বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৯:৪৭ পি.এম
বরিশালে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের মহানগর ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক এবং বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর শাকিল হোসেন পলাশকে আটক করেছে কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ।
কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গতকাল বরিশাল আদালত প্রাঙ্গণে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনার পর ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী নগরীতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ১৫ আগস্টকে সামনে রেখে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মাধ্যমে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা বা প্রস্তুতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তারই ফলশ্রুতিতে শাকিল হোসেন পলাশকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, আদালত প্রাঙ্গণে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। তবে মামলার তদন্তের স্বার্থে তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও সংশ্লিষ্টতার বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বরিশাল নগরীর মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির যে কোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে। তিনি আরও বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো দলের ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নগরীতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।
পুলিশ জানিয়েছে, আদালত প্রাঙ্গণে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত এবং ঘটনার পেছনে কোনো বৃহত্তর পরিকল্পনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে নিরাপত্তা ও নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।
এদিকে শাকিল হোসেন পলাশকে আটকের ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে এ ঘটনায় আরও তথ্য সামনে আসতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্থানীয় সরকার নির্বাচন যদিও দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হচ্ছে না, তবুও বিএনপির একক সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে রাজশাহী বিভাগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভায় তিনি এই নির্দেশনা প্রদান করেন।
সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে সভার সিদ্ধান্ত এবং চলমান পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের বিস্তারিতভাবে জানান বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ন মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
রিজভী উল্লেখ করেন, দেশের চলমান রাজনীতি, অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক পরিস্থিতি এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পর্কে ধারাবাহিক আলোচনার অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন প্রধানমন্ত্রী এবং দলীয় প্রধান তারেক রহমান। তিনি সকলকে দেশকে গঠন ও নতুন করে পুনর্গঠন করতে আহ্বান জানিয়ে মনে করিয়ে দেন যে, সকল ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
রুহুল কবির রিজভী আরও বলেন, ‘যেহেতু স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হচ্ছে না, তবুও আমাদের দল থেকে যাকে সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হবে, তার পক্ষে সকল নেতা-কর্মীকে এক হয়ে কাজ করার কড়া নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’
সংবাদ ব্রিফিংয়ে দেশের চলমান বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি সংকটের বিষয়েও আলোচনা করেন বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা। তিনি বলেন, সরকারের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চেষ্টা করছে দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকট দ্রুত নিরসনে। এই সংকট সমাধানে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকারও বেশি অর্থ ব্যয়ে জ্বালানি আমদানির বিষয়ে ইতিবাচকভাবে প্রক্রিয়া শুরু করছে সরকার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারি ব্যয় কমানো ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের সাশ্রয়ী ব্যবহারের অংশ হিসেবে সরকারি গাড়ি ব্যবহার করছেন না। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তার নিজের ব্যক্তিগত গাড়ি, চালক এবং নিজ খরচে কেনা জ্বালানি ব্যবহার করে সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম কর্মদিবসে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী নিজের টয়োটা গাড়িতে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও শেরেবাংলা নগরে যান, পরে একই গাড়িতে সচিবালয়েও যান। তিনি সরকারি গাড়ি ব্যবহার না করার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্ত অনুসরণ করে সরকারি গাড়ি ব্যবহার থেকে বিরত রয়েছেন পাঁচ প্রতিমন্ত্রী, আট উপদেষ্টা এবং দুই বিশেষ সহকারী।
বৃহস্পতিবার (১৩ অগাস্ট) সন্ধ্যায় সরকারি যানবাহন অধিদপ্তরের পরিবহন পুলের একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সরকারি গাড়ি ব্যবহার না করা পাঁচ প্রতিমন্ত্রী হলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্দ সোহেল মনজুর সুমন, পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
উপদেষ্টাদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, মো. রুহুল কবির রিজভী, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, শিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, ডাক ও টেলিযোগাযোগবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং পলিসি ও স্ট্র্যাটেজিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান পরিবহন পুল থেকে কোনো গাড়ি নেননি এবং তারা সকলেই নিজ নিজ ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করছেন।
এছাড়া স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার এবং বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর শাহরিয়ার গনিও সরকারি গাড়ির বদলে নিজেদের গাড়িতে চলাচল করছেন।
সূত্র বলছে, পাঁচ প্রতিমন্ত্রী, আট উপদেষ্টা ও দুই বিশেষ সহকারীসহ মোট ১৫ জন সরকারি গাড়ি ব্যবহার না করায় হিসাব অনুযায়ী এসব গাড়ির পেছনে বছরে প্রায় ২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ব্যয় এড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি গাড়ি ও জ্বালানি ব্যবহারে এ ধরনের সংযম রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমানোর পাশাপাশি জ্বালানি সাশ্রয় এবং ভিআইপি চলাচলের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল প্রতিষ্ঠান আরামকোর একটি শোধনাগারে দুইটি ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এই তথ্য সংবাদ মাধ্যম আলজাজিরার মাধ্যমে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা উল্লেখ করেছে।
প্রতিবেদনের সূত্রে জানা গেছে যে, সৌদি আরবের জিজান অঞ্চলে হামলাটি পরিচালিত হয়েছে। কিন্তু, প্রতিবেদনে হামলার কারণে শোধনাগারটির কতটা ক্ষতি হয়েছে কিংবা হতাহত হওয়া ঘটেছে কি না, সে বিষয়টি জানানো হয়নি।
হামলার বিষয়ে গোষ্ঠীটি দায় স্বীকার করে জানায়, ইয়েমেনের সাদা ও হাজ্জাহ প্রদেশের আকাশসীমা এবং সার্বভৌমত্ব সৌদি আরব লঙ্ঘন করার কারণে এর জবাব হিসেবে এই হামলা করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৩ আগস্ট, ২০২৬ : বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আন্তঃঘাঁটি সাঁতার ও ওয়াটার পোলো প্রতিযোগিতা-২০২৬-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার বনানীতে অবস্থিত নৌ সদর সুইমিং কমপ্লেক্সে শেষ হয়েছে।
প্রতিযোগিতায় বিমান বাহিনী ঘাঁটি বীর উত্তম এ কে খন্দকার দল ৬টি স্বর্ণ, ৪টি রৌপ্য ও ৭টি ব্রোঞ্জ পদক পেয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, একইসাথে বিমান বাহিনী ঘাঁটি বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান দল ৪টি স্বর্ণ, ৭টি রৌপ্য ও ৩টি ব্রোঞ্জ পদক পেয়ে রানার-আপ হয়েছে।
অপরদিকে, ওয়াটার পোলো প্রতিযোগিতায় বিমান বাহিনী ঘাঁটি বীর উত্তম এ কে খন্দকার দল বিমান বাহিনী ঘাঁটি জহুরুল হক দলকে ৫-৪ গোলে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে।
সমাপনী অনুষ্ঠানে সহকারী বিমান বাহিনী প্রধান (পরিকল্পনা) এয়ার ভাইস মার্শাল জাভেদ তানভীর খান প্রধান অতিথি হিসেবে সমাপনী দিনের খেলা প্রত্যক্ষ করেন এবং বিজয়ী ও উপবিজয়ী দলের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অন্যান্যের মধ্যে বিমান বাহিনী ঘাঁটি বাশার-এর এয়ার অধিনায়ক, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং অন্যান্য পদবির সদস্যবৃন্দ। গত ৯ আগস্ট ৫ দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন বিমান বাহিনী ঘাঁটি বাশার-এর এয়ার অধিনায়ক এয়ার ভাইস মার্শাল সৈয়দ সাঈদুর রহমান।
উল্লেখ্য যে, ৫ দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতায় বিমান বাহিনীর ৭টি দল অংশগ্রহণ করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ