ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দুই ব্যক্তিকে আটকের ঘটনা জানতে চাওয়ায় সাংবাদিককে মেজাজ দেখালো দামকুড়া থানার এসআই আসরাফুল


দুই ব্যক্তিকে আটকের ঘটনা জানতে চাওয়ায় সাংবাদিককে মেজাজ দেখালো দামকুড়া থানার এসআই আসরাফুল
রাজশাহী নগরীর সোনাইকান্দি নিচপাড়া এলাকা থেকে রাজন ও হৃদয় নামে দুই ব্যক্তিকে আটক করেছেন দামকুড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোঃ আসরাফুল। রবিবার রাত ১১টার দিকে নগরীর দামকুড়া থানার সোনাইকান্দি নিচপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
আটকের সময় তাঁদের কাছ থেকে কোনো মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়নি বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, আটক দুই ব্যক্তির মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে মাদকসংক্রান্ত মামলা থাকলেও আটকের সময় তাঁদের কাছ থেকে কোনো ধরনের মাদকদ্রব্য পায়নি পুলিশ। এ নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত এলাকাবাসীর সঙ্গে এসআই মোঃ আসরাফুলের তর্কবিতর্ক হয় এলাকাবাসীর। একপর্যায়ে তিনি রাজন ও হৃদয় নামে দুই ব্যক্তিকে জোরপূর্বক আটক করে নিয়ে যান বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এ সময় ঘটনাস্থলে কয়েকজন সাংবাদিকও উপস্থিত ছিলেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় জুয়েল, বাবু, আদিল ও মিনারুল। মিনারুল বলেন, আটক  রাজন একজন মুদি দোকানী। তার বিরুদ্ধে পূর্বের মাদকের মামলা রয়েছের এবং হৃদয় একজন ট্রাক চালক। তবে তার বিরুদ্ধে মাদকের কোন মামলা নেই। তাঁর অপরাধ সে দায়িত্বরত এসআই সিভিল ড্রেসে থাকায় তাঁর পরিচয় জানতে চেয়েছিলেন। এই অপরাধে তাকেও আটক করে থানায় নিয়ে যায় এসআই আসরাফুল। ঘটনার সময় পুলিশের দাপাদাপিতে অর্ধশত স্থানীয়রা জড়ো হয়ে পুলিশের সার্বিক কর্মকান্ড দেখেছেন। 
ঘটনার বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে এসআই মোঃ আসরাফুলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আটক ব্যক্তিদের কাছে কিছু পাওয়া যায়নি, তাঁদের এমনিতেই নিয়ে গেছেন। এরপর হটাৎ তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, ফোন দিয়েছেন কেন? কিছু জানার থাকলে থানায় এসে কথা বলেন অভিযোগ সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকের।
ওই সাংবাদিকের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর কর্মস্থল নগরীর মতিহার থানা এলাকায়। রাত সাড়ে ১২টার দিকে সামান্য একটি বক্তব্যের জন্য প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে দামকুড়া থানায় যেতে বলা হয় তাঁকে। 
বিষয়টি জানতে দামকুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
সাংবাদিকের অভিযোগ, পুলিশ ও সাংবাদিকদের মধ্যে পেশাগত সহযোগিতা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার কথা বলা পুলিশের মুখে বলতে শোনা যায়। কিন্তু এসআইয়ের কথাবার্তা ও আচরণে সেই সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
এ ঘটনায় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) পুলিশ কমিশনারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক। অকারনে কেন মেজাজ দেখালেন এসআই? 
পাশাপাশি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার আচরণে কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।#
 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য আমাদের জাতীয় সম্পদ: সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৪৪ এম


সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য আমাদের জাতীয় সম্পদ: সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী

বান্দরবান, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ : সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী মন্তব্য করেছেন, "বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য আমাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সম্পদ।" তিনি উল্লেখ করেছেন যে, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় একটি সংস্কৃতিমনস্ক ও মেধাবী জাতি গঠনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

আজ বান্দরবান ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট পরিদর্শনের সময় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এসব কথা বলেন।

এসময় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু এবং সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শন শেষে ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে পাহাড়ের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি, ভাষা, ঐতিহ্য ও লোকজ জ্ঞান সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, "পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা, লোকসংগীত, নৃত্য, পোশাক, উৎসব ও অনন্য ঐতিহ্য আমাদের জাতীয় সংস্কৃতিকে বহুগুণে সমৃদ্ধ করেছে।" তিনি উল্লেখ করেন যে, এই অমূল্য ঐতিহ্য সংরক্ষণ করে তা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে সফলভাবে পৌঁছে দিতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।

স্থানীয় সংস্কৃতির সঠিক বিকাশে সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিল্পীদের কাজের সুযোগ বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, "ঐতিহ্যবাহী শিল্পচর্চায় তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করা এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করতে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় সংগঠনগুলোর সমন্বয় আরো জোরদার করা হবে।"

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, "পাহাড়ের প্রতিটি জাতিসত্তার মানুষের স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক পরিচয় ও গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য রয়েছে।" তিনি উল্লেখ করেন যে, এসব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে একদিকে যেমন স্থানীয় সংস্কৃতির বিকাশ ঘটবে, অন্যদিকে দেশের সামগ্রিক সাংস্কৃতিক দিগন্ত আরো প্রসারিত ও সমৃদ্ধ হবে।

তিনি আরও বলেন, "পাহাড়ের মানুষের সংস্কৃতি, কৃষ্টি, শিল্প, ইতিহাস, ঐতিহ্যবাহী পোশাক-পরিচ্ছদ এবং বিভিন্ন জাতিসত্তার মানুষের মাতৃভাষা সংরক্ষণ ও গবেষণার ক্ষেত্রে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।"

পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন মানেই সামগ্রিক বাংলাদেশের উন্নয়ন উল্লেখ করে সাচিং প্রু বলেন, "পার্বত্য চট্টগ্রাম কিংবা সমতল— বাংলাদেশের যে প্রান্তেই বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করুক না কেন, তাদের নিজস্ব ভাষা-সংস্কৃতির সুরক্ষা, আধুনিক শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি এবং উন্নত জীবনযাত্রার মান নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সরকার অত্যন্ত আন্তরিক।"

সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম জানান, আগামী এক বছরের মধ্যেই বান্দরবান জেলায় একটি অত্যাধুনিক ও উন্নত মানের কালচারাল কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, থানচি উপজেলায় অবস্থিত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ইনস্টিটিউটকে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে আরো আধুনিক ও উন্নত সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন করে গড়ে তোলা হবে।

এসময় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা প্রশাসক নাজনীন সুলতানা, পুলিশ সুপার ওহাবুল ইসলাম খন্দকার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এস এম হাসান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফা সুলতানা খান হীরামণিসহ স্থানীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট প্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রতিষ্ঠার দুই দশকেও জনবলসহ সংকটে বরিশাল মহানগর পুলিশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৪৬ এম


প্রতিষ্ঠার দুই দশকেও জনবলসহ সংকটে বরিশাল মহানগর পুলিশ

বরিশাল মহানগর পুলিশ (বিএমপি)-এর ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ (সোমবার)। এই উপলক্ষে আজ সকাল ১১টায় বিএমপি সদর দপ্তরে কর্তৃপক্ষ একটি সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। তবে, বরিশালের ‘মহানগর পুলিশ’ প্রতিষ্ঠার দুই দশক পরেও জনবল ও যানবাহনসহ বিভিন্ন সংকটে ভুগছে। জনবল সংকট এই মহানগর পুলিশের জন্য প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যদিও বিষয়টি ঊর্ধ্বতন মহলে বেশিরভাগ সময় উপেক্ষিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে সাধারণ মানুষের। গত ৩ মাসে বরিশাল মহানগর পুলিশ থেকে ৩ জন উপ-কমিশনারকে বদলি করা হয়েছে, কিন্তু নতুন করে একজনকেও নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

বরিশাল মহানগর পুলিশের অনুমোদিত জনবল ২,১৩৫ জন, তবে কর্মরত সংখ্যা প্রায় ১,৮৫০ জন। ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ছে। নগরীর জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে যানবাহনের সংখ্যা বাড়লেও মহানগর পুলিশ নানা সমস্যার মধ্যে আবদ্ধ হয়ে পড়ছে, যার মধ্যে জনবল ও যানবাহন সংকট অন্যতম। নগরীর ট্রাফিক পুলিশের সীমাবদ্ধতার কারণে অবৈধ রিকশা ও ইজিবাইকসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন রাস্তার দখল নিচ্ছে, ফলে যানজট নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে অনেক সময়।

এ মহানগর পুলিশ ইউনিটে অতিরিক্ত কমিশনারের দুটি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। ৮ জন উপ-কমিশনারের মধ্যে ৩ জন কাজ করছেন। ১১ জন অতিরিক্ত উপ-কমিশনারের মধ্যে ৪ জন রয়েছেন। সহকারী কমিশনারের ১৭টি পদের অর্ধেকেরও বেশি শূন্য।

গত দুই দশকে বিএমপি সদর দপ্তর, পুলিশ লাইন্স ও এয়ারপোর্ট থানার ভবন নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সম্প্রতি বন্দর থানার নতুন ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। কোতোয়ালি থানার নতুন ভবনের নির্মাণ কাজ চলতি অর্থবছরে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও কাউনিয়া থানার নির্মাণ প্রকল্প এখনও অনুমোদন পায়নি। প্রায় শত বছরের পুরোনো পুলিশ কমিশনারের বাসভবন নির্মাণ এখনও সম্পন্ন হয়নি। বরিশাল জেলা পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের জরাজীর্ণ বাসভবনে ডিআইজি পদমর্যাদার বিএমপি কমিশনার বসবাস করছেন।

সব মিলিয়ে, গত দুই দশকেও বরিশাল মহানগর পুলিশ পূর্ণতা না পাওয়ায় নগরীর সাধারণ মানুষ এবং সমাজ সচেতনদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। তবে সদ্য যোগ দেওয়া বিএমপি কমিশনার সবকিছু গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। দেশের যেকোনো মহানগরীর তুলনায় বরিশাল মহানগরীর আইনশৃঙ্খলা যথেষ্ট ভালো বলেও তিনি দাবি করেছেন। সাধারণ মানুষ নগরীর আইনশৃঙ্খলা নিয়ে খুব সন্তুষ্ট না হলেও অসন্তুষ্টও নন।

অপরাধ পর্যবেক্ষকদের মতে, নগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থা ও কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে বড় কোনো সমস্যা নেই। তবে মহানগর পুলিশ এসব বিষয়ে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে। প্রতি রাতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ব্লক রেইড পরিচালনা করছে পুলিশ। নগরীর মাদকের নিরাপদ আখড়া কেডিসি বস্তিসহ অন্যান্য এলাকায় অভিযান চালিয়ে আস্তানা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সন্দেহভাজন প্রতিটি এলাকায় মাদক নির্মূলে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গত ১ আগস্ট থেকে ১৫ অক্টোবরের মধ্যে বিএমপি সহস্রাধিক সন্দেহভাজনসহ বিভিন্ন মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে, যার মধ্যে মাদক মামলার অভিযুক্তও রয়েছে।

গত আগস্টের প্রথম সপ্তাহে যোগ দেওয়া বিএমপির ২২তম কমিশনার আবু রায়হান মো. সালেহ জানান, সংকট ও সমস্যা থাকবেই। তবে তার মাঝেও আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নে তারা নিরন্তর চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তিনি জানান, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের ব্যাপারে কোনো ছাড় নেই।

২০০৬ সালের ২৬ অক্টোবর বিকেলে বরিশাল মহানগরীর ওয়াপদা কলোনি মাঠে বিএমপির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন সিটি মেয়র ও সদর আসনের এমপি মুজিবুর রহমান সারোয়ার। অনুষ্ঠানে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তবে সময়ের ব্যবধানে উদ্বোধনী ফলকটি উধাও হয়ে গেছে। ফলে দেশের ৫ম মহানগর পুলিশের শুরুর কোনো স্মৃতিচিহ্নও আর অবশিষ্ট নেই। সেদিন বরিশাল রেঞ্জের তৎকালীন ডিআইজি আমিনুল ইসলাম প্রথম ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কমিশনারের দায়িত্ব লাভ করেছিলেন। শুরুতে সাবেক কোতোয়ালি থানা নিয়ে মহানগর পুলিশ ইউনিটের যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে থানার সংখ্যা ৪টি। তবে কোনো থানাতেই চাহিদা মাফিক যানবাহন নেই। ফলে বিশেষ করে রাতের বেলা নগরীতে টহল দিতে প্রতিনিয়ত সংকটে পড়তে হচ্ছে এ পুলিশ ইউনিটকে। নগরীর রূপাতলী-কালিজিরা ও জাগুয়া এলাকা নিয়ে একটি থানার পাশাপাশি এয়ারপোর্ট থানাকে বিকেন্দ্রীকরণ করে নবগ্রাম রোড-চৌমহনী থেকে কড়াপুর পর্যন্ত একটি থানার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। চরমোনাই ইউনিয়ন ও সংলগ্ন এলাকা নিয়ে আরও একটি থানার স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে মনে করছেন ওয়াকিফহাল মহল।

২০০৬ থেকে হাঁটি হাঁটি পায়ে এ মহানগর পুলিশের কার্যক্রম চললেও ব্যাপক জনবল ঘাটতি এ পুলিশ ইউনিটের পথচলায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জনবল ঘাটতি এ পুলিশ ইউনিটটির স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডকে প্রতিনিয়ত ব্যাহত করছে। তবে গত দুই দশকে নগরীর ওয়াপদা কলোনির মধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রায় এক একর জমি পুলিশ অধিদপ্তর কিনে সেখানে বিএমপির সদর দপ্তর ভবন নির্মিত হয়েছে। নগরীর রূপাতলী এলাকায় প্রায় ২৫ একর জমির ওপর পুলিশ লাইন্স কার্যক্রম শুরু হলেও তা মহানগরীর একদম শেষ প্রান্তে হওয়ায় যেকোনো বড় ধরনের সংকটকালে ‘ফোর্স মুভমেন্ট’ অনেকটাই সময়সাপেক্ষ হয়ে পড়ছে। প্রাথমিক অবস্থায় নগরীর কেন্দ্রস্থলে জেলা পুলিশ লাইন্সটি মহানগর পুলিশের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত হয়েছিল, কিন্তু বিষয়টি নিয়ে পরে আর কোনো অগ্রগতি হয়নি।

এদিকে বিএমপি প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ের জনবল মঞ্জুরি প্রায় সাড়ে ১২শো থেকে পরবর্তীতে ২,০৭৩-এ উন্নীত হওয়ার পর বর্তমানে তা ২,১৩৫ জনে উন্নীত হয়েছে। ২০১৮ সালে এ মহানগরীতে আরও ৪টি পুলিশ স্টেশন ও কয়েকটি ফাঁড়িসহ জনবল প্রায় ৪ হাজার ৩শো জনে উন্নীত করার প্রস্তাব দেওয়া হলেও বিগত ৮ বছরেও তার অনুমোদন মেলেনি।

অপরদিকে বিদ্যমান জনবল কাঠামোর মধ্যেই অতিরিক্ত কমিশনার, উপ-কমিশনার থেকে পরিদর্শক, এসআই, টিএসআই, সার্জেন্ট এবং কনস্টেবলের বিপুল সংখ্যক পদসমূহে জনবল ঘাটতি বরিশাল মহানগর পুলিশ ইউনিটের কর্মকাণ্ডকে শ্লথ করে দিচ্ছে।

যদিও গত দুই দশকে এ মহানগরীর আইনশৃঙ্খলাসহ এ পুলিশ ইউনিটের বেশকিছু উন্নয়ন এবং নগরবাসীর মাঝে অনেক সচেতনতার পাশাপাশি শৃঙ্খলও ফিরে এসেছে। জুলাই বিপ্লবের পরে টানা প্রায় ১৫ দিন পুলিশি কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্থবির থাকলেও এ নগরীতে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কোনো সংকট তৈরি হয়নি। পুলিশের সাথে সাধারণ মানুষের একটি গ্রহণযোগ্য সম্পর্কও বিদ্যমান রয়েছে।

তবে অবৈধ যানবাহনের চাপে পুরো নগরী এখন নুইয়ে পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে নগর প্রশাসন ও ট্রাফিক পুলিশের মাঝে এখনও প্রয়োজনীয় সমন্বয় গড়ে ওঠেনি। অবৈধ যানবাহনের নৈরাজ্যে অনেক ক্ষেত্রে ট্রাফিক পুলিশও অসহায় হয়ে পড়ছে। এ নগরীতে হাইড্রোলিক হর্ন বন্ধে ন্যূনতম কোনো পদক্ষেপ নেই। নগরীজুড়ে দানবের মতো দাপিয়ে বেড়াচ্ছে মাহিন্দ্রা-আলফার মতো বড় মাপের বেপরোয়া থ্রি-হুইলারও। এ নগরীর সব অবৈধ যানবাহনের মতো তাদের চালকরাও অবৈধ। একভাগ চালকেরও কোনো লাইসেন্স নেই। তাদের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে এ নগরীর পথে পথে প্রতিনিয়ত আতঙ্ক বিরাজ করছে। ফলে সড়ক দুর্ঘটনা এ নগরীর নিয়তি হয়ে উঠেছে।

বরিশাল মহানগর পুলিশের সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে পুলিশ কমিশনার আবু রায়হান মো. সালেহর সাথে আলাপ করা হলে তিনি জানান, দেশের যেকোনো এলাকার তুলনায় এ নগরীর আইনশৃঙ্খলা ভালো। আমরা চেষ্টা করছি জনবান্ধব একটি পুলিশ ইউনিট গড়ে তুলতে। এ নগরীতে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে এবং নির্ভয়ে দিনরাত চলাচল করতে পারছেন বলে জানিয়ে তিনি বলেন, রোজা, ঈদ, পূজা, বড়দিনসহ কোরবানির পশুর হাটগুলো নির্বিঘ্নে ও স্বাভাবিকভাবেই চলছে। যেকোনো উৎসবের আগে নগরবাসীর মতামত নিয়ে এবং নাগরিকদের সম্পৃক্ত করেই আমরা এ নগরীর আইনশৃঙ্খলা আরও উন্নয়নের চেষ্টা করছি বলেও জানান বিএমপি কমিশনার। তার মতে অতি সম্প্রতি দুর্গাপূজা অত্যন্ত নির্বিঘ্নে ও স্বাচ্ছন্দ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইনকিলাবে সংবাদ প্রকাশের পর বিধবা আকলিমা পেলেন নতুন ঘর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৪৬ এম


ইনকিলাবে সংবাদ প্রকাশের পর বিধবা আকলিমা পেলেন নতুন ঘর

বিধবা আকলিমা বেগম দীর্ঘদিন ধরে একটি জরাজীর্ণ ঘরে অনেক দুঃখ-কষ্ট সহ্য করে বসবাস করছিলেন। সম্প্রতি দৈনিক ইনকিলাবে এই বিষয়ক সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর শেরপুরের জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা ইয়াসমিন আকলিমার দুঃখ-কষ্ট লাঘবের উদ্দেশ্যে একটি টিনশেড ঘর নির্মাণের ব্যবস্থা করেছেন।

নতুন ঘর পেয়ে আকলিমা বেগম জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা ইয়াসমিন ও সরকারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। এখন আর তাঁকে আকাশে মেঘ দেখলেই ভয়ে আঁতকে উঠতে হবে না। আকলিমার বাড়ি শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের গোমড়া গ্রামে অবস্থিত। আকলিমার স্বামী আব্দুস সামাদ প্রায় ১০-১২ বছর আগে মারা গেছেন।

অসুস্থতার কারণে আকলিমার কাজ করার সামর্থ্য নেই এবং তাঁকে অন্যের দয়ায় দিন কাটাতে হয়। তাঁর দুই ছেলে বিয়ে করে আলাদা সংসার করছেন। মেয়ে আজমিনা স্বামীপরিত্যক্তা হওয়ায় অন্যের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করে মা-মেয়ের সংসার চলে। সংসারের খরচ, অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা ও দেখভাল—এই সবকিছু সামলে জীবন চালানো তাঁদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। এমন অবস্থায় তাঁদের জরাজীর্ণ ঘরই ছিল একমাত্র আশ্রয়।

কিন্তু সেই আশ্রয়ও নিরাপদ ছিল না। সামান্য বৃষ্টি হলেই ঘরের চাল চুইয়ে পানি পড়ত। নতুন ঘর নির্মাণ বা পুরোনো ঘর সংস্কারের জন্য তাঁদের কোনো সামর্থ্য ছিল না।

তাদের এই দুরবস্থার খবর সম্প্রতি দৈনিক ইনকিলাবে প্রকাশিত হলে শেরপুরের মানবিক জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা ইয়াসমিন বিষয়টি নজরে আনেন। এরপর তিনি আকলিমার জন্য নতুন ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেন। বর্তমানে ঘরের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে। নতুন ঘর পেয়ে আকলিমা বেগমের দীর্ঘদিনের দুর্দশা দূর হয়েছে এবং তাঁর মনে চরম স্বস্তি ও শান্তি ফিরে এসেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জন্মদিনে দীঘির গ্ল্যামারাস রূপে মুগ্ধ ভক্তরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৪৬ এম


জন্মদিনে দীঘির গ্ল্যামারাস রূপে মুগ্ধ ভক্তরা

ঢালিউডের চিত্রনায়িকা প্রার্থনা ফারদিন দীঘির জন্মদিন আজ ২৬ অক্টোবর। বিশেষ এই দিনে সামাজিক মাধ্যমে ভক্তদের শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় সিক্ত হচ্ছেন তিনি। জন্মদিনের প্রথম প্রহরেই নিজের একটি আকর্ষণীয় ভিডিও প্রকাশ করে আলোচনায় এসেছেন এই অভিনেত্রী। ভিডিওতে দীঘির নতুন গ্ল্যামারাস রূপ দেখে অবাক হয়েছেন অনেকেই।

ভিডিওটিতে দীঘিকে দেখা গেছে ভিন্নধর্মী সাজে। হালকা নীল রঙের স্টাইলিশ গাউন, পরিপাটি করে বাঁধা চুল এবং মানানসই সাজে বেশ আত্মবিশ্বাসী দেখাচ্ছিল তাকে। পুরো আয়োজনেই ছিল নান্দনিকতার ছোঁয়া। টেবিলজুড়ে জ্বলছিল লম্বা সাদা মোমবাতি, আর মোমবাতির স্ট্যান্ডে ঝুলছিল মুক্তার মালা। সব মিলিয়ে জন্মদিনের আয়োজনটি পেয়েছিল রাজকীয় আবহ।

প্রায় ৩০ সেকেন্ডের ভিডিওতে কখনো সূর্যমুখী ও গোলাপের বড় তোড়া হাতে পোজ দিতে দেখা যায় দীঘিকে, আবার কখনো মোমবাতি নিভিয়ে জন্মদিন উদ্‌যাপন করতে দেখা যায় তাকে। ভিডিওটির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে জন্মদিনের বিশেষ সংগীত। ক্যাপশনে অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘কিছুই না, এটা শুধু আমার জন্মদিন।’

দীঘির সাজ, অভিব্যক্তি ও আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি নজর কেড়েছে ভক্তদের। ভিডিওটির মন্তব্যের ঘরে অনেকেই তাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। পাশাপাশি তার বদলে যাওয়া রূপ নিয়েও চলছে আলোচনা।

একসময় শিশুশিল্পী হিসেবে দর্শকদের মন জয় করেছিলেন দীঘি। পর্দায় তার মিষ্টি উপস্থিতি এখনো অনেকের স্মৃতিতে অমলিন। সময়ের সঙ্গে সেই ছোট্ট দীঘি এখন চিত্রনায়িকা। তাই জন্মদিনের ভিডিওতে তার নতুন রূপ দেখে পুরোনো দিনের কথা মনে পড়েছে অনেক ভক্তের। একজন মন্তব্য করেছেন, ‘শুভ জন্মদিন ছোট্ট দীঘি।’ আরেকজন লিখেছেন, ‘এটা সেই ছোট্ট দীঘি না?’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%