ঢাকা বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

রাকসুর কার্যক্রমকে বিধিবহির্ভূত বলল প্রশাসন, জিএস আম্মারের প্রতিবাদ


রাকসুর কার্যক্রমকে বিধিবহির্ভূত বলল প্রশাসন, জিএস আম্মারের প্রতিবাদ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) ও হল সংসদের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের পরবর্তী কার্যক্রমকে বিধিবহির্ভূত হিসেবে উল্লেখ করেছে। কর্তৃপক্ষ একই সঙ্গে রাকসুর নাম ব্যবহার করে কোনো ছাত্রসংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। এই প্রশাসনিক বক্তব্যের বিরুদ্ধে রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি ফেসবুকে মন্তব্য করে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ‘ননসেন্স’ ও ‘গাম্বাট’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে জনসংযোগ দপ্তরের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে প্রশাসনের এই অবস্থান জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “আজ মঙ্গলবার সামাজিক মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) কর্তৃক বিভিন্ন হল সংসদের মাধ্যমে জিমনেসিয়াম সরঞ্জামাদি প্রদানসহ বিভিন্ন কর্মকান্ডের সংবাদ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের গোচরীভূত হয়েছে। এসব সংবাদ বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী বলে কর্তৃপক্ষ মনে করে।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়, রাকসু ও হল সংসদের মেয়াদ ২৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে শেষ হয়েছে। ফলে ওই তারিখের পর তাদের কোনো কার্যক্রম বিধিসম্মত নয়। একইভাবে রাকসুর নাম ব্যবহার করে কোনো ছাত্রসংগঠনের তৎপরতাও বিধিবহির্ভূত। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ ধরনের কর্মকান্ড থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরত থাকার আহ্বান জানায়।

আরও পড়ুন: বিশ্ববিদ্যালয়ে তথ্য মেলার আয়োজনের ঘোষণা প্রধান তথ্য কমিশনারের

অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ওই বিজ্ঞপ্তির ফেসবুক পোস্টে মন্তব্য করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার। তিনি লেখেন, “কতবড় ননসেন্সগুলা, গাম্বাট এই বসে আছে গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগোলতে একটাবার চিন্তা করেন।

রাকসুর কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা তুলে ধরে তিনি আরও লেখেন, “রাকসুর সর্বশেষ অধিবেশন হয়েছে সেপ্টেম্বরের ৩০ তারিখ। তারপর এই বাজেট উত্তোলন করতে পেরেছি এই মাসের ২১ তারিখ। ১১টি ছেলেদের হল আর মেয়েদের কেন্দ্রীয় জিমনেসিয়ামের জিনিস অর্ডার করে নিয়ে আসতে সময় লেগেছে। এজন্য এখন আর এই কাজ করা যাবেনা। অধিবেশনে পাশ হওয়া এখনো মিনিমাম ডজনখানেক কাজ চলমান। তো এগুলো রাকসু শেষ করবেনা?

রাকসুর সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) সালমান সাব্বিরও প্রশাসনের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “জনাব প্রশাসক মহোদয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মহোদয়ই রাকসুর সভাপতি। তার অনুমোদনক্রমেই রাকসুর ফান্ড থেকে অর্থ উত্তোলন করে এসব কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আর, এই কার্যক্রম নতুন নয়। বেশ কয়েক মাস আগে থেকেই এর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বাস্তবায়নের বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লাগছে মাত্র।

তিনি আরও যোগ করেন, “সামনেও এ ধরনের আরও কয়েকটি উদ্যোগ বাস্তবায়িত হবে।

আরও পড়ুন: ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে দাবি পূরণের আল্টিমেটাম এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের

উল্লেখ্য, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার সকালে ছেলেদের ১১টি আবাসিক হল ও মেয়েদের কেন্দ্রীয় জিমনেসিয়ামের জন্য ব্যায়ামের সরঞ্জাম সরবরাহ করে রাকসু। এ ছাড়া তায়কোয়ান্দো খেলোয়াড়দের অনুশীলনের জন্য দুটি বক্সিং ব্যাগ সরবরাহ এবং ছেলেদের কেন্দ্রীয় জিমনেসিয়াম সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন রাকসুর নেতারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশকে যেভাবে সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব দিলো পাকিস্তান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:৪৪ পি.এম


জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশকে যেভাবে সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব দিলো পাকিস্তান

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘর্ষ এবং জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট 'হরমুজ প্রণালী' বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে, বিশ্বজুড়ে অভূতপূর্ব জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশকে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা ভাগাভাগির প্রস্তাব দিয়েছে পাকিস্তান। উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট ব্যবহৃত তেলের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ পরিবাহিত হয়।

গতকাল সোমবার (২ নভেম্বর) ইসলামাবাদে পাকিস্তানের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী আলী পারভেজ মালিকের সাথে বাংলাদেশের অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার ঢাকায় অবস্থিত পাকিস্তান হাই কমিশন থেকে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। খবর জিও টিভির।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধিরা পরিবর্তনশীল বিশ্ব জ্বালানি পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক বাজারে এর প্রভাব এবং জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে নিজেদের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করেন। উভয় পক্ষই অর্থনীতিতে এই বৈশ্বিক সংকটের নেতিবাচক প্রভাব কমানো এবং জ্বালানির নির্বিচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখার কৌশল তুলে ধরেন।

বৈঠকে পাকিস্তানের জ্বালানি মন্ত্রী বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখতে তাঁর সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। তিনি সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে এবং সংকটের ধাক্কা সামলাতে সরকারের বিভিন্ন ধরনের লক্ষ্যভিত্তিক জ্বালানি ভতুর্কির বিষয়গুলোও তুলে ধরেন।

অন্যদিকে, বাংলাদেশের অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশের গৃহীত পদক্ষেপগুলো বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সংকট জাতীয় জ্বালানি নীতি নির্ধারণে ‘জ্বালানি নিরাপত্তা’কে সবচেয়ে প্রধান বিবেচ্য বিষয় হিসেবে সামনে নিয়ে এসেছে। বৈশ্বিক যেকোনো ধাক্কা সামলাতে জ্বালানির উৎস এবং সরবরাহ রুটে বৈচিত্র্য আনার ওপর তিনি জোর দেন।

ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে তৈরি হওয়া যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসানে পাকিস্তানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন বাংলাদেশের উপদেষ্টা। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারের স্থায়িত্বের জন্য যুদ্ধ প্রশমন অত্যন্ত জরুরি, কারণ এই সংকট বৈশ্বিক বাজারকে বিপর্যস্ত করছে। পাশাপাশি, চরম প্রতিকূলতার মধ্যেও হরমুজ প্রণালী দিয়ে কাতার থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কার্গো সুরক্ষিত রাখতে পাকিস্তানের সফল প্রচেষ্টারও প্রশংসা করেন তিনি।

পাকিস্তান মন্ত্রী আলী পারভেজ মালিক এই পরিস্থিতিকে একটি ‘অভূতপূর্ব জ্বালানি সংকট’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এ ধরনের বৈশ্বিক বিপর্যয় সামলাতে পূর্বপ্রস্তুতি, জ্বালানির উৎস বহুমুখীকরণ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি। তিনি জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করা এবং সংকট ব্যবস্থাপনায় পাকিস্তানকে প্রাপ্ত শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের সাথে ভাগাভাগি করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

ভবিষ্যতের যেকোনো বৈশ্বিক সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে এবং যৌথ জ্বালানি চ্যালেঞ্জগুলো সামাল দিতে উভয় দেশই পারস্পরিক যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুন্দরবনে জিম্মি ৫ জেলে উদ্ধার, অস্ত্র ও গুলি জব্দ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:৪৪ পি.এম


সুন্দরবনে জিম্মি ৫ জেলে উদ্ধার, অস্ত্র ও গুলি জব্দ

সুন্দরবনের কোস্ট গার্ডের পৃথক দুটি অভিযানে ডাকাতদের হাতে জিম্মি থাকা পাঁচ জেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত জেলেদের সঙ্গে অস্ত্র ও গুলি জব্দ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ অক্টোবর) খুলনার কয়রা ও দাকোপ উপজেলা-সংলগ্ন সুন্দরবনে এসব অভিযান পরিচালিত হয়।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন একই দিন বিকেলে এই তথ্য জানান। তিনি উল্লেখ করেন, সুন্দরবনের সক্রিয় বনদস্যু বাহিনী নির্মূল এবং উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোস্ট গার্ড ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে।

মঙ্গলবার ভোর ৪টার দিকে কয়রা থানাধীন সুন্দরবনের আড়শীপসা নদীর গানধার খাল এলাকায় অভিযান পরিচালিত হয়। সেখানে সাত্তার বাহিনী মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে কয়েকজন জেলেকে জিম্মি করে রেখেছিল। অভিযানে জিম্মি থাকা কয়রার পাঁচ জেলে জহুরুল ইসলাম (২৭), ফারুক গাজী (৪২), রেজাউল করিম (২৬), নুরুল হুদা (২৩) ও হাসান গাজীকে (২৭) উদ্ধার করা হয়।

অভিযানের সময় একটি ডিঙি নৌকা থেকে চারটি দেশীয় ওয়ান শুটারগান, ছয় রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং ১৩ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ জব্দ করা হয়। তবে কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত দলের সদস্যরা পালিয়ে যায়।

সাব্বির আলম সুজন আরো জানান, একই দিন সকাল ১১টার দিকে ডাকাতদের উপস্থিতির খবর পেয়ে কোস্ট গার্ডের আরেকটি দল দাকোপ থানাধীন সুন্দরবনের কুমড়োখালী খালসংলগ্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত দলের সদস্যরা সুন্দরবনের গহিনে পালিয়ে যায়।

পরে ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিনব কায়দায় লুকিয়ে রাখা চারটি একনলা বন্দুক, একটি ০.২২ ক্যালিবার বন্দুক, ২০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ০.২২ ক্যালিবার বন্দুকের ৫২ রাউন্ড গুলি এবং দুটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‎তিন যুগেও নির্মিত হয়নি সেতু, প্রতিশ্রুতির ভারে নুয়ে পড়েছে সাহেবের চরবাসী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

হোসেনপুর( কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:৪৫ পি.এম


‎তিন যুগেও নির্মিত হয়নি সেতু, প্রতিশ্রুতির ভারে নুয়ে পড়েছে সাহেবের চরবাসী
 
 
একটি ছোট সেতুর অভাবে তিন যুগেরও বেশি সময় ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার সাহেবের চর গ্রামের হাজীবাড়ী এলাকার হাজারো মানুষ। ব্রহ্মপুত্র নদের শাখা খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের হলেও আজও তা বাস্তবায়িত হয়নি। জনপ্রতিনিধিদের প্রতিশ্রুতি, সরকারি কর্মকর্তাদের মাপজোক এবং গণমাধ্যমে একাধিকবার সংবাদ প্রকাশের পরও মেলেনি স্থায়ী সমাধান।
‎
‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাহেবের চর হাজীবাড়ী প্রান্তের খালের ওপারে রয়েছে প্রায় ৫০০ একর আবাদি জমি। এসব জমিতে উৎপাদিত ফসল ঘরে তুলতে প্রতিদিনই কৃষকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। কোনো কোনো সময় বাঁশের সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হয়, আবার পানির উচ্চতা বেড়ে গেলে বুকসমান পানি পেরিয়ে যাতায়াত করতে হয়। এতে কৃষকদের পাশাপাশি স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদেরও পড়তে হয় চরম বিপাকে। পানিতে ভিজে নষ্ট হয় বই-খাতা ও পরনের পোশাক।
‎
‎স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল ওয়াদুদ বলেন, “এই খালের ওপর একটি সেতু আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি। তিন যুগেরও বেশি সময় ধরে আমরা এই দুর্ভোগ সহ্য করছি। জনপ্রতিনিধিরা বিভিন্ন সময়ে সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন, কর্মকর্তারাও এসে মাপজোক করেছেন। কিন্তু বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি। আমরা আর আশ্বাস চাই না, দ্রুত সেতু নির্মাণের উদ্যোগ দেখতে চাই।”
‎
‎স্থানীয় বাসিন্দা শিমুল হাজী বলেন, “একটি সেতুর অভাবে আমাদের এলাকার কৃষক, শিক্ষার্থীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ ভোগান্তিতে রয়েছেন। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়। কৃষকদের উৎপাদিত ফসল আনা-নেওয়া করতে অনেক কষ্ট করতে হয়। শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের দাবি, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত সেতু নির্মাণ করা হোক।”
‎
‎আরেক বাসিন্দা খলিল মিয়া বলেন, “নির্বাচনের সময় জনপ্রতিনিধিরা নানা প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু নির্বাচনের পর এই এলাকার মানুষের দুর্ভোগের কথা অনেকেই ভুলে যান। বছরের পর বছর ধরে আমরা একটি সেতুর জন্য অপেক্ষা করছি। আর কতদিন অপেক্ষা করতে হবে, সেটাই এখন আমাদের প্রশ্ন। কোনো দুর্ঘটনায় প্রাণহানির আগে সেতুটি নির্মাণ করা জরুরি।”
‎
‎এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সেতু নির্মাণের দাবি জানানো হলেও কার্যকর উদ্যোগের অভাবে সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। অথচ একটি সেতু নির্মিত হলে কয়েকটি গ্রামের মানুষের যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
‎
‎এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও প্রশাসনের কাছে এলাকাবাসীর দাবি, সরেজমিন পরিদর্শন করে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ এবং সেতু নির্মাণের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হোক।
‎
‎তিন যুগের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে সাহেবের চর হাজীবাড়ী এলাকার মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে একটি সেতু নির্মাণ এখন সময়ের দাবি। প্রতিশ্রুতি নয়, এলাকাবাসী চান দৃশ্যমান বাস্তবায়ন।
 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শেরপুরে পাগলা কুকুরের কামড়ে নারী-পুরুষ ও শিশুসহ ৮০ জন আহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:৪৫ পি.এম


শেরপুরে পাগলা কুকুরের কামড়ে নারী-পুরুষ ও শিশুসহ ৮০ জন আহত

শেরপুর সদর উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে পাগলা কুকুরের কামড়ে নারী, পুরুষ এবং শিশুসহ অন্তত ৮০ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ভাতশালা, লছমনপুর ও চরশেরপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে এই ঘটনা ঘটে।

আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে শেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হাসপাতাল এবং আহতদের স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, পাগলা কুকুরটি বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে ঘুরে সামনে যাকে পেয়েছে, তাকেই কামড়ানোর ঘটনা ঘটিয়েছে। এর ফলে অন্তত ৮০ জন আহত হন। স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের মধ্যে মামুন মিয়া (৩৫), আবুল হোসেন (৬০) এবং আইজউদ্দিন (৭০) রয়েছেন।

শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. মাহমুদুল হাসান সোহাগ দৈনিক ইনকিলাবকে জানিয়েছেন, কুকুরের কামড়ে আহতদের জলাতঙ্কের টিকা দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের কাছে পর্যাপ্ত টিকার মজুত রয়েছে। অন্য আহতরাও হাসপাতালে এলে তাঁদের প্রয়োজনীয় টিকা ও চিকিৎসা প্রদান করা হবে।

অন্যদিকে, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়েছে। অভিজ্ঞ মহল মনে করেন, অবিলম্বে কুকুর নিধন কর্মসূচি গ্রহণ করা প্রয়োজন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%