ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পশ্চিম তীরে ইসরাইল যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে: জাতিসংঘ


পশ্চিম তীরে ইসরাইল যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে: জাতিসংঘ

জাতিসংঘের একটি তদন্ত কমিশন জানিয়েছে যে, ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইল যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে। এসব অপরাধের মধ্যে রয়েছে নির্মূল, নিপীড়ন, নির্যাতন, ধর্ষণ এবং অন্যান্য ধরনের যৌন সহিংসতা।

কমিশন একটি নতুন প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে জমা দেওয়া এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে ইসরাইলি সামরিক অভিযান ও ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা একটি ‘ব্যাপক ও পদ্ধতিগত হামলার’ অংশ হয়ে উঠেছে।

প্রতিবেদনটি জানায়, জাতীয়তা, বর্ণ, জাতিগত পরিচয়, লিঙ্গ ও বয়সের ভিত্তিতে ফিলিস্তিনিদের ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এই হামলার শিকারদের মধ্যে শিশুদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: বোম্বে হাইকোর্ট ইমরান খানের ভারত ছাড়ার নোটিশ স্থগিত করেছে

কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বাহিনীর হাতে ১ হাজার ৮০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এছাড়া চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত ৩৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছেন।

প্রতিবেদনে গাজা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গাজায় ইসরাইল গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। সেখানে ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার বিস্তৃতি আরও বাড়ানোর ফলে বেসামরিক মানুষের মৃত্যু ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটছে।

জাতিসংঘের তদন্ত কমিশন আরো বলেছে, ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুত করা, বশীভূত রাখা এবং তাদের সমাজকে অস্থিতিশীল করে তোলার উদ্দেশ্যে যৌন সহিংসতা ব্যবহার করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা প্রায় সম্পূর্ণ দায়মুক্তি ভোগ করছেন।

আরও পড়ুন: সুদানে স্বর্ণের খোঁজে শ্রমিকেরা জীবন ঝুঁকিতে, খনিতে প্রাণ হারাচ্ছেন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে জবির সমাবর্তন ফি কমালো প্রশাসন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৪৭ এম


শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে জবির সমাবর্তন ফি কমালো প্রশাসন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) দ্বিতীয় সমাবর্তনের নিবন্ধন ফি কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এই সিদ্ধান্তটি শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে এবং সমালোচনার মুখে নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে সমাবর্তন কমিটির বৈঠকের পর নতুন ফি নির্ধারণ করা হয়।

নতুন ফি অনুযায়ী, স্নাতক (সম্মান) পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের নিবন্ধন ফি হবে ৩ হাজার ৫০০ টাকা, এবং মূল সনদ ফি ৫০০ টাকা মিলিয়ে মোট ৪ হাজার টাকা দিতে হবে। অন্যদিকে, স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নিবন্ধন ফি ৪ হাজার টাকা এবং মূল সনদ ফি ৫০০ টাকা সহ মোট ৪ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, স্নাতক পর্যায়ের ফি ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ের ফি ২ হাজার টাকা কমানো হয়েছে।

এর আগে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দ্বারা নির্ধারিত ফি ছিল স্নাতক (সম্মান) ও বিবিএ ডিগ্রিধারীদের জন্য ৫ হাজার টাকা, যার সঙ্গে মূল সনদ ফি ৫০০ টাকা যোগ হয়ে মোট ৫ হাজার ৫০০ টাকা দাঁড়ায়। অন্যদিকে, স্নাতকোত্তর ও এমবিএ ডিগ্রিধারীদের নিবন্ধন ফি ছিল ৬ হাজার টাকা, এবং মূল সনদ ফি ৫০০ টাকা মিলিয়ে মোট ৬ হাজার ৫০০ টাকা।

সমাবর্তনের নিবন্ধন ফি নির্ধারণের পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক শিক্ষার্থী ফি কমানোর দাবি জানান। তাঁদের অভিযোগ ছিল, আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য এই ফি বহন করা কঠিন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকটের কারণে অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে মেসভাড়া, খাবার ও যাতায়াতের খরচ বহন করতে হয়। এই পরিস্থিতিতে সমাবর্তনের বাড়তি ফি তাঁদের ওপর আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছিল।

জকসু সমাবর্তনের ফি পুনর্নির্ধারণের দাবি জানায়। গত ২২ অক্টোবর জকসুর সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) মাসুদ রানা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফি কমানোর দাবি জানিয়ে প্রশাসনকে আল্টিমেটাম দেন। ফি পুনর্নির্ধারণ না হলে উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনও ফি কমানোর দাবি জানায়।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন আগামী ৩০ জানুয়ারি ২০২৭ অনুষ্ঠিত হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগে ২০১৯ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজীপুর মিডিয়া ক্লাবের নবনির্বাচিত কমিটির শপথ ও পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

টঙ্গী, প্রতিনিধি, ফারুক হোসেন

মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৪৭ এম


গাজীপুর মিডিয়া ক্লাবের নবনির্বাচিত কমিটির শপথ ও পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত

গাজীপুর মিডিয়া ক্লাবের নবনির্বাচিত পূর্ণাঙ্গ কমিটির শপথ ও পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (২৫ অক্টোবর ২০২৬) বিকেল ৪টায় গাজীপুরের টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন চেরাগ আলীর সুরতরঙ্গ রোডে অবস্থিত গাজীপুর সেন্ট্রাল ল কলেজে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে ২০২৬-২০২৯ মেয়াদে তিন বছরের জন্য ক্লাবের নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যদের পরিচিতি ও শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান ক্লাবের আইনবিষয়ক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মো. শরিফুল ইসলাম মাসুদ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টঙ্গী পশ্চিম থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর শেখ মো. আলেক, ৫৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও টঙ্গী পশ্চিম থানা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম, ৫৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিশাত মাহমুদ জালাল এবং টঙ্গী পশ্চিম থানা যুবদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও ৫২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী সেলিম কাজলসহ ক্লাবের নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দ, উপদেষ্টামণ্ডলী ও সদস্যরা।

নেতৃত্বে তারেক রহমান জাহাঙ্গীর ও বশির আলম

গাজীপুর মিডিয়া ক্লাবের ঘোষিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মো. তারেক রহমান জাহাঙ্গীর এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন মো. বশির আলম।

কমিটির অন্যান্য পদে রয়েছেন—সিনিয়র সহসভাপতি মো. আবু ছালেহ মুসা ও মো. রেজাউল করিম রাজিব; সহসভাপতি মো. মশিউর রহমান ও মো. রফিকুল ইসলাম রফিক; যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মনসুর শেখ ও মাহবুবুর রহমান জুয়েল; সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মশিউর রহমান মাসুম; সহসাংগঠনিক সম্পাদক মো. তৈমুর আলম অপু; কোষাধ্যক্ষ মো. আবু রায়হান; দপ্তর সম্পাদক আশিকুর রহমান এবং প্রচার সম্পাদক মো. জাফর আলী।

এ ছাড়া ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মো. ইমরান হোসেন সরকার, আইন ও মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম সাগর, সাংস্কৃতিক সম্পাদক কাজী মো. আশরাফুল আলম, তথ্যবিষয়ক সম্পাদক মো. রবিউল ইসলাম, ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক মো. আব্দুল আল হাতেম, সমাজকল্যাণ সম্পাদক মো. জিয়াউল রহমান, শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক মো. ইসমাইল হোসেন এবং স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক মো. ফারুক হোসেন দায়িত্ব পেয়েছেন।

মহিলা বিষয়ক বিভাগে সিনিয়র মহিলা বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে তাসলিমা আক্তার এবং মহিলা বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে সৈয়দা রোকসানা পারভীন রুবি নির্বাচিত হয়েছেন।

কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে রয়েছেন মো. সোহেল চৌধুরী, মো. মাহাবুব আলম রবিন, মো. জাহিদ হাসান, মো. মাসুম মিয়া, মো. হাসান মিয়া, মো. সাইফুল আকতার ও মো. পাপেল মিয়া।

প্রধান উপদেষ্টা হাসান উদ্দিন সরকার

গাজীপুর মিডিয়া ক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আলহাজ্ব হাসান উদ্দিন সরকার। উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন অ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমান এবং দৈনিক নরস পত্রিকার মফস্বল সম্পাদক মনসুর আহমেদ।

সাংবাদিকদের ঐক্য ও পেশাগত মর্যাদা রক্ষায় গুরুত্বারোপ

শপথ ও পরিচিতি সভায় গাজীপুর অঞ্চলের সাংবাদিকদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, ঐক্য ও পেশাগত সম্প্রীতি জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি সাংবাদিকদের পেশাগত স্বার্থ সংরক্ষণ, মর্যাদা রক্ষা এবং ক্লাবের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

উপস্থিত সদস্যরা আশা প্রকাশ করেন, নবনির্বাচিত কমিটির নেতৃত্বে গাজীপুর মিডিয়া ক্লাব সাংবাদিকদের পেশাগত উন্নয়ন, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা চর্চায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

নতুন কমিটির মাধ্যমে ক্লাবের কার্যক্রম আরও সুসংগঠিত হবে এবং সাংবাদিকদের কল্যাণে সম্মিলিত উদ্যোগ জোরদার হবে—এমন প্রত্যাশার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিবচরের নদ-নদীতে নাব্য সংকট, ‘মরা আড়িয়াল খাঁ’ অস্তিত্ব হারানোর পথে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৪৮ এম


শিবচরের নদ-নদীতে নাব্য সংকট, ‘মরা আড়িয়াল খাঁ’ অস্তিত্ব হারানোর পথে

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার একসময়ের খরস্রোতা নদ-নদীগুলো বর্তমানে নাব্য সংকটে রয়েছে। পলি জমে ভরাট হওয়া এবং তীর দখলের কারণে এ নদীগুলো অস্তিত্ব হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছে। কিছু নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়েছে, কিছু শুকিয়ে ফসলি জমিতে পরিণত হয়েছে, আবার কিছু নদীতে বর্ষায় পানি থাকলেও শুকনো মৌসুমে বিস্তীর্ণ চর দেখা যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, দীর্ঘদিন নিয়মিত খনন না হওয়া এবং অপরিকল্পিত ভরাট ও দখলের কারণে নদীগুলোর এই অবস্থা হয়েছে।

নদীর স্বাভাবিক প্রবাহের পাশাপাশি এর সাথে জড়িত নৌপথ, কৃষি, এবং জীববৈচিত্র্যও মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। একসময় যেসব নদী দিয়ে লঞ্চ, ট্রলার ও পণ্যবাহী নৌযান চলাচল করত, সেগুলোর অনেক অংশ এখন পলি ও কাদায় ভরাট হয়ে গেছে। এলাকাবাসী দ্রুত খনন এবং দখল-দূষণ রোধে কার্যকর উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, জেলার পাঁচটি উপজেলায় কাগজে-কলমে নদ-নদীর সংখ্যা ১৭টি। তবে পদ্মা, পালরদী, ময়নাকাটা সহ বিভিন্ন নদ-নদীর মধ্যে দৃশ্যমান রয়েছে মাত্র ১০টি। দীর্ঘদিন খনন না হওয়ায় বেশ কয়েকটি নদী নাব্য হারিয়েছে এবং কিছু নদীর গতিপথও পরিবর্তিত হয়েছে।

শিবচরের শিরুয়াইল, নিলখী, বাঁশকান্দি, শিবচর পৌর এলাকা, পাচ্চর ও দ্বিতীয়াখণ্ডসহ বিভিন্ন এলাকায় নদ-নদীর সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। একসময় প্রবহমান নদীগুলোর অনেক অংশ এখন ভরাট হয়ে সংকুচিত হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও নদীর অস্তিত্বও বিলীন হওয়ার পথে।

শিরুয়াইল থেকে নিলখী হয়ে প্রবাহিত আড়িয়াল খাঁ নদীর একটি অংশ বর্তমানে স্থানীয়ভাবে ‘মরা আড়িয়াল খাঁ’ নামে পরিচিত। দীর্ঘদিন পলি জমে নদীটির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে কিছু পানি জমলেও শুকনো মৌসুমে এর বিস্তীর্ণ অংশ শুকিয়ে যায় এবং অনেক স্থানে নদীর বুকজুড়ে চাষাবাদ করা হচ্ছে।

শিরুয়াইল এলাকার বাসিন্দা রানা হামিদ বলেন, ‘আমাদের শিরুয়াইল বাজারের পাশের নদীটি এখন আর নদী নেই! এটা আড়িয়াল খাঁ নদেরই অংশ। একসময় এটি বড় নদী ছিল, যার এখন কোনো গতিপথই নেই। নদীর মাঝে বর্ষায় পানি জমে আর শুকনো মৌসুমে শুকিয়ে যায়; এমনকি এখন সেখানে ফসল ফলানো হচ্ছে।’ স্থানীয়রা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই নদীর অবশিষ্ট অংশও হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন।

শিবচর পৌর এলাকার ওপর দিয়ে প্রবাহিত ময়নাকাটা নদীও নাব্যতা সংকটে রয়েছে। বর্ষায় নদীটি পানিতে ভরপুর থাকলেও শুকনো মৌসুমে বিভিন্ন স্থানে পানি শুকিয়ে যায়। নদীর তলদেশে পলি জমে প্রবাহের পথ সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি দুই তীরের বিভিন্ন অংশ ভরাট ও দখলের অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত সরকারের আমলেই মূলত নদীর তীরসহ বিভিন্ন অংশ ভরাট করে দখল করা হয়েছে। এমনকি শিবচর পৌরসভার ‘ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী (দাদাভাই) শিবচর উপশহর’ নদীর চরাংশেই গড়ে উঠেছে বলে স্থানীয়রা জানান। উপশহর নির্মাণের ফলে নদীর চরাঞ্চলের অনেক এলাকা দখল ও ভরাট হয়েছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকে মন্তব্য করেছেন।

একসময় এই ময়নাকাটা নদী দিয়ে বর্ষা মৌসুমে পণ্যবাহী নৌযান চলাচল করত। বর্তমানে পলি ও কাদা জমে নাব্যতা কমে যাওয়ায় শুকনো মৌসুমে নদীর বুকে জেগে ওঠা চর ও অগভীর পানিপ্রবাহ নদীটির চিরচেনা রূপ বদলে দিয়েছে।

এদিকে শিবচরের বাঁশকান্দি ইউনিয়নের বিলপদ্মা নদীও নাব্য সংকটে বিপর্যস্ত। স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন খনন না হওয়ায় নদীটির দুই তীরে চর জেগে উঠেছে এবং ক্রমান্বয়ে সংকুচিত হচ্ছে প্রবাহপথ। অথচ একসময় এই নদী দিয়েই বড় বড় লঞ্চ ও ট্রলার চলাচল করত।

বাঁশকান্দি ইউনিয়নের শুম্ভুক গ্রামের বাসিন্দা জরিনা খাতুন বলেন, ‘আমাদের বাড়ির পাশের বিলপদ্মা নদী কালের বিবর্তনে এখন অনেকটাই শুকিয়ে গেছে। একসময় এই নদী দিয়ে বড় বড় লঞ্চ ও ট্রলার চলত, আর এখন চর পড়ে নদী শুকিয়ে গেছে।’ নদীটির নাব্যতা ফেরাতে অবিলম্বে পরিকল্পিত খননের দাবি জানান তিনি।

পদ্মার সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত শিবচরের দ্বিতীয়াখণ্ড ও কুতুবপুর এলাকাতেও রয়েছে ভরাট হয়ে যাওয়া নদী ও পুরোনো প্রবাহপথ। দীর্ঘদিন পলি জমা ও পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় এসব নদীর অনেক অংশই সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে, পদ্মা-সংলগ্ন মাদবরেরচর এলাকাসহ পদ্মা নদীর বিভিন্ন অংশেও শুকনো মৌসুমে চর জেগে ওঠে। পদ্মা সেতুর আশপাশেও বিস্তীর্ণ চর দৃশ্যমান। নদীতে চর জাগা প্রাকৃতিক পলি সঞ্চয়ের অংশ হলেও নদীর প্রবাহ, নাব্য ও তীরবর্তী এলাকার সামগ্রিক চিত্র বুঝতে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা প্রয়োজন।

স্থানীয়রা মনে করেন, নদ-নদী কেবল পানিপ্রবাহের পথ নয়; বরং কৃষি, মৎস্যসম্পদ, নৌযোগাযোগ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় এগুলোর ভূমিকা অপরিসীম। নদী ভরাট হয়ে গেলে বর্ষার পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা, জলজ পরিবেশ এবং নৌযান চলাচল মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে। তাই নদীগুলোর প্রকৃত সীমানা নির্ধারণ, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, ভরাট বন্ধ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী খননের জোরালো দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

শিবচরের বিশিষ্ট সমাজসেবক বাবুল গোমস্তা বলেন, ‘আমরা একটি পরিকল্পিত শিবচর চাই। আমাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে ময়নাকাটা নদী রক্ষা করা জরুরি। এই নদীকে রক্ষা করতে পারলে তবেই পরিকল্পিত শিবচর গড়ে তোলা সম্ভব।’

শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ এম ইবনে মিজান বলেন, ‘শিবচরের নদীগুলো রক্ষার জন্য আমরা পরিকল্পনা গ্রহণ করতে চাচ্ছি। তবে বিআরএস নকশা ও পর্চা অনুযায়ী নদীটির সঠিক চিত্র পাওয়া যাচ্ছে না। উপজেলার প্রতিটি নদী ও খালের প্রকৃত চিত্র বের করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ সাপেক্ষে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

মাদারীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আবু সাদত মো. হাসান কবির বলেন, ‘শিবচর উপজেলার আড়িয়াল খাঁ নদের শাখা ময়নাকাটা নদীর অনেক স্থানেই দখল ও নাব্যতা সংকটে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বন্ধ হওয়ার পথে। তবে এই মুহূর্তে নদীটি খনন বা পুনরুদ্ধারের কোনো কার্যক্রম আমাদের হাতে নেই। ভবিষ্যতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।’

কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে নদী উদ্ধারের আশার কথা শোনা গেলেও আপাতত নির্দিষ্ট কোনো ড্রেজিং প্রকল্প না থাকায় স্থানীয়দের মাঝে হতাশা রয়ে গেছে।

শিবচরের নদ-নদীর বর্তমান পরিস্থিতি স্থানীয় পরিবেশ ও পানিপ্রবাহের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর শঙ্কা তৈরি করছে। দীর্ঘদিনের পলি জমা, নদীপথ সংকুচিত হওয়া এবং দখল-ভরাটের অভিযোগের মুখে নদীগুলোকে বাঁচাতে হলে সমন্বিত পরিকল্পনা অপরিহার্য। নদীগুলোর সীমানা ও বর্তমান প্রবাহপথ চিহ্নিত করা, নাব্য যাচাইয়ে বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা পরিচালনা, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খনন এবং দখল-ভরাট রোধে কঠোর নজরদারি এখন সময়ের দাবি। এককালের জীবন-জীবিকা ও যোগাযোগের মাধ্যম এই নদীগুলো যেন কেবল মানচিত্র আর স্মৃতিতে সীমাবদ্ধ হয়ে না পড়ে—এটাই এখন শিবচরের নদীপাড়ের মানুষের প্রধান প্রত্যাশা।

এমএইচ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুই ব্রিটিশ এমপিকে আট ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ, পশ্চিম তীরে প্রবেশে বাধা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৪৮ এম


দুই ব্রিটিশ এমপিকে আট ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ, পশ্চিম তীরে প্রবেশে বাধা

অধিকৃত পশ্চিম তীরে প্রবেশের চেষ্টা করতে গিয়ে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের বাধার সম্মুখীন হয়েছেন যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির দুই সংসদ সদস্য ক্লাইভ লুইস এবং লারা বার্ড। জর্ডান থেকে পশ্চিম তীরে প্রবেশের সময় তাদের এবং তাদের সফরসঙ্গীদের আটক করা হয়। পরে আট ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং আটক রাখা হয় বলে জানিয়েছেন উক্ত দুই এমপি।

সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টের মাধ্যমে ক্লাইভ লুইস এই তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ফিলিস্তিনে ইসরাইলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া সংগঠন প্রগ্রেসিভ ইন্টারন্যাশনালের দ্বিতীয় রামাল্লা কংগ্রেসে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে তারা সেখানে গিয়েছিলেন।

এছাড়া, জলপাই সংগ্রহের মৌসুমে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের ক্রমবর্ধমান সহিংসতার শিকার ফিলিস্তিনি কৃষকদের সঙ্গে সময় কাটানোর পরিকল্পনাও ছিল তাদের।

লুইস বলেন, ‘আমরা কোনো অন্যায় না করা সত্ত্বেও আট ঘণ্টার বেশি সময় আমাদের আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি সমর্থন জানাতে এবং তাদের ওপর সংঘটিত ভয়াবহ অবিচার ও সহিংসতার বিষয়টি তুলে ধরতেই আমরা সেখানে গিয়েছিলাম।’

অন্যদিকে, লারা বার্ড এক্সে দেওয়া পোস্টে বলেন, তিনি ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর নিপীড়ন ও গণহত্যার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে এবং নেতানিয়াহু সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে তার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবেন।

বার্ড বলেন, ‘ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর নিপীড়ন ও গণহত্যার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এবং নেতানিয়াহু সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে আমি আমার সাধ্যমতো সবকিছু করে যাব।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%