প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মডেল শিগগিরই নিজেদের অনুলিপি তৈরি করে ইন্টারনেটজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এমনকি এসব মডেল সাইবার হামলা চালানো, বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা ঠেকানো এবং ডেটা সেন্টারে অনুপ্রবেশের মতো কাজও করতে পারে। এ নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক।
সোমবার (১২ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এআই মডেলগুলোর স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিজেদের অনুলিপি তৈরি করে ছড়িয়ে পড়ার সক্ষমতা তৈরি হতে পারে। মঙ্গলবার বিষয়টি সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করে। তবে কেউ কেউ এ আশঙ্কার বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দারিও আমোদেই গত মাসে সতর্ক করে বলেছিলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে বা তারও আগে এআই পুরো ইন্টারনেটজুড়ে স্থায়ী বটনেট তৈরি করে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সক্ষমতা অর্জন করতে পারে।
বটনেট হলো ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত একাধিক কম্পিউটার বা ডিভাইসের সমষ্টি, যেগুলো আক্রান্ত হওয়ার পর কোনো ব্যক্তি বা ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণে থেকে একযোগে ক্ষতিকর কাজে ব্যবহৃত হতে পারে।
অ্যানথ্রপিকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের পরীক্ষায় দেখা গেছে, ৩০ বিলিয়ন বা তার কম প্যারামিটারের মাঝারি আকারের এআই মডেল স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিজেদের অনুলিপি তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় অনেক কাজ করতে পারে। যদিও পুরো প্রক্রিয়াটি নির্ভরযোগ্যভাবে সম্পন্ন করতে এখনো এসব মডেল সমস্যায় পড়ে।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এআই মডেলগুলো কম খরচের ইন্টারনেট-সংযুক্ত ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রয়োজনীয় কম্পিউটিং সক্ষমতা জোগাড় করতে পারে। একটি সরল পরীক্ষামূলক নেটওয়ার্কে মডেলগুলোকে নিজেদের অনুলিপি ছড়িয়ে দিতেও দেখা গেছে।
অ্যানথ্রপিক বলেছে, এ ধরনের স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিস্তারক্ষম এআইকে বন্ধ করা কঠিন হতে পারে। কারণ, পুরো ব্যবস্থাটি বন্ধ করে দেওয়ার মতো কোনো একক কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা নাও থাকতে পারে।
এআইয়ের সক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাইবার হামলা স্বয়ংক্রিয় করা, মানুষের সীমিত তদারকিতে কাজ চালানো এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা এড়িয়ে যাওয়ার ঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। প্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও কর্মীরা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া এআইয়ের ভয়াবহ, এমনকি মানবসভ্যতার অস্তিত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ পরিণতি নিয়েও সতর্ক করে আসছেন।
তবে অ্যানথ্রপিকের আশঙ্কা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন কিছু বিশেষজ্ঞ।
যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি সেন্টারের সাবেক প্রধান সিয়ারান মার্টিন বলেন, ‘আমরা কম খরচের টেলিভিশনে একটি ছোট মডেল চালাতে পেরেছি’- এমন তথ্যই কোনো নিরাপত্তা সংকট প্রমাণ করে না। তার মতে, অ্যানথ্রপিকের প্রতিবেদনটি প্রযুক্তিগতভাবে আগ্রহোদ্দীপক হলেও এতে নিজেদের পণ্যের সক্ষমতা বাড়িয়ে দেখানোর প্রবণতা রয়েছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডো ডেনভারের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ঝেংশিয়ং লি বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে পরীক্ষা চালানো হলেও এআই যদি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছড়িয়ে পড়া কম্পিউটার ভাইরাসের মতো আচরণ করে এবং তাৎক্ষণিকভাবে বিভিন্ন ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার উপায় খুঁজে বের করতে পারে, তাহলে তা উদ্বেগজনক।
লি বলেন, এআই যদি কোনো কেন্দ্রীয় সেবার ওপর নির্ভর না করে বহু ডিভাইসে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে সেটিকে বন্ধ করার মতো একক কোনো জায়গা নাও থাকতে পারে।
অ্যানথ্রপিকের ধারণা, ছোট আকারের এআই মডেলগুলোর সক্ষমতা অতীতের গতিতে বাড়তে থাকলে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিজেদের অনুলিপি ছড়িয়ে দেওয়ার প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারে। এ ছাড়া আরও শক্তিশালী কম্পিউটিং সক্ষমতা পেতে ডেটা সেন্টারের প্রসেসর লক্ষ্যবস্তু করার উপায়ও মডেলগুলো খুঁজে বের করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর সিকিউরিটি অ্যান্ড ইমার্জিং টেকনোলজির জ্যেষ্ঠ গবেষণা বিশ্লেষক জেসিকা জি মনে করেন, অ্যানথ্রপিকের বক্তব্যকে নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী না ধরে সম্ভাব্য পরিস্থিতি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া এআইয়ের কার্যক্রম নিয়ে যেসব তথ্য সামনে এসেছে, তাতে মডেলগুলোর স্বয়ংক্রিয় বিস্তারের সম্ভাবনা বিবেচনায় নেওয়া যুক্তিসংগত। তবে বাস্তবে এমন ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা কতটা, তা এখনো জানা যায়নি। সম্ভাবনাটি একেবারে শূন্য নয়, আবার এটি ঘটবেই- এমন নিশ্চয়তাও নেই।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন