প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গোয়ালিয়রের একটি সাধারণ ছেলে একদিন বলিউডে নিজের অবস্থান তৈরি করবে—এ কথা শুনে অনেকেই হয়তো হাসাহাসি করেছিলেন। কিন্তু কার্তিক আরিয়ান জানতেন স্বপ্ন দেখতে কেমন হয়। সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য তিনি দীর্ঘ ও কঠিন পথ অতিক্রম করেছেন। এবার সেই পথচলার জন্য বড় একটি স্বীকৃতি হিসেবে ভারতের অন্যতম সম্মানজনক চলচ্চিত্র পুরস্কার তাঁর হাতে উঠেছে।
রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছ থেকে সেরা অভিনেতার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার গ্রহণ করেছেন কার্তিক আরিয়ান। ‘চান্দু চ্যাম্পিয়ন’ সিনেমায় ভারতের প্রথম প্যারাঅলিম্পিক স্বর্ণপদকজয়ী সাঁতারু মুরলিকান্ত পেটকরের চরিত্রে অভিনয়ের জন্য এই সম্মান অর্জন করেছেন তিনি।
গুজরাটে অনুষ্ঠিত ৭২তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে কার্তিকের হাতে তুলে দেওয়া হয় ‘রজত কমল’ ও সম্মাননা সনদ। পুরস্কার গ্রহণের সময় আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন অভিনেতা। যেন চোখের সামনে ভেসে উঠছিল গোয়ালিয়রের সেই দিনগুলো, যেখান থেকে তিনি অভিনেতা হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে মুম্বাইতে পা রেখেছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে কার্তিক লিখেছেন, “গোয়ালিয়রের সেই সাধারণ ছেলেটির দিকে আজ পিছন ফিরে হাসিমুখে তাকাচ্ছি, যে এমন এক পরিবেশ থেকে অভিনেতা হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিল যেখানে মানুষ এমন স্বপ্নে কেবল হেসে উড়িয়ে দিত। অবশেষে আমি সেই মুহূর্তটির সাক্ষী হলাম এবং জীবনকে উপভোগ করলাম... আনন্দে আর উত্তেজনায় এখনও অনুভূতিহীন লাগছে।”
‘চান্দু চ্যাম্পিয়ন’-এর চরিত্রটির জন্য কার্তিক পুরোপুরি নিজেকে বদলে ফেলেছিলেন। মুরলিকান্ত পেটকরের শরীরী ভাষা, মানসিকতা ও জীবনের সংগ্রাম পর্দায় বিশ্বাসযোগ্যভাবে তুলে ধরতে তিনি কঠোর শারীরিক প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। দর্শক ও সমালোচকদের কাছেও তাঁর সেই পরিশ্রম প্রশংসিত হয়েছে।
এবার সেই কঠোর পরিশ্রমের জন্য জাতীয় স্বীকৃতি পাওয়া গেল। তবে এ বছর এককভাবে নয়, যৌথভাবে সেরা অভিনেতার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন কার্তিক আরিয়ান ও মালয়ালম তারকা মাম্মুটি। ‘ব্রহ্মযুগম’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য সম্মাননা পেয়েছেন মাম্মুটি।
এই অর্জনের জন্য পরিচালক কবির খান ও প্রযোজক সাজিদ নাদিয়াদওয়ালার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন কার্তিক। মুরলিকান্ত পেটকরের মতো একটি চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পাওয়াকে তিনি নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম বিশেষ অধ্যায় হিসেবেও উল্লেখ করেছেন।
কার্তিকের ভাষ্যে, চরিত্রটির যাত্রা মোটেও সহজ ছিল না। তবে সেই কঠিন পথ পেরিয়ে পাওয়া সাফল্যের স্বাদ তাঁর কাছে “রসমলাইয়ের মতোই মিষ্টি।”
নিজের জাতীয় পুরস্কার পরিবার, বন্ধু ও পুরো টিমের পাশাপাশি দেশের প্রতিটি প্যারাঅলিম্পিয়ান এবং অসম্ভবকে সম্ভব করার স্বপ্ন দেখা মানুষদের উৎসর্গ করেছেন কার্তিক আরিয়ান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন