ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ডেঙ্গুতে ৭ বছরে মৃত্যু ১২ গুণ, আক্রান্ত ১৫ গুণ বেড়েছে


ডেঙ্গুতে ৭ বছরে মৃত্যু ১২ গুণ, আক্রান্ত ১৫ গুণ বেড়েছে

বাংলাদেশে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ডেঙ্গু রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই মশাবাহিত রোগের কারণে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ২৯৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে আক্রান্ত হয়েছেন ৫০ হাজার ২০৮ জন। পরবর্তী ৭ বছর ৯ মাসে ডেঙ্গুতে ৩ হাজার ৪৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৭ লাখ ৮৬ হাজার ৯১ জন আক্রান্ত হয়েছেন।

অর্থাৎ, মৃত্যুর সংখ্যা ১১ দশমিক ৭১ গুণ এবং আক্রান্তের সংখ্যা ১৫ দশমিক ৬৬ গুণ বেড়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে অন্তত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ১ হাজার ৮৬৮ জন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২০১ জন এবং আক্রান্তের সংখ্যা ৬৭ হাজার ৩৬৭ জনে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এডিস মশার প্রজনন নিয়ন্ত্রণে দুর্বলতা, আক্রান্তের সংখ্যা কম নথিভুক্ত হওয়া, হাসপাতালে ভর্তিতে দেরি করা এবং একই ব্যক্তি বারবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়া এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মুস্তাক হুসাইন বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে টেকসই ব্যবস্থা গড়ে তুলতে দীর্ঘমেয়াদি, সমন্বিত ও জনকেন্দ্রিক জনস্বাস্থ্য কর্মসূচি প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে

তিনি উল্লেখ করেন, এডিস মশা বিভিন্ন পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিয়েছে। অল্প পরিমাণ জমে থাকা পানিতেও এই মশা বংশবিস্তার করতে সক্ষম। এমনকি ফেলে দেওয়া ছোট পাত্রের ভেতরেও এডিস মশার প্রজনন হতে পারে। এর বিস্তার এখন আর কেবল শহরাঞ্চলে সীমাবদ্ধ নেই, এটি ক্রমেই গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ছে, যোগ করেন তিনি।

জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং বারবার সংক্রমণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। একজন ব্যক্তি একাধিকবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হতে পারেন। যেসব জনগোষ্ঠীর মধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা কম বা শূন্যের কোটায় ছিল, তারাও এখন এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা কীভাবে পরিমাপ করা হচ্ছে—এ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মুস্তাক।

স্বল্পমেয়াদি অভিযানের পরিবর্তে কয়েক বছর ধরে কেন্দ্রীয়ভাবে সমন্বিত মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি চালানোর আহ্বান জানান তিনি। যেখানে আবর্জনা, পানি জমে থাকে এবং মশার প্রজনন বেশি হয়, সেসব এলাকাকে সেই কর্মসূচিতে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। মুস্তাক বলেন, ‘ডেঙ্গুকে আর শুধুমাত্র মৌসুমি রোগ হিসেবে দেখা উচিত না।’

ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনায় তিন স্তরের ব্যবস্থা চালুর পরামর্শ দিয়ে এই বিশেষজ্ঞ বলেন, কমিউনিটি পর্যায়ের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে বিনা মূল্যে বা কম খরচে ডেঙ্গু শনাক্তকরণ ও প্রাথমিক পরীক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। যেসব রোগীর নিবিড় পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন, তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা হাসপাতালের মতো মাধ্যমিক পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে পাঠাতে হবে। আর গুরুতর বা জটিল রোগীদের চিকিৎসা দিতে হবে মেডিকেল কলেজ ও বিশেষায়িত হাসপাতালে।

আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

ঢাকার ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশন, রেলওয়ে, ব্যাংক ও অন্যান্য স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান পরিচালিত বিদ্যমান হাসপাতালগুলোকে মাধ্যমিক পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের পরামর্শ দেন তিনি। মুস্তাক আরও মনে করেন, প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য অতিরিক্ত শয্যা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে হবে। এতে তৃতীয় স্তরের হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ কমবে এবং গুরুতর অসুস্থ রোগীরা বিশেষায়িত চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেন, আক্রান্তের সংখ্যা কম রিপোর্ট হওয়া এবং বারবার সংক্রমণের ঘটনা ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা বেশি হওয়ার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। ২০১৯ সালের পরে অধিকাংশ বছরেই ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা বেশি ছিল। আগের মতো নির্দিষ্ট সময় পরপর ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যাওয়া বা কমার প্রবণতা এখন আর দেখা যাচ্ছে না।

এর একটি সম্ভাব্য কারণ, ডেঙ্গু আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা সরকারি হিসাবের তুলনায় অনেক বেশি হতে পারে। অনেক আক্রান্ত ব্যক্তির তথ্যই সরকারি হিসাবে আসে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিপুলসংখ্যক হাসপাতাল ও ক্লিনিক থাকলেও এর অল্প একটি অংশ নিয়মিত ডেঙ্গু রোগীর তথ্য জানায়। বাশার বলেন, ডেঙ্গুতে মৃত্যুহার বা কেস ফ্যাটালিটি রেট হিসাবের ক্ষেত্রে আক্রান্তের সংখ্যা কম রিপোর্ট করার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের অনেকেই গুরুতর অবস্থায় থাকেন। আবার মৃত্যুর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তির ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ঘটে।

বারবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়াও আরেকটি কারণ। পরবর্তী সংক্রমণে মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে জানান এই বিশেষজ্ঞ। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে দুই দশকের বেশি সময় ধরে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ায় ক্রমেই বেশি মানুষ একবার বা একাধিকবার এতে আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রে তাদের আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি শনাক্তের বাইরে থেকে যায়।

আরও পড়ুন: সেনাপ্রধানের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ, এলএফটি-২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নৌ খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান নৌপরিবহন মন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৪৬ পি.এম


নৌ খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান নৌপরিবহন মন্ত্রীর

চট্টগ্রাম, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম উল্লেখ করেছেন, দেশের নৌ ও শিপিং খাতের বিশাল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের নৌ খাতে প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠান ও অবকাঠামোর কোনো অভাব নেই। এখন প্রয়োজন এসব প্রতিষ্ঠানকে একত্রিতভাবে কাজে লাগিয়ে সম্ভাবনাময় এই খাতকে আরও উন্নত করা।

আজ সকালে চট্টগ্রামের জলদিয়াস্থ বাংলাদেশ মেরিন একাডেমিতে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড মেরিটাইম ডে-২০২৬ ও বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি, বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএমওএ) এবং বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএএএ) যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

নৌপরিবহন মন্ত্রী বলেন, সমুদ্রভিত্তিক অর্থনীতি ও বাণিজ্যের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে অনেক দেশ বিশ্ব অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ স্থান তৈরি করেছে। বাংলাদেশেরও যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি বলেন, অতীতের সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে কোথায় অসঙ্গতি রয়েছে তা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।

শেখ রবিউল আলম আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বের প্রায় ৮০০ কোটি মানুষের অর্থনীতি ও বাণিজ্য সমুদ্রপথ নির্ভর। অথচ এই বিশাল কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত দক্ষ জনশক্তি তুলনামূলকভাবে খুবই কম। তাই মেরিটাইম সেক্টরে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা এবং এই খাতে আরও বিনিয়োগ করা অত্যন্ত জরুরি।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ জনশক্তিকে কাজে লাগিয়ে নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে সরকারের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও মনোযোগ থাকবে।

চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রসঙ্গে নৌপরিবহন মন্ত্রী বলেন, পিসিটি, এনসিটি, লালদিয়া ও বে টার্মিনালসহ বিভিন্ন প্রকল্পে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বন্দরের সক্ষমতা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে মোংলা বন্দর ও বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চলেও বিনিয়োগ বাড়ছে।

তিনি বলেন, এসব বিনিয়োগের সুফল পেতে হলে সেবা ও দক্ষতার মানও সমানভাবে বাড়াতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. জাকারিয়া এবং বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএমওএ) সভাপতি ক্যাপ্টেন আনাম চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর মো. শফিউল বারি এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির কমান্ড্যান্ট ক্যাপ্টেন কাজী এবি এম শামীম।

অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে গার্ড অব অনার, প্যারেড পরিদর্শন, বর্ণাঢ্য র‌্যালি, বেলুন উড়ানো ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং দ্বিতীয় পর্বে আলোচনা সভা, কেক কাটা, মধ্যাহ্নভোজ ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এ সময় ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, মেরিটাইম খাতের বিশিষ্ট ব্যক্তি, সরকারি কর্মকর্তা, প্রশিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, ক্যাডেট ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশের স্বাস্থ্যখাতের সংস্কার ও উন্নয়নে চিকিৎসক নেতৃবৃন্দকে এগিয়ে আসার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৪৭ পি.এম


দেশের স্বাস্থ্যখাতের সংস্কার ও উন্নয়নে চিকিৎসক নেতৃবৃন্দকে এগিয়ে আসার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

ঢাকা, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার এবং স্বাস্থ্যখাতের দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা দূর করার লক্ষ্যে চিকিৎসক নেতৃবৃন্দকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার ও সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদের নেতৃত্বে সংগঠনটির ২০ সদস্যের প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম বাসসকে এ তথ্য জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার কারণে স্বাস্থ্যখাতের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হয়নি। ডাক্তার, নার্স, টেকনোলজিস্ট ও মেডিকেল যন্ত্রপাতির প্রয়োজনীয়তা এবং কাঠামোর সঠিক পরিকল্পনা ছিল না।

তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে সর্বাধিক বরাদ্দ প্রদান করেছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে স্বাস্থ্যখাতে সুব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

এ সময় রাষ্ট্রপতি নতুন ডাক্তার নিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং যন্ত্রপাতি ক্রয়ের জন্য যথাযথ পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

পদোন্নতি ও পদায়নে বিগত দিনের তদবির সংস্কৃতি বন্ধ করে যোগ্য ব্যক্তিদের সঠিক পদে পদায়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি এবং চিকিৎসকদের গবেষণায় আরও শক্তিশালী ভূমিকা রাখার অনুরোধ করেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে যথাযথ ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনতে হবে।

রাষ্ট্রপতি সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবং বিগত ফ্যাসিস্ট শাসনামলের অত্যাচার-নির্যাতনে আহত নেতা-কর্মী ও তাঁর নিজের চিকিৎসায় আন্তরিক সাহায্য ও সহযোগিতার জন্য চিকিৎসকদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

ড্যাব-এর প্রধান উপদেষ্টা ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার বর্তমানে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, এসব ঘটনার ফলে চিকিৎসকদের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হচ্ছে। এ ধরনের ঘটনা বন্ধে সরকারের আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

সাক্ষাৎকালে ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে বর্তমান সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং সকল অংশীজনকে সঙ্গে নিয়ে স্বাস্থ্যখাতের বিভিন্ন নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের আশা প্রকাশ করেন।

এ সময় রাষ্ট্রপতির সচিবগণ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আবারও ৪ দিনের রিমান্ডে এমপি নজরুল ইসলাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৪৭ পি.এম


আবারও ৪ দিনের রিমান্ডে এমপি নজরুল ইসলাম

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে, যিনি দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন, আদালত আবারও চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেন এ রিমান্ডের আদেশ প্রদান করেন।

পুলিশ ইতোমধ্যে এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে এ মামলায় চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। রিমান্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির তেজগাঁও জোনাল টিমের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বৃহস্পতিবার আবারও সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার জন্য আবেদন করেন।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, আসামির জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে যে মৃত নারী খুবই আবেগী ছিলেন। আসামি জানায়, পারিবারিক বিভিন্ন সমস্যার কারণে এবং অভিমানে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। মামলাটি চাঞ্চল্যকর হওয়ায় এবং মূল রহস্য উদঘাটনের জন্য আসামিকে আরও নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায় বিচারের জন্য আসামিকে পুনরায় সাত দিনের পুলিশ রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।

এর আগে, গত ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় মৃত মরিয়মের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ শেরে বাংলা নগর থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা দায়ের করেন। মামলায় এমপি গাজী নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী মাকসুদা বেগম এবং শ্যালক ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়।

গ্রেপ্তারের পর, গত ২১ সেপ্টেম্বর গাজী নজরুলের চার দিনের রিমান্ড এবং তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। রিমান্ড শেষে গত ২২ সেপ্টেম্বর মাকসুদাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ২৩ সেপ্টেম্বর, এই মামলায় গ্রেপ্তারের পর মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকেও কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মক্কা ও সৌদির বিভিন্ন এলাকায় সতর্কতা জারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৪৭ পি.এম


মক্কা ও সৌদির বিভিন্ন এলাকায় সতর্কতা জারি

সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কাসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সম্ভাব্য বিপদের কারণে একাধিক সতর্কতা জারি করেছে সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সৌদি সিভিল ডিফেন্সের পক্ষ থেকে এই সতর্কতাগুলি প্রকাশ করা হয়।

সতর্কতার আওতায় রয়েছে পবিত্র নগরী মক্কা, দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাবুক, লোহিত সাগরের তীরবর্তী জেদ্দা ও ইয়ানবু এবং দক্ষিণাঞ্চলের তাইফ এলাকা।

সৌদি আরবের এই অঞ্চলে বিপজ্জনক পরিস্থিতির সম্ভাবনা থাকায় স্থানীয় বাসিন্দা এবং সেখানে অবস্থানরত সকলকে সতর্ক থাকার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিশেষ করে কর্তৃপক্ষের দেওয়া নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলা এবং পরিস্থিতি সম্পর্কে নিয়মিত আপডেট নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

মক্কা ও জেদ্দার মতো জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এ ধরনের সতর্কতা জারি হওয়ায় বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। মক্কা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় নগরী, যেখানে প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক মানুষ যাতায়াত করেন। অন্যদিকে, জেদ্দা ও ইয়ানবু লোহিত সাগরের উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ শহর ও বন্দর এলাকা।

এদিকে, সতর্কতার আওতায় থাকা তাবুক ও তাইফও সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। ফলে একাধিক স্থানে একসঙ্গে সতর্কতা জারি করায় স্থানীয়ভাবে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

তবে প্রকাশিত এসব সতর্কতার পেছনে ঠিক কী ধরনের সম্ভাব্য ঝুঁকি রয়েছে, তা বিস্তারিতভাবে জানানো হয়নি। সতর্কতার ধরন ও সংশ্লিষ্ট এলাকার পরিস্থিতি সম্পর্কে সৌদি কর্তৃপক্ষের পরবর্তী নির্দেশনার দিকে নজর রাখা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%