০৯:৪৬ পি.এম
খুলনায় গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবসের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী বক্তারা জানিয়েছেন, যারা এখনও গুমের শিকার হয়ে ফিরে আসেননি, তাদেরকে অবিলম্বে স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে। পাশাপাশি, গুম থেকে ফিরে আসা ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ এবং তাদের পরিবারকে পূণর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। যদি গুমের শিকার ব্যক্তি জীবিত না থাকেন, তাহলে রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের পরিবারকে এই বিষয়টি জানাতে হবে। এই বিষয়ে ব্যর্থ হলে দেশে আবারও ফ্যাসিবাদি শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে এবং গুমের সংস্কৃতি পুনরায় ফিরে আসবে। বক্তারা আরও বলেন, প্রস্তাবিত গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন-২০২৬ এর ১৪ (৩) ও ২১ ধারা সংশোধন করে একটি বিতর্কহীন এবং সুন্দর আইন প্রণয়ন করে তা জাতীয় সংসদে পাশ করতে হবে।
গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে রোববার (৩০ আগস্ট) মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’ খুলনা ইউনিট মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে। সকাল ১১টায় খুলনা প্রেস ক্লাবের সামনে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন এবং অধিকার কর্তৃক প্রস্তুতকৃত দিবসের বিবৃতি পড়ে শোনান ‘অধিকার’ খুলনা ইউনিটের ফোকালপার্সন সাংবাদিক মুহাম্মদ নূরুজ্জামান।
আরও পড়ুন: আমি ঢাকা দক্ষিণের মেয়র পদে কাউকে মনোনয়ন দিইনি: মীর শাহে আলম
মানববন্ধনে বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, মোংলায় কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে মিরাজ শেখ নামে একজন জেলে ও মোটরসাইকেল রাইডারকে গুমের অভিযোগ উঠেছে। সরকারের প্রতি দাবি জানানো হয় যে, এই ঘটনার সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনতে হবে এবং মিরাজকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে। বক্তারা বলেন, স্বাধীন দেশে গুমের বিরুদ্ধে রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করতে হবে, জনগণকে সংগঠিত করতে হবে। বক্তারা গুমের সঙ্গে জড়িত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তার সহযোগীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।
সমাবেশে আরও জানানো হয়, গত ৩ অগাস্ট মন্ত্রিসভা গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন-২০২৬ অনুমোদন করেছে। মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত খসড়া আইনে শৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগের তদন্তের ক্ষমতা পুলিশকে প্রদান করা হয়েছিল। গত ২৭ অগাস্ট এই খসড়া আইনের কিছু পরিবর্তন করে জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়। এই আইনের ১৪(৩) ধারায় বলা হয়েছে, শৃঙ্খলা বাহিনী বা তার কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত সংশ্লিষ্ট বাহিনী পরিচালনা করতে পারবে না এবং এই ক্ষেত্রে সরকার উক্ত অভিযোগের তদন্তভার অভিযুক্ত বাহিনী ব্যতিরেকে অন্য কোনো বাহিনী বা আন্ত:বাহিনীর তদন্ত দলের কাছে অর্পণ করতে পারবে। কিন্তু এটি বাস্তবায়নযোগ্য নয়। কারণ পুলিশসহ যেকোনো শৃঙ্খলাবাহিনী কর্তৃক গুমের তদন্ত পক্ষপাতদুষ্ট হবে।
অন্যদিকে, এই আইনের ২১ ধারা অনুযায়ী তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগটি আদালতে মিথ্যা বিবেচিত হলে অভিযোগকারীর ৫ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড হতে পারে। ফলে এটি বিচারহীনতার পথকে আরও প্রশস্ত করবে এবং ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারকে গুমের অভিযোগ দায়ের করতে নিরুৎসাহিত করবে।
সমাবেশ থেকে তিনটি দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো- গুমের অভিযোগ তদন্ত করার ক্ষমতা শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে না দিয়ে স্বাধীন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ওপর তদন্তভার দিতে হবে এবং তা আইনে উল্লেখ করতে হবে, গুমের শিকার যেসব ব্যক্তি এখনও ফিরে আসেনি, তাদের স্ত্রী-সন্তানরা যাতে গুম হওয়া ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব পরিচালনাসহ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারেন সে ব্যবস্থা করতে হবে এবং যারা গুমের পর ফেরত এসেছেন, তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। মানববন্ধনকালীন সমাবেশে বক্তৃতা করেন- বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সহকারী মহাসচিব ও আমার দেশ-এর খুলনা ব্যুরো প্রধান এহতেশামুল হক শাওন, বিএফইউজের সাবেক সহ-সভাপতি, মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন খুলনার সভাপতি ও মানবজমিনের ব্যুরো প্রধান মো. রাশিদুল ইসলাম, সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন খুলনা মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক এসকে তাসাদুজ্জামান, গণসংহতি আন্দোলনের খুলনা জেলা শাখার যুগ্ম সদস্য সচিব আল-আমিন, খুলনা থানায় পুলিশের নির্যাতনের শিকার সাবেক ছাত্রদল নেতা এসএম মাহমুদুল হক টিটো, মানবাধিকার কর্মী শেখ আব্দুল হালিম, সাবেক যুবদল নেতা জি এম রাসেল ইসলাম, খুলনা জেলা ব্লাড ব্যাংকের সভাপতি শেখ ফারুক, রোটারিয়ান সাখাওয়াত হোসেন স্বপন, গুম থেকে ফিরে আসা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মো ইমরান হোসেন।
আরও পড়ুন: ফুটপাত দখলমুক্তের পাশাপাশি হকারদের পুনর্বাসন হবে: প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান
উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সাংবাদিক আব্দুল হান্নান, মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট মো. শহিদুল ইসলাম, ফটো সাংবাদিক বাপ্পি খাঁন, মো. রফিকুল ইসলাম, মো. রায়হান মোল্লা, সাংবাদিক মাসুম বিল্লাহ ইমরান, মুজাহিদুর রহমান, মিশারুল ইসলাম মনির, হাফেজ মুহাম্মদ কামরুজ্জামান, স্নিগ্ধা সুলতানা মুন্নি, নাবা আক্তার শারমিন, গালিব হাসান প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন