বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:৫৫ এম
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপে কাটা রোগীদের ভ্যাকসিন অ্যান্টিভেনম কেনার টাকা আত্মসাতের ঘটনায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য চট্টগ্রাম বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. শেখ ফজলে রাব্বি স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অভিযুক্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুর রহমান বদলি হয়ে যাওয়ার ৬ মাস পর এ মাসের ১ তারিখ লক্ষ্মীপুরের কমলনগর সোনালী ব্যাংক শাখা থেকে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ছেংগারচর বাজার শাখার অ্যাকাউন্টে ১ লক্ষ ৮৩ হাজার টাকা জমা দেওয়া হয়।
তদন্ত কমিটির সভাপতি করা হয়েছে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মাহবুবুর রহমানকে। এছাড়াও চাঁদপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম ফয়সালকে সদস্য সচিব ও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. নাজমুল হাসানকে সদস্য করে এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলায় সাপে কাটা ২ শতাধিক রোগী প্রতিবছর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসেন। কিন্তু সাপে কাটা রোগীদের ভ্যাকসিন অ্যান্টিভেনমের চাহিদার তুলনায় সরকারি বরাদ্দ খুবই সামান্য।
উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, সাপে কাটা রোগীদের জীবন রক্ষাকারী অ্যান্টিভেনমের জন্য উপজেলা প্রশাসনের বরাদ্দকৃত সেই ৩ লক্ষ টাকা একজন চিকিৎসকের আত্মসাত করার বিষয়টি খুবই ন্যক্কারজনক। দুর্নীতিগ্রস্ত এই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
তদন্ত কমিটির সভাপতি ডা. মাহবুবুর রহমান জানান, বিষয়টি যেহেতু তদন্তাধীন, সে কারণে এ বিষয়ে আমি আগাম কিছু বলতে চাচ্ছি না।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রাজন কুমার দাশ বলেন, ঘটনাটি আমাদের জন্য বিব্রতকর ও লজ্জাজনক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের বাজারে কয়েক দফা কমার পর বেড়েছে স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ভরিতে সবশেষ ১ হাজার ৫০ টাকা বাড়িয়েছে। এতে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়। সেদিন সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) নির্ধারিত ওই দামেই বিক্রি হবে স্বর্ণ।
নতুন দাম অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের হলমার্ক করা স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯০ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম ১ লাখ ৯১ হাজার ৫৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬৪ টাকা।
এর আগে গতকাল শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সবশেষ স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সেদিন ভালো মানের প্রতি ভরি স্বর্ণে ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৩১ হাজার ৮৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
বাজুস জানিয়েছে, তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে স্বর্ণের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাজুস জানিয়েছে, অলংকারের ডিজাইন অনুযায়ী, মজুরি প্রযোজ্য হবে। তবে স্বর্ণ ও রুপার অলংকারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে বাজুস নির্ধারিত এই বিক্রয়মূল্য কার্যকর থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাদক শনাক্তকরণ ‘ডোপ টেস্ট’ করার খবর শুনে গা ঢাকা দিয়েছেন চাঁদপুর নতুন বাজার পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মামুন উর রশিদ।
ডোপ টেস্টের কথা জানতে পেরে গত মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) তিনি ফাঁড়ি থেকে চলে যান বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নতুন বাজার পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত ১৮ জন সদস্যের মধ্যে এসআই মামুন উর রশিদের আচরণ নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। এমনকি তিনি নিয়মিত মাদক সেবন করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত হতে তাকে ডোপ টেস্ট করানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এদিকে ডোপ টেস্টের খবর শুনে তার গা ঢাকা দেওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে চাঁদপুরের পুলিশ সুপারের নির্দেশে তাকে খুঁজে বের করে ফাঁড়িতে নিয়ে আসার জন্য পুলিশ সদস্যরা তার বাসায় যান। তবে সেখানে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।
নতুন বাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার এবং বুধবার দুদিনই তার বাসায় পুলিশ সদস্য পাঠানো হয়েছে। কিন্তু তাকে বাসায় পাওয়া যায়নি। এমনকি তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বরটিও মঙ্গলবার থেকে বন্ধ রয়েছে।
পুলিশ ফাঁড়ি জানায়, ফাঁড়িতে কর্মরত সদস্যদের মধ্যে যাদের আচরণ সন্দেহজনক মনে হবে, তাদের পর্যায়ক্রমে ডোপ টেস্টের আওতায় আনা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার খাই হাওড়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে এই বাইচের উদ্বোধন করা হয়। প্রতিযোগিতা দেখতে সকাল থেকেই হাওড়ের চারপাশে ঢল নামে উৎসুক দর্শনার্থীদের।
আয়োজকরা জানান, নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় স্থানীয় ও বিভিন্ন জেলা থেকে আসা মোট ২২টি নৌকা অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতাটি মোট ৩টি ধাপে অনুষ্ঠিত হয়। ঢাক-ঢোল আর কাঁসরের বাদ্যে, বৈঠার তালে নৌকার মাঝিদের হাঁক-ডাক, দর্শকদের করতালি ও চিৎকারে পুরো খাই হাওড় এলাকায় এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দূর-দূরান্ত থেকে আসা হাজার হাজার দর্শনার্থীর উপস্থিতি ছিল।
এতে চ্যাম্পিয়ন হয় জগন্নাথপুরের জাকির তরি, রানার্সআপ স্বপ্নের তরি-১, ৩য় হয়েছে রঙ্গিন পবন।
দর্শনার্থীরা জানান, গ্রামবাংলার এই হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মাঝে আনন্দের খোরাক জোগাতে এ ধরনের আয়োজনের ভূমিকা অপরিসীম। প্রতি বছর এমন আয়োজন অব্যাহত রাখার দাবি তাদের।
শান্তিগঞ্জের পূর্ববীরগাঁও গ্রামের দোলন মিয়া বলেন, এই নৌকা বাইচ আমাদের পূর্বপুরুষের আমল থেকে হয়ে আসছে। আমরা চাই প্রতিবছরই এ ধরনের আয়োজন হোক।
শান্তিগঞ্জ উপজেলার সলফ গ্রামের বাসিন্দা ফরিদ আহমেদ বলেন, সকাল থেকে রোদের মধ্যে এসে খেলা উপভোগ করেছি। হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত হয়েছেন।
নৌকা বাইচের আয়োজক আবুল হোসেন জানান, মানুষকে আনন্দ বিনোদন দিতেই এই আয়োজন করেছি। ২২টি নৌকা অংশগ্রহণ করেছে এই প্রতিযোগিতায়।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিল্লোল চাকমা বলেন, খুবই সুন্দর একটি আয়োজন ছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভোটারদের আস্থা অর্জন এবং নির্বাচিত হওয়ার পর জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি নতুন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সমীকরণ গড়ে উঠতে যাচ্ছে, যা তৃণমূলের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
সরকার গঠনের পর বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দলকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও শক্তিশালী, গতিশীল ও সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে কাজ করে চলেছেন। দেশের বিভিন্ন জেলায় উন্নয়ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের পাশাপাশি নেতাকর্মীদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা হচ্ছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে উন্নয়নের সুফল তৃণমূলের মানুষের কাছে পৌঁছায় এবং স্থানীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচিত হয়।
সরকারের বিশ্বাস, এই নির্বাচনের মাধ্যমে দলীয় পর্যায়ে যোগ্য ও জনপ্রিয় নেতৃত্ব বাছাইয়ের পাশাপাশি তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের দূরত্ব কমবে, জনসম্পৃক্ততা বাড়বে এবং এলাকার উন্নয়ন ও নাগরিক সমস্যার প্রতি দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি পাবে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম মন্তব্য করেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু হওয়ার পর থেকেই তৃণমূল নেতাদের মধ্যে উৎসাহ ও দায়বদ্ধতা তৈরি হয়েছে। তারা নিজ উদ্যোগে ভোটারদের খোঁজ-খবর নিচ্ছেন এবং এলাকার বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখছেন। এর ফলে ভোটারদের সঙ্গে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সরাসরি সম্পর্ক গড়ে উঠছে।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় নেতাদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সমন্বয় বাড়ছে। জনপ্রিয়তা অর্জন এবং ভোটারদের আস্থা ধরে রাখতে নেতারা এলাকায় সময় দিচ্ছেন। স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন বিরোধ ও সমস্যা সমাধানে তারা এগিয়ে আসছেন, ফলে নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে জনগণের সরাসরি যোগাযোগ ও দায়বদ্ধতার সম্পর্ক তৈরি হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এবার কোনো দলীয় প্রতীক থাকবে না। ফলে ভোটাররা প্রার্থীর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, গ্রহণযোগ্যতা এবং এলাকার মানুষের জন্য তার ভূমিকা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। স্থানীয় নেতাদের জনগণের কাছে যেতে হচ্ছে নিজেদের জনপ্রিয়তা বাড়াতে ও ভোটারদের আস্থা অর্জন করতে।
তিনি বলেন, দলীয় প্রতীক না থাকলেও স্থানীয়ভাবে বিএনপি-সমর্থিত নির্দিষ্ট প্রার্থী থাকতে পারেন। তবে এককভাবে কোনো প্রার্থীকে দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের সুযোগ নেই। স্থানীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য ও জনপ্রিয় প্রার্থীকে সামনে আনার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার জন্য সরকার নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করবে। দলীয় প্রতীক না থাকলেও কোনো প্রার্থী কোন রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গে যুক্ত, তা স্থানীয়ভাবে মানুষের কাছে পরিচিত হতে পারে। তবে এ কারণে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতায় কোনো প্রভাব পড়বে না।
স্থানীয় সরকার সংশ্লিষ্টরা জানান, চলতি অর্থবছরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলের সর্বস্তরে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের সঙ্গে বেশ কয়েকটি বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে ভালো ফল করার জন্য যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেখানে প্রার্থীর জনপ্রিয়তা ও স্থানীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতাকে প্রধান মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করার বার্তাও দেওয়া হয়েছে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে সরকার নির্বাচনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করবে। স্থানীয় নির্বাচনের মধ্য দিয়ে প্রশাসকদের দায়িত্ব শেষ না হলে পরে সমালোচনা তৈরি হতে পারে।
তিনি বলেন, ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধি দায়িত্ব গ্রহণ করলে জনগণের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতা বাড়বে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার কারণে এলাকার মানুষের সমস্যা, উন্নয়ন এবং নাগরিক সেবার বিষয়ে জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে ভোটারদের সরাসরি সম্পর্ক তৈরি হবে।
এদিকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনও প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। কমিশন জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে নির্বাচনের দিন-তারিখ চূড়ান্ত করা হবে। স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচন পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করার প্রস্তুতি চলছে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব নির্বাচন সম্পন্ন করতে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সাত ধাপে আয়োজনের সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে নির্বাচন কমিশন প্রাথমিক প্রস্তুতি নিচ্ছে।
প্রথম ধাপের ভোট ১২ নভেম্বর, দ্বিতীয় ধাপে ১৩ ডিসেম্বর, তৃতীয় ধাপে ৩০ ডিসেম্বর, চতুর্থ ধাপে আগামী বছরের ১৭ জানুয়ারি, পঞ্চম ধাপে ৪ ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ধাপে ২২ এপ্রিল এবং সপ্তম ধাপে ২৭ মে ভোট গ্রহণের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে।
দেশে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশন রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য, পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলর, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান এবং সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলররা সরাসরি জনগণের গোপন ভোটে নির্বাচিত হন। নির্ধারিত এলাকার ভোটাররা সরাসরি তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করেন।
অন্যদিকে জেলা পরিষদের সদস্য ও চেয়ারম্যানরা সংশ্লিষ্ট এলাকার স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ভোটে পরোক্ষভাবে নির্বাচিত হন।
স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন আইনে এসব নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনকে দেওয়া হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ আইনের ২০ ধারায় বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রণীত বিধি অনুসারে ইসি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নির্বাচন আয়োজন, পরিচালনা ও সম্পাদন করবে। ভোট গ্রহণের তারিখ, সময়, স্থান এবং নির্বাচন পরিচালনা সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়ে বিধান করার ক্ষমতাও নির্বাচন কমিশনের রয়েছে। উপজেলা পরিষদ আইনেও একই ধরনের বিধান রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ