশ দেন, তাহলে কি রক্ষীবাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়বে? তবে তারা ঝাঁপিয়ে পড়েনি। আর রক্ষীবাহিনীর অস্ত্র নিজেদের কাছে রাখাও হয়নি। পিলখানায় তা রাখা হয়েছিল। অন্যের অস্ত্রাগারে অস্ত্র রেখে কোনো যোদ্ধা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারেন না।

আমার মতে, বঙ্গবন্ধু শারীরিকভাবে নিহত হয়েছেন, অথচ তাঁর সহকর্মীদের রাজনৈতিকভাবে হত্যার জন্য শত্রুপক্ষ তোফায়েল আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছিল। ’৭৫-এর ঘটনার প্রতিবাদ করতে অনুমতির প্রয়োজন হয়, এটি একটি বানানো কথা।

সারা বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানে আলোড়ন সৃষ্টিকারী তোফায়েল আহমেদ ’৬৯ সালের তোফায়েল আহমেদ, এবং আমাদের কাছে ’৬২ সালের তোফায়েল আহমেদ। বর্তমান সময়ের কথা বললে আমরা দেখতে পাই, এখন মার্সিডিজে বা পাজেরোতে চড়েন কিন্তু সেদিন পূর্ব পাকিস্তান তোফায়েল আহমেদের হাতে ছিল, তখন আসন্ন রাজনৈতিক প্রোগ্রামেও তাঁরা বাসে করেই টাঙ্গাইলে এসে অংশগ্রহণ করেছিলেন। আজ যা-ই হোক, বঙ্গবন্ধু তোফায়েলের মতো একজন বড় নেতাকে পেয়েছিলেন, একজন বড় সংগঠককে পেয়েছিলেন। তিনি স্বাধীনতা অর্জন করতে পেরেছিলেন।

তোফায়েল আহমেদ আমার বড় ভাই লতিফ সিদ্দিকীর বন্ধু, কিন্তু আমার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল ঘনিষ্ঠ। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ আমাকে অনেকদূর নিয়ে গিয়েছিল। আমি অনেক কিছুর সাক্ষী।

একটি ঘটনা জানাই—ভোলার উপনির্বাচনে গিয়েছিলাম। সেখানে আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা সাতদিন মতো ছিলেন, আমি প্রায় ১৬ দিন সেখানে ছিলাম। ইসহাক আলি পান্না নামে একজন অসাধারণ ছেলেকে পেয়েছিলাম, যিনি পরে ছাত্রলীগের সভাপতি হয়েছিলেন। এই ১৫-১৬ দিনে তোফায়েল আহমেদকে অন্যরকম মানুষ হিসেবে দেখেছি, কর্মীদের থাকা-খাওয়া এবং আমাদের খোঁজখবর নেওয়ার বিষয়ে কোনো ক্লান্তি ছিল না। তাঁর স্ত্রীও মায়ের মতো ছিলেন। অথচ কিছু না হলেও, খাওয়া-দাওয়ার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অসাধারণ একজন মানুষ।

আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি তোফায়েল আহমেদকে মাফ করে দিয়ে বেহেশত নসিব করুন। সত্যি কথা বলতে, কষ্ট লাগে, যাঁদের জাতীয় সম্মান পাওয়ার কথা ছিল, তাঁদের অনেকেই তা পাননি। তোফায়েল আহমেদও পাননি। সরকারিভাবে তাঁকে সম্মান দেওয়া হয়নি, দলীয়ভাবেও অগ্রাহ্য করা হয়েছে। আমির হোসেন আমু, যিনি আজ ৯০ বছরের কাছাকাছি বয়সে, তিনি এখন জেলের মধ্যে আছেন। এমএ জলিল, যিনি একজন অসাধারণ মানুষ, তিনিও কোনো সম্মান পাননি। আজ যাঁরা আছেন, এ জাতির তাঁদের প্রতি আরও সম্মান দেখানো উচিত ছিল।

বীর মহাবীর হওয়ার মৃত্যু অনেকের জীবনে আসে। তবে তোফায়েল আহমেদ ’৬৯-এর মতো মহানায়ক, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধেও একই শ্রেণীর মহানায়ক। মানুষের মধ্যে অনেক ব্যর্থতা, ভুল এবং ভ্রান্তি থাকে। তবুও আমি মনে করি, তোফায়েল আহমেদ ছিলেন সকল ভুলভ্রান্তির ঊর্ধ্বে একজন সফল রাজনীতিবিদ।

অনুলিখন : কাজল আর্য, টাঙ্গাইল

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%