বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:৩১ পি.এম
রাজবাড়ীর পাংশা এলাকায় কাতার প্রবাসীর স্ত্রী রুনা খাতুন (৩০) কে হত্যার অভিযোগে মিলন শেখ (২৭) নামে এক আসামীর বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন কারাদন্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদন্ড প্রদান করেছে আদালত। মিলন শেখ পাংশা উপজেলার মুচিদহ খামারডাঙ্গী গ্রামের খলিল শেখের পুত্র। নিহত রুনা খাতুন পাংশা উপজেলার মুচিদহ খামারডাঙ্গী গ্রামের কাতার প্রবাসী আনিসুর রহমানের স্ত্রী।
বুধবার দুপুরে রাজবাড়ী বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. ইউসুফ হোসেন এ রায় প্রদান করেন। মামলার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ১৯ আগস্ট রাত সাড়ে ১০ টার দিকে রুনা খাতুন তার স্বামী ও দুই সন্তান নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত দেড় টার দিকে ছেলে হুসাইনের কান্নার শব্দে মেয়ে সিনহার ঘুম ভেঙে যায়।
মিলনকে বসত ঘরের বিদ্যুতের আলোতে দেখে চিনতে পেরে সিনহা তাকে জিজ্ঞাসা করে, "আমার মা কোথায়?" তখন মিলন জানায়, "তোমার আম্মু আমাদের বাড়ীতে গেছে।" সিনহা তার ছোট ভাইয়ের কান্না থামানোর চেষ্টা করে, কিন্তু ভাইয়ের কান্না বাড়তে থাকলে সে তাকে কোলে নিয়ে মাকে ডাকতে বারান্দায় আসে। মিলন সিনহার মুখ চেপে ধরে এবং বলে, "চিৎকার করলে প্রাণে মেরে ফেলবো।"
সিনহা তার মুখ থেকে মিলনের হাত সরানোর চেষ্টা করলে মিলন ও অজ্ঞাতনামা আরও দুইজন দৌড়ে পালিয়ে যায়। সিনহা কান্না করতে করতে উঠানের উপর গিয়ে দেখে তার মাকে মাটিতে দুই পা বাঁধা অবস্থায় পড়ে থাকতে। চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে রুনা খাতুনকে মৃত অবস্থায় দেখতে পায়। আসামী মিলনসহ তার স্ত্রী রুনার বাড়ীতে বিভিন্ন সময় টাকার বিনিময়ে গৃহস্থলী কাজ করতো।
ধারণা করা হচ্ছে, পরিকল্পিতভাবে রুনা খাতুনকে বসত বাড়ীর উঠানের উপর মাটিতে ফেলে দুই পা দড়ি দিয়ে বেঁধে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। তার ব্যবহৃত একটি রেডমি এনড্রয়েড মোবাইল ফোন জোরপূর্বক নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে পাংশা থানায় সংবাদ দিলে থানা পুলিশ বাড়ীতে উপস্থিত হয়ে রুনা খাতুনের মৃত দেহের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।
এ ঘটনায় ২০২৩ সালের ২০ আগস্ট রুনা খাতুনের বড় ভাই মোঃ রায়হান বিশ^াস বাদী হয়ে মিলনসহ অজ্ঞাতনামা দুইজনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন।
মামলার বাদী রায়হান বিশ^াস বলেন, "আমি আমার ছোট বোনের হত্যাকারীর যাবজ্জীবন কারাদন্ডের এ রায়ে সন্তুষ্ট। অন্যান্য আসামীর সঠিক বিচার আশা করছি।"
আসামী মিলনের স্ত্রী চম্পা খাতুন বলেন, "আমি এখন দুই সন্তান নিয়ে কোথায় যাবো, কি খাবো। ন্যায় বিচার পেলাম না, আমার স্বামী নির্দোষ। আমি আপীল করবো।"
আসামীপক্ষের আইনজীবী এ্যাড. মোঃ নাজমুল হাসান বলেন, "আসামী ন্যায় বিচার পায়নি। আমরা উচ্চ আদালতে আপীল করবো।"
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সহকারী কৌশলী এ্যাড. আইয়ুব আলী খান বলেন, "এ মামলায় তিন আসামীর মধ্যে একজনের রায় আজ হলো। দুইজনের বিচার শিশু আদালতে হচ্ছে। আজকের রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। ন্যায় বিচার পেয়েছে বাদী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গোয়ালিয়রের একটি সাধারণ ছেলে একদিন বলিউডে নিজের অবস্থান তৈরি করবে—এ কথা শুনে অনেকেই হয়তো হাসাহাসি করেছিলেন। কিন্তু কার্তিক আরিয়ান জানতেন স্বপ্ন দেখতে কেমন হয়। সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য তিনি দীর্ঘ ও কঠিন পথ অতিক্রম করেছেন। এবার সেই পথচলার জন্য বড় একটি স্বীকৃতি হিসেবে ভারতের অন্যতম সম্মানজনক চলচ্চিত্র পুরস্কার তাঁর হাতে উঠেছে।
রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছ থেকে সেরা অভিনেতার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার গ্রহণ করেছেন কার্তিক আরিয়ান। ‘চান্দু চ্যাম্পিয়ন’ সিনেমায় ভারতের প্রথম প্যারাঅলিম্পিক স্বর্ণপদকজয়ী সাঁতারু মুরলিকান্ত পেটকরের চরিত্রে অভিনয়ের জন্য এই সম্মান অর্জন করেছেন তিনি।
গুজরাটে অনুষ্ঠিত ৭২তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে কার্তিকের হাতে তুলে দেওয়া হয় ‘রজত কমল’ ও সম্মাননা সনদ। পুরস্কার গ্রহণের সময় আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন অভিনেতা। যেন চোখের সামনে ভেসে উঠছিল গোয়ালিয়রের সেই দিনগুলো, যেখান থেকে তিনি অভিনেতা হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে মুম্বাইতে পা রেখেছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে কার্তিক লিখেছেন, “গোয়ালিয়রের সেই সাধারণ ছেলেটির দিকে আজ পিছন ফিরে হাসিমুখে তাকাচ্ছি, যে এমন এক পরিবেশ থেকে অভিনেতা হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিল যেখানে মানুষ এমন স্বপ্নে কেবল হেসে উড়িয়ে দিত। অবশেষে আমি সেই মুহূর্তটির সাক্ষী হলাম এবং জীবনকে উপভোগ করলাম... আনন্দে আর উত্তেজনায় এখনও অনুভূতিহীন লাগছে।”
‘চান্দু চ্যাম্পিয়ন’-এর চরিত্রটির জন্য কার্তিক পুরোপুরি নিজেকে বদলে ফেলেছিলেন। মুরলিকান্ত পেটকরের শরীরী ভাষা, মানসিকতা ও জীবনের সংগ্রাম পর্দায় বিশ্বাসযোগ্যভাবে তুলে ধরতে তিনি কঠোর শারীরিক প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। দর্শক ও সমালোচকদের কাছেও তাঁর সেই পরিশ্রম প্রশংসিত হয়েছে।
এবার সেই কঠোর পরিশ্রমের জন্য জাতীয় স্বীকৃতি পাওয়া গেল। তবে এ বছর এককভাবে নয়, যৌথভাবে সেরা অভিনেতার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন কার্তিক আরিয়ান ও মালয়ালম তারকা মাম্মুটি। ‘ব্রহ্মযুগম’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য সম্মাননা পেয়েছেন মাম্মুটি।
এই অর্জনের জন্য পরিচালক কবির খান ও প্রযোজক সাজিদ নাদিয়াদওয়ালার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন কার্তিক। মুরলিকান্ত পেটকরের মতো একটি চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পাওয়াকে তিনি নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম বিশেষ অধ্যায় হিসেবেও উল্লেখ করেছেন।
কার্তিকের ভাষ্যে, চরিত্রটির যাত্রা মোটেও সহজ ছিল না। তবে সেই কঠিন পথ পেরিয়ে পাওয়া সাফল্যের স্বাদ তাঁর কাছে “রসমলাইয়ের মতোই মিষ্টি।”
নিজের জাতীয় পুরস্কার পরিবার, বন্ধু ও পুরো টিমের পাশাপাশি দেশের প্রতিটি প্যারাঅলিম্পিয়ান এবং অসম্ভবকে সম্ভব করার স্বপ্ন দেখা মানুষদের উৎসর্গ করেছেন কার্তিক আরিয়ান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সরকারের নির্দেশনার আলোকে ডেঙ্গু প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে বরিশালের হিজলা উপজেলার হিজলা-গৌরবদী ইউনিয়ন প্রশাসকের উদ্যোগে একটি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এই অভিযানে অংশগ্রহণ করেছে যুব নবজাগরণ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং প্রবাসী কল্যাণ ফাউন্ডেশন।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়ে উভয় সংগঠনের সদস্যরা তাদের সন্তোষ প্রকাশ করেন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে এই ধরনের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগকে তারা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
হিজলা-গৌরবদী ইউনিয়ন প্রশাসক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং কর্মসূচিতে উপস্থিত সকলের প্রতি যুব নবজাগরণ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে।
অভিযানে অংশগ্রহণকারী যুব নবজাগরণ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও প্রবাসী কল্যাণ ফাউন্ডেশনের সকল সদস্যকেও ধন্যবাদ জানানো হয়। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রম, আন্তরিকতা এবং স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের ফলে ডেঙ্গু প্রতিরোধ অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
সংগঠনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে এই ধরনের মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে যুব নবজাগরণ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও প্রবাসী কল্যাণ ফাউন্ডেশন ভবিষ্যতেও মানুষের পাশে থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে বর্তমানে একটি ‘বিপজ্জনক পর্যায়’ অতিক্রম করার বিষয়ে সতর্ক করেছেন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি। তিনি ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাতের সমাধান এবং বড় ধরনের সামরিক বিপর্যয় এড়াতে অবিলম্বে কূটনৈতিক পথ অনুসরণের জন্য জরুরি আহ্বান জানিয়েছেন।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বক্তব্য প্রদানকালে কাতারি আমির উল্লেখ করেন, "উপসাগরীয় অঞ্চলের বর্তমান সংকটের স্থায়ী সমাধান কেবল কূটনৈতিক পথেই সম্ভব। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত আলোচনার টেবিলে বসা প্রয়োজন।"
শেখ তামিম তাঁর বক্তব্যে বলেন, বছরের পর বছর ধরে কূটনৈতিক সমাধান পিছিয়ে দেওয়ার ফলে বর্তমান যুদ্ধের চূড়ান্ত পরিণতি দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, একটি কার্যকর ‘যৌথ আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা’ গড়ে না ওঠার কারণে এই ধরনের সামরিক সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে তেলবাহী ট্যাঙ্কার চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
সম্প্রতি ইরাক থেকে চালিত ড্রোন হামলায় সৌদি আরবের প্রধান ‘ইস্ট-ওয়েস্ট পলি পাইপলাইন’ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে, যা জ্বালানি সংকট সৃষ্টি করেছে।
ফিলিস্তিন ইস্যুতে, আমির গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ফিলিস্তিনিদের ন্যায়বিচার না পাওয়া পর্যন্ত বিশ্বে স্থায়ী শান্তি বা আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা ফিরে আসবে না।
শেখ তামিম পুনর্ব্যক্ত করেন যে, উপসাগরীয় অঞ্চলের মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে কাতার সংকট নিরসনে সর্বোচ্চ ভূমিকা পালন করবে। তবে তিনি একই সঙ্গে দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ড রক্ষায় কাতার সম্পূর্ণ দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রংপুর, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বাংলার হাজার বছরের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের একটি প্রাণবন্ত ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে লালন, বাউল, মুর্শিদি কিংবা পল্লিগীতি। এই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় দেশের উত্তারাঞ্চলীয় জেলা লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায়, তিস্তা পাড়ের ডেওডোবা গ্রামে শিশুদের গানের টানে উপস্থিত হন বাংলাদেশে নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেন। তিস্তা পাড়ের এই গ্রামে বাড়ির উঠানে তখন শিশুদের গান ও বাদ্যযন্ত্রের তালিম চলছিল।
গতকাল মঙ্গলবার, রাষ্ট্রদূত হাকন আরাল্ড গুলব্রান্ডসেন দেওডোবা গ্রামে সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠন ‘মায়ের তরী’ পরিদর্শন করেন। এই সময় শিশুদের কণ্ঠে গাওয়া গান এবং বাজানো বাদ্যযন্ত্রের সুরে তিনি বিমোহিত হন। বিশেষ করে একতারা, দোতারা, সারিন্দা, বেহালা ও বাঁশির সুরে তিনি আকৃষ্ট হয়ে পড়েন। তিনি শিশুদের লোকসংগীত চর্চা, লোকবাদ্যযন্ত্রের প্রশিক্ষণ এবং সংগঠনটির বিভিন্ন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন।
রাষ্ট্রদূত মন্তব্য করেন, বাংলাদেশের সমৃদ্ধ লোকসংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তিনি বলেন, দীর্ঘ এক দশক ধরে ‘মায়ের তরী’ নীরবে যে কাজ করে যাচ্ছে, তা দেশের লোকসংস্কৃতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
তিনি আরও বলেন, লোকসংগীত ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য শুধুমাত্র একটি দেশের অতীতকে ধারণ করে না, বরং এটি মানুষে মানুষে সম্পর্ক তৈরিরও শক্তিশালী মাধ্যম। ‘মায়ের তরী’র মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিশুরা সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগ পাচ্ছে। একই সঙ্গে স্থানীয় ঐতিহ্য, লোকগান ও লোকবাদ্যযন্ত্রের ধারাগুলো নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে।
‘মায়ের তরী’র নির্বাহী পরিচালক সুজন কুমার বেদ বাসস’কে জানান, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলায় বর্তমানে সংগঠনটির উদ্যোগে ৯টি ‘গুরুগৃহ’ পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি দুটি লোকবাদ্যযন্ত্র প্রশিক্ষণকেন্দ্রে ১২৫ জন শিক্ষার্থী বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। প্রতি মাসে ১৫ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে ‘তরী’র একটি বিশেষ ক্লাসও পরিচালিত হয়। এসব গুরুগৃহে পাঁচ শতাধিক শিশু বাংলা লোকগান শিখছে।
‘মায়ের তরী’ পরিচালিত ডেওডোবা গ্রামে গুরুগৃহের গুরু লিপি দেবনাথ বাসস’কে বলেন, কার্যক্রমটির বড় সীমাবদ্ধতা হচ্ছে অর্থ ও সংরক্ষণ-সুবিধার অভাব। তিনি উল্লেখ করেন, একটি আধুনিক স্টুডিও তৈরি করা গেলে প্রবীণ লোকশিল্পী ও শিশুশিল্পীদের গান-বাদ্য নিয়মিত রেকর্ড করে ডিজিটাল আর্কাইভ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এতে লিখিতভাবে সংরক্ষিত নয়-এমন বহু গান ও সুর হারিয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা পাবে।
‘মায়ের তরী’র সংগঠক ইউসুফ আলমগীর বাসস’কে বলেন, ‘লোকসংগীত চর্চার মাধ্যমে শিশুদের আত্মশুদ্ধি ও জীবনবোধের বিকাশ’ এই চিন্তাকে ধারণ করেই কাজ করছে সংগঠনটি।
তিনি জানান, ‘সীমিত সামর্থ্য, স্বেচ্ছাশ্রম আর ভালোবাসার ওপর ভর করেই এক দশক ধরে এগিয়ে চলছে ‘মায়ের তরী’। বড় কোনো অবকাঠামো নেই, নেই পর্যাপ্ত প্রযুক্তিগত সুবিধাও। তবে গ্রামে গ্রামে বাড়ির উঠানে উঠানে গান থামেনি।
‘মায়ের তরী’র গল্পের সঙ্গে জড়িয়ে আছে নরওয়ের নাগরিক লেখক, লোকগবেষক, আলোকচিত্রী ও কবি মিস উয়েরা সেথের নাম।
তিনি প্রথম বাংলাদেশে আসেন ১৯৯৮ সালে। কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদেরবুকে দক্ষিণ নামাজের চর এলাকায় বন্যা-পরবর্তী মানুষের জীবন দেখতে গিয়ে চরের নারীদের কণ্ঠে মারফতি ও মুর্শিদি গান শুনে মুগ্ধ হন তিনি। পরবর্তী সময়ে বাংলার লোকগানের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হয়ে স্থানীয় শিল্পী ও সংগঠকদের নিয়ে ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ‘মায়ের তরী’। বাংলার লোকসংস্কৃতির প্রতি তার অনুরাগের আরেকটি দৃষ্টান্ত হচ্ছে, লালনের ৫৩টি গান নরওয়েজিয়ান ভাষায় অনুবাদ করে বই প্রকাশ।
রাষ্ট্রদূতের সফরসঙ্গী ছিলেন ডেপুটি হেড অব মিশন আলেতজান্ডা ফাল্ক বাইডেন, প্রোগ্রাম অফিসার শাহপার সেলিম, স্ট্রমি ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি ডাইরেক্টর মিজানুর রহমান ও প্রোগ্রাম ম্যানেজার চন্দন কুমার সরকার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ