ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সিরাজগঞ্জে স্থান নির্বাচনে ভুল, কোটি টাকার ২টি পৌর বাজার চালু হয়নি


সিরাজগঞ্জে স্থান নির্বাচনে ভুল, কোটি টাকার ২টি পৌর বাজার চালু হয়নি

নির্মাণের পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও সিরাজগঞ্জের পৌর কাঁচাবাজার এখনো চালু হয়নি। পাশাপাশি, স্টেডিয়ামের সামনে নির্মিত আরেকটি বাজারও দুই বছর ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে অবহেলিত অবস্থায় থাকার কারণে এসব স্থাপনার বিভিন্ন মালামাল চুরি হয়ে যাচ্ছে।

২০১৯ সালে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে সিরাজগঞ্জ পৌরসভা ফজলুল হক রোডে পৌর কাঁচাবাজারের নির্মাণ কাজ শুরু করে। দুইতলা বিশিষ্ট এই মার্কেটের নির্মাণ কাজ ২০২১ সালে সম্পন্ন হয়। নিচতলায় ১১৬টি মাছ, মাংস, মুরগি, কাঁচা তরকারি ও ফলমূলের দোকান রয়েছে, এবং দোতলায় আরও ৭৮টি দোকান রয়েছে। কিন্তু নির্মাণের পাঁচ বছর পরেও বাজারটি চালু করা সম্ভব হয়নি, ফলে এর মূল্যবান মালামাল নষ্ট হচ্ছে।

এছাড়াও, স্টেডিয়ামের সামনে নতুন নির্মিত বাজারটি দুই বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। এই বাজারে ৪টি ব্লকে মোট ৪৮টি দোকান রয়েছে।

আরও পড়ুন: দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে এসআরবি: নয়মুল হাসান

স্থানীয় ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম জানান, নতুন বাজারটি মূল বাজার থেকে মাত্র পাঁচ মিনিটের দূরত্বে অবস্থিত। কিন্তু তবুও কোনো ব্যবসায়ী এখানে আসছেন না। দীর্ঘ সময় ধরে পড়ে থাকার কারণে এসব ভবনের মালামাল চুরি হয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি, মাদকসেবীদের আড্ডা হয়ে উঠেছে অব্যবহৃত এসব স্থাপনা।

সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট অমর কৃষ্ণ দাস মন্তব্য করেন, স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সাথে আলোচনা ও কোনো সমীক্ষা ছাড়াই বাজার নির্মাণের স্থান নির্ধারণ করায় এই দুটি বাজার কোনো কাজে আসছে না। এ কারণে ব্যবসায়ীদের দোকান বরাদ্দ নিয়েও তারা দোকান চালু করছেন না।

তবে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা করে দ্রুত নতুন নির্মিত বাজার দুটি চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

সিরাজগঞ্জ পৌর কাঁচাবাজার নির্মাণের ব্যয় প্রায় ১২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। অন্যদিকে, স্টেডিয়ামের সামনের বাজারটি প্রাণিসম্পদ বিভাগ নির্মাণ করে সিরাজগঞ্জ পৌর কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দিয়েছে।

আরও পড়ুন: আজিমপুর সরকারি কোয়ার্টারের অপরিচ্ছন্নতায় ক্ষুব্ধ প্রধানমন্ত্রী, দুই সপ্তাহের সময় দিলেন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পীরগঞ্জে নির্মাণাধীন পৌর ভবনের ছাদ ধসে ২ শ্রমিকের মৃত্যু, নির্বাহী আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:২৪ এম


পীরগঞ্জে নির্মাণাধীন পৌর ভবনের ছাদ ধসে ২ শ্রমিকের মৃত্যু, নির্বাহী আটক

রংপুরের পীরগঞ্জে নির্মাণাধীন নতুন পৌর ভবনের ছাদের সাটারিং ধসে দুই নির্মাণশ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। দুর্ঘটনার পর পুলিশ পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা (সচিব) আব্দুর রহিম প্রামানিক টিপুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। একইসঙ্গে জেলা প্রশাসন ঘটনাটি তদন্তের জন্য চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার আরাজীগঙ্গারামপুর এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে নতুন ভবন নির্মাণকাজ চলাকালে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত শ্রমিকদের মধ্যে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার আছাদুল হক এবং রংপুরের বাসিন্দা শিহাব রয়েছেন। এ ঘটনায় বাবলা মিয়া, লিটন মন্ডল ও সেলিম মিয়াসহ কয়েকজন আহত হন এবং তাঁদের পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেলে ভবনটির ছাদ ঢালাইয়ের কাজে ১৩ জন শ্রমিক নিয়োজিত ছিলেন। কাজ চলাকালে হঠাৎ ছাদের সাটারিং ভেঙে পড়ে নিচে থাকা শ্রমিকরা ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন। খবর পেয়ে পীরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা স্থানীয়দের সহায়তায় দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন।

দুর্ঘটনার পর ভবন নির্মাণের মান ও নিরাপত্তা নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কাজের সাথে জড়িত শ্রমিকরা। কর্মরত শ্রমিক মাসুদ রানা অভিযোগ করেছেন, নির্মাণকাজে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার ও কম সিমেন্ট দেওয়ার বিষয়টি বারবার কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। অনিয়মের কারণেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি দাবি করেছেন।

তবে দুর্ঘটনার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান 'ভিশন ২০২০'-এর কোনো প্রতিনিধি বা কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি।

পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাজমুল হক জানিয়েছেন, ঘটনার প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পৌর নির্বাহী (সচিব) আব্দুর রহিম প্রামানিক টিপুকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লোকসভা নির্বাচনেও কংগ্রেসের শোচনীয় পরাজয় হবে: অমিত শাহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:২৫ এম


লোকসভা নির্বাচনেও কংগ্রেসের শোচনীয় পরাজয় হবে: অমিত শাহ

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগের জবাব দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, কংগ্রেসের উচিত নিজেদের ভুলত্রুটি নিয়ে আত্মবিশ্লেষণ করা, কারণ ভোটের রাজনীতিতে তারা বারবার ব্যর্থ হয়েছে। খবর ইন্ডিয়া টুডের।

অমিত শাহ ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন যে, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনেও কংগ্রেস চতুর্বারের মতো শোচনীয় পরাজয়ের সম্মুখীন হবে। তিনি দিল্লিতে সাংবাদিকদের সামনে এই মন্তব্য করেন।

গুজরাটের গান্ধীনগর মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনসহ বিভিন্ন স্থানীয় নির্বাচনে বিজেপির বিশাল জয়ের পর এই রাজনৈতিক সংঘাত প্রকাশ্যে এসেছে। বর্তমানে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে ‘ইন্ডিয়া’ জোট প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছে।

বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনকে চাপ দিয়ে এবং তাদের সুরক্ষা দিয়ে এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়ম করা হচ্ছে। এর জবাবে অমিত শাহ দাবি করেন, এসআইআর প্রক্রিয়াটি ২০২৪ সালের পর কার্যকর হয়েছে। তিনি বলেন, রাহুল গান্ধী দলের নেতৃত্বে আসার পর থেকেই কংগ্রেস ধারাবাহিকভাবে নির্বাচনে পরাজিত হয়েছে।

অমিত শাহ প্রশ্ন তোলেন, “রাহুলজিকে আমি জিজ্ঞেস করতে চাই—বিজেপি ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনপ্রিয়তা কি এই এসআইআর-এর ফলেই তৈরি? আপনাদের আত্মবিশ্লেষণ করা দরকার।”

তিনি ইভিএম বা ভোটার তালিকাকে পরাজয়ের জন্য দায়ী করার সংস্কৃতিকে তীব্র ভাষায় কটাক্ষ করেন। অমিত শাহ বলেন, শুধু গুজরাট বা দিল্লি নয় বরং ত্রিপুরা, পশ্চিমবঙ্গ, আসাম এবং তামিলনাড়ুর বিভিন্ন উপনির্বাচন বা স্থানীয় নির্বাচনেও কংগ্রেসের ভরাডুবি হয়েছে।

ত্রিপুরার স্থানীয় নির্বাচনে ব্যালট পেপারে ভোট হওয়ার পরেও বিজেপির জয় পাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি জানান, বিজেপির জয় কোনো বিশেষ পদ্ধতি বা ইভিএমের ওপর নির্ভরশীল নয়। রাহুল গান্ধীর ছাত্র কর্মসূচি ‘ছাত্রোঁ কি গূঞ্জ’ এবং দিল্লিভিত্তিক আন্দোলনকে ‘মিডিয়া ইভেন্ট’ ও ভিত্তিহীন প্রচারণা বলে আখ্যায়িত করেন তিনি।

ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, ভারতের প্রত্যন্ত অঞ্চল ও গ্রামগঞ্জ থেকে কংগ্রেস সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তার ভাষায়, “দেশের প্রকৃত কণ্ঠস্বর লুকিয়ে রয়েছে খেতখামার, গ্রাম, পাহাড়ি অঞ্চল ও নদীতীরবর্তী জনপদে; কিন্তু সেখানে কংগ্রেসের কোনো পৌঁছানোর ক্ষমতা বা জনভিত্তি নেই।”

সবশেষে ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচন নিয়ে আত্মবিশ্বাসী সুরে অমিত শাহ বলেন, ইন্ডিয়া জোট আবারও বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়লাভ করবে এবং কংগ্রেস হ্যাটট্রিকের পর চতুর্থ বারের মতো বড় পরাজয়ের স্বাদ পাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অ্যানথ্রপিকের সতর্কবার্তা: ইন্টারনেটে দখল নিতে পারে এআই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:২৬ এম


অ্যানথ্রপিকের সতর্কবার্তা: ইন্টারনেটে দখল নিতে পারে এআই

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মডেল শিগগিরই নিজেদের অনুলিপি তৈরি করে ইন্টারনেটজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এমনকি এসব মডেল সাইবার হামলা চালানো, বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা ঠেকানো এবং ডেটা সেন্টারে অনুপ্রবেশের মতো কাজও করতে পারে। এ নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক।

সোমবার (১২ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এআই মডেলগুলোর স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিজেদের অনুলিপি তৈরি করে ছড়িয়ে পড়ার সক্ষমতা তৈরি হতে পারে। মঙ্গলবার বিষয়টি সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করে। তবে কেউ কেউ এ আশঙ্কার বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দারিও আমোদেই গত মাসে সতর্ক করে বলেছিলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে বা তারও আগে এআই পুরো ইন্টারনেটজুড়ে স্থায়ী বটনেট তৈরি করে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সক্ষমতা অর্জন করতে পারে।

বটনেট হলো ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত একাধিক কম্পিউটার বা ডিভাইসের সমষ্টি, যেগুলো আক্রান্ত হওয়ার পর কোনো ব্যক্তি বা ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণে থেকে একযোগে ক্ষতিকর কাজে ব্যবহৃত হতে পারে।

অ্যানথ্রপিকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের পরীক্ষায় দেখা গেছে, ৩০ বিলিয়ন বা তার কম প্যারামিটারের মাঝারি আকারের এআই মডেল স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিজেদের অনুলিপি তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় অনেক কাজ করতে পারে। যদিও পুরো প্রক্রিয়াটি নির্ভরযোগ্যভাবে সম্পন্ন করতে এখনো এসব মডেল সমস্যায় পড়ে।

প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এআই মডেলগুলো কম খরচের ইন্টারনেট-সংযুক্ত ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রয়োজনীয় কম্পিউটিং সক্ষমতা জোগাড় করতে পারে। একটি সরল পরীক্ষামূলক নেটওয়ার্কে মডেলগুলোকে নিজেদের অনুলিপি ছড়িয়ে দিতেও দেখা গেছে।

অ্যানথ্রপিক বলেছে, এ ধরনের স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিস্তারক্ষম এআইকে বন্ধ করা কঠিন হতে পারে। কারণ, পুরো ব্যবস্থাটি বন্ধ করে দেওয়ার মতো কোনো একক কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা নাও থাকতে পারে।

এআইয়ের সক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাইবার হামলা স্বয়ংক্রিয় করা, মানুষের সীমিত তদারকিতে কাজ চালানো এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা এড়িয়ে যাওয়ার ঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। প্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও কর্মীরা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া এআইয়ের ভয়াবহ, এমনকি মানবসভ্যতার অস্তিত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ পরিণতি নিয়েও সতর্ক করে আসছেন।

তবে অ্যানথ্রপিকের আশঙ্কা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন কিছু বিশেষজ্ঞ।

যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি সেন্টারের সাবেক প্রধান সিয়ারান মার্টিন বলেন, ‘আমরা কম খরচের টেলিভিশনে একটি ছোট মডেল চালাতে পেরেছি’- এমন তথ্যই কোনো নিরাপত্তা সংকট প্রমাণ করে না। তার মতে, অ্যানথ্রপিকের প্রতিবেদনটি প্রযুক্তিগতভাবে আগ্রহোদ্দীপক হলেও এতে নিজেদের পণ্যের সক্ষমতা বাড়িয়ে দেখানোর প্রবণতা রয়েছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডো ডেনভারের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ঝেংশিয়ং লি বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে পরীক্ষা চালানো হলেও এআই যদি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছড়িয়ে পড়া কম্পিউটার ভাইরাসের মতো আচরণ করে এবং তাৎক্ষণিকভাবে বিভিন্ন ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার উপায় খুঁজে বের করতে পারে, তাহলে তা উদ্বেগজনক।

লি বলেন, এআই যদি কোনো কেন্দ্রীয় সেবার ওপর নির্ভর না করে বহু ডিভাইসে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে সেটিকে বন্ধ করার মতো একক কোনো জায়গা নাও থাকতে পারে।

অ্যানথ্রপিকের ধারণা, ছোট আকারের এআই মডেলগুলোর সক্ষমতা অতীতের গতিতে বাড়তে থাকলে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিজেদের অনুলিপি ছড়িয়ে দেওয়ার প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারে। এ ছাড়া আরও শক্তিশালী কম্পিউটিং সক্ষমতা পেতে ডেটা সেন্টারের প্রসেসর লক্ষ্যবস্তু করার উপায়ও মডেলগুলো খুঁজে বের করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর সিকিউরিটি অ্যান্ড ইমার্জিং টেকনোলজির জ্যেষ্ঠ গবেষণা বিশ্লেষক জেসিকা জি মনে করেন, অ্যানথ্রপিকের বক্তব্যকে নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী না ধরে সম্ভাব্য পরিস্থিতি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া এআইয়ের কার্যক্রম নিয়ে যেসব তথ্য সামনে এসেছে, তাতে মডেলগুলোর স্বয়ংক্রিয় বিস্তারের সম্ভাবনা বিবেচনায় নেওয়া যুক্তিসংগত। তবে বাস্তবে এমন ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা কতটা, তা এখনো জানা যায়নি। সম্ভাবনাটি একেবারে শূন্য নয়, আবার এটি ঘটবেই- এমন নিশ্চয়তাও নেই।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশের সব মাদ্রাসার জন্য সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার বিশেষ নির্দেশনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:২৬ এম


দেশের সব মাদ্রাসার জন্য সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার বিশেষ নির্দেশনা

নজরুল বর্ষ উপলক্ষে দেশের সব ইবতেদায়ী, দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসায় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা আয়োজনের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেছে। এই নির্দেশনার উদ্দেশ্য হল জাতীয় পর্যায়ে নজরুল চর্চা বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে উদ্বুদ্ধ করা।

সম্প্রতি, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ এবং মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখা থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়, যেখানে দেশের সকল মাদ্রাসাপ্রধানদের এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এছাড়া, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের তাদের আওতাধীন মাদ্রাসাগুলোতে বিষয়টির তদারকি এবং অনুসরণ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের স্মারক ও নির্দেশনা অনুযায়ী, জাতীয় পর্যায়ে কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণ, নতুন প্রজন্মকে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃজনশীলতার বিকাশ এবং জাতীয় পর্যায়ে একতা ও সম্প্রীতি জোরদার করাই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

পর্যায়ভিত্তিক প্রতিযোগিতার বিষয়সমূহ

মাদ্রাসার বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য স্তরভিত্তিক বিষয় ও বিভাগ নির্ধারণ করা হয়েছে:

ইবতেদায়ী পর্যায় (১ম থেকে ৫ম শ্রেণি): নজরুলের ইসলামিক সংগীত বা গজল, নির্ধারিত কবিতা (‘তোর হলো খোকাবাবুর স্বাদ’, ‘মা’, ‘সংকল্প’) আবৃত্তি, হামদ ও নাত এবং ৩য়-৫ম শ্রেণির জন্য ‘আমার চোখে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম’ শীর্ষক রচনা প্রতিযোগিতা ও নির্ধারিত বক্তৃতা।

দাখিল পর্যায় (৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণি): নজরুলের ইসলামিক সংগীত/গজল, হামদ ও নাত, নির্ধারিত কবিতা (‘কিশো ফুল’, ‘কুলি মজুর’, ‘মানুষ’, ‘নারী’) আবৃত্তি, উপস্থিত বক্তৃতা এবং ‘নজরুলের দেশপ্রেম’ ও ‘নজরুল সাহিত্যে ও সংগীতে ইসলামের সাম্যের ধারণা’ শীর্ষক রচনা প্রতিযোগিতা।

আলিম পর্যায়: নজরুলের ইসলামিক সংগীত/গজল, নজরুলের যেকোনো কবিতা আবৃত্তি, হামদ ও নাত, উপস্থিত বক্তৃতা এবং ‘ভাবুক ও নজরুল’ বিষয়ে রচনা প্রতিযোগিতা।

ফাজিল ও কামিল পর্যায়: যেকোনো নজরুল কবিতা আবৃত্তি, ইসলামিক সংগীত/গজল, হামদ ও নাত, উপস্থিত বক্তৃতা এবং ‘নজরুল ও মানুষের মুক্তি’ শীর্ষক রচনা প্রতিযোগিতা।

রচনা প্রতিযোগিতার বিশেষ শর্তাবলী

নির্দেশনায় রচনা প্রতিযোগিতার জন্য বেশ কিছু বাধ্যতামূলক নিয়ম নির্ধারণ করা হয়েছে:

১. রচনা অবশ্যই সম্পূর্ণ মৌলিক হতে হবে এবং হাতে লিখে জমা দিতে হবে।

২. লেখায় ব্যবহৃত তথ্যের জন্য বিভিন্ন বই, প্রবন্ধ বা লেখকের রেফারেন্স বা তথ্যসূত্র উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক।

৩. শব্দের সীমারেখা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে— ইবতেদায়ী পর্যায়ে ৫০০ শব্দ, দাখিল পর্যায়ে ১,০০০ শব্দ, আলিম পর্যায়ে ১,৫০০ শব্দ এবং ফাজিল ও কামিল পর্যায়ে ২,০০০ শব্দের মধ্যে রচনা সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%