১০:৪৯ পি.এম
ঠিকাদারি কাজ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৮ কোটি ১৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের মূলহোতা জাহাঙ্গীর আলম, যিনি ওরফে জাবেদ নামেও পরিচিত, তাকে গ্রেপ্তার করেছে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
রবিবার (২৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় বিষয়টি কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেন পিবিআই-এর পুলিশ সুপার মোস্তফা কামাল রাশেদ। এর আগে ১৯ আগস্ট রাজধানীর কাওরান বাজার এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআই সূত্র জানায়, মামলার বাদী মো. মিজানুর রহমান পেশায় ঠিকাদার। ২০২২ সালে তাঁর সঙ্গে জাহাঙ্গীর আলমের পরিচয় হয়। নিজেকে ঠিকাদার হিসেবে পরিচয় দিয়ে জাহাঙ্গীর ঢাকা উত্তরার ৬ নম্বর সেক্টরে ‘ওরিয়ান কনস্ট্রাকশন’ নামে একটি অফিস ভাড়া নেন।
আরও পড়ুন: উখিয়ায় ১৫ ঘণ্টা পরও জ্বলছে গ্যাসের আগুন, ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ
সেখানে একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি), ছয়জন প্রকৌশলীসহ ১৫ সদস্যের একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিচালনা হতো বলে পিবিআই জানিয়েছে।
চক্রটি ঢাকা সিটি করপোরেশনের লাইটিং স্থাপন, সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপন, বিমানবন্দরটির লাইটিং, বালু ভরাট এবং ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে পাথর সরবরাহসহ বিভিন্ন প্রকল্পে অংশীদার করার প্রস্তাব দিয়ে ব্যবসায়ীদের প্রলুব্ধ করত।
পিবিআই জানায়, ওই প্রলোভনে পড়ে মিজানুর রহমান চেকের মাধ্যমে চক্রটিকে ৮ কোটি ১৩ লাখ টাকা দেন। টাকা পাওয়ার পর জাহাঙ্গীর ও তাঁর সহযোগীরা অফিস বন্ধ করে এবং মোবাইল ফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যান।
এ ঘটনায় ফতুল্লা থানায় মামলা হলে গত ১০ আগস্ট তদন্তভার নেয় পিবিআই নারায়ণগঞ্জ। পরে তথ্যপ্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ১৯ আগস্ট রাতে কাওরান বাজার এলাকা থেকে জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আরও পড়ুন: তাহিরপুরে প্রবাসীর স্ত্রী ও পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে উধাও নাজমুল, পরিবার উদ্বিগ্ন
পিবিআই আরো জানায়, এক দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে জাহাঙ্গীর ৮ কোটি ১৩ লাখ টাকা আত্মসাতের কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর নামে ভিন্ন পরিচয়ে ১০ থেকে ১২টি ব্যাংক হিসাব, ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র এবং একাধিক মোবাইল নম্বর ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে।
পিবিআই নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মোস্তফা কামাল রাশেদ বলেছেন, ‘তদন্তে জাহাঙ্গীর আলমকে সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের মূলহোতা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তার সঙ্গে আরো কয়েকজন সক্রিয় সদস্য জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তারা স্বনামধন্য ব্যক্তিদের টার্গেট করে বিভিন্ন প্রকল্পের কথা বলে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নিত। চক্রটির অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।’
তিনি আরো জানান, রিমান্ড শেষে ২১ আগস্ট জাহাঙ্গীরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলায় জড়িত অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন