০২:৫৪ এম
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবি সোমবার (১ জুন) জানিয়েছে, যদি ইসরাইল তেহরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর ওপর হামলা চালিয়ে যেতে থাকে, তাহলে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পন্ন হওয়া যুদ্ধবিরতি খুব সম্ভবত ভেঙে যাবে। তবে বিস্তারিত কোনো তথ্য তারা প্রদান করেনি।
ইসরাইল যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে গত কয়েকদিন ধরে লেবাননে হামলার পরিমাণ বাড়িয়ে তুলেছে। সোমবার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলির হিজবুল্লাহ-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে হামলার নির্দেশ দেন। এর ফলে লেবাননে আবারো বাস্তুচ্যুতি শুরু হচ্ছে, যেখানে ইতোমধ্যে এই সংঘাতে ১০ লাখেরও বেশি মানুষ ঘরছাড়া হয়ে পড়েছে।
নেতানিয়াহুর কার্যালয় অভিযোগ করেছে যে, হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি বারবার লঙ্ঘন করছে, যা এপ্রিলের শেষে সম্পন্ন হয়েছে। নেতানিয়াহুর হামলার নির্দেশের পর ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার বিষয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে
পূর্বে ইরানি কর্মকর্তারা সতর্ক করে দিয়েছেন, লেবাননে ইসরাইলের ক্রমবর্ধমান হামলা এবং গাজায় চলমান সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলতি যুদ্ধবিরতি আলোচনা ব্যর্থ করতে পারে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি সোমবার বলেন, লেবাননে ইসরায়েলের বেড়ে চলা আক্রমণ, দেশটিতে হামলা এবং ইরানি বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ যুদ্ধবিরতির স্পষ্ট লঙ্ঘন।
তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি, লেবাননসহ। একটি ফ্রন্টে লঙ্ঘন মানে সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন। এর কোনো লঙ্ঘনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দায়ী থাকবে।’
ইরানের প্রধান আলোচক এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফেও একই কথার পুনরাবৃত্তি করেছেন। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘নৌ-অবরোধ এবং গণহত্যাকারী জায়োনিস্ট শাসকের লেবাননে যুদ্ধাপরাধ বাড়ানো— এগুলো যুদ্ধবিরতি মেনে চলতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতার স্পষ্ট প্রমাণ।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘প্রতিটি সিদ্ধান্তের একটা মূল্য আছে, আর সেই বিল শোধ করতে হয়। সবকিছু ঠিক জায়গায় পড়বে।’
এছাড়া, ইরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, ইসরাইল লেবানে সেনা পাঠিয়ে আরো গভীরে ঢোকার নির্দেশ দেওয়াতে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনা বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে তিন মাসের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ শেষ করার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জটিল হয়ে পড়েছে।
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, ইসরাইলের ক্রমাগত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড আলোচনা স্থগিতের অন্যতম কারণ রূপে চিহ্নিত হয়েছে। দেশটিতে হামলা বন্ধের বিষয়টি যুদ্ধবিরতির অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল। কিন্তু সেটি বারবার লঙ্ঘন হয়েছে। এসব বিবেচনায়, ইরানের আলোচক দল মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে সকল ধরনের সংলাপ এবং খসড়া চুক্তির জন্য বার্তা আদান-প্রদান স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তাসনিম জানিয়েছে যে, গাজা ও লেবাননে ইসরাইলি অভিযান বন্ধ এবং লেবাননের ভূখণ্ডের কিছু অংশ থেকে ইসরাইলি বাহিনী প্রত্যাহারসহ তাদের দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ইরানি আলোচকরা ‘মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা ও বার্তা আদান-প্রদান’ স্থগিত রাখবেন।
ইরানি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে যে, এই শর্তগুলো পূরণ না হলে আর কোনো কূটনৈতিক আলোচনা হবে না। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, তথাকথিত ‘প্রতিরোধ অক্ষ’-এর অন্তর্ভুক্ত ইরান এবং তার সহযোগী গোষ্ঠীগুলো ইসরাইলি পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আরও ব্যাপক পদক্ষেপ গ্রহণের কথা ভাবছে, যার মধ্যে একাধিক ফ্রন্টে সম্ভাব্য উত্তেজনা বৃদ্ধিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আরও পড়ুন: সেনাপ্রধানের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ, এলএফটি-২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন