মোঃ নাজির খান নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
০৬:২৯ পি.এম
ক্লাবটি অতি সুপরিচিত হলেও, নারায়ণগঞ্জবাসীর কাছে দীর্ঘ পাঁচই আগস্ট এর পর থেকে একটি আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এটার কার্যক্রম এবং স্থাপনা নিয়ে।
রাইফেল ক্লাব টি এমন একটি জায়গায় স্থাপিত হয়েছে, যাহা নারায়ণগঞ্জের পরিবহন সেক্টরটা প্রবেশের মুখের ডগায়। এ নিয়ে দীর্ঘ বহুদিন যাবত, ক্লাবটি ভেঙ্গে অন্যত্র স্থানান্তর এর দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন বিভিন্ন সংস্থা। তাহার পেরে প্রেক্ষিতে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন পন্টি বিভিন্ন ফেসবুকে পোস্টে জানিয়েছিলেন চাষাড়া হতে এই ক্লাবটি অন্য স্থানে স্থানান্তরের জন্য। এ বিষয়ে প্রশাসক জনাব রায়হান কবির সহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ একমত পোষণ করে সিদ্ধান্ত অবহিত হয়েছেন। যে হ্যাঁ, এটা অন্য জাগায় শান্তর করা যেতে পারে।
শুধু অন্যান্য স্থানে স্থানান্তর করলেই নারায়ণগঞ্জ শহরের সব যানজট সমস্যার সমাধান হবে না বলেও অভিজ্ঞ মহল জানান। এই মোড় দিয়ে হাজার হাজার লোক চলাফেরা করে। তাই সুন্দর একটি ফুটওভার ব্রিজ প্রয়োজন। এটা অবশ্যই চলন্ত লিফটের মাধ্যমে যাতে তৈরি হয় সেই ব্যবস্থা করার জন্য প্রশাসনের নিকট আকুল ভাবে প্রার্থনা করছি। তা না হলে এই ব্রিজের উপর দিয়ে না গিয়ে জনগণ নিজ দিয়েই চলাচল করবে বলে ধারণা করা যাচ্ছে।
পরিশেষে, এই ব্যবস্থা যারা করেছে তাদেরকে আন্তরিক অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানাই।
পাশাপাশি, নারায়ণগঞ্জ শহরের বাস স্ট্যান্ডটা যদি শহরের ভিতরে না রেখে চানমারি নতুন কোর্ট এলাকায় স্থানান্তর করা হইত, তবে নারায়ণগঞ্জ সরবাসী যানজট থেকে চির মুক্ত হইতে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে আবারো কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে শীর্ষস্থান অর্জন করেছে ঐতিহ্যবাহী ছয়সূতী ইউনিয়ন হাই স্কুল এন্ড কলেজ।
এ প্রতিষ্ঠানটি উপজেলার মধ্যে ধারাবাহিক সাফল্য বজায় রেখে কোয়ালিটি ও কোয়ান্টিটির উভয় দিক থেকে এবারও শীর্ষস্থান দখল করেছে। দুর্দান্ত এই অর্জনে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা আনন্দ ও উচ্ছ্বাসে ভাসছেন।
আজ ১০ আগস্ট সোমবার ঘোষিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ছয়সূতী ইউনিয়ন হাই স্কুল এন্ড কলেজ থেকে মোট ১৫১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১১৮ জন। এর মধ্যে বিজ্ঞান শাখা থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৫ জন। এছাড়াও ‘এ’ গ্রেড পেয়েছে ৩২ জন। পাশের হার ৭৮.১৫ শতাংশ এবং ভোকেশনাল থেকে ৫৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৪৩ জন। যার মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন এবং ‘এ’ গ্রেড পেয়েছে ৪০ জন। এ বছর এ প্রতিষ্ঠান থেকে মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৮ জন এবং "এ" গ্রেড পেয়েছে ৭২জন।
এ বছর পাশের হার এবং সামগ্রিক ফলাফলের মান, উভয় ক্ষেত্রেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি নিজেদের অতীতের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। উল্লেখ্য, গত ২০২৫ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলেও এ প্রতিষ্ঠানটি উপজেলায় প্রথম স্থান অর্জন করেছিল।
এছাড়া এ বছর জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় ১ জন ট্যালেন্টপুলে ও ৫ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়ে উপজেলায় প্রথম স্থান অর্জন করে কৃতিত্ব দেখিয়েছে।
উপজেলার শীর্ষস্থান অর্জন প্রসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আবদুল মালেক বলেন, "এ অর্জন কেবল বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের একার নয়। এটি আমাদের সকল শিক্ষক-কর্মচারী, গভর্নিং বডির সম্মানিত সভাপতি ও সদস্যবৃন্দ, অভিভাবক এবং সর্বোপরি শিক্ষার্থীদের যৌথ প্রচেষ্টার ফসল।" তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আগামী দিনেও এই সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তারা সর্বোচ্চ নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাবেন।
এছাড়া, এবছর উপজেলার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, লক্ষ্মীপুর দ্বি-মূখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৩০ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে পাশ করেছে ৯২ জন, এদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন, পাশের হার-৭০.৭৭ শতাংশ। ফরিদপুর ইউনিয়ন আ. হামিদ ভুঞা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৩৯ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে পাশ করেছে ১০০ জন, এদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১০ জন, পাশের হার- ৭১.৯৪ শতাংশ। কুলিয়ারচর সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৩২ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে পাশ করেছে ৯৬ জন, এদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন, পাশের হার-৭২.৭৩ শতাংশ।
এবং বেগম নুরুন্নাহার পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৮২ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে পাশ করেছে ৬০ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন, পাশের হার- ৭৩.১৭ শতাংশ। আগরপুর গোকুল চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১২৭ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে পাশ করেছে ৮৭ জন, এদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন, পাশের হার-৬৮.৫০ শতাংশ। এমাদ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৩২ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে পাশ করেছে ৭৭ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন, পাশের হার- ৫৮.৩৩ শতাংশ।
এবং গোবরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৪৯ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে পাশ করেছে ৩৬ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন, পাশের হার-৭৩.৪৭ শতাংশ। মুছা মিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৭৯ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে পাশ করেছে ৪৯ জন, পাশের হার-৬২.০৩ শতাংশ। আব্দুল্লাপুর বড়চারা আইভি রহমান উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৩২ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে পাশ করেছে ২৫ জন, পাশের হার- ৭৮.১২ শতাংশ। আবুল কাশেম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৭৮ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে পাশ করেছে ৯৪ জন, পাশের হার-৫২.৮১ শতাংশ।
এবং বীর কাশিম নগর ফেদাউল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৫২ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে পাশ করেছে ৩০ জন, পাশের হার-৫৭.৬৯ শতাংশ। লায়ন মুজিব মুনা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২১ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে পাশ করেছে ১৭ জন, পাশের হার-৮০.৯৫ শতাংশ। বাংলাবাজার আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১২৪ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে পাশ করেছে ৪১ জন, পাশের হার-৩৩.০৬ শতাংশ। জনতা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৪৫ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে পাশ করেছে ১৭ জন, পাশের হার ৩৭.৭৮ শতাংশ।
এছাড়াও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আলিফ বিজ্ঞান ও কারিগরি স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ৩৩ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে পাশ করেছে ১২ জন, পাশের হার-৩৬.৩৬ শতাংশ। সালুয়া কারিগরি বিএম কলেজ থেকে ১০ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে পাশ করেছে ১ জন, পাশের হার-১০ শতাংশ। লক্ষ্মীপুর টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজ থেকে ৬০ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে পাশ করেছে ৪৯ জন, পাশের হার- ৮১.৬৬ শতাংশ। সালুয়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ৬৯ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করে পাশ করেছে ৩৮ জন, এদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন, পাশের হার-৫৫.০৭ শতাংশ। গোবরিয়া ই.ইউ ফাজিল মাদ্রাসা থেকে ৪১ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে পাশ করেছে ৩৩ জন, এদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ জন, পাশের হার-৮০.৪৮ শতাংশ।
এবছর কুলিয়ারচর উপজেলার ২১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ১৭৪০জন শিক্ষার্থী এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে মোট ১১১৫ শিক্ষার্থী পাশ করেছে। এদের মধ্যে ৫২জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১০ আগস্ট, ২০২৬ : বিদেশে অবস্থানরত ও অভিবাসনপ্রত্যাশী বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর লক্ষ্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং জনতা ব্যাংক পিএলসি’র মধ্যে আজ একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের আর্থিক লেনদেন সহজীকরণ, তাদের ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনা এবং বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আজ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেছেন, আজ প্রবাসী কার্ড চালুর মাধ্যমে আমরা এক ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী ঘটনার সাক্ষী হতে যাচ্ছি। দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদান সর্বাগ্রে। তাঁদের জীবনের সার্বিক সুরক্ষা, কষ্টার্জিত অর্থের নিরাপত্তা এবং দেশে লেনদেন প্রক্রিয়া সহজ করতেই এ ডিজিটাল প্রবাসী কার্ড প্রবর্তন করা হচ্ছে।'
তিনি আরও বলেন, জাতীয় অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অনন্য অবদানকে সম্মান জানিয়ে যুগোপযোগী সেবা নিশ্চিত করার জন্য জনতা ব্যাংক পিএলসি কর্তৃপক্ষকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ। প্রবাসী কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীরা সরাসরি ব্যাংকিং চ্যানেলে দ্রুত ও নিরাপদ লেনদেনের পাশাপাশি, সরকারি বিভিন্ন সুবিধা আরও সহজে ভোগ করতে পারবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ বলেন, সরকারের সময় বদ্ধ সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও রোডম্যাপ অনুযায়ী কার্যক্রম অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে এগিয়ে চলছে। প্রবাসীদের কল্যাণ সাধন ও তাদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির জন্য গৃহীত প্রতিটি সিদ্ধান্ত নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যেই বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আজকের এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর তারই একটি সুনির্দিষ্ট প্রতিফলন।
অনুষ্ঠানে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষে সচিব মো. মোখতার আহমেদ এবং জনতা ব্যাংক পিএলসি’র পক্ষে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মজিবর রহমান নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।
এ সময় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং জনতা ব্যাংক পিএলসি’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাঙ্গামাটি, ১০ আগস্ট, ২০২৬ : রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে যে, জেলায় কাপ্তাই হ্রদে আগামিকাল মঙ্গলবার থেকে আবারও মৎস্য আহরণ শুরু হবে।
আজ সোমবার রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
নির্দেশনায় জানানো হয়েছে, কাপ্তাই হ্রদে মৎস্য আহরণের উপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার সংক্রান্ত কমিটির গত ২৭ জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাপ্তাই হ্রদে আজ সোমবার মধ্যরাত থেকে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে জনস্বার্থে আগামীকাল ১১ আগস্ট মঙ্গলবার ভোর থেকে জেলা প্রশাসন কর্তৃক ৭টি শর্ত সাপেক্ষে মৎস্য শিকার, বাজারজাতকরণ এবং পরিবহনের জন্য উন্মুক্ত করা হলো। তবে যে কোন রাষ্ট্রীয় বা সরকারি প্রয়োজনে এ মৎস্য শিকার উন্মুক্তকরণ আদেশ রদ বা প্রত্যাহার করার ক্ষমতা সংরক্ষিত থাকবে।
কার্প জাতীয় মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন, বংশবৃদ্ধি ও পোনা মাছের সুষম বৃদ্ধির লক্ষ্যে গত ২০ এপ্রিল থেকে কাপ্তাই হ্রদে সবধরনের মৎস্য আহরণ, বাজারজাতকরণ ও পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল।
বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) সূত্রে জানা যায়, ১০৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে আগামিকাল মঙ্গলবার নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার খবরে জেলার বিভিন্ন ঘাট ও বিএফডিসির মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে কর্মচাঞ্চল্য বেড়েছে।
রাঙ্গামাটি মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর শুক্কুর জানান, কাপ্তাই হ্রদে আবারও মৎস্য আহরণ শুরু হওয়ার খবরে মৎস্য ব্যবসায়ী ও জেলেরা অত্যন্ত আনন্দিত। এ বিষয়ে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
এদিকে কাপ্তাই হ্রদে মৎস্য আহরণকে কেন্দ্র করে শেষ মুহূর্তে জাল মেরামত, নৌকা প্রস্তুত, জ্বালানি সংগ্রহ ও বরফ মজুতসহ নানা কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলেরা। দীর্ঘ সাড়ে তিন মাস পর এবার তারা কাক্সিক্ষত মাছ পাওয়ার পাশাপাশি ঋণ ও আর্থিক সংকট কাটিয়ে ওঠার আশা করছেন।
বিএফডিসি কমান্ডার মো. ফয়েজ আল করিম বলেন, ‘আমাদের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আশা করছি, গত বছরের চেয়েও বেশি মাছ অবতরণ হবে এবং সরকারী রাজস্বও বাড়বে।’
তিনি জানান, প্রথম পর্যায়ে হ্রদে অতিরিক্ত মাছ আহরণ ও মাছের অপচয় রোধে অবতরণের নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নূর মোহাম্মদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২০ জন গরীব মেধাবী শিক্ষার্থীকে স্কুল ব্যাগ ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।
বিতরণ কার্যক্রমটি সোমবার ১০ আগস্ট, দুপুরে বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্রাকের স্মার্ট স্টুডেন্ট ফাইন্যান্স প্রোগ্রামের আওতায় অনুষ্ঠিত হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো.আইয়ুব আলীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে এসময় উপকরণ বিতরণ করেন ব্রাক স্মার্ট স্টুডেন্ট ফাইন্যান্স প্রোগ্রামের সিনিয়র কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট অফিসার কে এম মশিউর রহমান। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
পাওয়া উপকরণগুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল একটি স্কুল ব্যাগ, ১টি জ্যামিতিক বক্স, ২টি বড় সাইজের খাতা এবং ২টি কলম। সংগঠনটি এর আগেও এসব শিক্ষার্থীকে খাতা, কলম, স্কেল এবং জ্যামিতিক বক্স উপহার দিয়েছিল।
উপহার নিয়ে ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাজিয়া রহমান বলেছেন, "আমার আগের ব্যাগটি ছিড়ে গেছে। এই ব্যাগ এবং উপকরণ পেয়ে আমার অনেক উপকার হয়েছে।" তিনি আরো জানিয়েছেন, ব্রাক অফিসে তাদের স্মার্ট স্টুডেন্ট ফাইন্যান্স এর একাউন্ট রয়েছে, যেখানে তারা প্রতি মাসে টাকা জমা রাখেন।
প্রধান শিক্ষক মো.আইয়ুব আলী উল্লেখ করেছেন, "এই প্রকল্পের মাধ্যমে আমার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একদিকে টাকা জমা করছে। অপরদিকে ইংরেজি স্পোকেন কোর্সে অংশ নিয়ে ইংরেজি বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করছে।" শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার জন্য উন্নয়ন সংস্থা ব্রাক এবং প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধান শিক্ষক।
ব্রাকের স্মার্ট স্টুডেন্ট ফাইন্যান্স প্রকল্পের কর্মকর্তা কে এম মশিউর রহমান জানিয়েছেন, "বর্তমানে কলাপাড়া উপজেলার ১০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আমাদের এই কর্মসূচি চলছে।" তিনি আরো বলেন, "এই প্রকল্পের মাধ্যমে দক্ষ প্রশিক্ষকের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে স্পোকেন ইংলিশ কোর্স করানো হচ্ছে।" এছাড়া শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে একাউন্ট করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, যার মাধ্যমে তারা প্রতি মাসে টাকা জমা রাখতে পারেন। অন্যান্য সহায়তার মধ্যে রয়েছে শিক্ষা উপকরণ, গাছের চারা এবং কবুতর। তিনি উল্লেখ করেন, "শীঘ্রই এর মাধ্যমে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে ১০০ জন শিক্ষার্থীকে ফ্রি ল্যান্সিং প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ