ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শুভেন্দু সরকারের জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে কৃষকদের প্রতিবাদ


শুভেন্দু সরকারের জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে কৃষকদের প্রতিবাদ

 

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে জয়লাভ করার পর বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সীমান্ত রাজনীতিতে উদ্বেগজনক মোড় নিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) জন্য বাংলাদেশ লাগোয়া সীমান্তে জমি অধিগ্রহণের যে ঘোষণা দিয়েছেন, তা কার্যত ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে বিদ্বেষমূলক পথে নিচ্ছে।

সরকার পক্ষ থেকে ৫০০ একরের বেশি জমি অধিগ্রহণ করে বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়ার যে পরিকল্পনা মুর্শিদাবাদ জেলায় শুরু করতে গিয়ে রাজ্য প্রশাসনকে কৃষকদের প্রবল প্রতিরোধের মুখে পড়তে হয়েছে। সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য মানুষের ফসলি জমি কেড়ে নেওয়ার এই রাজনীতি নিয়ে বিস্তৃত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে পশ্চিমবঙ্গের প্রধান মানবাধিকার সংস্থা অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রটেকশন অব ডেমোক্রেটিক রাইটস (এপিডিআর)। সংগঠনের মুর্শিদাবাদ জেলা সম্পাদক রাহুল চক্রবর্তী প্রতিবেদনটি চিঠি আকারে জেলার প্রশাসকের কাছে পাঠিয়েছেন।

আরও পড়ুন: ডা. জুবাইদা রহমান টোকিওতে হাসপাতাল ও জাদুঘর পরিদর্শন

এপিডিআর মুর্শিদাবাদ জেলা কমিটির ৯ সদস্য ডোমকল ব্লকের ঘোষপাড়া সর্বপল্লী ভুতগাড়ির মাঠ পর্যবেক্ষণ করেন এবং কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন। এই মাঠে প্রায় ১৫ হাজার বিঘা অত্যন্ত উর্বর তিন ফসলি জমি রয়েছে, যার ওপর দক্ষিণ ঘোষপাড়া, সর্বপল্লী, ফরাজীপাড়া, মুরাদপুর ও উত্তর ঘোষপাড়া—এই পাঁচটি গ্রামের প্রায় ৬০০ কৃষক পরিবার সম্পূর্ণভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। সরকারি খাতায় নথিভুক্ত এই বিস্তীর্ণ কৃষি জমিতে সারা বছর পাট, গম, কলাই, মসুর, রসুন, পেঁয়াজ ও বিভিন্ন সবজির প্রচুর ফলন হয়।

কৃষকরা প্রতিনিধি দলকে জানিয়েছেন, তারা মূলত ক্ষুদ্র কৃষক। পরিবারপ্রতি জমির পরিমাণ সর্বোচ্চ দুই বিঘা। বাপ-দাদার আমল থেকে তারা এই জমিতে চাষাবাদ করে আসছেন। এই জমিটুকুই তাদের বেঁচে থাকার একমাত্র সম্বল।

সীমান্তে ২৭ কিলোমিটার (কিমি) এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করতেই শুভেন্দু সরকার বিএসএফকে এই জমি দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।

কৃষকরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তারা কোনোমতেই এই জমি বিক্রি করবেন না। এই বিষয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গত ৩১ মে। ডোমকল মহকুমার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে বিএসএফ হঠাৎ করেই লাল পতাকা টানিয়ে প্রায় ১৫ হাজার বিঘা জমি অধিগ্রহণ করতে যায়। এর প্রতিবাদে কৃষকরা তুমুল বিক্ষোভ শুরু করেন। ভুতগাড়ির মাঠসংলগ্ন সড়কে বিপুলসংখ্যক কৃষক অবস্থান নিলে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।

আরও পড়ুন: পাকিস্তানে বায়ুদূষণে মানুষের গড় আয়ু কমছে ৪ বছর

জলঙ্গি থানার পুলিশ ও বিএসএফ যৌথভাবে জমায়েত ছত্রভঙ্গ করতে এলে কৃষকদের সঙ্গে তাদের ব্যাপক বচসা বাধে। শেষ পর্যন্ত পুলিশ প্রশাসন কৃষকদের চাষের জমি দখল না করার মৌখিক আশ্বাস দিলে কৃষকরা সড়ক ছেড়ে যান।

কৃষকরা জানিয়েছেন, বিএসএফ যদি তাদের চাষের জমি হাঁড়িয়ে অন্য কোনো স্থানে নিজেদের শিবির বানালে তাতে তাদের কোনো আপত্তি নেই। ডোমকল মহকুমার এই অঞ্চলের জমিতে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চাষ করেন। পাশের হিন্দু গ্রামের কৃষকেরাও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তারা কিছুতেই এই জমি ছাড়বেন না। বিএসএফ ও পুলিশ ক্রমশ এলাকার চাষিদের বিরুদ্ধে দাঁড়াচ্ছে, আর জবরদখলের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী কৃষকদের পুলিশ নানাভাবে হয়রানি করছে। জলঙ্গি এলাকার কৃষকরা পুলিশের ভয়ে তটস্থ হয়ে পড়েছেন।

এপিডিআর তাদের চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে, পশ্চিমবঙ্গের জমি অধিগ্রহণ আইন অনুযায়ী, কৃষকদের অসম্মতিতে চাষের জমি অধিগ্রহণ করার এই চেষ্টা সম্পূর্ণ বেআইনি ও অসাংবিধানিক। বিএসএফ ও পুলিশ প্রতিবাদী কৃষকদের যেভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে, তা চরম অন্যায়।

এই জমি অধিগ্রহণের নেপথ্যে অত্যন্ত সুকৌশলে ‘বাংলাদেশি’ প্রসঙ্গ টেনে আনা হচ্ছে বলে এপিডিআর গুরুতর অভিযোগ তুলেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সীমান্ত থেকে ১৫ কিমি পর্যন্ত কার্যত বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়ার বিজ্ঞপ্তির আড়ালে মালদা, মুর্শিদাবাদ, নদীয়া এবং উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার সীমান্তে ‘হোল্ডিং’ বা ‘ডিটেনশন সেন্টার’ (আটক কেন্দ্র) নির্মাণের আসল উদ্দেশ্যই হলো চাষের জমি কেড়ে নেওয়া। কৃষকরা যাতে জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে না পারেন, সেই লক্ষ্যেই তাদের ভয় দেখাতে ‘বাংলাদেশি তকমা’ দেওয়ার মতো ভয়ংকর জনবিরোধী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তাদের ডিটেনশন ক্যাম্পে ঢোকানো বা মিথ্য মামলায় ঝুলিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

আরও পড়ুন: তালেবান: আফগানিস্তানে আসা বেশিরভাগ ওষুধই পাকিস্তান থেকে পাচার হওয়া

এপিডিআরের বক্তব্য, মুর্শিদাবাদ থেকে বাংলাদেশি সন্দেহে বেশকিছু মানুষকে বিএসএফের মাধ্যমে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো হয়েছে। মানবতাবিরোধী, বেআইনি ও অসাংবিধানিক এই ঠেলে পাঠানো অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে এপিডিআর।

সংগঠনটি স্পষ্ট জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ঠেলে পাঠানো সব মানুষের পরিচয় প্রকাশ করতে হবে এবং বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী বলে সাধারণ মানুষকে হেনস্তা করা বন্ধ করতে হবে। দেশের আইন অনুযায়ী সন্দেহ হলেই কাউকে দিনের পর দিন আটক রাখা যায় না। কেবল আদালতে আইনি প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশি প্রমাণিত হলেই কাউকে বাংলাদেশ সরকারের মাধ্যমে সে দেশে পাঠানো যেতে পারে।

জোর করে কৃষিজমি অধিগ্রহণের তীব্র বিরোধিতা করে এপিডিআর মুর্শিদাবাদ শাখা গত বৃহস্পতিবার মুর্শিদাবাদের জেলা প্রশাসকের দপ্তরে লিখিত স্মারকলিপি জমা দিয়েছে। জেলার অর্থনীতিতে ব্যাপক কু-প্রভাব ফেলা এই অধিগ্রহণ বাতিলের পাশাপাশি তাদের দাবি, মুর্শিদাবাদের সমস্ত আটক কেন্দ্র অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

এপিডিআরের জেলা সম্পাদক রাহুল চক্রবর্তী প্রেস বিবৃতিতে জানিয়েছেন, দেশের নিরাপত্তা অবশ্যই দরকার, কিন্তু তার নামে সাধারণ চাষিদের রুটিরুজি কেড়ে নেওয়া কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। সংগঠনের নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তাদের এই দাবিগুলো দ্রুত পূরণ না হলে আগামী দিনে সর্বস্তরের সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

আরও পড়ুন: ব্রাজিলের বলসোনারো পরিবার ক্ষমতা ও নির্বাসনের দ্বন্দ্বে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাঁচা-মরার লড়াইয়ে মুখোমুখি ইকুয়েডর ও কুরাসাও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ২১শে জুন, ২০২৬ ইং

০৬:৩৯ এম


বাঁচা-মরার লড়াইয়ে মুখোমুখি ইকুয়েডর ও কুরাসাও

বিশ্বকাপে নিজেদের টিকে থাকার লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়েছে ইকুয়েডর এবং কুরাসাও। বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টায় কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচ শুরু হয়ে গিয়েছে।

নকআউট পর্বের আশা বাঁচিয়ে রাখার জন্য এই ম্যাচটি দুই দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম ম্যাচে হারের কারণে আজ জয়ের আর কোন বিকল্প নেই ইকুয়েডর এবং কুরাসাওয়ের।

প্রথম ম্যাচে আইভরি কোস্টের বিরুদ্ধে তারা পুরো সময় সমানতালে লড়াই করার পরও শেষ মুহূর্তে ১-০ ব্যবধানে হারে ইকুয়েডর। ফিলাডেলফিয়ায় সেই হার ছিল ল্যাটিন আমেরিকার দলটির জন্য একটি বড় ধাক্কা, কারণ দুই বছর এবং টানা ১৯ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ডটি ভেঙে যায়।

অন্যদিকে, বিশ্বকাপে নিজেদের অভিষেক ম্যাচে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয় কুরাসাও। শক্তিশালী জার্মানির বিরুদ্ধে ৭-১ গোলের বড় পরাজয়ের মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে যাত্রা শুরু করে ক্যারিবীয় অঞ্চলের ক্ষুদ্রতম দেশটি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘ককটেল ২’-এ ত্রিভুজ প্রেম, প্রশংসায় শহীদ-কৃতি-রাশমিকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

রবিবার, ২১শে জুন, ২০২৬ ইং

০৬:৪৫ এম


‘ককটেল ২’-এ ত্রিভুজ প্রেম, প্রশংসায় শহীদ-কৃতি-রাশমিকা

দক্ষিণী সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির জনপ্রিয় অভিনেত্রী রাশমিকা মান্দানার সিনেমা 'ককটেল ২' মুক্তির আগেই চর্চায় ছিল। শুক্রবার (১৯ জুন) সিনেমা দেখার পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে উপচে পড়ছে নেটিজেনদের একের পর এক পোস্ট। হোমি আদাজানিয়ার এ রোমান্টিক ড্রামা নিয়ে নানা মুনির নানা মত।

অভিনেতা শহীদ কাপুর, কৃতি শ্যানন ও রাশমিকা মান্দানা— এ তিনজনের নতুন জুটিকে একদিকে যেমন ভালোবাসায় ভরিয়েছেন সবাই, ঠিক তেমনই উঠেছে সমালোচনার ঝড়ও। সামাজিক মাধ্যমের নেটিজেনদের একাংশ আবার সিনেমাটির অভিনয় ও আবেগঘন মুহূর্তগুলোর প্রশংসা করেছেন।

সব মিলিয়ে নেটদুনিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া বলা চলে। এই তিনজন অভিনয়ের মধ্যে অবশ্য কৃতি শ্যাননই তুলনায় দর্শকদের সবচেয়ে বেশি প্রশংসা পেয়েছেন। আবার কেউ কেউ এ সিনেমাটিকে কৃতির ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা কাজ বলেও অভিহিত করেছেন।

এক নেটিজেন লিখেছেন— পর্দায় কৃতি শ্যাননের উপস্থিতি রাশমিকা মান্দানাকে পুরোপুরি ছাপিয়ে গেছে। আরেক নেটিজেন লিখেছেন,— কৃতি শ্যাননই আক্ষরিক অর্থে ‘ককটেল ২’ সিনেমার প্রাণ সঞ্চার করেছেন।

অন্যদিকে রাশমিকা মান্দানার অভিনয়ে ততোধিক খুশি নন সিনেমাপ্রেমী দর্শকরা। কিছু দর্শকের মতে, সহ-অভিনেতার তুলনায় রাশমিকার অভিনয় অনেকটাই ম্লান। কেউ কেউ প্রশ্ন তোলেন এ সিনেমায় তার ভূমিকা নিয়েও। অনেকের কাছে যা অপ্রয়োজনীয় বলে মনে হয়েছে।

অন্যদিকে শহীদ কাপুরের অভিনয়ে বহু দর্শক যেমন তার চরিত্রের সঙ্গে ও দুই নায়িকার অন-স্ক্রিন রসায়নের প্রশংসা করেছেন, ঠিক তেমনই আবার কোথাও কোথাও ‘অতিরঞ্জিত’ বলেও মনে হয়েছে অভিনেতাকে।

সিনেমার বিজনেস অ্যানালিস্ট তরণ আদর্শ অবশ্য সিনেমাটিকে ভিন্ন স্বাদের বলে ব্যাখ্যা করেছেন। ইতিবাচক পর্যালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, প্রত্যাশা পূরণ করেছে ‘ককটেল ২’ সিনেমা। একই সঙ্গে অভিনেতাদের অভিনয়ও এ সিনেমাটিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। তিনি সিনেমার গান ও চিত্রনাট্যেরও প্রশংসা করেছেন।

এর আগে ২০১২ সালে অভিনেতা সাইফ আলি খান, অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোন ও ডায়ানা পেন্টি অভিনীত ‘ককটেল’ মুক্তি পেয়েছিল। ১৪ বছর পর এর সিক্যুয়েল মুক্তি পেল ‘ককটেল ২’।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজধানীর কদমতলীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২১শে জুন, ২০২৬ ইং

০৬:৫০ এম


রাজধানীর কদমতলীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু

রাজধানীর কদমতলী থানার শ্যামপুর স্কুল রোডের পালপাড়া বেলতলা এলাকায় একটি ভবনে কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মো. মোজাম্মেল রাঢ়ী (৩৫) নামে এক নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন।

মোজাম্মেলকে হাসপাতালে নিয়ে আসা ভবনের মালিক মো. শরীফ জানান, ভবনের পেছন দিকে তৃতীয় তলায় মাচা বেঁধে প্লাস্টারের কাজ করছিলেন তিনি। এ সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন। পরে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি আরও জানান, নিহত মোজাম্মেল পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার কালাইবেশর বরইতলা গ্রামের আব্দুর রশিদ রাঢ়ীর ছেলে। বর্তমানে তিনি পরিবারের সঙ্গে শ্যামপুর এলাকায় বসবাস করতেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মোহাম্মদ ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তিস্তা সেতুর রক্ষা বাঁধে ভয়াবহ ভাঙন, ঝুঁকিতে রংপুর-কাকিনা সড়ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২১শে জুন, ২০২৬ ইং

০৬:৫৬ এম


তিস্তা সেতুর রক্ষা বাঁধে ভয়াবহ ভাঙন, ঝুঁকিতে রংপুর-কাকিনা সড়ক

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় মহিপুর তিস্তা সেতু রক্ষা বাঁধে ভয়াবহ ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে সেতুর পাশাপাশি রংপুর-কাকিনা সড়ক ঝুঁকির সম্মুখীন হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) সন্ধ্যা থেকে তিস্তায় পানি বৃদ্ধির কারণে সেতুটির উত্তর-পশ্চিম প্রান্তের রক্ষা বাঁধে ধস নামে। রাত ১০টা পর্যন্ত ৩০ মিটার অংশ নদীগর্ভে চলে গেছে। এর ফলে সেখানে প্রায় ৬০ ফুট গভীর গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এই অবস্থার কারণে মহিপুর সেতু ও কাকিনাগামী সড়কের সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, গত বছর বাঁধটির প্রায় ১০০ ফুট নদীগর্ভে বিলীন হয়েছিল। তখন এলজিইডি ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁধের উজানে বাঁশের পাইলিং করে এটি রক্ষার চেষ্টা করেছিল। তবে পরবর্তী সময়ে টেকসই কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। যার ফলে এবার পানির তীব্র স্রোতে সেই পাইলিং ভেঙে পড়েছে।

এ বিষয়ে লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল হাদী বলেন, ‘গত বছর ভাঙনের সময় আমি এলজিইডিকে ব্লক দিয়ে বাঁধটিকে টেকসই করার অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু তারা শোনেননি। ১৪ লাখ টাকা খরচ করে বাঁশের পাইলিং করা হয়েছিল। এবার সেটিও ভেসে গেছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সেতুর অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যেতে পারে। সরকারি অর্থ অপচয়ের জন্য এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।’

গঙ্গাচড়া উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী শাহ মো. ওবায়দুর রহমান জানান, ‘গত বছর ঢাকা থেকে আসা বিশেষজ্ঞ দলের পরামর্শে পাইলিং করা হয়েছিল। নতুন করে ভাঙনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এছাড়া গংগাচড়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইইউ) জেসমিন আক্তার বলেন, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%