০৬:৪৩ পি.এম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) ও হল সংসদের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের পরবর্তী কার্যক্রমকে বিধিবহির্ভূত হিসেবে উল্লেখ করেছে। কর্তৃপক্ষ একই সঙ্গে রাকসুর নাম ব্যবহার করে কোনো ছাত্রসংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। এই প্রশাসনিক বক্তব্যের বিরুদ্ধে রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি ফেসবুকে মন্তব্য করে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ‘ননসেন্স’ ও ‘গাম্বাট’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে জনসংযোগ দপ্তরের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে প্রশাসনের এই অবস্থান জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “আজ মঙ্গলবার সামাজিক মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) কর্তৃক বিভিন্ন হল সংসদের মাধ্যমে জিমনেসিয়াম সরঞ্জামাদি প্রদানসহ বিভিন্ন কর্মকান্ডের সংবাদ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের গোচরীভূত হয়েছে। এসব সংবাদ বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী বলে কর্তৃপক্ষ মনে করে।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, রাকসু ও হল সংসদের মেয়াদ ২৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে শেষ হয়েছে। ফলে ওই তারিখের পর তাদের কোনো কার্যক্রম বিধিসম্মত নয়। একইভাবে রাকসুর নাম ব্যবহার করে কোনো ছাত্রসংগঠনের তৎপরতাও বিধিবহির্ভূত। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ ধরনের কর্মকান্ড থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরত থাকার আহ্বান জানায়।
আরও পড়ুন: বিশ্ববিদ্যালয়ে তথ্য মেলার আয়োজনের ঘোষণা প্রধান তথ্য কমিশনারের
অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ওই বিজ্ঞপ্তির ফেসবুক পোস্টে মন্তব্য করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার। তিনি লেখেন, “কতবড় ননসেন্সগুলা, গাম্বাট এই বসে আছে গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগোলতে একটাবার চিন্তা করেন।
রাকসুর কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা তুলে ধরে তিনি আরও লেখেন, “রাকসুর সর্বশেষ অধিবেশন হয়েছে সেপ্টেম্বরের ৩০ তারিখ। তারপর এই বাজেট উত্তোলন করতে পেরেছি এই মাসের ২১ তারিখ। ১১টি ছেলেদের হল আর মেয়েদের কেন্দ্রীয় জিমনেসিয়ামের জিনিস অর্ডার করে নিয়ে আসতে সময় লেগেছে। এজন্য এখন আর এই কাজ করা যাবেনা। অধিবেশনে পাশ হওয়া এখনো মিনিমাম ডজনখানেক কাজ চলমান। তো এগুলো রাকসু শেষ করবেনা?
রাকসুর সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) সালমান সাব্বিরও প্রশাসনের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “জনাব প্রশাসক মহোদয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মহোদয়ই রাকসুর সভাপতি। তার অনুমোদনক্রমেই রাকসুর ফান্ড থেকে অর্থ উত্তোলন করে এসব কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আর, এই কার্যক্রম নতুন নয়। বেশ কয়েক মাস আগে থেকেই এর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বাস্তবায়নের বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লাগছে মাত্র।
তিনি আরও যোগ করেন, “সামনেও এ ধরনের আরও কয়েকটি উদ্যোগ বাস্তবায়িত হবে।
আরও পড়ুন: ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে দাবি পূরণের আল্টিমেটাম এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের
উল্লেখ্য, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার সকালে ছেলেদের ১১টি আবাসিক হল ও মেয়েদের কেন্দ্রীয় জিমনেসিয়ামের জন্য ব্যায়ামের সরঞ্জাম সরবরাহ করে রাকসু। এ ছাড়া তায়কোয়ান্দো খেলোয়াড়দের অনুশীলনের জন্য দুটি বক্সিং ব্যাগ সরবরাহ এবং ছেলেদের কেন্দ্রীয় জিমনেসিয়াম সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন রাকসুর নেতারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন