ঢাকা শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

গাজীপুরে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে শিক্ষককে মারধর, শিশুর বাবার বিচার দাবি


গাজীপুরে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে শিক্ষককে মারধর, শিশুর বাবার বিচার দাবি

গাজীপুরের টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকায় একটি আবাসিক মাদরাসায় ছয় বছর বয়সী শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধরের পর শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমি সংবাদ সম্মেলন করেন।

তিনি বলেন, ‘আমি আমার সন্তানের বিচার চাইতে মাদরাসায় গিয়েছিলাম, মব সৃষ্টি করতে নয়। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, আমি নাকি মব সৃষ্টি করেছি এবং ফ্ল্যাট দখল করতে গিয়েছি। আমি কেন মব সৃষ্টি করব? যদি আমি মব সৃষ্টি করতাম, তাহলে সেখানে ২০০ লোক ছিল, তারা সবাই আমাকে মারল না কেন? আমি তো একজন বাবা হিসেবে আমার সন্তানের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চাইতে গিয়েছিলাম।’

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ৩টার দিকে তিনি গণমাধ্যমকে এ কথা বলেন। এ সময় তিনি মেয়ের প্রতি নির্যাতনের অভিযোগের বিচার দাবি করেন এবং দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।

আরও পড়ুন: আমি এখন পীরগঞ্জের বিএনপি নেতাদের একজন':ঠাকুরগাঁওয়ে ইউএনওর বিতর্কিত বক্তব্য

মাদরাসায় ভাঙচুরের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি স্বীকার করছি, সেখানে ছোট একটি কাচের গ্লাস ভেঙেছে। আমি বলেছি, এর ক্ষতিপূরণ দিয়ে দেব। তবে শিক্ষক আসার আগেই গ্লাসটি ভেঙেছিল। ওই সময়ের ভিডিও রেকর্ডও রয়েছে। আমি ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু ভাঙতে চাইনি।’

১৭ লাখ টাকা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে রুমি বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানে সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। আমি কোথায় ১৭ লাখ টাকা নিয়ে গেছি, সেটি সিসিটিভি ফুটেজ দেখে যাচাই করা হোক। মাদরাসায় এত টাকা কিভাবে রাখা হয়, সেই বিষয়টিও পরিষ্কার হওয়া দরকার। আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে, সেগুলোরও সুষ্ঠু তদন্ত হোক।’

মাদরাসা কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, ‘আমি মাদরাসার বিরুদ্ধে নই, শিক্ষকদের বিরুদ্ধেও নই। আমি দ্বিনি শিক্ষার জন্য আমার মেয়েকে সেখানে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু যেখানে আমার সন্তান নিরাপদ থাকবে না, সেখানে এমন ঘটনা ঘটলে একজন বাবা হিসেবে আমি কী করব? আমি ইসলাম বা প্রকৃত আলেমদের বিরুদ্ধে কথা বলছি না। যারা ধর্মীয় পরিচয়কে ব্যবহার করে অপরাধ করে এবং সত্য আড়াল করার চেষ্টা করে, আমি তাদের বিরুদ্ধে কথা বলছি।’

ঘটনার পর নিজের মানসিক অবস্থার কথা তুলে ধরে রুমি বলেন, ‘এই ঘটনার পর আমি এক রাতও ঠিকমতো ঘুমাতে পারিনি। আমার দিন কিভাবে কাটছে, তা আল্লাহই ভালো জানেন। আমার জায়গায় অন্য কেউ থাকলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারত। আমি একজন বাবা। আমার সন্তানের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটার কথা শোনার পর নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছিল।’

আরও পড়ুন: সিরাজগঞ্জে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হলো ‘চর উৎসব’

মাদরাসার অধ্যক্ষের কাছে অভিযোগ জানিয়েও প্রতিকার না পাওয়ার দাবি করে তিনি বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে আমি তিন দিন আগেই অধ্যক্ষকে অভিযোগ জানিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি বারবার বলেছেন, তিনি কিছু জানেন না। আমি তার কক্ষের বাইরে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেছি। পরে তার সঙ্গে কথা বলতে গেলে এমন আচরণ করেছেন, যেন তিনি আমার সঙ্গে দেখা করতেই চান না। আমি জানতে চেয়েছি, অভিযোগ জানানোর পরও কেন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি?’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলা একাডেমির ‘নজরুল স্মৃতিকক্ষ’ সংস্কারে নতুন রূপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৪৭ এম


বাংলা একাডেমির ‘নজরুল স্মৃতিকক্ষ’ সংস্কারে নতুন রূপ

পলিয়ার ওয়াহিদ

ঢাকা, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ : হেমন্তের মায়াবী দুপুরে চারদিকে সোনালি রোদের ঝিলিক দেখা যাচ্ছে। আকাশে ছন্নছাড়া কয়েকটি মেঘ ভাসছে। বর্ধমান হাউসের ওপর ঘন গাছগাছালির মধ্য দিয়ে ফালি ফালি রোদ পড়ছে। দূরে দাঁড়িয়ে পুরোনো কিন্তু আভিজাত্যময় বর্ধমান হাউসের বলাকা রঙের সৌন্দর্য দেখতে পাচ্ছি। যদিও এটি জীর্ণ ও মলিন, তবুও এর রাজকীয় আভা ঠিকরে পড়ছে।

আজ থেকে প্রায় একশ বছর আগে, ১৯২৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে, কবি কাজী নজরুল ইসলাম মুসলিম সাহিত্য সমাজের দ্বিতীয় বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দিতে ঢাকায় এসেছিলেন। ঢাকায় এসে জাতীয় কবি এই ভবনে বেশ কিছুদিন ছিলেন। এটি ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কবির বন্ধু কাজী মোতাহার হোসেনের বাসভবন। নজরুল এই ভবনের সংলগ্ন পুকুরে গোসল ও সাঁতার কাটতেন। বিকাল ও সন্ধ্যায় পুকুরঘাটে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতেন বা একা সময় কাটাতেন।

কবির অবস্থানের স্মৃতি নিয়ে ভবনটি এখনও দাঁড়িয়ে আছে। এই স্মৃতিকে স্মরণীয় করে রাখতে ২৯ আগস্ট ১৯৭৮ সালে দোতলার পশ্চিমপাশে কবির থাকার ঘরটিকে ‘নজরুল স্মৃতিকক্ষ’ হিসেবে উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন করেন জাতীয় অধ্যাপক কাজী মোতাহার হোসেন। আজ আমি সেই স্মৃতিকক্ষ দর্শনে এসেছি এবং সরেজমিনে এর প্রকৃত অবস্থা বুঝে নিতে চাই।

বর্ধমান হাউসে প্রবেশ করতেই বাইরে রঙচটা বিশাল দেয়ালে ক্ষুদ্র একটি কাচের সাইনবোর্ড দেখা যায়। সেখানে ছোট হরফে লেখা রয়েছে দ্বিতীয় তলায় ‘নজরুল স্মৃতিকক্ষ।’ এটি আলাদা করে চোখে পড়ার মতো নয়। সিঁড়ি ভেঙে নিচতলায় পা রাখার পর বাঁপাশে ‘জাতীয় সাহিত্য ও লেখক জাদুঘর’ রয়েছে। জাদুঘরের অনুমতি নিয়ে ছবি তোলার পর দ্বিতীয় তলায় প্রবেশ করি।

পুরোনো মেহগনি কাঠের সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠলে চোখে পড়ে ঔপনিবেশিক স্থাপত্যরীতির ছাপ। সিঁড়ির পাশে সূক্ষ্ম কারুকাজ করা লোহার রেলিং রয়েছে। কাঠ ও লোহার এই যুগলবন্দিতে যেন আজও বেঁচে আছে বর্ধমান হাউসের আভিজাত্য ও ইতিহাস।

সিঁড়ি ভেঙে দোতলায় ওঠার পর ডানপাশে ‘ভাষা আন্দোলন জাদুঘর’ আর বামদিকে ‘নজরুল স্মৃতিকক্ষ’ রয়েছে।

যার সামনে নজরুল ও বিষাদসিন্ধুর রচয়িতা মীর মশাররফ হোসেনের আবক্ষ ভাস্কর্য স্থাপিত। বাইরে বিশাল তালা ঝুলতে দেখে হতাশ হয়ে যাই। জানতে পারি, কক্ষটি সকাল ১১টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকে।

অগত্যা পরের দিন আবার যাই। সেদিনও তালা ঝুলতে দেখি। মুখোমুখি বাংলাদেশ শিল্পীকল্যাণ ট্রাস্টের অফিসে একজনকে পাওয়া গেল। তিনি জানালেন, ‘ও রুমের লোক পাশের বিল্ডিংয়ে গেছেন।’ এরপর তৃতীয় তলায় উঠে যাই। সেখানে ‘মহাফেজখানা’ ও ‘লোকঐতিহ্য জাদুঘর’ ঘুরে নিচে নেমে আসি। কিছুক্ষণ পর গিয়ে দেখি এবার দরজা আবছা ভিড়ানো।

মনটা খুশিতে ভরে গেল। ভেতরে প্রবেশের জন্য জুতা খুলতে হলো। ভালো লাগলো, শ্রদ্ধামাখা কোনো ঘরে ঢুকছি। তবে কক্ষটি যেমনটা কল্পনা করেছিলাম তেমনটা নয়। এটি ছিমছাম ও সাদামাটা ছোট কামরা। নজরুলবর্ষ উপলক্ষে সংস্কারের কাজ চলছে। ‘নজরুল স্মৃতিকক্ষ’ বলতে কয়েকটি ছোট-বড় ছবি এবং কিছু বইপত্র রয়েছে। ছোট তিনটি বইয়ের আলমারিতে সাজানো বই ও পত্রপত্রিকা। তবে সামান্য আয়োজন হলেও শ্রদ্ধা ও যত্নের কমতি নেই। এটি বেশ পরিষ্কার ও পরিপাটি।

কক্ষের চারদিক নজরুলের বিভিন্ন ধরনের ছবি দিয়ে সাজানো। বাঁদিকের প্রথম ছবিতে রয়েছে দুজন নারীকে নজরুলের গান শেখানোর দৃশ্য। তার নিচে নজরুলের তিন ছেলে সাব্যসাচী, অনিরুদ্ধ ও বুলবুলের ছবি রয়েছে। এরপর নজরুলের প্রৌঢ় ও যৌবনের দুটি ছবি উপরে-নিচে টাঙ্গানো। নতুন কালেকশানগুলো এখনও অপ্রস্তুতভাবে রাখা হয়েছে। বেশিরভাগ ছবির পাশে ক্যাপশন নেই। ফলে চিহ্নিত করতে বেগ পেতে হয়। বড় একটি টেবিলের ওপর প্রমীলার ছবি, কবির গানের খাতা ও পাণ্ডুলিপি রয়েছে। এ ছাড়া পুরোনো কিছু ছবি নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। আরেকটি টেবিলে কাঁঠালি রঙের ফুলদানিতে বেগুনি ও কুসুম রঙের ফুলের পাশে নজরুলের ছোট আবক্ষ মূর্তিটি বেশ আকর্ষণীয়। তার পাশেই নজরুলকে ঘিরে তৎকালীন ঢাকার লেখক সমাজের সাদাকালো ছবি রয়েছে।

'নজরুল স্মৃতিকক্ষ' নিয়ে জানতে চাইলে প্রখ্যাত নজরুল গবেষক ও আধিপত্যবাদবিরোধী কবি আবদুল হাই শিকদার বলেন, বহুদিন যাবত শুনেছি কক্ষটি সংস্কার করা হবে। কিন্তু কেন করা হচ্ছে না, তা জানি না।

নজরুল কক্ষ নিয়ে কোনো আইডিয়া আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, ‘সবচেয়ে ভালো হবে বাংলা একাডেমির পুকুরটিকে ‘নজরুল স্মৃতিবিজড়িত পুকুর' লিখে ঘাটে একটি বড় সাইনবোর্ড ব্যবহার করলে। নজরুল বর্ষে এটি অভিনব ঘটনা হবে।’

বাংলা একাডেমির বর্ধমান হাউসের দোতলায় অবস্থিত নজরুল স্মৃতিকক্ষ শুধু কবির স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণের স্থান নয়, এটি নজরুলের সাহিত্যকর্ম নিয়ে গবেষণারও একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। বাংলা একাডেমির নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, এখানে কবির রচনাবলি ও তাঁর জীবন-সাহিত্য বিষয়ক বিভিন্ন উপকরণ সংরক্ষিত রয়েছে।

নজরুল গবেষণায় পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক আনোয়ারুল হক বলেন, ‘নজরুল স্মৃতিকক্ষে নজরুলের ওপর গবেষণাধর্মী সব বইয়ের কালেকশন ও ঢাকায় নজরুল আর কী কী করেছেন তার একটি দিনপঞ্জিও থাকতে পারে। এ ছাড়া বাংলা একাডেমিতে ‘নজরুল স্মৃতিকক্ষ’ আছে, এটা অনেকেই জানে না। এর প্রচার-প্রচারণা দরকার।’

জাদুঘর থেকে বেরুতেই কবি ও প্রতিভাবান গীতিকার মহসিন আহমেদের সঙ্গে দেখা হয়। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘নজরুল স্মৃতিকক্ষসহ বাংলা একাডেমিতে এতগুলো জাদুঘর আছে যে, বেশিরভাগ দর্শক তো দূরের কথা লেখকরাও জানেন না। একাডেমির প্রধান গেটে জাদুঘরগুলোর একটি ম্যাপ থাকলে ভালো হয়।’

নজরুল বর্ষ ও নজরুল গবেষকদের এসব দাবির প্রসঙ্গে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেন, ‘আমাদের নজরুল একাডেমি বা ইনস্টিটিউটের মতো ডেডিকেটেড তেমন কিছু করার সুযোগ কম। তবুও আমরা কক্ষটি সংস্কারের কাজে হাত দিয়েছি। সংস্কার ও নতুন রূপ দেওয়ার জন্য বিখ্যাত আলোকচিত্রী ও লেখক নাসির আলী মামুনের সঙ্গে চুক্তি করেছি। তিনি কবির ছবির বিরল কিছু সংগ্রহ দিয়েছেন। কিছু ছবির সেটআপের কাজ চলছে। কক্ষ ছোট হওয়ায় সব ছবি ধরবে না। যতটা নান্দনিক ও দৃষ্টিনন্দন করা সম্ভব, সেটাই করব। এ ছাড়া কাজী নজরুলের ওপর গবেষণাধর্মী বইয়ের সংগ্রহ তো আছে।

এটি আরও বাড়ানো হবে। আর পুকুরের বিষয়টি যেহেতু আলোচনায় এসেছে, আমরা পদ্ধতিমাফিক আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবো।’

বর্ধমান হাউসের মূল ফটক পেরিয়ে যখন রাস্তায় নামি তখন সন্ধ্যা ছুঁই ছুঁই। ভাবছিলাম, নজরুল স্মৃতিকক্ষের সংস্কারের পাশাপাশি কক্ষটির পরিচিতি বাড়াতে প্রচার-প্রচারণা ও গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণ জরুরি। এতে কক্ষটি নতুন প্রজন্মের নজরুলচর্চা ও গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হবে। সংশ্লিষ্টদেরও প্রত্যাশা এমনই।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাতীয় ইমাম সমিতির ত্রিবার্ষিক কাউন্সিল আজ, ধর্মমন্ত্রীর উপস্থিতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৪৮ এম


জাতীয় ইমাম সমিতির ত্রিবার্ষিক কাউন্সিল আজ, ধর্মমন্ত্রীর উপস্থিতি

জাতীয় ইমাম সমিতির ত্রিবার্ষিক কাউন্সিল আজ শনিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মিলনায়তনে, যা রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত, এ কাউন্সিলের আয়োজন করা হচ্ছে। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংযোগ কর্মকর্তা মো. ফরহাদ আহমেদ শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) এ তথ্য প্রকাশ করেন।

কাউন্সিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. শামীম কায়সারও উপস্থিত থাকবেন।

ধর্ম মন্ত্রণালয় জানায়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত জাতীয় ইমাম সমিতির নেতৃবৃন্দ এবং বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদরা এ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করবেন। ত্রিবার্ষিক এই কাউন্সিল অধিবেশনে ইমাম সমিতির সার্বিক কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করা হবে, পাশাপাশি জাতীয় অগ্রযাত্রায় আলেম-ওলামা ও ইমামদের ভূমিকা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণ করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হেবরনে ২ ইসরায়েলি সেনার মৃত্যু, নেতানিয়াহুর নির্দেশে ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর গুঁড়িয়ে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৪৮ এম


হেবরনে ২ ইসরায়েলি সেনার মৃত্যু, নেতানিয়াহুর নির্দেশে ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর গুঁড়িয়ে

অধ্যুষিত পশ্চিম তীরে একটি সামরিক তল্লাশিচৌকিতে ফিলিস্তিনি বন্দুকধারীদের হামলায় দুই ইসরায়েলি সেনার মৃত্যু ঘটেছে। এই ঘটনার পর ইসরায়েলি বাহিনী সেখানে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করেছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ওই এলাকার বাসিন্দাদের বাড়িঘর ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য করা হয়েছে এবং বেশ কিছু ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) তথ্য অনুযায়ী, হেবরন শহরে সংঘটিত এই হামলায় আরও তিন সেনা সামান্য আহত হয়েছেন। হামলা চালানো দুই ফিলিস্তিনি বন্দুকধারীও পরে নিহত হন।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ঘটনার পর এটি প্রথমবারের মতো ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনের মাত্র চার দিন আগে এই হামলার ঘটনা ঘটল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জন্য একটি বড় পরীক্ষা। কারণ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে শক্ত অবস্থানের নেতা হিসেবে তুলে ধরছেন।

হামলার পরপরই পুরো হেবরন শহর ঘেরাওয়ের ঘোষণা দেয় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। নেতানিয়াহু জানান, তিনি শুক্রবার থেকেই পশ্চিম তীরে সম্পূর্ণ অবরোধ আরোপের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে কয়েক ঘণ্টা পর অবস্থান কিছুটা শিথিল করে তিনি জানান, পুরো পশ্চিম তীর বন্ধ না করে হেবরন ও হালহুল শহর ঘিরে একটি 'বিশেষ নিরাপত্তা বলয়' তৈরির বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এবং অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা আইএসএ এক যৌথ বিবৃতিতে জানায়, হেবরন এলাকায় তারা কয়েক দিনব্যাপী 'সন্ত্রাসবিরোধী' যৌথ অভিযান শুরু করেছে। সন্ত্রাসী অবকাঠামো ও অস্ত্র উদ্ধার এবং সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নির্দিষ্ট এলাকা চিহ্নিত করে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। বাসিন্দারা তিনটি নির্দিষ্ট পথ দিয়ে এলাকা ত্যাগ করতে পারবেন, তবে তাদের নিরাপত্তা তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এলাকাটিতে অবৈধ এবং নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো ইতোমধ্যে ড্রেজার দিয়ে ভেঙে ফেলা শুরু হয়েছে।

এদিকে, হেবরনের জনবসতি থেকে ফিলিস্তিনিদের এভাবে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার পরিকল্পনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইসরায়েলের মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থা 'বি'তসেলেম'। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ইউলি নোভাক বলেন, 'ইসরায়েল আগে থেকেই তাদের নতুন অপরাধের কথা প্রকাশ্যে ঘোষণা করছে। নেতানিয়াহু এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী কার্টজ হেবরনের একটি ফিলিস্তিনি এলাকা খালি করা এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর মনস্থাই প্রকাশ করেছেন।'

শুক্রবার বিকেলের মধ্যেই হেবরনের ফারশ আল-হাওয়া এলাকায় ভবন ভাঙার কাজ শুরু করে দেয় ইসরায়েলি বাহিনী। সিএনএন জানায়, তাদের হাতে আসা একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, এক ইসরায়েলি সেনা একটি আবাসিক ভবনের ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের মাইকে বলছেন, 'আপনাদের এলাকা ছেড়ে যাওয়ার জন্য মাত্র পাঁচ মিনিট সময় দেওয়া হলো।'

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে হামলার সময় জানালেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৪৯ এম


যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে হামলার সময় জানালেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক

যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানে সামরিক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সামরিক সরঞ্জাম, নৌবহর ও সেনা মোতায়েনের ফলে ইসরাইলি বাহিনীর উচ্চ সতর্কাবস্থা নতুন করে হামলার আশঙ্কা বৃদ্ধি করেছে। এই প্রেক্ষাপটে, মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক তুরস্কে অবস্থানকালে ইরানে হামলার সময়সূচি সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য প্রদান করেছেন।

তিনি উল্লেখ করেছেন, চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালাতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ক্রমবর্ধমান হুমকির মধ্যে ঘটতে পারে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) পডকাস্ট উপস্থাপক মারিও নওফালের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "এই সপ্তাহের শেষ দিকে হামলা হতে পারে কি? অবশ্যই।"

টম ব্যারাক সিরিয়াবিষয়ক দায়িত্ব পালনকালে উপসাগরীয় অঞ্চলে সফরের সময় এই সাক্ষাৎকার দেন। যদিও ইরানবিষয়ক বিষয়ে তার সরাসরি দায়িত্ব নেই, তথাপি তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করেন। তিনি জানান, ট্রাম্প চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য আগ্রহী এবং আলোচনার জন্য প্রস্তুত।

এদিকে, আগামী মঙ্গলবারের নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের ধর্মীয় শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। গত বছর থেকে ইরানের বিরুদ্ধে দুটি বড় ধরনের বোমা হামলা চালানোর পর তিনি এ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।

দীর্ঘদিন ধরে কূটনৈতিক আলোচনা অচলাবস্থায় থাকার পর ট্রাম্পও ইরানে হামলা চালানোর বিষয়ে আগ্রহের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে তিনি পূর্বে বলেছিলেন, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস নির্বাচনের আগে এমন হামলা হবে না।

নেতানিয়াহুর বক্তব্যের বিপরীতে ব্যারাক বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের শাসনব্যবস্থার পতন ঘটাতে চায় না। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবে পশ্চিমাপন্থি শাহের শাসনের অবসানের পর থেকে ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের শত্রু হিসেবে পরিচিত।

ব্যারাক মন্তব্য করেন, "আপনারা যদি বিশ্ব, আমাদের মিত্র এবং উপসাগরীয় অঞ্চলকে হুমকি দিতে থাকেন, তাহলে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে। তবে সেই পরিণতি শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন হবে না।"

তিনি আরও বলেন, "যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট স্পষ্টভাবে বলেছেন, তিনি শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনে আগ্রহী নন।" ব্যারাকের ভাষায়, "শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সব সময়ই একটি সমস্যা থাকে। আর তা হলো, পরিবর্তনের পরের দিন কী ঘটবে?" সূত্র: আরব নিউজ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৫
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%