১১:২৬ এম
নজরুল বর্ষ উপলক্ষে দেশের সব ইবতেদায়ী, দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসায় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা আয়োজনের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেছে। এই নির্দেশনার উদ্দেশ্য হল জাতীয় পর্যায়ে নজরুল চর্চা বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে উদ্বুদ্ধ করা।
সম্প্রতি, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ এবং মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখা থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়, যেখানে দেশের সকল মাদ্রাসাপ্রধানদের এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এছাড়া, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের তাদের আওতাধীন মাদ্রাসাগুলোতে বিষয়টির তদারকি এবং অনুসরণ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: জবি ছাত্রদলের দাবি, সমাবর্তন ফি শিক্ষার্থীবান্ধব হতে হবে
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের স্মারক ও নির্দেশনা অনুযায়ী, জাতীয় পর্যায়ে কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণ, নতুন প্রজন্মকে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃজনশীলতার বিকাশ এবং জাতীয় পর্যায়ে একতা ও সম্প্রীতি জোরদার করাই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
পর্যায়ভিত্তিক প্রতিযোগিতার বিষয়সমূহ
মাদ্রাসার বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য স্তরভিত্তিক বিষয় ও বিভাগ নির্ধারণ করা হয়েছে:
ইবতেদায়ী পর্যায় (১ম থেকে ৫ম শ্রেণি): নজরুলের ইসলামিক সংগীত বা গজল, নির্ধারিত কবিতা (‘তোর হলো খোকাবাবুর স্বাদ’, ‘মা’, ‘সংকল্প’) আবৃত্তি, হামদ ও নাত এবং ৩য়-৫ম শ্রেণির জন্য ‘আমার চোখে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম’ শীর্ষক রচনা প্রতিযোগিতা ও নির্ধারিত বক্তৃতা।
আরও পড়ুন: পাঠ্যবইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে ‘দাঁড়িপাল্লা’র ছবি, ২০ লাখ বই সংশোধন হচ্ছে
দাখিল পর্যায় (৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণি): নজরুলের ইসলামিক সংগীত/গজল, হামদ ও নাত, নির্ধারিত কবিতা (‘কিশো ফুল’, ‘কুলি মজুর’, ‘মানুষ’, ‘নারী’) আবৃত্তি, উপস্থিত বক্তৃতা এবং ‘নজরুলের দেশপ্রেম’ ও ‘নজরুল সাহিত্যে ও সংগীতে ইসলামের সাম্যের ধারণা’ শীর্ষক রচনা প্রতিযোগিতা।
আলিম পর্যায়: নজরুলের ইসলামিক সংগীত/গজল, নজরুলের যেকোনো কবিতা আবৃত্তি, হামদ ও নাত, উপস্থিত বক্তৃতা এবং ‘ভাবুক ও নজরুল’ বিষয়ে রচনা প্রতিযোগিতা।
ফাজিল ও কামিল পর্যায়: যেকোনো নজরুল কবিতা আবৃত্তি, ইসলামিক সংগীত/গজল, হামদ ও নাত, উপস্থিত বক্তৃতা এবং ‘নজরুল ও মানুষের মুক্তি’ শীর্ষক রচনা প্রতিযোগিতা।
রচনা প্রতিযোগিতার বিশেষ শর্তাবলী
আরও পড়ুন: বিসিএস গেজেটবঞ্চিতদের অনশন থেকে ছাত্রলীগের ৪ নেতাকর্মী আটক
নির্দেশনায় রচনা প্রতিযোগিতার জন্য বেশ কিছু বাধ্যতামূলক নিয়ম নির্ধারণ করা হয়েছে:
১. রচনা অবশ্যই সম্পূর্ণ মৌলিক হতে হবে এবং হাতে লিখে জমা দিতে হবে।
২. লেখায় ব্যবহৃত তথ্যের জন্য বিভিন্ন বই, প্রবন্ধ বা লেখকের রেফারেন্স বা তথ্যসূত্র উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক।
৩. শব্দের সীমারেখা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে— ইবতেদায়ী পর্যায়ে ৫০০ শব্দ, দাখিল পর্যায়ে ১,০০০ শব্দ, আলিম পর্যায়ে ১,৫০০ শব্দ এবং ফাজিল ও কামিল পর্যায়ে ২,০০০ শব্দের মধ্যে রচনা সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য মাউশির জরুরি নির্দেশনা জারি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন