বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:১০ এম
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার খাই হাওড়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে এই বাইচের উদ্বোধন করা হয়। প্রতিযোগিতা দেখতে সকাল থেকেই হাওড়ের চারপাশে ঢল নামে উৎসুক দর্শনার্থীদের।
আয়োজকরা জানান, নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় স্থানীয় ও বিভিন্ন জেলা থেকে আসা মোট ২২টি নৌকা অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতাটি মোট ৩টি ধাপে অনুষ্ঠিত হয়। ঢাক-ঢোল আর কাঁসরের বাদ্যে, বৈঠার তালে নৌকার মাঝিদের হাঁক-ডাক, দর্শকদের করতালি ও চিৎকারে পুরো খাই হাওড় এলাকায় এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দূর-দূরান্ত থেকে আসা হাজার হাজার দর্শনার্থীর উপস্থিতি ছিল।
এতে চ্যাম্পিয়ন হয় জগন্নাথপুরের জাকির তরি, রানার্সআপ স্বপ্নের তরি-১, ৩য় হয়েছে রঙ্গিন পবন।
দর্শনার্থীরা জানান, গ্রামবাংলার এই হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মাঝে আনন্দের খোরাক জোগাতে এ ধরনের আয়োজনের ভূমিকা অপরিসীম। প্রতি বছর এমন আয়োজন অব্যাহত রাখার দাবি তাদের।
শান্তিগঞ্জের পূর্ববীরগাঁও গ্রামের দোলন মিয়া বলেন, এই নৌকা বাইচ আমাদের পূর্বপুরুষের আমল থেকে হয়ে আসছে। আমরা চাই প্রতিবছরই এ ধরনের আয়োজন হোক।
শান্তিগঞ্জ উপজেলার সলফ গ্রামের বাসিন্দা ফরিদ আহমেদ বলেন, সকাল থেকে রোদের মধ্যে এসে খেলা উপভোগ করেছি। হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত হয়েছেন।
নৌকা বাইচের আয়োজক আবুল হোসেন জানান, মানুষকে আনন্দ বিনোদন দিতেই এই আয়োজন করেছি। ২২টি নৌকা অংশগ্রহণ করেছে এই প্রতিযোগিতায়।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিল্লোল চাকমা বলেন, খুবই সুন্দর একটি আয়োজন ছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভোটারদের আস্থা অর্জন এবং নির্বাচিত হওয়ার পর জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি নতুন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সমীকরণ গড়ে উঠতে যাচ্ছে, যা তৃণমূলের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
সরকার গঠনের পর বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দলকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও শক্তিশালী, গতিশীল ও সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে কাজ করে চলেছেন। দেশের বিভিন্ন জেলায় উন্নয়ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের পাশাপাশি নেতাকর্মীদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা হচ্ছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে উন্নয়নের সুফল তৃণমূলের মানুষের কাছে পৌঁছায় এবং স্থানীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচিত হয়।
সরকারের বিশ্বাস, এই নির্বাচনের মাধ্যমে দলীয় পর্যায়ে যোগ্য ও জনপ্রিয় নেতৃত্ব বাছাইয়ের পাশাপাশি তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের দূরত্ব কমবে, জনসম্পৃক্ততা বাড়বে এবং এলাকার উন্নয়ন ও নাগরিক সমস্যার প্রতি দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি পাবে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম মন্তব্য করেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু হওয়ার পর থেকেই তৃণমূল নেতাদের মধ্যে উৎসাহ ও দায়বদ্ধতা তৈরি হয়েছে। তারা নিজ উদ্যোগে ভোটারদের খোঁজ-খবর নিচ্ছেন এবং এলাকার বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখছেন। এর ফলে ভোটারদের সঙ্গে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সরাসরি সম্পর্ক গড়ে উঠছে।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় নেতাদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সমন্বয় বাড়ছে। জনপ্রিয়তা অর্জন এবং ভোটারদের আস্থা ধরে রাখতে নেতারা এলাকায় সময় দিচ্ছেন। স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন বিরোধ ও সমস্যা সমাধানে তারা এগিয়ে আসছেন, ফলে নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে জনগণের সরাসরি যোগাযোগ ও দায়বদ্ধতার সম্পর্ক তৈরি হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এবার কোনো দলীয় প্রতীক থাকবে না। ফলে ভোটাররা প্রার্থীর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, গ্রহণযোগ্যতা এবং এলাকার মানুষের জন্য তার ভূমিকা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। স্থানীয় নেতাদের জনগণের কাছে যেতে হচ্ছে নিজেদের জনপ্রিয়তা বাড়াতে ও ভোটারদের আস্থা অর্জন করতে।
তিনি বলেন, দলীয় প্রতীক না থাকলেও স্থানীয়ভাবে বিএনপি-সমর্থিত নির্দিষ্ট প্রার্থী থাকতে পারেন। তবে এককভাবে কোনো প্রার্থীকে দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের সুযোগ নেই। স্থানীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য ও জনপ্রিয় প্রার্থীকে সামনে আনার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার জন্য সরকার নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করবে। দলীয় প্রতীক না থাকলেও কোনো প্রার্থী কোন রাজনৈতিক মতাদর্শের সঙ্গে যুক্ত, তা স্থানীয়ভাবে মানুষের কাছে পরিচিত হতে পারে। তবে এ কারণে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতায় কোনো প্রভাব পড়বে না।
স্থানীয় সরকার সংশ্লিষ্টরা জানান, চলতি অর্থবছরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলের সর্বস্তরে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের সঙ্গে বেশ কয়েকটি বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে ভালো ফল করার জন্য যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেখানে প্রার্থীর জনপ্রিয়তা ও স্থানীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতাকে প্রধান মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করার বার্তাও দেওয়া হয়েছে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে সরকার নির্বাচনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করবে। স্থানীয় নির্বাচনের মধ্য দিয়ে প্রশাসকদের দায়িত্ব শেষ না হলে পরে সমালোচনা তৈরি হতে পারে।
তিনি বলেন, ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধি দায়িত্ব গ্রহণ করলে জনগণের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতা বাড়বে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার কারণে এলাকার মানুষের সমস্যা, উন্নয়ন এবং নাগরিক সেবার বিষয়ে জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে ভোটারদের সরাসরি সম্পর্ক তৈরি হবে।
এদিকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনও প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। কমিশন জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে নির্বাচনের দিন-তারিখ চূড়ান্ত করা হবে। স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচন পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করার প্রস্তুতি চলছে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব নির্বাচন সম্পন্ন করতে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সাত ধাপে আয়োজনের সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে নির্বাচন কমিশন প্রাথমিক প্রস্তুতি নিচ্ছে।
প্রথম ধাপের ভোট ১২ নভেম্বর, দ্বিতীয় ধাপে ১৩ ডিসেম্বর, তৃতীয় ধাপে ৩০ ডিসেম্বর, চতুর্থ ধাপে আগামী বছরের ১৭ জানুয়ারি, পঞ্চম ধাপে ৪ ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ধাপে ২২ এপ্রিল এবং সপ্তম ধাপে ২৭ মে ভোট গ্রহণের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে।
দেশে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশন রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য, পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলর, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান এবং সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলররা সরাসরি জনগণের গোপন ভোটে নির্বাচিত হন। নির্ধারিত এলাকার ভোটাররা সরাসরি তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করেন।
অন্যদিকে জেলা পরিষদের সদস্য ও চেয়ারম্যানরা সংশ্লিষ্ট এলাকার স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ভোটে পরোক্ষভাবে নির্বাচিত হন।
স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন আইনে এসব নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনকে দেওয়া হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ আইনের ২০ ধারায় বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রণীত বিধি অনুসারে ইসি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নির্বাচন আয়োজন, পরিচালনা ও সম্পাদন করবে। ভোট গ্রহণের তারিখ, সময়, স্থান এবং নির্বাচন পরিচালনা সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়ে বিধান করার ক্ষমতাও নির্বাচন কমিশনের রয়েছে। উপজেলা পরিষদ আইনেও একই ধরনের বিধান রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টাঙ্গাইলের মধুপুরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য বরাদ্দ করা নবম ও দশম শ্রেণির প্রায় ৮০০ কেজি সরকারি পাঠ্যবই ভাঙারির ঘর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ভাঙারি ব্যবসায়ী ইব্রাহীম হোসেনকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার করা বইয়ের সংখ্যা ২ হাজার ২৬২টি।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় মধুপুর পৌর এলাকার নরকোণা গ্রামের ভাঙারি ব্যবসায়ী ইব্রাহীম হোসেনের বাড়িতে এ অভিযান চালানো হয়।
উদ্ধার করা বইগুলো ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের নবম ও দশম শ্রেণির সরকারি পাঠ্যবই। এর মধ্যে রয়েছে—‘ ইংলিশ গ্রামার অ্যান্ড কম্পোজিশন’ ৬০০টি, ‘বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি’ ৪৬৮টি, ‘গণিত’ ৩১২টি, ‘বাংলা সাহিত্য’ ১৫০টি এবং ‘বাংলা সহপাঠ’ ৪২০টি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইব্রাহীম হোসেন দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিনামূল্যের পাঠ্যবই সংগ্রহ করে ভাঙারি হিসেবে বিক্রি করে আসছিলেন। মঙ্গলবারও তিনি মধুপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের শহীদ স্মৃতি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কলেজ শাখার বিজ্ঞান ভবনের নিচতলার রুম ব্যবহৃত গুদাম থেকে কয়েক ভ্যান বই নিয়ে আসেন।
বুধবার সেগুলো অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার সময় স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে তারা খোঁজ নিয়ে বইগুলো সরকারি পাঠ্যবই বলে শনাক্ত করে পুলিশকে খবর দেন।
তবে ভাঙারি ব্যবসায়ী ইব্রাহীম হোসেন দাবি করেন, শিক্ষা অফিসের অনুমোদন সাপেক্ষে নৈশপ্রহরী তোফায়েল আহমেদের মাধ্যমে তিনি গুদাম থেকে প্রতি কেজি ২০ টাকা দরে বইগুলো কিনেছেন।
অন্যদিকে বই সংরক্ষণ ও বিতরণের দায়িত্বে থাকা একাডেমিক সুপারভাইজার মো. মহিউদ্দীন আহমেদ দাবি করেন, তার অগোচরে নৈশপ্রহরী এসব বই সরিয়ে থাকতে পারেন।
ধনবাড়ী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও মধুপুরের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বাবুল হাসান জানান, সরকারি পাঠ্যবই কীভাবে গুদাম থেকে বাইরে গেল এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত—তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার খবর পেয়ে মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নঈম উদ্দীন ঘটনাস্থলে যান। তাদের উপস্থিতিতে বইগুলো জব্দ করা হয় এবং ইব্রাহীম হোসেনকে মধুপুর থানায় পাঠানো হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য বরাদ্দ করা বই কোথা থেকে এবং কীভাবে বাইরে এসেছে, তা তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে যার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বাবুল হাসান বাদী হয়ে মধুপুর থানায় নিয়মিত মামলা করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সরকারি গুদাম থেকে বই বের হওয়ার ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর খিলগাঁওয়ের মেরাদিয়ায় দুই বাসের চাপায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষিকা তাসফিয়া আহমেদ তিশা (৩১) নিহত হয়েছেন।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে, মেরাদিয়া বসুমতি হাসপাতালের সামনে সড়কে।
নিহত তাসফিয়া আহমেদ তিশা চাঁদপুর সদর উপজেলার মো. শফিউদ্দিন আহমেদের কন্যা। তিনি রাজধানীর আফতাবনগর শাখার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষকতা করতেন। তার স্বামী বিদেশে কর্মরত। তাসফিয়া খিলগাঁওয়ের মেরাদিয়া নয়াপাড়া এলাকায় বসবাস করতেন।
খিলগাঁও থানার এসআই অনয় চন্দ্র পাল জানান, সন্ধ্যার আগে বাসায় ফেরার পথে মেরাদিয়া বসুমতি হাসপাতালের সামনে রমজান পরিবহণের একটি বাসের সঙ্গে তাসফিয়ার দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার ফলে তিনি সড়কে ছিটকে পড়েন এবং পরে তিশা আরেকটি বাসের চাকার নিচে চাপা পড়েন। গুরুতর আহত অবস্থায় পথচারীরা তাকে ফরাজী হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাত সাড়ে ৯টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. মূসা জানান, দুর্ঘটনার পর তিনি সড়কে তাসফিয়াকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে তার স্বজনদের খবর দেন।
এসআই অনয় চন্দ্র পাল আরও বলেন, দুর্ঘটনার পরপরই রমজান পরিবহণসহ দুটি বাস জব্দ করা হয়েছে। একটি বাসের চালক এবং অন্যটির সহকারীকে আটক করা হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার সময় তাসফিয়া হেঁটে যাচ্ছিলেন, নাকি মোটরসাইকেলে ছিলেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাস্থলে কোনো মোটরসাইকেলও পাওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, ব্যক্তিগত কাজে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তাসফিয়া। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তার স্বজনরা হাসপাতালে ছুটে যান। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিলেট নগরীর এয়ারপোর্ট রোডের চৌকিদিঘী এলাকার ব্রিটেনিয়া সুইমিংপুলে সাঁতার কাটতে নেমে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু ঘটে।
এটি ঘটে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে বলে জানা যায়।
নিহত শিক্ষার্থীর নাম দিপাঞ্জন ঘোষ প্রিয়ম (২১), যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ছাত্র ছিলেন। তিনি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের বাসিন্দা। তবে তার পরিবার বর্তমানে ঢাকার মোহাম্মদপুরে বসবাস করে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিকটবর্তী সুরমা আবাসিক এলাকার একটি মেসে থাকতেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের সহপাঠী ফায়াজ নবী জানান, সাঁতার কাটতে নেমে প্রিয়ম দু-একবার ৯ ফুট গভীর পানিতে যায় এবং পরে ফিরে আসে। যখন সাঁতারে ব্যস্ত ছিলাম, তখন সে আবার কখন ৯ ফুট গভীর পানিতে চলে যায়, তা আমরা কেউই লক্ষ্য করিনি। হঠাৎ ৫টা ৪৫ মিনিটের দিকে সুইমিংপুলের স্টাফরা তাকে গভীর পানি থেকে উদ্ধার করেন। তৎক্ষণাৎ তার শরীরে ঝাঁকুনি দেওয়া হয়। ওই সময় তিনি বমি করেন এবং নিশ্বাস নিচ্ছিলেন। হাসপাতালে নিয়ে আসার পর আইসিইউতে তার ইসিজি করা হয় এবং সেসময় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ব্রিটেনিয়া সুইমিংপুলের ইনস্ট্রাক্টর আমিরুল ইসলাম আবু বলেন, আমাদের নিয়ম অনুযায়ী, সাঁতার না জানলে ৬ ফুটের বেশি গভীর পানিতে নামতে নিষেধ করা হয়। কিন্তু তিনি ৯ ফুট গভীর এলাকায় চলে গিয়েছিলেন।
এ বিষয়ে শাবিপ্রবির প্রক্টর অধ্যাপক মো. মোখলেসুর রহমান জানান, দুর্ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। আমরা এ ঘটনায় অত্যন্ত মর্মাহত। তার পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে।
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে সিলেটের বিমানবন্দর থানার পরিদর্শক আব্দুস সালাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ জন শিক্ষার্থী সুইমিংপুলে সাঁতার কাটতে যান। পরবর্তীতে ডুবন্ত অবস্থায় এক শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ