ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দেবহাটা সীমান্তে র‍্যাবের অভিযানে ১৮৯ বোতল কোরেক্সসহ এক মাদক ব্যবসায়ী আটক


দেবহাটা সীমান্তে র‍্যাবের অভিযানে ১৮৯ বোতল কোরেক্সসহ এক মাদক ব্যবসায়ী আটক

সাতক্ষীরা:-সাতক্ষীরার দেবহাটা সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে চোরাপথে আসা ১শ ৮৯ বোতল উইনকেরেক্স ও ৪ বোতল ফেন্সিডিলসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-৬।
আজ শনিবার (১৮ জুলাই) রাত সাড়ে ৩টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দেবহাটা সীমান্তের নওপাড়া এলাকায় র‍্যাব-এর একটি দল বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় মাদকসহ মো. আমিনুর রহমান (৪১) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি দেবহাটা উপজেলার বেজোরআটি এলাকার মো. রুহুল গাজীর ছেলে।
র‍্যাব জানায়, অভিযানে আসামির কাছ থেকে ১শ ৮৯ বোতল উইনকেরেক্স ও ৪ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের পর উদ্ধারকৃত মাদকসহ তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। র‍্যাব-৬ এর সাতক্ষীরার কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জায়েন উদ্দীন মুহাম্মদ যিয়াদ বলেন, "মাদকের বিরুদ্ধে র‍্যাবের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত রয়েছে। অবৈধ অস্ত্র, মাদকদ্রব্য ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে র‍্যাবের নিয়মিত অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিকল্প সাংবাদিকতামূলক শিরোনাম: রক্তাক্ত ১৯ জুলাই: হেলিকপ্টার হামলার মধ্যেও থামেনি আন্দোলন, ঘোষণা হয় ৯ দফা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৫৫ এম


বিকল্প সাংবাদিকতামূলক শিরোনাম:  রক্তাক্ত ১৯ জুলাই: হেলিকপ্টার হামলার মধ্যেও থামেনি আন্দোলন, ঘোষণা হয় ৯ দফা

১৯ জুলাই উত্তাল জুলাইয়ের এন দুটি ঘটনার মধ্যে একটি ছিল আন্দোলনের অন্যতম রক্তাক্ত অধ্যায়। সেদিন দেশে টানা তৃতীয় দিনের মতো ইন্টারনেট বন্ধ ছিল। র‌্যাব, পুলিশ ও বিজিবির গুলিতে অন্তত ৬৬ জন নিহত হন। সেদিন প্রথমবারের মতো আন্দোলনকারীদের ওপর হেলিকপ্টার থেকে গুলি করা শুরু হয়, যা ৫ আগস্ট পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনার আহ্বান জানানো হলেও, শিক্ষার্থীরা তা প্রত্যাখ্যান করে ৯ দফা দাবি ঘোষণা করে। ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্রনেতারা বলেন, এই ৯ দফার মধ্যেই তৈরি হয়েছিল এক দফার ভিত্তি, যা সবার সঙ্গে আলোচনা করেই চূড়ান্ত করা হয়।

২০২৪ সালের ১৯ জুলাই। ওইদিন ছিল কমপ্লিট শাটডাউনের দ্বিতীয় দিন। টানা তৃতীয় দিনের মতো সারা দেশে ইন্টারনেট বন্ধ ছিল। জুমার নামাজের পর থেকেই ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমে আসে। দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। সরকারি হিসাব না থাকলেও, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সেদিন র‌্যাব, পুলিশ ও বিজিবির গুলিতে সারাদেশে অন্তত ৫৫ থেকে ৬৬ জন নিহত হন। ঢাকার সবচেয়ে বড় সংঘর্ষ যাত্রাবাড়ীতে ঘটে, যা টানা ৭২ ঘণ্টা ধরে চলে।

যাত্রাবাড়ীতে সেদিন আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আব্দুল কাদের। ভয়াবহ সেই দিনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, জুমার নামাজ পরে মসজিদ থেকে মিছিল বের হওয়ার পরপরই গুলি চালানো হয়। এতে মুহূর্তেই ৫ থেকে ৭ জন নিহত হন এবং ফ্লাইওভারের ওপর থেকে মানুষের মাথা, হাত ও পা লক্ষ্য করে গুলি করা হচ্ছিল।

সেদিন জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে বিএনপি। সেখান থেকে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে গ্রেফতার করা হয়। অন্যদিকে পল্টন এলাকায় প্রতিরোধ গড়ে তোলে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। পুলিশের গুলিতে ওইদিন ছাত্রদলের তিন নেতা-কর্মী নিহত হন।

ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, নয়াপল্টন ও পুরানা পল্টনে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছিল। আমি নিজেও রাবার বুলেটে আহত হই, আর আমার তিন সহকর্মী শহীদ হন।

১৯ জুলাই আন্দোলন দমাতে প্রথমবারের মতো হেলিকপ্টার থেকে আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। বসিলা ব্রিজের এলাকা যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়। মোহাম্মদপুরের আবাসিক এলাকাতেও হেলিকপ্টার থেকে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা হয়। এই অভিযান ৫ আগস্ট পর্যন্ত চলতে থাকে।

সেই দিনের স্মৃতি তুলে ধরে মোহাম্মদপুর থানা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র ফেরদৌস হাসান সোহান বলেন, তিন রাস্তার মোড়ে ব্যাপক গোলাগুলি চলছিল। মানুষ ছত্রভঙ্গ হয়ে যাচ্ছিল। আমার সামনে একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে পড়েন। হেলিকপ্টার থেকে মাথায় গুলি করা হয়েছিল।

সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের পর ১৯ জুলাই আন্দোলনে যোগ দেন অভিভাবকরাও। এমন পরিস্থিতিতে সমন্বয়ক আব্দুল কাদের সরকারের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ৯ দফা দাবি ঘোষণা করেন। দাবির মধ্যে ছিল ছাত্র হত্যার দায়িত্ব স্বীকার করে শেখ হাসিনার প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচার এবং সরকারের কয়েকজন মন্ত্রীর পদত্যাগ।

আব্দুল কাদের বলেন, আড়াই ঘণ্টার আলোচনা ও নানা মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে ৯ দফা চূড়ান্ত করা হয়। এটা কোনো একক ব্যক্তি বা সংগঠনের সিদ্ধান্ত ছিল না। ৯ দফার মধ্যে একটি দফার বীজ নিহিত ছিল।

ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্রসংগঠনের নেতারা জানান, সবার সঙ্গে সমন্বয় করেই ৯ দফা ঘোষণা করা হয়েছিল। ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিগবাতুল্লাহ বলেন, ৯ দফা মূলত জনগণকে শেখ হাসিনা সরকার পতনের আন্দোলনে আরও উজ্জীবিত করে। নিরাপত্তার কারণে আব্দুল কাদেরকে একাধিকবার নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হয়েছিল।

এদিকে, ১৯ জুলাই মধ্যরাতে কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম এবং গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূরকে আটক করে পুলিশ। আন্দোলন দমাতে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। একই সঙ্গে রাত ১২টা থেকে কারফিউ জারি করা হয় এবং সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, সাধারণ মানুষের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার সেই সময়ে ৯ দফা ছিল আন্দোলনের নতুন দিকনির্দেশনা। এর মধ্যেই এক দফার ভিত্তি তৈরি হয়, যা পরবর্তীতে আন্দোলনকে গণঅভ্যুত্থানের দিকে নিয়ে যায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফের বাড়ানো হলো গুচ্ছ ভর্তি আবেদনের সময়সীমা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ১৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৫৭ এম


ফের বাড়ানো হলো গুচ্ছ ভর্তি আবেদনের সময়সীমা

দেশজুড়ে চলমান দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বিবেচনা করে গুচ্ছভুক্ত ২০টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের চূড়ান্ত ভর্তির সময়সীমা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শিক্ষার্থীরা আগামী ২১ জুলাই পর্যন্ত তাদের ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সুযোগ পাবেন।

বর্তমানে গুচ্ছের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সর্বমোট ৪২০টি আসন ফাঁকা রয়েছে।

শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে গুচ্ছ ভর্তি কমিটির এক জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ক ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই ভার্চুয়াল আলোচনা সভা চলাকালে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বৈরী আবহাওয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশই যথাসময়ে উপস্থিত হয়ে ভর্তি হতে পারেননি।

বিশেষ করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় এবং পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো বিপুলসংখ্যক আসন ফাঁকা রয়েছে। বর্তমানে গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যে ৪২০টি আসন খালি রয়েছে, তার সিংহভাগই এই দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ে। এই বাস্তবতায় শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে ভর্তির সময়সীমা আগামী ২১ জুলাই পর্যন্ত বর্ধিত করার সিদ্ধান্ত নেয় কমিটি।

এদিকে ভর্তি সংক্রান্ত বিষয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক জানান, তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে এখনো মোট ৩৬টি আসন খালি রয়েছে। এর মধ্যে ৩৫টি মেধাভিত্তিক এবং ১টি কোটাভিত্তিক আসন।

ভর্তি কমিটির নতুন এই নির্দেশনার ফলে, প্রার্থীরা এই বর্ধিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের চূড়ান্ত ভর্তি নিশ্চিত করতে পারবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বুলডোজারে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো আ. লীগ নেতার বাড়ি, লুটপাটের পর অগ্নিসংযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:০১ এম


বুলডোজারে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো আ. লীগ নেতার বাড়ি, লুটপাটের পর অগ্নিসংযোগ

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা দল আওয়ামী লীগের নেতা ও ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান লাভলুর বাড়িটি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার পর স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাতে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের কাঠালতলী বাজারের পাশে এই ঘটনা ঘটে। ওই বাড়ির লোকজন ঢাকাতে অবস্থান করায় বাড়িটি তালাবদ্ধ ছিল, ফলে ঘটনাস্থলে কারোর আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেনি। আওয়ামী লীগের ওই নেতার নাম কাজী মিজানুর রহমান (লাভলু)। তিনি মাধবখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন এবং ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানও ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে সরকার পরিবর্তন হওয়ার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে আছেন।

আগুনের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে রাজি হননি। মির্জাগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন কর্মকর্তা মো. ইব্রাহীম জানান, ‘শনিবার সকাল ৬টা ৮ মিনিটে ফোন পেয়ে তাদের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দেখতে পান, কাজী মিজানুর রহমানের বসতঘরে আগুন জ্বলছে এবং বাড়ির সামনের অংশ ভাঙা রয়েছে। পরে তারা চারটি কক্ষের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।’

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঘরে থাকা আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল পুড়ে গেছে এবং কিছু মালামাল ছড়িয়ে ছিটিয়ে অবস্থায় পড়ে আছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরে মিজানুর রহমান লাভলু সপরিবারে এলাকা ছেড়ে চলে যান। তার মা বাড়িতে একা বসবাস করতেন। শুক্রবার বিকালে অসুস্থ হয়ে তার মা হাসপাতালে ভর্তি হলে বাড়িটি ফাঁকা হয়ে যায়। এ সুযোগে রাতে এক্সকাভেটর দিয়ে একতলা ভবন গুঁড়িয়ে দিয়ে মালামাল লুট করে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়।

ওই বাড়ির বাসিন্দাদের অভিযোগ, পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরীর অনুসারী শাহীন চৌধুরী এবং স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। কাজী মিজানুর রহমানের স্ত্রী মেহেরুন্নেছা শিল্পী জানান, তার বৃদ্ধা শাশুড়ি অসুস্থ থাকায় তারা পরিবার নিয়ে ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। এই সুযোগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির স্থানীয় নেতারা প্রায় আড়াইশ মানুষ বুলডোজার দিয়ে তাদের পাকা বসতঘরটি ভেঙে ফেলেন।

ভবন ভাঙার পর ঘরে থাকা চারটি রেফ্রিজারেটর, ওয়াশিং মেশিন, ওভেন, এসি, এবং স্বর্ণালংকারসহ পরিবারের ব্যবহার্য প্রায় সব মালামাল লুট করা হয়। লুট হওয়া মালামালের মূল্য প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা। ভবনটি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া পর ছয় কক্ষের প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনার খবর পেয়ে লাভলু ঢাকা থেকে রওনা হয়ে বাড়িতে পৌছান। স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পারেন, হামলার আগে কাঁঠালতলী বাজার ও আশপাশের এলাকা থেকে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে সরে যেতে বাধ্য করা হয়। কেউ ভিডিও ধারণের চেষ্টা করলে তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোনও ছিনিয়ে নেওয়া হয়। তিনি উল্লেখ করেন, তাদের বাড়ি থেকে প্রায় ৩০ ফুট দূরে কাঁঠালতলী পুলিশ ফাঁড়ি অবস্থিত। গভীর রাতে বুলডোজারের শব্দ শুনে পুলিশ ঘটনাস্থলে এলেও হামলাকারীরা তাদের ধাওয়া দিলে পুলিশ সদস্যরা নিরাপত্তার কারণে সরে যান। এ ঘটনার পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও কাঁঠালতলী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জকে মৌখিকভাবে অভিযোগ জানানো হয়েছে।

লাভলুর ফুফাতো বোন মুকুল বেগম বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে এই কাজ করেছে।

ঘটনার সময় লাভলু কাজীর ভাই মশিউর রহমান বাবলু কাজী ফেসবুকে বাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের কয়েকটি ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেন। তিনি ফেসবুকে দাবি করেন, প্রশাসনের কাছে সহায়তা চেয়ে পাওয়া যায়নি। লাভলু কাজী অভিযোগ করেন, জমি কিনে তিনি বাড়ি করেছেন, কিন্তু কী কারণে তার বাড়ি ভাঙা হয়েছে তা জানেন না। তিনি বলেন, যারা তার বাড়ি ভাঙায় জড়িত, তাদের সঙ্গে তার কোনও বিরোধ নেই। তিনি উল্লেখ করেন, (পটুয়াখালী-১ আসনের) সংসদ সদস্য এবং বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরীর অনুসারীরা এবং স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা তার বাড়িতে হামলা চালিয়েছেন।

অন্যদিকে, দেশের বাইরে থাকায় আলতাফ হোসেন চৌধুরীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, এ ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত নন এবং তার বিরুদ্ধে মিথ্যা বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। তিনি এ প্রসঙ্গে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন মাধবখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহীন চৌধুরী। তিনি জানান, ‘শুক্রবার তিনি ঢাকা থেকে এলাকায় ফিরেছেন, তাই ঘটনার বিষয়ে অবগত নন। ২০০৩ সালে পাবলিক লাইব্রেরির জন্য রেজিস্ট্রি করা জমি দখল করে চেয়ারম্যান বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করে আসছিলেন। জমি বা বাড়ি ভাঙচুরের বিষয়ে তার বা তাদের কোনও আগ্রহ নেই।’

মাধবখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। মাধবখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মনির খন্দকার অভিযোগ করেন, ‘মিজানুর রহমান পাবলিক লাইব্রেরির জমি দখল করে ঘর তুলেছেন, যা ভূমি অফিসের মাধ্যমে প্রমাণিত। সেখানে তার এক টুকরো জমিও নেই।’

মির্জাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহাবুদ্দিন নান্নু মুন্সী বলেন, ‘এ ঘটনার সঙ্গে বিএনপির কোনও নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততা নেই। কেউ ব্যক্তিগতভাবে কোনও অপরাধ করে থাকলে তার দায় দল নেবে না।’

মির্জাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মো. রাসেল জানিয়েছেন, ‘অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বাড়িটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বললেও কেউ ঘটনার বিষয়ে মুখ খুলতে চাননি। কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে থানা পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জমির মালিকানা-সংক্রান্ত একটি আবেদন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে রয়েছে এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) এই বিষয়টি তদন্ত করছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাঁচ দিনের সরকারি সফরে তুরস্কের পথে সেনাপ্রধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:০৫ এম


পাঁচ দিনের সরকারি সফরে তুরস্কের পথে সেনাপ্রধান

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান তুরস্ক সরকারের আমন্ত্রণে পাঁচ দিনের সরকারি সফরে ঢাকা ছেড়ে দেশটির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। রোববার (১৯ জুলাই) তিনি তুরস্কের পথে যাত্রা করেন। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতরের (আইএসপিআর) একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। আইএসপিআর জানায়, সফরকালে সেনাবাহিনী প্রধান তুরস্কের বিভিন্ন প্রতিরক্ষা শিল্পপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করবেন। সফরের সময় তিনি বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার প্রতিরক্ষা বিষয়ক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে অধিকতর উন্নয়ন ও জোরদার করার লক্ষ্যে তুরস্কের সশস্ত্র বাহিনী এবং প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করবেন। সফর শেষে আগামী সপ্তাহে সেনাপ্রধানের দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%