মঙ্গলবার, ৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:১৬ এম
পার্বত্য চট্টগ্রামে শিক্ষা, ভাষা, পরিবেশ এবং স্থানীয় জনগণের টেকসই উন্নয়নকে সমর্থন করার পাশাপাশি গণমাধ্যমের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন ইউনেস্কোর বর্তমান হেড অব অফিস ও কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. সুজান ভাইজ।
তিনি গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় রাঙ্গামাটি প্রেস ক্লাব পরিদর্শনকালে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন। মতবিনিময়ের সময় পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষা, ভাষা, পরিবেশ, বন নির্ভর জনগণের জীবন-জীবিকা এবং স্থানীয় গণমাধ্যমের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
ড. সুজান ভাইজ মন্তব্য করেন, "জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা পার্বত্য চট্টগ্রামে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করছে।" তিনি উল্লেখ করেন, ইউএনডিপি ও ইউনিসেফের মতো সংস্থাগুলো স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে কাজ করছে। যদিও ইউনেস্কোর মূল কাজের ক্ষেত্র শিক্ষা ও ভাষা, স্থানীয় জনগণের টেকসই এবং দুর্যোগ-সহনশীল উন্নয়নের জন্য কাজ করার সুযোগ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বন নির্ভর স্থানীয় জনগণের সম্পদ ব্যবস্থাপনায় সহায়তার জন্য বিভিন্ন কমিউনিটি গ্রুপ এবং বন বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে কর্মসূচি গ্রহণের বিষয়ে কাজ চলছে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রাঙ্গামাটির সাংবাদিকতা প্রসঙ্গে ড. সুজান ভাইজ মন্তব্য করেন, "এ অঞ্চলে গণমাধ্যমের বিকাশ ঘটেছে।" তিনি জানান, জেলা শহরের পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়েও অনেক সাংবাদিক কাজ করছেন। স্থানীয় বাস্তবতা ও মানুষের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরার ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ উদ্যোগকে আরও কার্যকর ও টেকসই করতে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও অবকাঠামো শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির গণমাধ্যম কর্মীদের নিয়ে ইউনেস্কোর এবং বাংলাদেশ প্রেস ইনিষ্টিটিউট- পিআইবি’র প্রশিক্ষণ কর্মশালার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণমাধ্যমের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টি কীভাবে আরও এগিয়ে নেয়া যায়, তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করা যেতে পারে।
মতবিনিময় সভায় রাঙ্গামাটি প্রেস ক্লাবের নেতৃবৃন্দ পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরে উন্নয়ন সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।
এ সময় বাংলাদেশ প্রেস ইনিষ্টিটিউট-পিআইবি’র প্রশিক্ষক জিলহাজ উদ্দিন নিপুণ, রাঙ্গামাটি প্রেস ক্লাবের সভাপতি আনোয়ার আল হক, সাধারণ সম্পাদক মুহম্মদ ইলিয়াস, সিনিয়র সহ সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন রুবেল, সাবেক সভাপতি সুনীল কান্তি দে, প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনসুর আহম্মেদসহ প্রেস ক্লাবের সদস্য ও ইউনেস্কোর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মানুষ নানা কারণে দোকানপাট ও মার্কেটে যায়। কিন্তু যদি তীব্র যানজট অতিক্রম করে গিয়ে দেখা যায় যে সব দোকানপাট বন্ধ, তাহলে সবকিছু বিফলে যাবে।
এ কারণে, মঙ্গলবার রাজধানীর কোন কোন এলাকায় দোকানপাট ও মার্কেট বন্ধ থাকবে, তা জানা প্রয়োজন।
বন্ধ থাকবে যেসব এলাকার দোকানপাট
কাঁঠালবাগান, হাতিরপুল, মানিক মিয়া এভিনিউ, রাজাবাজার, মণিপুরিপাড়া, তেজকুনীপাড়া, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, নীলক্ষেত, কাঁটাবন, এলিফ্যান্ট রোড, শুক্রাবাদ, সোবহানবাগ, ধানমণ্ডি, হাজারীবাগ, জিগাতলা, রায়েরবাজার, পিলখানা, লালমাটিয়া।
বন্ধ থাকবে যেসব মার্কেট
বসুন্ধরা সিটি, মোতালেব প্লাজা, ইস্টার্ন প্লাজা, সেজান পয়েন্ট, নিউ মার্কেট, চাঁদনী চক, চন্দ্রিমা মার্কেট, গাউসিয়া, ধানমণ্ডি হকার্স, বদরুদ্দোজা মার্কেট, প্রিয়াঙ্গন শপিং সেন্টার, গাউসুল আজম মার্কেট, রাইফেলস স্কয়ার, অরচার্ড পয়েন্ট, ক্যাপিটাল মার্কেট, ধানমণ্ডি প্লাজা, মেট্রো শপিং মল, প্রিন্স প্লাজা, রাপা প্লাজা, কারওয়ান বাজার ডিআইটি মার্কেট, অর্কিড প্লাজা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চেয়ারম্যান হওয়ার আশা নিয়ে দিনভর শোডাউনে অংশ নিয়েছিলেন কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা বিএনপির নেতা সাইফুল ইসলাম খোকন। তিনি নির্বাচনী মাঠে নিজের দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়ে বলেছিলেন, “বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না।”
কিন্তু আকস্মিক অসুস্থতায় মধ্যরাতেই চিরদিনের জন্য বিদায় নেন খোকন।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজারের একটি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। খোকনের মেঝ ছেলে সাঈদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মৃত সাইফুল ইসলাম খোকন ছিলেন চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি।
গত কয়েক মাস ধরে শুহিলপুর ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালাচ্ছিলেন তিনি।
জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিদিনের মতো গতকাল সোমবারও নিজের নির্বাচনী এলাকা উপজেলার শুহিলপুর ইউনিয়নে দিনব্যাপী ব্যাপক শোডাউন করেন সাইফুল ইসলাম খোকন। দিনভর প্রচারণা শেষে সন্ধ্যায় শালিখা বাজারে অনুষ্ঠিত পথসভায় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন তিনি। সেখানে তিনি অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানান, বর্তমান এমপি তাকেই ইউনিয়ন চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করবেন।
কর্মসূচি শেষে রাতে বাড়ি ফিরে খাবার খেয়ে ঘুমাতে যান তিনি।
এ সময় রাত আনুমানিক ১২টার দিকে হঠাৎ বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন তিনি। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে ইলিয়টগঞ্জ বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে পরে তাকে দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজারের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
সাইফুল ইসলাম খোকনের আকস্মিক মৃত্যুতে শুহিলপুর ইউনিয়নসহ চান্দিনার রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। আত্মীয়-স্বজন, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে বিরাজ করছে গভীর শোক ও বেদনা।
শুহিলপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি মোস্তফা আহমেদ বলেন, তার খুব ইচ্ছে ছিল, এবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবেন। আমাদেরকে সাথে নিয়ে তিনি সোমবার পুরো ইউনিয়নে শোডাউনসহ গণসংযোগ করেছেন। আর রাত দেড়টায় ফোন আসে তিনি আর নেই। তার এমন মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
চান্দিনা উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মাওলানা আবুল খায়ের জানান, সাইফুল ইসলাম খোকন উপজেলা বিএনপির এক পরীক্ষিত নেতা ছিলেন। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে এমপি আতিকুল আলম শাওন সুহিলপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে খোকন ভাইকে মনোনয়ন দিতেন। এমন ভরসা থেকেই তিনি শোডাউনে গিয়ে তিনি নেতাকর্মীদের আশ্বস্ত করে গর্বের সাথে বলেছিলেন, “আমি বেঁচে থাকতে কেউ নির্বাচন থেকে সরাতে পারবেন না।” এমন কথা বলার পরপর তার মৃত্যুতে আমরা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছি।
কুমিল্লা-৭ আসনের সংসদ সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আতিকুল আলম শাওন জানান, সাইফুল ইসলাম খোকন আমার মরহুম পিতার সময়কাল থেকে বিএনপির রাজনীতি করেছেন। তার এই মৃত্যুতে শুহিলপুর ইউনিয়নসহ উপজেলা বিএনপিতে শূন্যতা সৃষ্টি হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আজ মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩, ২৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮।
ঢাকা এবং এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ উল্লেখ করা হলো—
জোহরের নামাজ শুরু হবে দুপুর ১১টা ৫৯ মিনিটে।
আসরের নামাজ শুরু হবে ৪টা ২৪ মিনিটে।
মাগরিবের নামাজ অনুষ্ঠিত হবে ৬টা ১৩ মিনিটে।
এশার নামাজ শুরু হবে ৭টা ২৭ মিনিটে।
আগামীকাল ফজর শুরু ৪টা ৩০ মিনিটে
আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে ৬টা ১৩ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় হবে ৫টা ৪১ মিনিটে।
সূত্র : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরা, ঢাকা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরান ও কানাডার মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। কানাডার বিরুদ্ধে ‘কৌশলগত বিভ্রান্তি’ ছড়ানোর অভিযোগ তুলে দেশটির তীব্র সমালোচনা করেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই।
তিনি অভিযোগ করেছেন, কানাডা একদিকে শান্তি, নিরাপত্তা ও নৌ চলাচলের স্বাধীনতার কথা বলছে, অন্যদিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপ এবং নিষেধাজ্ঞাকে সমর্থন করছে। সোমবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বাঘাই এসব কথা বলেন।
য়ের প্রতিবেদন জানায়, এর আগে কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনিতা আনন্দ ও অর্থমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া-ফিলিপ শ্যাম্পেন ইরানের আঞ্চলিক কর্মকাণ্ড এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে দেশটির হুমকির নিন্দা জানান। এর পরই ইরানের পক্ষ থেকে কানাডার বিরুদ্ধে এই কঠোর প্রতিক্রিয়া আসে।
বাঘাই বলেন, উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানানোর বদলে কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ ও ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞাকে সমর্থন করছে। তার ভাষায়, কানাডা ‘তাদের দাদাগিরি করা প্রতিবেশীকে তুষ্ট করার’ পথ বেছে নিয়েছে। তিনি বলেন, কানাডা একই সঙ্গে শান্তি ও নিরাপত্তা, নৌ চলাচলের স্বাধীনতা এবং আন্তর্জাতিক আইনের পক্ষে থাকার দাবি করতে পারে না। আবার মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ ও ওয়াশিংটনের কর্মকাণ্ডকেও সমর্থন করতে পারে না।
বাঘাই কানাডার পররাষ্ট্রনীতির স্বাধীনতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি অভিযোগ করেন, কানাডার নেতারা পারস্য উপসাগরের পরিস্থিতি সঠিকভাবে তুলে ধরছেন না। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি নৌ চলাচলের স্বাধীনতাই কানাডার প্রধান উদ্বেগ হয়, তাহলে দেশটি কেন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাকে সমর্থন করছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থা রাখার ক্ষেত্রেও কানাডার অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। বাঘাই বলেন, কানাডা অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অসততা’ দেখেছে।
তাহলে কানাডার উচিত ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ, অবরোধ ও অর্থনৈতিক চাপ বন্ধের আহ্বান জানানো। ইরানের এই মুখপাত্র আরো বলেন, কানাডার বর্তমান অবস্থানকে কূটনীতি বা দায়িত্বশীল রাষ্ট্র পরিচালনা বলা যায় না। তার মতে, এটি ‘কৌশলগত বিভ্রান্তি’ এবং ভয়ভীতির কাছে আত্মসমর্পণের প্রকাশ। এ ধরনের নীতি কানাডাকে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ও আগ্রাসন থেকেও রক্ষা করতে পারবে না।
বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থা তৈরির জন্য ইরানকে দায়ী করার অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেছেন বাঘাই। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার আগে হরমুজ প্রণালি খোলা ও নিরাপদ ছিল। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর আগে পর্যন্ত এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে চলাচল স্বাভাবিক ছিল। ইরানের পক্ষ থেকে এমন বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনপথগুলোর একটি হওয়ায় এই প্রণালিতে উত্তেজনা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে।
ইরানের বক্তব্যের আগে কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনিতা আনন্দ ও অর্থমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া-ফিলিপ শ্যাম্পেন যৌথ বিবৃতিতে তেহরানের কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানান। তারা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে চাওয়া জাহাজগুলোর প্রতি ইরানের হুমকি, ইরানের পারমাণবিক কর্মকাণ্ড এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থনের অভিযোগও তুলে ধরেন তারা। কানাডার দুই মন্ত্রী বলেন, এসব কর্মকাণ্ড আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর। বিবৃতিতে কানাডা জানায়, গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথগুলো আবার নিরাপদ ও সচল করতে এবং ইরানের আর্থিক উৎসের ওপর চাপ বাড়াতে তারা মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করছে। বিশেষ করে জি-৭সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জোট ও অংশীদারের সঙ্গে সমন্বয়ের কথা উল্লেখ করেছে কানাডা। দেশটি হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করছে বলেও জানানো হয়।
কানাডা আরো জানিয়েছে, ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বিভিন্ন অর্থনৈতিক চাপের উদ্যোগের অংশ হিসেবেও কানাডা কাজ করছে বলে বিবৃতিতে বলা হয়। কানাডার দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টিও যৌথ বিবৃতিতে তুলে ধরা হয়েছে। কানাডার দুই মন্ত্রী জানান, ২০১০ সাল থেকে দেশটি বিভিন্ন আইনের আওতায় ইরানের ৪৯২ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। তারা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা এবং ইরানকে তার কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে চাপ দিতে কানাডা ভবিষ্যতেও মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে পদক্ষেপ নেবে। ইরান ও কানাডার মধ্যে এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের আগে হরমুজ প্রণালি ঘিরে সামরিক উত্তেজনাও বেড়েছে।
স্থানীয় সময় শনিবার ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌবাহিনী জানায়, তারা হরমুজ প্রণালিতে ‘অনুমোদনহীন পথে’ চলাচল করা তিনটি তেলবাহী জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরো তিনটি জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করার কথাও জানায় তারা। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালায় বলে দাবি করে ইরান। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিংয়ে প্রচারিত এক বিবৃতিতে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌবাহিনী জানায়, মার্কিন সামরিক বাহিনীর হামলায় ইরানের তিনটি তেলবাহী জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরানি বাহিনী দাবি করে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার চেষ্টা হিসেবেই যুক্তরাষ্ট্র ওই হামলা চালিয়েছে।
ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালি ও আশপাশের এলাকায় চলাচলকারী জাহাজগুলোকেও সতর্ক করেছে। তারা জাহাজগুলোকে ইরানের ভাষায় ‘অনুমোদনহীন জলপথ’ এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছে। ইরান ও কানাডার মধ্যে এই নতুন করে উত্তেজনা এমন সময়ে তৈরি হয়েছে, যখন কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কেও টানাপোড়েন চলছে। দুই দীর্ঘদিনের মিত্র দেশের মধ্যে বাণিজ্য নিয়ে বিরোধ বাড়ছে। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পণ্যের ওপর পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি একটি বাণিজ্য চুক্তি করতে আলোচনায় বসার প্রস্তুতি নিচ্ছে তার সরকার। একই সঙ্গে কানাডার শ্রমিক, পরিবার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে সুরক্ষা দেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ‘সবচেয়ে বেশি সুযোগ নেওয়া দেশগুলোর একটি’ হিসেবে মন্তব্য করেছেন। শুল্কের প্রভাব এড়াতে কানাডার কম্পানিগুলোকে তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম যুক্তরাষ্ট্রে সরিয়ে নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন ট্রাম্প।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ