০৫:৪১ পি.এম
তাপমাত্রা বাড়লে, এ কারণে লোডশেডিং বা বিদ্যুৎবিভ্রাট বেড়ে যায়— এই ধারণা গ্রহণ করেন গ্রামের বাসিন্দারা। কিন্ত, গত কয়েক দিন ধরে ময়মনসিংহ নগর এলাকায় লোডশেডিং অত্যাধিক বেড়ে গিয়েছে।
বাসিন্দাদের বক্তব্য, নগরে দিনে কিংবা রাতে কিছুক্ষণের জন্য লোডশেডিং হয়ে চলেছে। এর পাশাপাশি অনেক গ্রামের বাসিন্দারা দিনের অর্ধেক সময়েও বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না। এই কারণে তারা ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েছেন।
আরও পড়ুন: নওগাঁয়ে ঘরে মাটির নিচে ২৪৫ কেজির কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গ উদ্ধার, আটক ১
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ময়মনসিংহ নগরে দুটি কেন্দ্রের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে।
এই দুটি কেন্দ্রের সূত্র অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) থেকে বিদ্যুতের চাহিদার ২৫ শতাংশ ঘাটতি স্পষ্ট হয়েছে। তবে কখনো কখনো বিদ্যুৎ সরবরাহ আরো কমে যায়। এই ঘাটতির ফলে নগরের সব এলাকায় লোডশেডিং করা হয়।
গত শুক্রবার (২৬ জুন) সন্ধ্যার পর ময়মনসিংহ নগরের নওমহল এবং আর কে মিশন রোড এলাকায় গিয়ে জানা যায়, প্রতি এক ঘণ্টা পর লোডশেডিং করছে।
এদিকে, তীব্র গরমের মধ্যে ওই সব এলাকার বাসিন্দাদের খোলা জায়গায় বসে থাকতে দেখা গেছে।
আরও পড়ুন: দিনাজপুর বোর্ডের ১ কোটি ২৬ লাখ টাকার দুর্নীতির তদন্তের নির্দেশ
আর কে মিশন রোড এলাকার বাসিন্দা কামরুল হাসান মন্তব্য করেছেন, ‘শুক্রবার, সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সাধারণত লোডশেডিং হয়। তবে আজ (শুক্রবার), সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কিছুক্ষণ পর পর বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। এই গরমের দিনে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় মানুষ অত্যন্ত কষ্টের মধ্যে পড়েছে।’
জানা যায়, গত বুধবার থেকে ময়মনসিংহ নগরে হঠাৎ করে লোডশেডিং বেড়ে গেছে।
পিডিবির বিদ্যুৎ বিতরণ ও বিক্রয় কেন্দ্র ময়মনসিংহ উত্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মশিউল ইসলাম জানিয়েছেন, ওই কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল শুক্রবার দুপুরে ৪০ মেগাওয়াট। এ সময় সরবরাহ ছিল ৩০ মেগাওয়াট। ফলে ১০ মেগাওয়াটের ঘাটতির কারণে নগরের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং করা হয়।
নগরের বিতরণ ও বিক্রয় কেন্দ্র দক্ষিণের নির্বাহী প্রকৌশলী সুব্রত রায় কালের কণ্ঠকে জানান, শনিবার (২৭ জুন) সকালে কেন্দ্রের অধীনে পরিচালিত এলাকায় সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ৪৮ মেগাওয়াট। এসময় সরবরাহ ছিল ৩০ থেকে ৩২ মেগাওয়াট।
আরও পড়ুন: দুমকীতে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনন্দ র্যালিতে মোঃ কামরুল ইসলাম মুন্না
সুব্রত রায় জানিয়েছেন, ময়মনসিংহ জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য তিনটি গ্রিড ব্যবহৃত হয়। তিনটি গ্রিডের মধ্যে একটি হলো গাজীপুরের শ্রীপুর গ্রিড। বর্তমানে শ্রীপুর গ্রিড থেকে ময়মনসিংহ জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এই কারণে ময়মনসিংহ শহরে লোডশেডিং বেড়ে গেছে।
জানা গেছে, জেলার গ্রামাঞ্চলে ২৪ ঘণ্টায় ১২ ঘণ্টার চেয়েও কম বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ৩ এর অধীনে জেলার ১৩টি উপজেলার মধ্যে সদর উপজেলার কিছু অংশসহ মোট সাতটি উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। লোডশেডিংয়ের কারণে ভোগান্তি বেড়েছে ওই সাত উপজেলার বাসিন্দাদের।
ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার নওপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মাজহারুল ইসলাম বলেছেন, দিনে ও রাতে অর্ধেক সময়েও বিদ্যুৎ থাকে না। এই পরিস্থিতিতে মানুষের ভোগান্তির অন্ত নেই। মানুষের সঙ্গে গবাদি পশুরাও কষ্টে রয়েছে।
ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ এর ডিজিএম (কারিগরি) আবু রায়হান জানিয়েছেন, শুক্রবার দুপুর ১২টার সময় জেলার সাতটি উপজেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৭৫ মেগাওয়াট। সেই সময় চাহিদার তুলনায় ৪৫ শতাংশ ঘাটতি ছিল। এই চাহিদা এবং ঘাটতি ঘণ্টায় ঘণ্টায় পরিবর্তন হচ্ছে।
আরও পড়ুন: বরগুনায় হাউজি-লটারির প্রস্তাব, প্রশ্নের মুখে চেম্বার অব কমার্স ও জেলা প্রশাসন
ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এবং পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর অধীনে থাকা বাকি ছয় উপজেলার গ্রামগুলোতেও গত কয়েকদিন ধরে লোডশেডিং চলছে। সেসব এলাকার মানুষও ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন