১১:২৭ এম
ভারতে ইলন মাস্কের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংক নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছে ক্ষমতাসীন বিজেপির ঘনিষ্ঠ একটি প্রভাবশালী হিন্দুত্ববাদী সংগঠন। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) স্বদেশী জাগরণ মঞ্চ (এসজেএম) জাতীয় নিরাপত্তার উদ্বেগ তুলে ভারত সরকারের কাছে এই আহ্বান জানিয়েছে। এই দাবি উঠেছে যখন ভারতে স্টারলিংকের প্রবেশ নিয়ে মাস্ক ও ধনকুবের মুকেশ আম্বানির মধ্যে বিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে।
রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) অর্থনৈতিক শাখা হিসেবে পরিচিত এসজেএম সংগঠনটি দাবি করেছে, স্টারলিংকের প্রযুক্তির কারণে নিরাপত্তাজনিত জরুরি পরিস্থিতিতে ইন্টারনেট সেবা সীমিত করা কঠিন হতে পারে। এ ছাড়া, ভারতের ইন্টারনেট ট্রাফিক দেশীয় অবকাঠামোর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করাও চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
সংগঠনটির জাতীয় যুগ্ম আহ্বায়ক অশ্বিনী মহাজন এক বিবৃতিতে বলেছেন, "যদি যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে ভারতীয় পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করে, তাহলে প্রকৃত নিরাপত্তা উদ্বেগের ভিত্তিতে স্টারলিংককে আটকে দেওয়ার অধিকার ভারতেরও রয়েছে।"
আরও পড়ুন: পারস্য উপসাগরে মাইনের আঘাতে দ্বিতীয় সুপারট্যাঙ্কারে ভয়াবহ আগুন
ভারতে স্টারলিংকের কার্যক্রম শুরুর অনুমোদন নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গত সপ্তাহে মাস্ক অভিযোগ করেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার ও মুকেশ আম্বানি স্টারলিংকের প্রবেশে বাধা দিচ্ছেন, যাতে আম্বানির রিলায়েন্স জিও সুবিধা পায়। তবে ভারতের যোগাযোগ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, স্টারলিংকসহ স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা যাচাই চলছে। অনুমোদন প্রক্রিয়ায় বৈষম্যের অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও ভুল ধারণাপ্রসূত বলেও উল্লেখ করেছে মন্ত্রণালয়। স্টারলিংকের মূল প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
ভারতে একশ কোটিরও বেশি ইন্টারনেট গ্রাহক রয়েছেন। স্টারলিংকের পাশাপাশি রিলায়েন্স জিও ও ভারতী এয়ারটেলের সমর্থিত স্যাটেলাইট ইন্টারনেট উদ্যোগও চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
স্টারলিংকের ভারতে প্রবেশ নিয়ে মাস্ক ও আম্বানির বিরোধও প্রকাশ্যে এসেছে। গত সপ্তাহে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মাস্ক প্রশ্ন তোলেন, "ভারতের প্রকৃত ক্ষমতাধর ব্যক্তি কি আম্বানি?" স্টারলিংকের লাইসেন্স পেতে দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় নিয়মকানুন মেনে চলার পরও অনুমোদন না পাওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।
ভারতের নীতিনির্ধারণে প্রভাব রাখার নজির রয়েছে স্বদেশী জাগরণ মঞ্চের। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান অ্যামাজন ও ওয়ালমার্টের মালিকানাধীন ফ্লিপকার্টের প্রতিযোগিতার মুখে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সুরক্ষায় নীতিমালা প্রণয়নের দাবিও জানিয়েছিল সংগঠনটি। তথ্যসূত্র: রয়টার্স
আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যে তেলের দাম বেড়ে ১১০ ডলারে পৌঁছেছে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন