প্রিন্ট এর তারিখঃ ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং; ০৬:০৩ এম || প্রকাশের তারিখঃ ২৮শে জুন, ২০২৬ইং; ০৫:৪১ পি.এম
কৃষিতেই ভাগ্য বদল-ভান্ডারিয়ার সুমনের সফলতার গল্প
পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা জাহিদ মাহমুদ সুমন সমন্বিত কৃষি চাষের মাধ্যমে সফলতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। মাত্র ৮৮ শতক জমিতে ২০২২ সালে যাত্রা শুরু করা তার কৃষি উদ্যোগ তিন বছরের ব্যবধানে সম্প্রসারিত হয়ে এখন প্রায় ৫ একর জমিতে বিস্তৃত হয়েছে। কৃষি ও মৎস্য উৎপাদনের সমন্বয়ে গড়ে তোলা এই খামার থেকে তিনি বছরে প্রায় ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা লাভ করছেন।
উপজেলার ৭ নম্বর গৌরীপুর ইউনিয়নের রাধানগর এলাকায় গড়ে ওঠা এই সমন্বিত কৃষি প্রকল্পে রয়েছে ভারতীয় শাহী জাতের পেঁপে, আম, বাতাবি লেবুর বাগান এবং বিভিন্ন প্রজাতির মাছের চাষ। পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির প্রয়োগে খামারটি এখন স্থানীয় কৃষকদের জন্য অনুকরণীয় মডেলে পরিণত হয়েছে।
খামারের প্রধান আকর্ষণ ভারতীয় শাহী জাতের পেঁপে। প্রতিটি পেঁপের ওজন তিন থেকে চার কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি পেঁপে ৩৫ থেকে ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। খামারে প্রায় ৪০০টি পেঁপে গাছ রয়েছে এবং প্রতিটি গাছ থেকে বছরে গড়ে প্রায় তিন হাজার টাকার পেঁপে বিক্রি হয়।
পেঁপে চাষের পাশাপাশি খামারের তিনটি পুকুরে তেলাপিয়া, পাঙাশ, রুই, কাতলা, গুলিশা ও গলদা চিংড়িসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করা হচ্ছে। এছাড়া রয়েছে আম ও বাতাবি লেবুর বাগান। কৃষি ও মৎস্য উৎপাদনের সমন্বয়ের ফলে খামারের উৎপাদন ও লাভজনকতা দিন দিন বাড়ছে।
খামারটিতে নিয়মিত পাঁচজন শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন। ফলে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিনই ভান্ডারিয়াসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষক, শিক্ষার্থী ও আগ্রহী মানুষ এই সমন্বিত কৃষি প্রকল্প পরিদর্শনে আসছেন।
তরুণ উদ্যোক্তা জাহিদ মাহমুদ সুমন বলেন, সব খরচ বাদ দিয়েও বছরে ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা লাভ থাকে। সঠিক পরিকল্পনা, পরিশ্রম এবং আধুনিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে কৃষিতেই সফল হওয়া সম্ভব। তরুণদের চাকরির পেছনে না ছুটে কৃষিকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করা উচিত।
ভান্ডারিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, সুমনের খামারটি সমন্বিত কৃষি ব্যবস্থাপনার একটি সফল উদাহরণ। কৃষি অফিস থেকে তাকে নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। তার উৎপাদিত উচ্চমানের পেঁপে দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে বিদেশে রপ্তানিরও সম্ভাবনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সঠিক পরিকল্পনা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সরকারি-বেসরকারি সহায়তা অব্যাহত থাকলে জাহিদ মাহমুদ সুমনের মতো তরুণ উদ্যোক্তাদের হাত ধরে পিরোজপুরে সমন্বিত কৃষি ব্যবস্থার আরও ব্যাপক সম্প্রসারণ ঘটবে এবং এটি গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন
কপিরাইট © ২০২৪-২৫ তালাশ বিডি.কম সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। || Design & Developed By "Talash BD Media Limited"