ঢাকা শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

বরিশালে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানকে দোকান থেকে বের করে তালা! শশী বাজারে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে রহমান হাজারীর দাপট


বরিশালে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানকে দোকান থেকে বের করে তালা! শশী বাজারে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে রহমান হাজারীর দাপট

৩৫ বছরের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দখলের অভিযোগ, আতঙ্কে বাজারের ব্যবসায়ীরা; সাংবাদিকের প্রশ্নে রহমান হাজারীর জবাব—‘বের করেছি, আপনারা পারলে কিছু করেন’**


বরিশাল নগরীর লাকুটিয়া সড়কসংলগ্ন শশী বাজারে বিএনপির নাম ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার, ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে রহমান হাজারীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে বিএনপির রাজনৈতিক পরিচয় ও ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তিনি পুরো বাজার নিজের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তাঁর প্রভাব ও আচরণে বাজারের ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটেছে বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান সেলিম চৌধুরীর সঙ্গে। প্রায় ৩৫ বছর ধরে শশী বাজারে রাস্তার পাশে সরকারি খাসজমিতে দোকান পরিচালনা করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন তিনি। কিন্তু গত দুই-তিন দিন আগে দোকানে স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা পরিচালনার সময় রহমান হাজারী তাঁকে দোকান থেকে বের করে দেন এবং দোকানটি তালাবদ্ধ করে রাখেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী সেলিম চৌধুরী।

আরও পড়ুন: কুবি ক্যাম্পাসে ভুয়া পুলিশ সন্দেহে ৩ জনকে আটক, মারধরের অভিযোগ

একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হয়েও আজ নিজের দীর্ঘদিনের জীবিকার জায়গায় প্রবেশ করতে পারছেন না—এমন অভিযোগ স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সেলিম চৌধুরী দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর ধরে শশী বাজারে দোকান পরিচালনা করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তাঁর বাবা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। সেলিম চৌধুরীর দাবি, তিনি কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। বাবার মুক্তিযোদ্ধা পরিচয় ব্যবহার করে কারও কাছে কোনো সুবিধাও চাননি।

তাঁর অভিযোগ, দোকানে ব্যবসা চলমান থাকা অবস্থায় রহমান হাজারী বিএনপির ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে তাঁকে বের করে দেন। এরপর দোকানটি তালাবদ্ধ করে দেওয়া হয়। দীর্ঘদিনের জীবিকার একমাত্র অবলম্বন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তিনি এখন চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।

প্রশ্ন উঠেছে, রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে একজন সাধারণ ব্যবসায়ীর ৩৫ বছরের জীবিকার জায়গা কেড়ে নেওয়ার অধিকার রহমান হাজারীকে কে দিয়েছে?

আরও পড়ুন: নোয়াখালীতে অসুস্থ সাংবাদিকদের রোগমুক্তির জন্য দোয়া মাহফিল

তালাশ বিডির সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার মাছুদুর রহমান আসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং অভিযোগের বিষয়ে সরেজমিনে অনুসন্ধান করেন।

এ সময় স্থানীয়দের বক্তব্যে রহমান হাজারীর বিরুদ্ধে বাজারে প্রভাব বিস্তার, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠে আসে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বাজারে কখন কার সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করা হবে, তা নিয়ে তাঁরা উদ্বেগের মধ্যে থাকেন। নিজেদের ব্যবসা পরিচালনা করতেও অনেকে অস্বস্তি ও নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করছেন।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, একটি বাজার কি কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণে চলবে? রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে সাধারণ ব্যবসায়ীদের ওপর প্রভাব বিস্তার করার অধিকার তাঁকে কে দিয়েছে?

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে তালাশ বিডির বরিশাল অফিস থেকে রহমান হাজারীর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়।

আরও পড়ুন: মাইশার মৃত্যুর পর সীতাকুণ্ডে ২০ স্পিডব্রেকার, যানজট বেড়েছে

এ সময় তিনি বলেন, “১৬ বছর আমার কোনো হাটবাজারের দিকে চোখ তুলে তাকাইনি। এখন দল ক্ষমতায় এসেছে, হাটবাজার তো আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে।”

তখন তালাশ বিডির পক্ষ থেকে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় এসেছে বলে কি সেই ক্ষমতার অপব্যবহার করে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তানকে তাঁর ৩৫ বছরের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দেওয়া যায়?

জবাবে রহমান হাজারী বলেন, “বের করেছি, আপনারা পারলে কিছু করেন।”

একজন সাংবাদিকের সরাসরি প্রশ্নের জবাবে তাঁর এমন বক্তব্য বাজারের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ওঠা অভিযোগকে আরও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করার প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে। রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় থাকা মানেই কি কোনো ব্যক্তি নিজের ইচ্ছামতো বাজার নিয়ন্ত্রণ করবেন? সাধারণ ব্যবসায়ীদের জীবিকা ও অধিকার নিয়ে এমন আচরণের আইনগত ভিত্তি কী?

আরও পড়ুন: নওগাঁ সীমান্তে চোরাচালান ও অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নব-আদাতলা বিওপি উদ্বোধন

দোকান থেকে বের করে তালাবদ্ধ করে দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে সেলিম চৌধুরী বলেন,

“আমি কখনো কোনো রাজনৈতিক দল করিনি। আমার বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা, সেই পরিচয়ও কখনো কাউকে দিইনি। তাহলে আমার সঙ্গে এমন করা হলো কেন? আমার দোকানে স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা চলছিল। রহমান হাজারী আমাকে দোকান থেকে বের করে দিয়ে তালাবদ্ধ করে দিয়েছেন। এখন আমি কীভাবে জীবিকা নির্বাহ করব?”

তিনি আরও বলেন, “আমি এই ঘটনার বিচার আপনাদের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের কাছে দিলাম। আমি একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে ন্যায়বিচার চাই। আমার দীর্ঘদিনের জীবিকার জায়গাটি ফিরে পেতে চাই।”


ঘটনাটি সম্পর্কে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে তালাশ বিডির কথা হয়।

আরও পড়ুন: চাঁদপুরে শিশুদের আঁকায় জিয়াউর রহমানের প্রতিকৃতি প্রদর্শিত

তিনি জানান, ভুক্তভোগীকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ওসি বলেন, “আপনারা লিখিত অভিযোগ দিন। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়, আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব অবশ্যই।”

 

শশী বাজারের এই ঘটনা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে। ৩৫ বছর ধরে একটি দোকান পরিচালনা করে জীবিকা নির্বাহ করা একজন ব্যবসায়ীকে কোন আইনগত প্রক্রিয়ায় দোকান থেকে বের করে দেওয়া হলো? দোকান তালাবদ্ধ করার অধিকার রহমান হাজারীকে কে দিয়েছে? সরকারি খাসজমি হলে সেটি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার কি কোনো ব্যক্তির, নাকি সংশ্লিষ্ট ভূমি প্রশাসনের?

আরও পড়ুন: স্কুল ফিডিংয়ের পাউরুটির ভেতর পাওয়া গেল ধারালো ব্লেড

এসব প্রশ্নের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি। সরকারি খাসজমিতে দোকান পরিচালনার বৈধতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইন অনুযায়ী নির্ধারণ করবে। কিন্তু কোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক প্রভাব বা ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে কাউকে জোর করে উচ্ছেদ কিংবা ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ থাকলে সেটিও তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

শশী বাজারের ব্যবসায়ীরা যেন নির্বিঘ্নে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন এবং সেলিম চৌধুরী যেন তাঁর অভিযোগের ন্যায়সংগত প্রতিকার পান, সে জন্য বরিশাল জেলা প্রশাসন, ভূমি প্রশাসন ও পুলিশ কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

রাজনৈতিক পরিচয় কখনো আইনের ঊর্ধ্বে নয়। বিএনপির নাম ব্যবহার করে কেউ যদি সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব বিস্তার কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার করে থাকেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে দলীয় পরিচয় বিবেচনা না করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়াই প্রত্যাশিত।

এখন দেখার বিষয়, শশী বাজারের ব্যবসায়ীদের আতঙ্ক ও সেলিম চৌধুরীর ৩৫ বছরের জীবিকার প্রশ্নে প্রশাসন কত দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

তালাশ বিডি—সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভুটান ম্যাচে জামালের পরিবর্তে বাংলাদেশের অধিনায়ক তপু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:২৫ পি.এম


ভুটান ম্যাচে জামালের পরিবর্তে বাংলাদেশের অধিনায়ক তপু

বাংলাদেশের ফুটবলে সাধারণত অধিনায়ক হিসেবে জামাল ভূঁইয়ার নামই উঠে আসে। তবে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আগে অধিনায়কত্ব নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। আগামীকাল (৫ নভেম্বর) ভুটানের বিরুদ্ধে ম্যাচে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবেন তপু বর্মণ। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন দলের মিডিয়া ম্যানেজার আমের খান।

টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে বুধবার (৪ নভেম্বর) কোচ থমাস ডুলির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তপু। সেখানে তাকে অধিনায়ক হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন সাফের মিডিয়া ম্যানেজার জিগমে দর্জি। তবে পুরো টুর্নামেন্টে তপু অধিনায়ক থাকবেন কিনা, সে বিষয়ে পরিষ্কার কোনো তথ্য দেননি কোচ।

ডুলি বলেন, ‘আমাদের দলে তিন জন রয়েছে অধিনায়ক হওয়ার মতো। তপু আগেও অধিনায়কত্ব করেছে। সে অধিনায়ক হতেই পারে।’ অধিনায়কত্ব নিয়ে বেশি আলোচনা প্রয়োজন নেই উল্লেখ করে ডুলি আরও বলেন, ‘এক ম্যাচে একজন, আরেক ম্যাচে আরেকজন হতে পারে। আমাদের দলে একাধিক অধিনায়ক রয়েছেন।’

২০১৮ সালের পর আবার ঢাকায় সাফ খেলতে পেরে উচ্ছ্বসিত তপু। তার আশা, ‘এবার আমাদের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা সেটা বাস্তবায়ন করতে চাই।’

ভুটান ম্যাচে হামজা চৌধুরীকে না পেলেও ভালো শুরুর প্রত্যাশা তপুর। তিনি বলেন, ‘আমরা অবশ্যই কাল হামজাকে মিস করব। ভুটানের বিপক্ষে ভালো শুরু করে আমরা হামজাকে সুন্দর ক্ষেত্র দিতে চাই।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কোহলির ঝড়ো ইনিংসে নিউজিল্যান্ডকে ৫ উইকেটে হারালো ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:২৬ পি.এম


কোহলির ঝড়ো ইনিংসে নিউজিল্যান্ডকে ৫ উইকেটে হারালো ভারত

বিরাট কোহলির ঝড়ো ব্যাটিংয়ের কারণে বৃষ্টির কারণে বিঘ্নিত প্রথম ওয়ানডেতে নিউজিল্যান্ডকে ৫ উইকেটে পরাজিত করেছে ভারত। অকল্যান্ডের ইডেন পার্কে ডিএলএস পদ্ধতি অনুসারে সফরকারী দলের জন্য ৩২ ওভারে ১৪৩ রানের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। শুভমান গিলের নেতৃত্বে ভারত সেই লক্ষ্য ৫৬ বল হাতে রেখেই অতিক্রম করে, পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে ভারতীয় বোলারদের আক্রমণের মুখে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে নিউজিল্যান্ড। এক পর্যায়ে তারা ১১৫ রানে সাত উইকেট হারিয়ে বড় সংগ্রহের আশা প্রায় হারিয়ে ফেলে। তবে শেষ দিকে ব্লেয়ার টিকনারের ২৩ বলে ৩৪ রানের ইনিংসে ৪০.২ ওভারে ১৮৫ রানে অলআউট হয়ে যায় স্বাগতিকরা।

ভারতের পক্ষে আর্শদীপ সিং ৭০ রান দিয়ে চার উইকেট দখল করেন। গুরনুর ব্রার তিন উইকেট শিকার করেন, আর আনশুল কাম্বোজ দুটি উইকেট নেন।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে ভারত প্রথম ওভারেই রোহিতকে হারায়। তবে এরপর শুভমান গিলের সঙ্গে ১১৩ রানের জুটি গড়ে তোলেন কোহলি। তিনি ৫১ বলে ৭৪ রান করেন, যেখানে ১৩টি চার ও একটি ছক্কা অন্তর্ভুক্ত ছিল। গিল ৩৭ রান করেন।

কোহলি ফিরে যাওয়ার পর ভারত দ্রুত দুই উইকেট হারালেও শেষ পর্যন্ত রাহুল ও নামান ধীরের ব্যাটিংয়ে সহজ জয় নিশ্চিত করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আফগান বংশোদ্ভূত আয়েশা ওয়াহাব কংগ্রেস নির্বাচনে বড় ব্যবধানে এগিয়ে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:২৭ পি.এম


আফগান বংশোদ্ভূত আয়েশা ওয়াহাব কংগ্রেস নির্বাচনে বড় ব্যবধানে এগিয়ে

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্যালিফোর্নিয়ার ১৪তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী আয়েশা ওয়াহাব উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন। প্রাথমিক ফলাফলে তার প্রতিদ্বন্দ্বী মেলিসা হার্নান্দেজের চেয়ে তিনি উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে আছেন, ফলে পূর্ণ মেয়াদে কংগ্রেসের আসনটি ধরে রাখার সম্ভাবনা রয়েছে। ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে ভোট গণনার প্রাথমিক পর্যায়ে ওয়াহাব ৫৮ দশমিক ৫ শতাংশ এবং হার্নান্দেজ ৪১ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পেয়েছেন।

৩৯ বছর বয়সী আয়েশা ওয়াহাব আফগান বংশোদ্ভূত মার্কিন রাজনীতিক। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত প্রথম আফগান-আমেরিকান। এর আগে তিনি ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সিনেটে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৬ সালের আগস্টে বিশেষ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সাবেক কংগ্রেস সদস্য এরিক সোয়ালওয়েলের ছেড়ে যাওয়া আসনের বাকি মেয়াদের দায়িত্ব নেন। ২ সেপ্টেম্বর তিনি প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেন। বর্তমানে তিনি ২০২৭ সাল থেকে শুরু হতে যাওয়া পূর্ণ দুই বছরের মেয়াদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

শৈশব ও শিক্ষাজীবন

১৯৮৭ সালের ১১ জানুয়ারি নিউইয়র্কের কুইন্সে আয়েশা ওয়াহাবের জন্ম। তার শৈশবকাল ছিল বেশ কঠিন। জীবনী অনুযায়ী, বাবাকে হত্যার পর এবং মায়ের মৃত্যুর পর তিনি দত্তক হিসেবে ক্যালিফোর্নিয়ায় বেড়ে ওঠেন। ফ্রেমন্টের কেনেডি হাইস্কুল থেকে ২০০৫ সালে তিনি পড়াশোনা শেষ করেন।

পরে সান হোসে স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে ২০১০ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ২০১৩ সালে ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি, ইস্ট বে থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেন। এরপর ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া থেকে ২০২৪ সালে ডক্টর অব সোশ্যাল ওয়ার্ক (ডিএসডব্লিউ) ডিগ্রি নেন। রাজনীতিতে আসার আগে তিনি তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করেছেন।

রাজনীতিতে উত্থান

আয়েশা ওয়াহাবের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার স্থানীয় সরকার থেকে শুরু হয়। ২০১৮ সালে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার হেওয়ার্ড সিটি কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত হন। এই মাধ্যমেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি পদে নির্বাচিত প্রথম আফগান-আমেরিকান হিসেবে পরিচিতি পান। ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সিটি কাউন্সিলে দায়িত্ব পালনের পর ২০২২ সালে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সিনেটে নির্বাচিত হন। ২০২৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত তিনি সিনেটের সহকারী সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

ক্যালিফোর্নিয়া সিনেটে দায়িত্ব পালনকালে ওয়াহাব আবাসনসংকট, জীবনযাত্রার ব্যয়, ভোক্তা অধিকার ও সরকারি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার বিষয়গুলোতে কাজ করেন। ২০২৩ সালে জাতপাতভিত্তিক বৈষম্য নিষিদ্ধ করতে একটি বিল উত্থাপন করে জাতীয় পর্যায়েও আলোচনায় আসেন। তবে গভর্নর গ্যাভিন নিউসম বিলটিতে ভেটো দেন। তার যুক্তি ছিল, বিদ্যমান নাগরিক অধিকার আইনেই এ ধরনের বৈষম্য নিষিদ্ধ করার বিধান রয়েছে।

নির্বাচনী অগ্রাধিকার ও রাজনৈতিক অবস্থান

আয়েশা ওয়াহাব এবারের নির্বাচনী প্রচারে স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করা এবং জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয় কমানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। বিশেষ করে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয়, আবাসন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণকে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে তুলে ধরেছেন তিনি।

সিনেটর থাকাকালে অযৌক্তিক অতিরিক্ত ফি আদায় বন্ধ, বাজারে মূল্য কারসাজি মোকাবিলা এবং ভাড়াটিয়াদের জন্য কর-সুবিধা বাড়ানোর মতো বিষয়েও কাজ করেছেন। প্রবীণদের আর্থিক নিরাপত্তা এবং বড় করপোরেশনের একচেটিয়া প্রভাব নিয়ন্ত্রণের কথাও বলেছেন তিনি।

যে আসনে লড়ছেন

ক্যালিফোর্নিয়ার ১৪তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টের আওতায় রয়েছে হেওয়ার্ড, প্লেজ্যান্টন, লিভারমোর, ইউনিয়ন সিটি ও কাস্ত্রো ভ্যালিসহ ইস্ট বে অঞ্চলের বেশ কয়েকটি শহর। এ ছাড়া ফ্রেমন্ট ও ডাবলিনের কিছু এলাকাও এ আসনের অন্তর্ভুক্ত।

সাবেক কংগ্রেস সদস্য এরিক সোয়ালওয়েল পদত্যাগ করার পর আসনটি শূন্য হয়। ২০২৬ সালের আগস্টে বিশেষ নির্বাচনে মেলিসা হার্নান্দেজকে হারিয়ে ওয়াহাব ওই আসনের বাকি মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হন। এবার একই প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে পূর্ণ মেয়াদের নির্বাচনে লড়ছেন তিনি।

প্রাথমিক ফলাফলে বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় ওয়াহাবের জয় অনেকটাই সম্ভাবনাময় হয়ে উঠেছে। তবে ভোট গণনা ও আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাকে চূড়ান্ত বিজয়ী বলা যাচ্ছে না।

সূত্র: কিউইডি, সিবিএস নিউজ, এবিসি৭, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের ইতিহাস ও আর্কাইভ এবং প্রতিনিধি পরিষদের সরকারি ওয়েবসাইট

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে দাবি পূরণের আল্টিমেটাম এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:২৭ পি.এম


৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে দাবি পূরণের আল্টিমেটাম এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম দ্রুত শুরু করা, নবম পে স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা প্রদান এবং আগামী ঈদুল ফিতর থেকে শতভাগ উৎসব ভাতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের নেতারা। তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, আগামী ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে এসব দাবি বাস্তবায়ন না হলে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে বুধবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী তিনটি দাবি তুলে ধরেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, দেশের ছয় লক্ষাধিক এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের বৈষম্য ও সমস্যার সম্মুখীন হয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকারের কাছে তিনটি দাবি তুলে ধরা হয়েছে।

জোটের প্রথম দাবি হলো, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য অবিলম্বে বদলি ব্যবস্থা চালু করতে হবে। নেতাদের মতে, নিজ জেলা বা এলাকার বাইরে চাকরি করার কারণে অনেক শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন রয়েছেন। অনেকেই স্ত্রী-সন্তান ও অসুস্থ মা-বাবাকে রেখে দূরবর্তী এলাকায় চাকরি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী বলেন, "আমিও নিজ পরিবারের কাছ থেকে প্রায় ১১০ কিলোমিটার এবং নিজ বাড়ি থেকে ১৬৯ কিলোমিটার দূরে চাকরি করছি।" তিনি উল্লেখ করেন যে, পারিবারিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাঁর মতে, বদলি কোনো বিলাসিতা নয়; বরং এটি শিক্ষকদের মানবিক ও পারিবারিক অধিকার। তাই আর বিলম্ব না করে বদলির আদেশ জারি করতে হবে।

দ্বিতীয় দাবি হলো, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নবম পে স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা প্রদান করতে হবে। জোটের নেতারা জানান, একই ধরনের শিক্ষাগত যোগ্যতা, দায়িত্ব ও পেশাগত মর্যাদা থাকা সত্ত্বেও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা বেতন ও সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় তাদের জন্য নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন জরুরি।

এ বিষয়ে অধ্যক্ষ আজিজী জানান, গত ৩১ অক্টোবর দেশের শতাধিক জেলা ও উপজেলায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১ নভেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদের নবম পে স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা প্রদানের জন্য অর্থ বরাদ্দ চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগকে তারা স্বাগত জানিয়েছেন।

তবে তিনি অভিযোগ করেন যে, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য একইভাবে অর্থ বরাদ্দ চেয়ে এখনো কোনো চিঠি পাঠানো হয়নি। জোটের সদস্য সচিব দ্রুত এসব শিক্ষকের জন্যও অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব পাঠানোর দাবি জানান। তাঁর মতে, শুধু উদ্যোগ নিলেই হবে না, দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণের পাশাপাশি তা বাস্তবায়নও নিশ্চিত করতে হবে।

জোটের তৃতীয় দাবি হলো, আগামী ঈদুল ফিতর থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের শতভাগ উৎসব ভাতা দিতে হবে। বর্তমানে তারা মূল বেতনের ৫০ শতাংশ উৎসব ভাতা পান। নেতারা এটিকে বৈষম্যমূলক উল্লেখ করে বলেন, ঈদের মতো গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও পারিবারিক উৎসবেও শিক্ষক-কর্মচারীরা পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই তারা আগামী ঈদ থেকেই শতভাগ উৎসব ভাতা চালুর সুস্পষ্ট ঘোষণা চান।

সংবাদ সম্মেলনে জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পূর্বঘোষণা অনুযায়ী ৪ নভেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য অর্থ বরাদ্দ চেয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চিঠি পাঠানো এবং রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় চলমান শ্রমিক আন্দোলনসহ সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় কর্মসূচির ধরন পরিবর্তন করা হয়েছে।

নেতারা জানান, শিক্ষক-কর্মচারীদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে প্রেসক্লাবের সামনের কর্মসূচির পরিবর্তে জহুর হোসেন চৌধুরী হলে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। তবে এতে আন্দোলন স্থগিত করা হয়নি। তিন দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী বলেন, তারা সরকারবিরোধী কোনো আন্দোলন করছেন না। শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা এবং ছয় লক্ষাধিক শিক্ষক-কর্মচারীর ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠাই তাদের লক্ষ্য। তারা কোনো সংঘাত বা বিশৃঙ্খলা চান না; বরং আলোচনার মাধ্যমে সম্মানজনক সমাধান প্রত্যাশা করেন।

সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে জোটের নেতারা সরকারের প্রতি দ্রুত তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। তারা বলেন, "শুধু আশ্বাস কিংবা অনির্দিষ্ট সময়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের আর সন্তুষ্ট রাখা যাবে না।" আগামী ৩০ ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে দাবি পূরণে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে জোটের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

এআরবি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৭ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%