ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বাসায় ঢুকে গৃহবধূকে হত্যা, হামলায় আহত স্বামী ও ছেলে


বাসায় ঢুকে গৃহবধূকে হত্যা, হামলায় আহত স্বামী ও ছেলে

নেত্রকোনা পৌর শহরের নিজ বাসার ভেতরে মনোয়ারা বেগম (৫৫) নামের একজন গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে এক রিকশাচালকের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার সময় তাকে বাঁচাতে গিয়ে তার ছেলে এবং স্বামী গুরুতর আহত হয়ে পড়েছেন।

সোমবার (১ জুন) রাত ৮টা থেকে ৯টার মধ্যবর্তী সময়ে পৌর শহরের কাটলী এলাকার একটি বাসার দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটে এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটে।

এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকে ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্ত রিকশাচালক আব্দুর রশিদকে আটক করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় জেলা শহরে ব্যাপক আলোড়ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

আরও পড়ুন: শিবচরের নদ-নদীতে নাব্য সংকট, ‘মরা আড়িয়াল খাঁ’ অস্তিত্ব হারানোর পথে

মনোয়ারা বেগম কাটলী এলাকার আবু চান মিয়ার স্ত্রী। আটক করা আব্দুর রশিদও একই এলাকার বাসিন্দা।

হামলায় গুরুতর আহত আবু চান (৬০) এবং তার ছেলে মুন্না মিয়াকে (২৫) আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে এবং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে。

নিহতের মেয়ে লিজা মণি ঘটনার বর্ণনা দিয়ে কালের কণ্ঠকে জানান, রাত ৯টার দিকে তিনি যখন বাসায় ফিরে আসেন, তখন প্রধান দরজা খোলা পান। ভেতরে প্রবেশ করতেই তিনি দেখতে পান যে তার বাবা এবং ভাই রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে ছটফট করছেন।

এসময় ঘরের মধ্যে অভিযুক্ত রশিদ মিয়া অবস্থান করছিলেন। লিজা মণির চিত্কার শুনে আশপাশের প্রতিবেশীরা দ্রুত এসে রশিদকে ঘরের মধ্যে আটকে ফেলেন। পরে ঘরের ভেতরের খাটের নিচ থেকে মনোয়ারা বেগমের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

আরও পড়ুন: গাজীপুর মিডিয়া ক্লাবের নবনির্বাচিত কমিটির শপথ ও পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত

লিজা আরো জানায়, আব্দুর রশিদ তাদের পূর্বপরিচিত। তিনি প্রায়ই বিভিন্ন অজুহাতে পরিবারের কাছ থেকে টাকা ধার নিতেন। তবে তার আচরণ নিয়ে পরিবার সদস্যদের আপত্তি ছিল।

স্থানীয়দের বরাতে নেত্রকোণা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সজল কুমার সরকার জানান, ঘটনার সময়ে ওই এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে হামলাকারী ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারী প্রথমে মনোয়ারা বেগমকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে এবং পরে লাশ খাটের নিচে লুকিয়ে রাখে। এসময় ছেলে মুন্না মিয়া ঘরে ঢুকে বাধা দিতে গেলে তাকেও কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। একপর্যায়ে স্ত্রী ও সন্তানকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে বৃদ্ধ আবু চানও ধারালো অস্ত্রের আঘাতের শিকার হন।

ঘটনার পর স্থানীয় জনতা অভিযুক্তকে বাসার ভেতরেই আটক করে রাখেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং অভিযুক্তকে হেফাজতে নেয়। আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে মুন্না মিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

পুলিশ জানায়, ঘটনার পরপরই থানা পুলিশ, জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং পিবিআই সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।

আরও পড়ুন: কোটচাঁদপুরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আ. লীগ ও যুবলীগের ২ সদস্য গ্রেপ্তার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইতালিতে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহীদের জন্য নতুন নির্দেশনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০২:২২ এম


ইতালিতে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহীদের জন্য নতুন নির্দেশনা

ইতালিতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ঢাকার ইতালি দূতাবাস নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। এই তথ্য সোমবার (১ জুন) ভিসা প্রক্রিয়াকরণ প্রতিষ্ঠান ভিএফএস গ্লোবাল জানিয়েছে।

নতুন নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, যেসব শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের পোর্টালে নিয়মিত নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন, তাদের সঙ্গে ভিএফএস গ্লোবাল ই-মেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করবে। এর মাধ্যমে সাক্ষাতের নির্ধারিত তারিখ জানানোর ব্যবস্থা হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা ভিসার আবেদন জমা দিতে পারেন। এ জন্য শিক্ষার্থীদের আলাদাভাবে সাক্ষাতের সময় চাওয়ার প্রয়োজন হবে না।

বিশ্ববিদ্যালয়ে নিবন্ধনের সময় যে ই-মেইল ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে, সেই ঠিকানায় ভিএফএস গ্লোবাল যোগাযোগ করবে বলে জানানো হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের আর্থিক পৃষ্ঠপোষক বা স্পন্সর কারা হতে পারবেন, সেটি নিয়েও স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়, বাবা-মায়ের পাশাপাশি দাদা-দাদি, নানা-নানি, চাচা, ফুপু, মামা, খালা এবং চাচাতো, ফুফাতো, মামাতো বা খালাতো ভাইবোনও আর্থিক গ্যারান্টর হিসেবে গ্রহণযোগ্য। ইতালিতে বসবাসরত আত্মীয়দেরও স্পন্সর হতে পারবে।

ভাষাগত যোগ্যতার বিষয়ে নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দূতাবাস জানিয়েছে, ভাষা দক্ষতার সনদ আবশ্যক। কেবল আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দেওয়া সনদ গ্রহণ করা হবে। সনদে আবেদনকারীর মৌখিক অনুধাবন, লিখিত অনুধাবন, কথোপকথন এবং লেখার দক্ষতা স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে।

এছাড়া, আবেদনের সাথে শিক্ষার্থীর একাডেমিক যোগ্যতার সত্যতা প্রমাণে সিআইএমইএ সনদ বা ‘ডিক্লেয়ারেশন অব ভ্যালু’ জমা দেওয়ারও অনুরোধ জানানো হয়েছে।

দূতাবাস আরও জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক-তালিকাভুক্তির ভিত্তিতে শিক্ষার্থী ভিসার আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় আগামী ২৯ অক্টোবর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উনসত্তরের মহানায়ক তোফায়েল আহমেদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০২:৩২ এম


উনসত্তরের মহানায়ক তোফায়েল আহমেদ

১৯৬৯-এর গণ-আন্দোলনের মহানায়ক তোফায়েল আহমেদ এখন পরপারে চলে গেছেন। মহানায়করা অনেকেই হবেন, কিন্তু মহানায়ক খুব বেশি নয়।

সারা দেশের মানুষ তোফায়েল আহমেদকে ’৬৯-এর মহানায়ক হিসেবে চেনে। তবে আমি তাঁকে সেভাবে চিনি না। বরিশাল থেকে তিনি চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন ’৬২ সালে স্কাউট জাম্বুরির জন্য। লতিফ ভাই (লতিফ সিদ্দিকী) টাঙ্গাইল থেকে এসেছিলেন। সেই সময় তাঁদের মধ্যে পরিচয় হয়েছিল। এরপর তাঁদের মধ্যে শত শত চিঠি বিনিময় হয়েছিল।

অকস্মাৎ একদিন জানতে পারলো যে ’৬৯-এর গণ-আন্দোলনে তিনিই নেতা, তখন আনন্দে বুক মন ভরে যায়। বাঙালির মধ্যে কিছু গুণ এবং কিছু ছোটখাটো দোষও আছে। অতীতের অনেক কিছু আমরা ভুলে যেতে চাই, অস্বীকার করতেও চাই।

যদি তোফায়েল আহমেদ না থাকতেন ’৬৯-এর গণ-আন্দোলনে, বঙ্গবন্ধুকে যদি পাকিস্তানের কারাগার থেকে বের করে আনতে না পারতেন, বঙ্গবন্ধু যদি ’৬৯-এ মুক্তি না পেতেন এবং আইয়ুব খানের বিদায় না ঘটত, তাহলে আজ বাংলাদেশ হতো না। পাকিস্তানের পর ’৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ’৫৪ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচন, ’৬২ সালের শিক্ষা কমিশন—এসব আন্দোলনই মুক্তিযুদ্ধের ভিত্তি তৈরী করেছে। বিশেষ করে ’৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানের কারাগার থেকে বের করে আনতে পেরে, সেই আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন মহানায়ক তোফায়েল আহমেদ।

আজ আমি কোনো বিতর্কিত কথায় যেতে চাই না। তোফায়েল আহমেদের জানাজায় উপস্থিত হতে চেয়েছিলাম, শুনেছি আজ সন্ধ্যায় জানাজার আয়োজন হবে। এটি নিঃসন্দেহে একটি ব্যর্থতা, বেদনার বিষয়। রক্ষীবাহিনী তোফায়েল আহমেদ দেখাশোনা করতেন, পরে এ বিষয়ে জানলাম। বঙ্গবন্ধু মারা যাওয়ার আগে কখনো শুনিনি যে মহানায়ক তোফায়েল আহমেদ রক্ষীবাহিনীর নেতৃত্ব দিয়েছেন। পরে অনেকেই বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন কথা বলেছেন।

আমাদের মধ্যে যাঁরা সফল হন এবং বড় ভূমিকা নেন, তাঁদের অনেক মানুষ উপলব্ধি করে, তবে বিপক্ষে অনেক শক্তিও থাকে। তোফায়েল আহমেদও তেমনই একজন ছিলেন। অনেকেই তাঁকে নাজেহাল করার চেষ্টা করেছিলেন। আমি একটা কথা শুনেছি—রক্ষীবাহিনী তাঁর নির্দেশ চাইতে গিয়েছিল। যুদ্ধে সবসময় নির্দেশের প্রয়োজন হয়না। তোফায়েল আহমেদ যদি নির্দেশ দেন, তাহলে কি রক্ষীবাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়বে? তবে তারা ঝাঁপিয়ে পড়েনি। আর রক্ষীবাহিনীর অস্ত্র নিজেদের কাছে রাখাও হয়নি। পিলখানায় তা রাখা হয়েছিল। অন্যের অস্ত্রাগারে অস্ত্র রেখে কোনো যোদ্ধা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারেন না।

আমার মতে, বঙ্গবন্ধু শারীরিকভাবে নিহত হয়েছেন, অথচ তাঁর সহকর্মীদের রাজনৈতিকভাবে হত্যার জন্য শত্রুপক্ষ তোফায়েল আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছিল। ’৭৫-এর ঘটনার প্রতিবাদ করতে অনুমতির প্রয়োজন হয়, এটি একটি বানানো কথা।

সারা বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানে আলোড়ন সৃষ্টিকারী তোফায়েল আহমেদ ’৬৯ সালের তোফায়েল আহমেদ, এবং আমাদের কাছে ’৬২ সালের তোফায়েল আহমেদ। বর্তমান সময়ের কথা বললে আমরা দেখতে পাই, এখন মার্সিডিজে বা পাজেরোতে চড়েন কিন্তু সেদিন পূর্ব পাকিস্তান তোফায়েল আহমেদের হাতে ছিল, তখন আসন্ন রাজনৈতিক প্রোগ্রামেও তাঁরা বাসে করেই টাঙ্গাইলে এসে অংশগ্রহণ করেছিলেন। আজ যা-ই হোক, বঙ্গবন্ধু তোফায়েলের মতো একজন বড় নেতাকে পেয়েছিলেন, একজন বড় সংগঠককে পেয়েছিলেন। তিনি স্বাধীনতা অর্জন করতে পেরেছিলেন।

তোফায়েল আহমেদ আমার বড় ভাই লতিফ সিদ্দিকীর বন্ধু, কিন্তু আমার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল ঘনিষ্ঠ। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ আমাকে অনেকদূর নিয়ে গিয়েছিল। আমি অনেক কিছুর সাক্ষী।

একটি ঘটনা জানাই—ভোলার উপনির্বাচনে গিয়েছিলাম। সেখানে আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা সাতদিন মতো ছিলেন, আমি প্রায় ১৬ দিন সেখানে ছিলাম। ইসহাক আলি পান্না নামে একজন অসাধারণ ছেলেকে পেয়েছিলাম, যিনি পরে ছাত্রলীগের সভাপতি হয়েছিলেন। এই ১৫-১৬ দিনে তোফায়েল আহমেদকে অন্যরকম মানুষ হিসেবে দেখেছি, কর্মীদের থাকা-খাওয়া এবং আমাদের খোঁজখবর নেওয়ার বিষয়ে কোনো ক্লান্তি ছিল না। তাঁর স্ত্রীও মায়ের মতো ছিলেন। অথচ কিছু না হলেও, খাওয়া-দাওয়ার ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন অসাধারণ একজন মানুষ।

আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি তোফায়েল আহমেদকে মাফ করে দিয়ে বেহেশত নসিব করুন। সত্যি কথা বলতে, কষ্ট লাগে, যাঁদের জাতীয় সম্মান পাওয়ার কথা ছিল, তাঁদের অনেকেই তা পাননি। তোফায়েল আহমেদও পাননি। সরকারিভাবে তাঁকে সম্মান দেওয়া হয়নি, দলীয়ভাবেও অগ্রাহ্য করা হয়েছে। আমির হোসেন আমু, যিনি আজ ৯০ বছরের কাছাকাছি বয়সে, তিনি এখন জেলের মধ্যে আছেন। এমএ জলিল, যিনি একজন অসাধারণ মানুষ, তিনিও কোনো সম্মান পাননি। আজ যাঁরা আছেন, এ জাতির তাঁদের প্রতি আরও সম্মান দেখানো উচিত ছিল।

বীর মহাবীর হওয়ার মৃত্যু অনেকের জীবনে আসে। তবে তোফায়েল আহমেদ ’৬৯-এর মতো মহানায়ক, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধেও একই শ্রেণীর মহানায়ক। মানুষের মধ্যে অনেক ব্যর্থতা, ভুল এবং ভ্রান্তি থাকে। তবুও আমি মনে করি, তোফায়েল আহমেদ ছিলেন সকল ভুলভ্রান্তির ঊর্ধ্বে একজন সফল রাজনীতিবিদ।

অনুলিখন : কাজল আর্য, টাঙ্গাইল

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশের ২ অঞ্চলে ১০ দিনের সতর্কবার্তা বিমান বাহিনীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০২:৫৩ এম


দেশের ২ অঞ্চলে ১০ দিনের সতর্কবার্তা বিমান বাহিনীর

মঙ্গলবার (২ জুন) থেকে ১১ জুন (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত ১০ দিনের জন্য কুতুবদিয়া ও কক্সবাজার উপকূলবর্তী আকাশসীমায় তাজা গোলাবর্ষণ প্রশিক্ষণ মহড়া পরিচালনা করবে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান। এই সময়ে চলাচলের জন্য বিমান, জাহাজ, ছোট নৌযান ও স্থানীয় জনসাধারণকে সতর্ক করা হয়েছে, যেন তাঁরা সংশ্লিষ্ট ফায়ারিং রেঞ্জ এলাকা এড়িয়ে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখেন।

বিমান সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২ জুন থেকে ১১ জুন পর্যন্ত প্রতিদিন (ছুটির দিনসহ) সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত কুতুবদিয়া ফায়ারিং রেঞ্জ ভিজিডি-২ এবং কক্সবাজার ফায়ারিং রেঞ্জ ভিজিডি-৪৩ এলাকায় আকাশে তাজা গোলাবর্ষণ প্রশিক্ষণ মহড়া চলবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানাচ্ছে, ভিজিডি-২ রেঞ্জের বিপজ্জনক উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩০ হাজার ফুট এবং ভিজিডি-৪৩ রেঞ্জের বিপজ্জনক উচ্চতা ২৬ হাজার ফুট পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সময়সীমায় সংশ্লিষ্ট জলসীমা ও আকাশসীমায় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিমান বাহিনী পরিষ্কার করেছে, মহড়া চলাকালে বিমান, জাহাজ, ট্রলার, মাছ ধরার নৌকা ও অন্যান্য ছোট নৌযানকে গোলা বর্ষণের নির্ধারিত এলাকা পরিহার করে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে চলাচল করতে হবে। পাশাপাশি কুতুবদিয়া দ্বীপ সংলগ্ন এলাকার জনসাধারণকেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এই বিষয়ে বিমান সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে গণসচেতনতা বৃদ্ধিতে বিশেষ প্রচার কার্যক্রম চালানোর অনুরোধ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সোমবার (১ জুন) থেকে ১১ জুন (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত বাংলাদেশ টেলিভিশনের ঢাকা ও চট্টগ্রাম কেন্দ্র এবং বেসরকারি টেলিভিশনগুলোকে বাংলা, ইংরেজি ও স্থানীয় সংবাদের আগে প্রতিদিন অন্তত দুইবার বিপজ্জনক এলাকার মানচিত্রসহ সতর্কতামূলক ঘোষণা প্রচারের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লেবাননে ইসরাইলি হামলায় যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০২:৫৪ এম


লেবাননে ইসরাইলি হামলায় যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবি সোমবার (১ জুন) জানিয়েছে, যদি ইসরাইল তেহরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর ওপর হামলা চালিয়ে যেতে থাকে, তাহলে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পন্ন হওয়া যুদ্ধবিরতি খুব সম্ভবত ভেঙে যাবে। তবে বিস্তারিত কোনো তথ্য তারা প্রদান করেনি।

ইসরাইল যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে গত কয়েকদিন ধরে লেবাননে হামলার পরিমাণ বাড়িয়ে তুলেছে। সোমবার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলির হিজবুল্লাহ-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে হামলার নির্দেশ দেন। এর ফলে লেবাননে আবারো বাস্তুচ্যুতি শুরু হচ্ছে, যেখানে ইতোমধ্যে এই সংঘাতে ১০ লাখেরও বেশি মানুষ ঘরছাড়া হয়ে পড়েছে।

নেতানিয়াহুর কার্যালয় অভিযোগ করেছে যে, হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি বারবার লঙ্ঘন করছে, যা এপ্রিলের শেষে সম্পন্ন হয়েছে। নেতানিয়াহুর হামলার নির্দেশের পর ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার বিষয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।

পূর্বে ইরানি কর্মকর্তারা সতর্ক করে দিয়েছেন, লেবাননে ইসরাইলের ক্রমবর্ধমান হামলা এবং গাজায় চলমান সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলতি যুদ্ধবিরতি আলোচনা ব্যর্থ করতে পারে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি সোমবার বলেন, লেবাননে ইসরায়েলের বেড়ে চলা আক্রমণ, দেশটিতে হামলা এবং ইরানি বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট লঙ্ঘন।

তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি, লেবাননসহ। একটি ফ্রন্টে লঙ্ঘন মানে সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন। এর কোনো লঙ্ঘনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দায়ী থাকবে।’

ইরানের প্রধান আলোচক এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফেও একই কথার পুনরাবৃত্তি করেছেন। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘নৌ-অবরোধ এবং গণহত্যাকারী জায়োনিস্ট শাসকের লেবাননে যুদ্ধাপরাধ বাড়ানো— এগুলো যুদ্ধবিরতি মেনে চলতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতার স্পষ্ট প্রমাণ।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘প্রতিটি সিদ্ধান্তের একটা মূল্য আছে, আর সেই বিল শোধ করতে হয়। সবকিছু ঠিক জায়গায় পড়বে।’

এছাড়া, ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, ইসরাইল লেবানে সেনা পাঠিয়ে আরো গভীরে ঢোকার নির্দেশ দেওয়াতে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনা বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে তিন মাসের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ শেষ করার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জটিল হয়ে পড়েছে।

প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, ইসরাইলের ক্রমাগত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড আলোচনা স্থগিতের অন্যতম কারণ রূপে চিহ্নিত হয়েছে। দেশটিতে হামলা বন্ধের বিষয়টি যুদ্ধবিরতির অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল। কিন্তু সেটি বারবার লঙ্ঘন হয়েছে। এসব বিবেচনায়, ইরানের আলোচক দল মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে সকল ধরনের সংলাপ এবং খসড়া চুক্তির জন্য বার্তা আদান-প্রদান স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তাসনিম জানিয়েছে যে, গাজা ও লেবাননে ইসরাইলি অভিযান বন্ধ এবং লেবাননের ভূখণ্ডের কিছু অংশ থেকে ইসরাইলি বাহিনী প্রত্যাহারসহ তাদের দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ইরানি আলোচকরা ‘মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা ও বার্তা আদান-প্রদান’ স্থগিত রাখবেন।

ইরানি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে যে, এই শর্তগুলো পূরণ না হলে আর কোনো কূটনৈতিক আলোচনা হবে না। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, তথাকথিত ‘প্রতিরোধ অক্ষ’-এর অন্তর্ভুক্ত ইরান এবং তার সহযোগী গোষ্ঠীগুলো ইসরাইলি পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আরও ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণের কথা ভাবছে, যার মধ্যে একাধিক ফ্রন্টে সম্ভাব্য উত্তেজনা বৃদ্ধিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২৩
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%