০৪:১৯ পি.এম
ফেনী নদীর মাঝখানে শিল্পপ্রতিষ্ঠান বিএসআরএম গ্রুপের স্থাপন করা পানির পাম্পের কারণে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ বাধাগ্রস্ত হয়ে ব্যাপক ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে, এমনটাই অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া উপজেলার ঘোপাল ইউনিয়নের নিজকুঞ্জরা গ্রামের বিস্তীর্ণ ফসলি জমি, বসতভিটা এবং সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত নদী প্রতিরক্ষা বাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম রেললাইন, যা নদী থেকে মাত্র কয়েক মিটার দূরে অবস্থিত, সে স্থানটি বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে সেতুর ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন। যদি ভাঙন অব্যাহত থাকে তবে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে
স্থানীয় বাসিন্দা গুলজার হোসেন জানান, এক সময় ফেনী নদী তাদের গ্রাম থেকে অনেক দূরে প্রবাহিত হতো। কিন্তু নদীর মাঝখানে পানির পাম্প বসিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পানি উত্তোলনের কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে পরিবর্তন এসেছে। এর ফলে নদীর তীব্র স্রোত ও ভাঙন গ্রামের দিকে ধাবিত হয়ে বহু একর ফসলি জমি গ্রাস করেছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, নদীভাঙন রোধে সরকার প্রায় ৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ে যে প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করেছিল, তার একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এর ফলে একদিকে যেমন সরকারি অর্থের ব্যাপক অপচয় হয়েছে, অন্যদিকে গ্রামের অসংখ্য পরিবার তাদের ঘরবাড়ি হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। বর্তমানে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।
গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, নদীভাঙনের কারণে আরও অনেক ঘরবাড়ি ও স্থাপনা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যেকোনো সময় সেগুলো নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। এ পরিস্থিতিতে তারা ফেনীর জেলা প্রশাসক এবং ছাগলনাইয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। তারা জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জানিয়েছেন।
নিজকুঞ্জরা গ্রামের বাসিন্দাদের মতে, “নদীভাঙন এভাবে চলতে থাকলে পুরো গ্রামই একদিন মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে। আমরা আমাদের ঘরবাড়ি, জমিজমা ও জীবিকা হারানোর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি। সরকার যেন দ্রুত তদন্ত করে স্থায়ী সমাধানের ব্যবস্থা গ্রহণ করে।”
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
এদিকে স্থানীয়দের দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা যায়নি। তবে এলাকাবাসী অবিলম্বে নদীভাঙনের কারণ অনুসন্ধান, পানির পাম্প স্থাপনের প্রভাব মূল্যায়ন এবং নিজকুঞ্জরা গ্রাম রক্ষায় জরুরি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
গ্রামবাসীদের দাবি, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে শুধু নিজকুঞ্জরা গ্রাম নয়, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ রেললাইন, রেলওয়ে সেতু এবং আশপাশের বিস্তীর্ণ জনপদও বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন