ঢাকা রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

গুমের শিকার ব্যক্তিদের ফেরত আনা ও পরিবারকে ক্ষতিপূরণ-পুনর্বাসনের দাবি


গুমের শিকার ব্যক্তিদের ফেরত আনা ও পরিবারকে ক্ষতিপূরণ-পুনর্বাসনের দাবি

 

খুলনায় গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবসের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী বক্তারা জানিয়েছেন, যারা এখনও গুমের শিকার হয়ে ফিরে আসেননি, তাদেরকে অবিলম্বে স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে। পাশাপাশি, গুম থেকে ফিরে আসা ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ এবং তাদের পরিবারকে পূণর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। যদি গুমের শিকার ব্যক্তি জীবিত না থাকেন, তাহলে রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের পরিবারকে এই বিষয়টি জানাতে হবে। এই বিষয়ে ব্যর্থ হলে দেশে আবারও ফ্যাসিবাদি শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে এবং গুমের সংস্কৃতি পুনরায় ফিরে আসবে। বক্তারা আরও বলেন, প্রস্তাবিত গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন-২০২৬ এর ১৪ (৩) ও ২১ ধারা সংশোধন করে একটি বিতর্কহীন এবং সুন্দর আইন প্রণয়ন করে তা জাতীয় সংসদে পাশ করতে হবে।

গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে রোববার (৩০ আগস্ট) মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’ খুলনা ইউনিট মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে। সকাল ১১টায় খুলনা প্রেস ক্লাবের সামনে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন এবং অধিকার কর্তৃক প্রস্তুতকৃত দিবসের বিবৃতি পড়ে শোনান ‘অধিকার’ খুলনা ইউনিটের ফোকালপার্সন সাংবাদিক মুহাম্মদ নূরুজ্জামান।

আরও পড়ুন: আমি ঢাকা দক্ষিণের মেয়র পদে কাউকে মনোনয়ন দিইনি: মীর শাহে আলম

মানববন্ধনে বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, মোংলায় কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে মিরাজ শেখ নামে একজন জেলে ও মোটরসাইকেল রাইডারকে গুমের অভিযোগ উঠেছে। সরকারের প্রতি দাবি জানানো হয় যে, এই ঘটনার সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনতে হবে এবং মিরাজকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে। বক্তারা বলেন, স্বাধীন দেশে গুমের বিরুদ্ধে রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করতে হবে, জনগণকে সংগঠিত করতে হবে। বক্তারা গুমের সঙ্গে জড়িত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তার সহযোগীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।

সমাবেশে আরও জানানো হয়, গত ৩ অগাস্ট মন্ত্রিসভা গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন-২০২৬ অনুমোদন করেছে। মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত খসড়া আইনে শৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগের তদন্তের ক্ষমতা পুলিশকে প্রদান করা হয়েছিল। গত ২৭ অগাস্ট এই খসড়া আইনের কিছু পরিবর্তন করে জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়। এই আইনের ১৪(৩) ধারায় বলা হয়েছে, শৃঙ্খলা বাহিনী বা তার কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত সংশ্লিষ্ট বাহিনী পরিচালনা করতে পারবে না এবং এই ক্ষেত্রে সরকার উক্ত অভিযোগের তদন্তভার অভিযুক্ত বাহিনী ব্যতিরেকে অন্য কোনো বাহিনী বা আন্ত:বাহিনীর তদন্ত দলের কাছে অর্পণ করতে পারবে। কিন্তু এটি বাস্তবায়নযোগ্য নয়। কারণ পুলিশসহ যেকোনো শৃঙ্খলাবাহিনী কর্তৃক গুমের তদন্ত পক্ষপাতদুষ্ট হবে।

অন্যদিকে, এই আইনের ২১ ধারা অনুযায়ী তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগটি আদালতে মিথ্যা বিবেচিত হলে অভিযোগকারীর ৫ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড হতে পারে। ফলে এটি বিচারহীনতার পথকে আরও প্রশস্ত করবে এবং ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারকে গুমের অভিযোগ দায়ের করতে নিরুৎসাহিত করবে।

সমাবেশ থেকে তিনটি দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো- গুমের অভিযোগ তদন্ত করার ক্ষমতা শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে না দিয়ে স্বাধীন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ওপর তদন্তভার দিতে হবে এবং তা আইনে উল্লেখ করতে হবে, গুমের শিকার যেসব ব্যক্তি এখনও ফিরে আসেনি, তাদের স্ত্রী-সন্তানরা যাতে গুম হওয়া ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব পরিচালনাসহ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারেন সে ব্যবস্থা করতে হবে এবং যারা গুমের পর ফেরত এসেছেন, তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। মানববন্ধনকালীন সমাবেশে বক্তৃতা করেন- বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সহকারী মহাসচিব ও আমার দেশ-এর খুলনা ব্যুরো প্রধান এহতেশামুল হক শাওন, বিএফইউজের সাবেক সহ-সভাপতি, মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন খুলনার সভাপতি ও মানবজমিনের ব্যুরো প্রধান মো. রাশিদুল ইসলাম, সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন খুলনা মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক এসকে তাসাদুজ্জামান, গণসংহতি আন্দোলনের খুলনা জেলা শাখার যুগ্ম সদস্য সচিব আল-আমিন, খুলনা থানায় পুলিশের নির্যাতনের শিকার সাবেক ছাত্রদল নেতা এসএম মাহমুদুল হক টিটো, মানবাধিকার কর্মী শেখ আব্দুল হালিম, সাবেক যুবদল নেতা জি এম রাসেল ইসলাম, খুলনা জেলা ব্লাড ব্যাংকের সভাপতি শেখ ফারুক, রোটারিয়ান সাখাওয়াত হোসেন স্বপন, গুম থেকে ফিরে আসা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মো ইমরান হোসেন।

আরও পড়ুন: ফুটপাত দখলমুক্তের পাশাপাশি হকারদের পুনর্বাসন হবে: প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান

উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সাংবাদিক আব্দুল হান্নান, মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট মো. শহিদুল ইসলাম, ফটো সাংবাদিক বাপ্পি খাঁন, মো. রফিকুল ইসলাম, মো. রায়হান মোল্লা, সাংবাদিক মাসুম বিল্লাহ ইমরান, মুজাহিদুর রহমান, মিশারুল ইসলাম মনির, হাফেজ মুহাম্মদ কামরুজ্জামান, স্নিগ্ধা সুলতানা মুন্নি, নাবা আক্তার শারমিন, গালিব হাসান প্রমুখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকতে পারবে না: খাদ্যমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৪৮ পি.এম


মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকতে পারবে না: খাদ্যমন্ত্রী

খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেছেন, খাদ্য মন্ত্রণালয়ে কোনো দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকতে পারবে না। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের নির্দেশে বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীত গ্রহণ করেছে। কেউ দুর্নীতি করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রবিবার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যায় সাভারের নামাবাজার এলাকায় খাদ্য গুদাম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, জনগণের কাছে নিরাপদ খাদ্য পৌঁছে দেওয়া দায়িত্ব সরকারের। সেই দায়িত্ব পালন করা আমার মূল কাজ। সবার সহযোগিতা এবং পরামর্শের ভিত্তিতে আগামীতে কাজ করে যাব।

এ সময় সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, খাদ্য পরিদর্শক খন্দকার সেলিম হোসেন, সাভার পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদিউজ্জামান বদির, ঢাকা জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরিফুল আলম, সাভার পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রহমানসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পুলিশের সামনেই নারীকে লাথি, ভাইরাল ভিডিও নিয়ে যা জানা গেল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৫৩ পি.এম


পুলিশের সামনেই নারীকে লাথি, ভাইরাল ভিডিও নিয়ে যা জানা গেল

রাজবাড়ী শহরে ব্যবসায়িক বিরোধের জের ধরে জাকিয়া সুলতানা নামের এক নারী উদ্যোক্তাকে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে রাজবাড়ী শহরের কাপড় বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ জাকিয়া সুলতানাকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নিয়ে যায়।

ভাইরাল ভি‌ডিওতে দেখা যায়, রাজবাড়ী সদর থানা-পুলিশের উপস্থিতিতে ওই নারীকে রাস্তা দিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় পেছন থেকে এক যুবক এসে তাকে লাথি মারেন। পরে আরও কয়েকজন যুবক এগিয়ে এসে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর ও লাথি মারতে থাকেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজবাড়ী কাপড়বাজারের কাদেরীয়া সুপার মার্কেটের তৃতীয় তলায় জাকিয়া সুলতানার আস্থা ফ্যাশন নামে একটি কাপড়ের দোকান রয়েছে। ওই দোকানের নারী কর্মচারী শাজানাজ পারভীন বৃষ্টির সঙ্গে সম্প্রতি তার বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর জেরে শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে প্রচার মাইকসহ কয়েকজন নারীকে নিয়ে জাকিয়া সুলতানা মার্কেটে যান। এতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে ব্যবসায়ী নেতারা সেখানে গিয়ে তাকে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন। একপর্যায়ে কথাকাটাকাটি ও উত্তেজনা তৈরি হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। পরে পুলিশ জাকিয়া সুলতানাকে সঙ্গে নিয়ে বাজারের প্রধান সড়কে আসে। এ সময় সড়কের বিভিন্ন স্থান থেকে কয়েকজন তাকে কয়েকবার লাথি মারেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, জাকিয়া সুলতানা তার নারী কর্মচারীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করতেন এবং অনৈতিক কাজের প্রস্তাব দিতেন। এ কারণে তার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নারী কর্মচারীরা কয়েক মাস কাজ করার পর অন্যত্র চলে যেতেন বলেও দাবি তাদের। এ বিষয় নিয়ে বাজারে একাধিকবার সালিশ হয়েছে বলেও জানান ব্যবসায়ীরা।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জাকিয়া সুলতানা। তিনি বলেন, ব্যবসার ক্ষতি করার জন্য পাশের ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে তাকে নানা উপায়ে হয়রানি করছেন। তার ছয়জন কর্মচারীকে প্রলোভন দেখিয়ে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

জাকিয়া সুলতানা বলেন, ওই কর্মচারী পাশের দোকানে যাওয়ার সময় খারাপ আচরণ করে গেছে। আমাকে যদি অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ করা হয়, তাহলে এতদিন কেন কেউ বিষয়টি বলেনি বা প্রশাসনকে জানায়নি? এখন উদ্দেশ্য সফল করতে বৃষ্টি মিথ্যা অভিযোগ করছে। আমার দোকানে মীম নামে একজন মেয়ে এখনো কাজ করছে। তাকে জিজ্ঞাসা করলেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে।

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে বাজার কমিটির কাছে প্রতিকার চেয়েও পাননি। এ কারণে প্রতিবাদ জানাতে বাজারে গিয়েছিলেন। তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হলে কারখানাটিও বন্ধ হয়ে যাবে। এতে প্রায় চার হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়বেন বলেও দাবি করেন তিনি।

জাকিয়া সুলতানার ভাষ্য, তার কারখানায় উৎপাদিত পণ্য ওই দোকান এবং অনলাইনের মাধ্যমে সারা দেশে বিক্রি হয়। পণ্যের মান ভালো ও দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় বিক্রি ভালো হয়। এ কারণে অন্য ব্যবসায়ীরা তার ওপর ক্ষুব্ধ।

রাজবাড়ী বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক কাজী বেনজীর আহমেদ বলেন, জাকিয়া সুলতানার দোকানের এক কর্মচারীকে বেতন না দিয়ে বের করে দেওয়ার অভিযোগ ছিল। তবে ওই ঘটনার পর বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে।

রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, মূলত ব্যবসায়িক বিষয় নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১২ কোটি টাকার প্রকল্প, কাজ শেষ না হতেই ধসে পড়ল ডেক প্ল্যাটফর্ম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৫৪ পি.এম


১২ কোটি টাকার প্রকল্প, কাজ শেষ না হতেই ধসে পড়ল ডেক প্ল্যাটফর্ম

বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বরগুনার আমতলী পৌরসভার কেন্দ্রীয় লেকের সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পের কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় সাড়ে ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ওয়াকওয়ের আরসিসি ডেক প্ল্যাটফর্মের একটি অংশ ধসে পড়েছে। 

রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে শ্রমিকরা নির্মাণকাজ করার সময় এ ঘটনা ঘটে। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ও অনিয়মের কারণে নির্মাণাধীন অংশ ধসে পড়েছে। ঘটনার দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

জানা গেছে, আমতলী পৌরসভার কেন্দ্রীয় লেকের সৌন্দর্যবর্ধনে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১২ কোটি ৫৬ লাখ ৯৮ হাজার ৩২৩ টাকা ব্যয়ে এলজিসিআরআরপি প্রকল্পের আওতায় কাজ হাতে নেয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে আমতলী পৌর মেয়র মো. মতিয়ার রহমান এ কাজের দরপত্র আহ্বান করেন।

অভিযোগ রয়েছে, অতি গোপনে ঝালকাঠির ইসলাম ব্রাদার্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজটি দেওয়া হয়। তবে নামে ওই প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হলেও প্রকল্পের সমুদয় কাজ সাবেক মেয়র মতিয়ার রহমানই করাচ্ছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

২০২৪ সালের ৩০ জুলাই কাজ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু হয়নি। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর মেয়র মতিয়ার রহমান স্ব-পরিবারে এলাকা ছেড়ে চলে যান বলে জানান স্থানীয়রা। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ২৫ অক্টোবর তৎকালীন আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আশরাফুল আলম প্রকল্পের কাজের উদ্বোধন করেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজের শুরুতেই প্রকল্পের ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তৎকালীন ইউএনও প্রকল্পের ব্যয় পর্যালোচনা করে তা কমিয়ে আনেন। এতে ঠিকাদার ক্ষুব্ধ হয়ে কাজ বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এরপর পুনরায় কাজ শুরু হলে নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়রা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানালেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।

আরও অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের কাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে ঠিকাদারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় ইচ্ছেমতো কাজ করা হয়েছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রোকনুজ্জামান খাঁন এবং সদ্য বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরীকে জানানো হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেননি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

এরই মধ্যে রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে লেকের পানির ওপর পিলারের মাধ্যমে নির্মাণাধীন ওয়াকওয়ের আরসিসি ডেক প্ল্যাটফর্মের একটি অংশ ধসে পড়ে। এতে নির্মাণকাজের মান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন সেখানে জড়ো হন। পরে ঠিকাদারের লোকজন ধসে যাওয়া অংশটি পলিথিন দিয়ে ঢেকে দেন বলে জানা গেছে।

এ সময় সাংবাদিকরা ধসে পড়া আরসিসি ডেক প্ল্যাটফর্মের ছবি ও তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে ঠিকাদার মতিয়ার রহমানের ম্যানেজার শ্যামল চন্দ্র, ব্যক্তিগত সহকারী পান্নু মোল্লা ও তাদের সহযোগীরা ছবি তুলতে বাধা দেন এবং অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ করেছেন সাংবাদিক মনিরুল ইসলাম, নাসরিন শিপু, মিথুন কর্মকার ও রাসেল।

স্থানীয় শাহীন, নুরুল ইসলাম ও সাইদুজ্জামান বলেন, শুরু থেকেই ঠিকাদার নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে কাজ করছেন। এ নিয়ে আমরা কয়েকবার ইউএনওকে জানিয়েছি। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এখন নির্মাণাধীন আরসিসি ডেক প্ল্যাটফর্মের অংশ ধসে পড়ায় কাজের মান নিয়ে আমাদের অভিযোগের সত্যতা সামনে এসেছে। দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইসলাম ব্রাদার্সের মালিক মো. খাইরুল আজাদ বলেন, লাইসেন্স দিয়েছি, এটা সত্য। কিন্তু কাজ করেন সাবেক মেয়র মতিয়ার রহমান। ওইখানে আমার কিছুই নেই। আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না।

অভিযোগের বিষয়ে আমতলী উপজেলা নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র মো. মতিয়ার রহমানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

আমতলী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মশিউর রহমান আরসিসি ডেক প্ল্যাটফর্মের একটি অংশ ধসে পড়ার কথা স্বীকার করে বলেন, মূল পিলার বা পাইলিংয়ে কোনো সমস্যা হয়নি। সেন্টারিংয়ের কাঠ বা ঠেলা (সাপোর্ট) খুলে যাওয়ার কারণে ঢালাইয়ের অংশটি কিছুটা ধসে পড়েছে।

তিনি আরও বলেন, যে অংশটিতে সমস্যা হয়েছে, সেটির কাজ আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেবহাটায় শিক্ষার্থীদের সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে ওসির মতবিনিময়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৫৫ পি.এম


দেবহাটায় শিক্ষার্থীদের সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে ওসির মতবিনিময়

 

সামাজিক বিনির্মাণ এবং একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনের উদ্দেশ্যে দেবহাটার টাউনশ্রীপুর শরচ্চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ে দিকনির্দেশনামূলক মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই মতবিনিময় সঞ্চালনা করেন দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এইচ এম শাহীন।

রোববার (৩০ আগস্ট) বিদ্যালয়ে উপস্থিত শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও অন্যান্যদের উদ্দেশ্যে তিনি বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, "একটি সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকাই একমাত্র যথেষ্ট নয়। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের প্রতিটি সচেতন নাগরিককে সম্মিলিতভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।"

ওসি শাহীন মাদক, বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং, সাইবার অপরাধসহ বিভিন্ন সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি আরো বলেন, "যেকোনো অপরাধ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।"

তিনি উল্লেখ করেন, "আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের দেশ ও সমাজের কর্ণধার।" তাই শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষা, নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধে গড়ে উঠতে হবে। তরুণ প্রজন্মকে সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সমাজের প্রত্যেক সচেতন মানুষের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, নৈতিক শিক্ষা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের চর্চার মাধ্যমে একটি নিরাপদ, সুন্দর ও সমৃদ্ধ সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

এসময় উপস্থিত ছিলেন টাউনশ্রীপুর শরচ্চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ, দেবহাটা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আব্দুল্লাহ আলী রেজা, দেবহাটা সদর ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক নাজমুল হুদা বাপ্পীসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৬
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%