০৬:৪২ পি.এম
শীতের আগমনের ধ্বনি এবং যমুনা নদীর পানি কমে যাওয়ার ফলে বগুড়ার তিনটি উপজেলায় চরের পতিত জমিতে বাড়তি ফলনের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। সারিয়াকান্দি, ধুনট ও সোনাতলা উপজেলায় জেগে ওঠা চরে এবার চালের আকারে প্রায় ৪১ হাজার মেট্রিক টন বাড়তি ফলন পাওয়া যাবে। চাষিরা মাঠে নেমে পড়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা এখন বাড়তি ফলন ঘরে তোলার স্বপ্ন দেখছেন।
বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, যমুনা নদীর পানি কমে যাওয়ার ফলে সারিয়াকান্দিতে নদীর বুকে বেশ কিছু জমি জেগে উঠেছে। পলি দোঁআশ মাটির এই জমিতে স্থানীয় চাষিরা অসময়ে ধান চাষ শুরু করেছে। প্রতিবছর আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে বগুড়া যমুনা নদীতে বন্যা দেখা দেয়। বন্যার পর পানি কমে গেলে জেগে ওঠা খালি চরে নদীর পানি সেচ দিয়ে ধান চাষ করা হয়। এই ধানকে স্থানীয়রা গাইঞ্জা বলে। তবে কৃষি অফিসের মতে, এটি পরিচিত। সাধারণত বর্ষার জমে থাকা পানি বা নদীর পানিতে এই ধান চাষ হয়ে থাকে। কিন্তু স্থানীয় চাষিরা বন্যার কারণে দেরিতে রোপণ করে থাকে। যমুনা নদীর পানি কমতে থাকলে নতুন জেগে ওঠা কম পানির ভেতর এই ধান চাষ করা হয়। এই সময় চাষিদের হাতে কাজ একেবারে কম থাকে। স্থানীয়রা চাষ করে বাজারে ধান বিক্রি করে আয় করেন।
কিছু চাষি শীতকালের খাবার হিসেবে ঘরে রেখে পরিবারের জন্য চাল তৈরি করে খাবারের ব্যবস্থা করেন। মূলত নদীর পানি দিয়ে বন্যা, অতি বন্যায় নদীর জেগে ওঠা চরে এই ধান চাষ হয়ে থাকে। স্থানীয় চাষিরা এই ধান চাষ করে নিজেদের জন্য চাল এবং গৃহপালিত গরুর জন্য খাবার হিসেবে খড়ের ব্যাপক ব্যবহার করে থাকেন। নদীর পানি শুকিয়ে গেলে বা কমে গেলে নদীর দুই পাড়ে ফাঁকা জায়গায় এই ধান চাষ হয়। এই ধান কবে ও কখন থেকে চাষ হয়ে আসছে তার সঠিক ইতিহাস জানা নেই। এই ধান হতে প্রায় ১০০ দিন সময় লাগে। চাষবাসে খরচ বলতে পানি সেচ ও বীজ। তেমন কোন সার দিতে হয় না। আমন বা বোরোর মত ফলন পাওয়া না গেলেও বিঘা প্রতি ৮ থেকে ১০ মন ধান পাওয়া যায়। চলতি বছর বগুড়ায় প্রায় ১২ হাজার হেক্টর জমিতে ধান চাষ হচ্ছে। এই পরিমাণ জমি থেকে চালের আকারে ফলন পাওয়া যাবে প্রায় ৪১ হাজার মেট্রিক টন। নদী পাড়ের এই চাষ বাড়তি ফলন হিসেবে ধরা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: যশোরে খেজুরের গুড় সংগ্রহ মৌসুমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন
বগুড়ার সোনাতলার আব্দুর রহমান জানান, নদীর পানি কমে গেলে এই ধান চাষ হয়ে থাকে। সার পানি তেমন দিতে হয় না বলে একে গাইঞ্জা ধান বলা হয়। হাটে বাজারে ৪০ থেকে ৫৫ টাকা কেজি দরে এই চাল বিক্রি হয়। শীতকালে চরে তেমন কোন কাজ থাকে না। এই সময় ঘরে ভাতের অভাব দূর করে এই চাষ। অনেকেই এটিকে আপৎকালিন ধানও বলে থাকেন।
বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি অফিস জানাচ্ছে, গাইঞ্জা ধান প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে চাষ হচ্ছে। যমুনা নদীর পানি কমলে জমি বের হবে। সেই ফাঁকা জমিতে স্থানীয় চাষিরা আবারও চাষবাস শুরু করে। এই ক্ষেত্রে জমি এবং চাষের জমি বৃদ্ধি পেয়ে ফলনও বৃদ্ধি পায়। খোলা বাজারে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা মন দরে এই ধান বিক্রি হয়। চরের চাষীরা বিনা চাষ, সেচ, সার ও কীটনাশক ছাড়া স্থানীয় ধানের চাষ করে ভালো ফলন পেয়ে থাকেন। গাইঞ্জা চাষ বাড়তি ফলন হিসেবে যতটা সম্ভব স্থানীয় চাষিরা চাষ করে থাকে।
বগুড়ার ধুনট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ছামিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, নদীর তীরবর্তী দরিদ্র জনগোষ্ঠী এই ধান চাষ করছেন। আগে এসব বালুচর পতিত থাকত। নদীর এসব পতিত জমিতে এই ধান চাষ করে চাষিরা সচ্ছলতা পাচ্ছেন। এই ধানকে গাইঞ্জা বলা হয়, আবার কেউ কেউ বর্ষাকালের জন্য বর্ষালি বলেও উল্লেখ করেন। তবে বর্ষালি ধানটি বর্ষাকালে রোপণ করা হয়। বন্যার কারণে চাষিরা দেরিতে লাগায় বলে স্থানীয়রা এটিকে গাইঞ্জা ধান বলে। বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা ফরিদুর রহমান জানিয়েছেন, ধান চাষের পর এবারের যমুনা নদীর চরে বাড়তি হিসেবে প্রায় ৪১ হাজার টন চাল পাওয়া যাবে।
আরও পড়ুন: ছাতকে রোপা আমন কাটার ধুম, কৃষকরা সন্তুষ্ট
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন