বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০২:৩৬ পি.এম
বলিউডের খ্যাতনামা অভিনেতা আমির খান তৃতীয়বারের মতো বিয়ে করেছেন ফ্যাশন স্টাইলিস্ট ও উদ্যোক্তা গৌরী স্প্র্যাটকে। দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পরে তারা রোববার, ৫ জুলাই বিয়ে করেন। এদিকে, আলোচনায় উঠে এসেছে নতুন স্ত্রীকে আমির খানের দেওয়া উপহারের বিষয়টি।
জানা গেছে, বিয়েতে আমির খান তার নতুন স্ত্রীকে এক অমূল্য ও বিরল উপহার দিয়েছেন।
আমির খান তার স্ত্রীকে যে আংটিটি দিয়েছেন, তাতে একটি বিরল প্রাকৃতিক রুবি রয়েছে যা মাদাগাস্কার থেকে আনা হয়েছে। এছাড়া, আংটিতে ৪০টি হীরা উলেখযোগ্যভাবে সেট করা আছে এবং এতে শতাধিক কারিগরের দীর্ঘ সময়ের নিখুঁত কারুকাজ দেখে মুগ্ধ হওয়া যায়।
বর্তমানে গৌরীর বিয়ের এই আংটিটি পুরো বলিউডে নতুন আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
গৌরী স্প্র্যাট ৪৭ বছর বয়সী, তিনি ভারতের বেঙ্গালুরুতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর মা সেখানে একটি পরিচিত বিউটি সেন্টার পরিচালনা করতেন। এই পারিবারিক পরিবেশের ফলে সৌন্দর্য ও ফ্যাশন শিল্পের প্রতি গৌরীর আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে। বিউটি ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ শুরু করার আগে তিনি পোশাক ডিজাইন ও টেক্সটাইল ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
২০০৭ সালে গৌরী ভারতের পরিচিত বিউটি সেলুন চেইন 'বিব্লান্ট'-এর সঙ্গে যুক্ত হন এবং বর্তমানে তিনি মুম্বাইয়ে প্রতিষ্ঠানটির একটি শাখা পরিচালনা করছেন। পাশাপাশি, আমির খান প্রোডাকশনের বিভিন্ন সৃজনশীল প্রকল্পেও পরামর্শক হিসেবে কাজ করছেন।
শিক্ষাগত দিক থেকে গৌরী ভারতের উটির ব্লু মাউন্টেন স্কুলে পড়াশোনা শেষ করে তারপর যুক্তরাজ্যে চলে যান। তিনি ২০০৪ সালে ইউনিভার্সিটি অব দ্য আর্টস লন্ডন থেকে ফ্যাশন স্টাইলিং ও ফটোগ্রাফিতে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন।
গৌরীর পারিবারিক পরিচিতি বৈচিত্র্যময়। তার বাবা রবার্ট স্প্র্যাট তামিল-ব্রিটিশ এবং মা রীতা স্প্র্যাট পাঞ্জাবি-আইরিশ বংশোদ্ভূত।
৬১ বছর বয়সী আমির খান মুম্বাইয়ে নিজ বাসভবনে ঘরোয়া পরিবেশে গৌরী স্প্র্যাটকে বিয়ে করেন। গত বছর, আমির তাঁর ৬০তম জন্মদিনে গৌরীকে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমের সামনে পরিচয় করিয়ে দেন।
এর আগে, আমির খান ১৯৮৬ সালে রীনা দত্ত এবং ২০০৫ সালে কিরণ রাওকে বিয়ে করেছিলেন এবং পরবর্তীতে তাদের সঙ্গে যথাক্রমে ২০০২ ও ২০২১ সালে তাঁর বিবাহবিচ্ছেদ হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গত দুই দিনে ইরানের পাঁচটি প্রদেশে মার্কিন হামলার ফলে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। আর আহত হয়েছেন আরও ৭৮ জন। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ ও তথ্য কেন্দ্রের প্রধান হোসেইন কেরমানপুর মার্কিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সংস্থা এক্স-এ একটি পোস্টে লিখেছেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ৮ ও ৯ জুলাই ইরানের পাঁচটি প্রদেশে হামলা চালিয়েছে।’
ইরানের এই হামলায় ১৪ জন নিহত ও ৭৮ জন আহত হয়েছেন, জানিয়েছেন তিনি।
মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, আহতদের মধ্যে ৪৭ জন এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, অন্যদিকে বাকি ভুক্তভোগীদের চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, খুজেস্তান প্রদেশের নিরাপত্তা বিষয়ক ডেপুটি গভর্নর ভালিওল্লাহ হায়াতির বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর আহভাজের কাছে এক হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন।
গত মাসে স্বাক্ষরিত একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন সংকটের প্রেক্ষাপটে হতাহতের এই সর্বশেষ পরিসংখ্যান সামনে এসেছে।
বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন যে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি শেষ এবং তাদের সঙ্গে আলোচনা করা মানে সময় নষ্ট।
মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার দায়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে অভিযুক্ত করার পর এ উত্তেজনা শুরু হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় ওয়াশিংটন ইরানের দক্ষিণ উপকূল বরাবর সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে একের পর এক হামলা চালায়। পরে, ইরানও পাল্টা হামলা চালায়।
এদিকে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, দুই দিনে চালানো এই অভিযানে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় নজরদারি সরঞ্জাম, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন অবকাঠামো, নৌ সক্ষমতা এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের বিভিন্ন স্থাপনাসহ ১৭০টিরও বেশি সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তারা আরও জানায়, আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের ওপর আরও হামলা প্রতিরোধ করাই ছিল এই হামলার উদ্দেশ্য।
এর জবাবে, ইরান বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা বলে দাবি করা স্থানগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
নিজেদের সামরিক সংঘাতের অবসান এবং একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির পথ প্রশস্ত করার লক্ষ্যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ১৭ জুন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি সমঝোতা স্মারকে পৌঁছেছিল।
তবে, বুধবার ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে এই সমঝোতা স্মারকটি ‘শেষ’ হয়ে গেছে, যা কার্যকরভাবে চুক্তিটির অবসান ঘটায় এবং নতুন করে সামরিক সংঘাতের সূচনা করে।
সূত্র: আনাদোলু
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার কুন্ডা ইউনিয়নের তুল্লাপাড়া গ্রামে এক শিশুশ্রেণির ছাত্রীকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে পুলিশ একজন তরুণীকে আটক করেছে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে কুন্ডা ইউনিয়নের তুল্লাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে।
অপহরণের চেষ্টার শিকার শিশুশিক্ষার্থীর নাম হল জান্নাত (৫)। সে হলো তুল্লাপাড়া গ্রামের আব্দুল বাছিরের মেয়ে এবং একই বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির ছাত্রী।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী সকালে স্কুলে প্রবেশ করে সুমাইয়া আক্তার (২০) নামধারী একজন তরুণী নিজেকে "খালাম্মা" পরিচয় দিয়ে শিশু জান্নাতকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় শিক্ষক ও অভিভাবকদের সন্দেহ হলে তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
পরে স্থানীয়রা সুমাইয়া আক্তারকে আটক করে নাসিরনগর থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
জানা গেছে, আটককৃত সুমাইয়া আক্তারের বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলায়।
এ বিষয়ে নাসিরনগর থানা পুলিশের বক্তব্য হলো, এ ঘটনার প্রেক্ষিতে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বর্তমানে শিশুটি নিরাপদে তার পরিবারের কাছে রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টানা ভারী বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল পানিতে প্লাবিত হয়ে পড়েছে, যার ফলে শত শত পরিবারের ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে কয়েক হাজার মানুষ বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।
এসময়, খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়ার নির্দেশনায় দীঘিনালা উপজেলা বিএনপি বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। দলের উপজেলা প্রচার সম্পাদক মো. শামসু রানা নেতাকর্মীদের নিয়ে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করতে বের হন। সেখানে তিনি আশ্রিত মানুষদের খোঁজখবর নেন এবং নিজস্ব অর্থায়নে তাদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করেন।
আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাদের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে ধারণা নেন। পাশাপাশি বন্যাদুর্গত পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে নেতাকর্মীদের সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা দেন।
মো. শামসু রানা জানান, "আমাদের নেতা আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়ার নির্দেশনায় শুরু থেকেই বন্যাকবলিত এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষের জন্য খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং প্রাথমিক চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।"
স্থানীয়রা বলেন, দুর্যোগের এই সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তি এবং সংগঠনের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের এই মানবিক উদ্যোগ দুর্গত মানুষের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে গেছে। বিগত চার দিন ধরে সেই একই অব্যাহত বৃষ্টির ফলে আজ বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। সড়ক, বসতবাড়ি ও ফসলি জমি প্লাবিত হয়েছে। এর ফলে হাজারো মানুষ এখন পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। এতে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে এবং অনেক স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার পাঠদান বন্ধ রয়েছে। জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
সবথেকে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে দিনমজুর এবং নিম্নআয়ের মানুষদের। উপজেলার প্রায় সব ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বিভিন্ন গ্রাম, সড়ক এবং কৃষিজমি হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে তলিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও তিন থেকে চার ফুট পর্যন্ত পানি জমে থাকায় ঘর থেকে বের হওয়া খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে।
জলাবদ্ধতার কারণে দোকানপাট, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। গাছুয়া, সন্তোষপুর, দীর্ঘাপাড়া, কালাপানিয়া, হারামিয়া, কাছিয়াপাড়া, মগধরা, মাইটভাঙ্গা, সারিকাইত পৌরসভা এবং রহমতপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা সবচেয়ে বেশি প্লাবিত হয়েছে। এর পাশাপাশি, রহমতপুর ইউনিয়নের ঢালচর, কাজীরচর, ও কলাতলী চর এবং দক্ষিণ সারিকাইত ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলেও পানি প্রবাহিত হয়ে ব্যাপক দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা জারি করেছেন। একই সঙ্গে, অতিবৃষ্টি এবং জলাবদ্ধতার কারণে জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে।
এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দারা আশঙ্কা করছেন, টানা বর্ষণ অব্যাহত থাকলে জলাবদ্ধতা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। দ্রুত পানি নিষ্কাশন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের সাহায্যের প্রয়োজন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ