০৫:১৩ পি.এম
ভারতের কলম্বোলি থানা পুলিশ ৩২ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে ২৭ বছর বয়সী এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযুক্ত যুবক পেশায় একজন র্যাপিডো ডেলিভারি বয়।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাতের গভীর সময়ে (আনুমানিক রাত ২টার দিকে) নভি মুম্বাইয়ের কলম্বোলি সেক্টর ৪ই-এর জেবি কমপ্লেক্সের একটি চালের ঘরে (ভাড়া বাড়িতে) এই নির্মম হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আসামির নাম মনিষ রঞ্জিত গোপ, যিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা। নিহত নারী হলেন পিঙ্কি মনিষ গোপ ওরফে সোনিয়া মোহাম্মদ আবু খাতুন, যিনি একজন গৃহিণী ছিলেন।
আরও পড়ুন: জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদের স্থান নেই: বিএনপির এমপি শাহজাহান
কলম্বোলি থানার সিনিয়র ইন্সপেক্টর তানাজি নারনভার দাবি করেন, ‘‘প্রথম স্বামীর ঘরে নিহতের একটি ৫ বছরের মেয়ে রয়েছে। ভারতে অবৈধভাবে বসবাসের কারণে ইতিপূর্বে তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছিল (ডিপোর্ট করা হয়েছিল)। তবে তিনি পুনরায় অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে মুম্বাইয়ে বসবাস শুরু করেন। সেখানে মনিষের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং গত বছর তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এরপর থেকে মেয়েকে নিয়ে তারা কলম্বোলির ওই ভাড়া বাড়িতে থাকতেন।’’
সিনিয়র ইন্সপেক্টর আরও জানান, মনিষ তার স্ত্রীর বিশ্বস্ততা নিয়ে তীব্র সন্দেহ করতেন। নিহতের মোবাইলে অন্য পুরুষদের সাথে নিয়মিত কথা বলা এবং ইউপিআই-এর মাধ্যমে অন্য পুরুষদের কাছ থেকে টাকা পাওয়ার বিষয়টিকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে প্রায়ই বচসা হতো।
বৃহস্পতিবার রাতে এ নিয়ে আবারও বিবাদ শুরু হলে মনিষ ক্ষিপ্ত হয়ে স্ত্রীর মুখ, ঘাড় ও বুকে এলোপাতাড়ি ঘুসি মারেন। এতে গুরুতর অভ্যন্তরীণ আঘাত পেয়ে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। মনিষ তাকে কামোঠের এমজিএম হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুলিশকে বিষয়টি জানালে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে মনিষকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। সেখানে তিনি নিজের অপরাধ স্বীকার করেন। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে হত্যার মামলা দায়ের করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আরও পড়ুন: পিএসসিকে দলীয়করণের অপচেষ্টা জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থি: ছাত্রশিবির
শুক্রবার পানভেল আদালত তাকে আগামী ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন